বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে শুধু কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তার সার্ভিসিং বা মেরামতের কাজ করা নিশ্চিতরূপে বৈধ। যেমন ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকার ইত্যাদি এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাও হালাল হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)।

দ্বিতীয়তঃ এমন প্রত্যেক জিনিস যা হারাম কাজে ব্যবহৃত হয় অথবা হালালের তুলনায় হারাম কাজে ব্যবহৃত হওয়ার পরিমাণটাই বেশি। সেই সমস্ত জিনিস তৈরি করা, মেরামত করা ও ক্রয়-বিক্রয় করা সবই হারাম’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/১০৯ পৃ.)। আলেমগণ টিভি ও রেডিও সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন যে, এ সমস্ত যন্ত্রপাতি ও পণ্যসামগ্রীর মাধ্যমে যা কিছু সম্প্রচার করা বা দেখানো হয় তার কিছু হারাম এবং কিছু হালাল। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সমস্ত যন্ত্রগুলো হারাম জিনিস দর্শন ও শ্রবণ করার কাজেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে, আর এটাই বাস্তবতা। সেইজন্য সকল মুসলিমের উচিত এমন প্রত্যেক জিনিসের সার্ভিসিং বা মেরামতের কাজ থেকে বিরত থাকা যা ন্যায়ের তুলনায় অন্যায় কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৩ পৃ.)। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বৈধ ও উৎকৃষ্ট পন্থায় উপার্জন করার প্রচেষ্টা করা এবং পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন উপার্জনের পথ অন্বেষণ করা। নিঃসন্দেহে মোবাইল টিভি ও রেডিও মেরামত করা পবিত্র কাজ নয়। কেননা এ সমস্ত যন্ত্রগুলোর সিংহভাগ হারাম কাজে ব্যবহৃত হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৪-২৭৫ ও ১৪/৪২০ পৃ.)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। অতএব টিভি, রেডিওর পণ্যসামগ্রী মেরামত করা, অতঃপর তার মালিকের সেগুলোকে নিষিদ্ধ জিনিস দর্শন ও শ্রবণের কাজে ব্যবহার করা, নিশ্চিতরূপে এগুলো হারাম কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হিদায়াত ও সৎপথের দিকে আহ্বান করে, তাঁর জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমপরিমাণ প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্যতমও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্তি ও অশ্লীলতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর সে পথের অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য পরিমাণও লঘু করা হবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৪)। সুতরাং এই ধরনের কাজ করা আপনার জন্য জায়েয নয়। তাই অন্য কোন কাজ অন্বেষণ করাই উত্তম হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কেউ আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযিক দান করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট’।  তিনি আরো বলেন, ‘আর যে আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ২,৩,৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪০৪৭২, ৩৯৭৪৪)।

ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালাসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাস‘আলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে)’। নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম হা/১৫৯৯)। তিনি আরো বলেন, دَعْ مَا يَرِيْبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيْبَةٌ ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮, সনদ ছহীহ)।


প্রশ্নকারী : তানভীর, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা।




প্রশ্ন (১০) : কিভাবে হাদীছের ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করা হয়েছে? জনৈক আলেম বলেন, তাঁরা রাবীদের সৎ‌ কিংবা অসৎ, দুর্বল, হাদীছ ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে হাদীছকে যঈফ বলা হয়। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : প্রচলিত আছে যে, রাসূল (ﷺ)-এর যে নিয়মে চুল রাখতেন সেই নিয়মকে ‘বাবরী চুল’ বলা হয়। আসলে ‘বাবরী চুল’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মুক্তাদী ছুটে যাওয়া ছালাত আদায়ের জন্য কখন দাঁড়াবে? ইমাম একদিকে সালাম ফিরানোর পর, না-কি দুই দিকে সালাম ফিরানোর পর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রামাযান উপলক্ষে এক টিভিতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে ক্বিয়ামতের দিন তাকে এমন একটি নূর দেয়া হবে, যা তার অবস্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করবে’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মসজিদে একই কাতারের বাম পাশ অপেক্ষা ডান পাশে বসা বা ছালাত আদায় করার মধ্যে বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : হাজারে আসওয়াদকে স্পর্শ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ফাতাওয়া গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে শারঈ মানদণ্ড কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ডাস্টবিনে রুটি ও খাবার ফেলা কি হারাম; অথচ সেগুলো এক রকম খাওয়ার উপযুক্ত নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মসজিদে জমি দান করার ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন চলে আসে। যেমন ১. জমি কি রেজিস্ট্রেরি দিতে হবে, না-কি মৌখিকভাবে দিলেও চলবে? ২. জমি থেকে উৎপাদিত ফসল কমিটি বরাবর নিঃশর্তে ছেড়ে দেয়া যাবে কি? ৩. উক্ত মসজিদের অতিরিক্ত আয় বা সম্পদ অন্য কোন মসজিদে দেয়া যাবে কি? ৩. ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর ওয়ারিছগণ মসজিদ দেখাশুনা করতে পারবে না এমন আশঙ্কা থাকলে কেমন ব্যবস্থা নেয়া উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ