বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে শুধু কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তার সার্ভিসিং বা মেরামতের কাজ করা নিশ্চিতরূপে বৈধ। যেমন ফ্রিজ, এসি, রাইস কুকার ইত্যাদি এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাও হালাল হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)।

দ্বিতীয়তঃ এমন প্রত্যেক জিনিস যা হারাম কাজে ব্যবহৃত হয় অথবা হালালের তুলনায় হারাম কাজে ব্যবহৃত হওয়ার পরিমাণটাই বেশি। সেই সমস্ত জিনিস তৈরি করা, মেরামত করা ও ক্রয়-বিক্রয় করা সবই হারাম’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/১০৯ পৃ.)। আলেমগণ টিভি ও রেডিও সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন যে, এ সমস্ত যন্ত্রপাতি ও পণ্যসামগ্রীর মাধ্যমে যা কিছু সম্প্রচার করা বা দেখানো হয় তার কিছু হারাম এবং কিছু হালাল। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সমস্ত যন্ত্রগুলো হারাম জিনিস দর্শন ও শ্রবণ করার কাজেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে, আর এটাই বাস্তবতা। সেইজন্য সকল মুসলিমের উচিত এমন প্রত্যেক জিনিসের সার্ভিসিং বা মেরামতের কাজ থেকে বিরত থাকা যা ন্যায়ের তুলনায় অন্যায় কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৩ পৃ.)। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বৈধ ও উৎকৃষ্ট পন্থায় উপার্জন করার প্রচেষ্টা করা এবং পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন উপার্জনের পথ অন্বেষণ করা। নিঃসন্দেহে মোবাইল টিভি ও রেডিও মেরামত করা পবিত্র কাজ নয়। কেননা এ সমস্ত যন্ত্রগুলোর সিংহভাগ হারাম কাজে ব্যবহৃত হয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৪-২৭৫ ও ১৪/৪২০ পৃ.)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। অতএব টিভি, রেডিওর পণ্যসামগ্রী মেরামত করা, অতঃপর তার মালিকের সেগুলোকে নিষিদ্ধ জিনিস দর্শন ও শ্রবণের কাজে ব্যবহার করা, নিশ্চিতরূপে এগুলো হারাম কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হিদায়াত ও সৎপথের দিকে আহ্বান করে, তাঁর জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমপরিমাণ প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্যতমও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্তি ও অশ্লীলতার দিকে আহ্বান করে, তার উপর সে পথের অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য পরিমাণও লঘু করা হবে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৭৪)। সুতরাং এই ধরনের কাজ করা আপনার জন্য জায়েয নয়। তাই অন্য কোন কাজ অন্বেষণ করাই উত্তম হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কেউ আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযিক দান করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট’।  তিনি আরো বলেন, ‘আর যে আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন’ (সূরা আত-ত্বালাক্ব : ২,৩,৪; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪০৪৭২, ৩৯৭৪৪)।

ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালাসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাস‘আলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে)’। নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম হা/১৫৯৯)। তিনি আরো বলেন, دَعْ مَا يَرِيْبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيْبَةٌ ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮, সনদ ছহীহ)।


প্রশ্নকারী : তানভীর, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা।




প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মাঝে মধ্যে রুকূতে সিজদার তাসবীহ অথবা সিজদাতে রুকূ-র তাসবীহ পড়ে ফেলি। রুকূ‘-সিজদাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মনে পড়ে আমি ভুল করেছি। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর ছেলের নাম ছিল শাম। প্রশ্ন হল- এই শামের অর্থ কী? এই নাম রাখা যাবে কী? এই নাম রাখা হলে সাথে অন্য কোন নাম বা নামের অংশ কি যুক্ত করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪): গরীব-মিসকীন ছাড়া ক্বুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ইসলামের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মহিলাদের দ্বারা একটি ইয়াতীম বালিকা মাদরাাসা পরিচালিত হয়। যেখানে ৪৫/৫০ জন বাচ্চা আছে। যাদের বয়স ৭ বৎসর থেকে ১৫/১৬ বৎসর পর্যন্ত। তাদের ঘরের বাইরে খেলাধূলা করার কোনো সুযোগ নেই।  এমতাবস্থায়  তারা কি ঘরের মধ্যে লুডু, ক্যারাম বোর্ড ও দাবা, খেলতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক বক্তা বলেন, বাক্বী গোরস্থানে কবর দেয়া হয়েছে এমন সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমা চাঁদের মত। উক্ত বক্তব্য সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : অনেক সময় আমরা মসজিদে দুখূলুল মসজিদ বা অন্য কোন সুন্নাত ছালাত আরম্ভ করি এমতাবস্থায় ইক্বামত দিয়ে দেয়। তখন আমরা সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে শামিল হয়ে যাই। ফরয ছালাতের পরে সেই ছুটে যাওয়া সুন্নাত কি আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাচ্চাদের আশেপাশে জিন পরী বা শয়তান যেন আসতে না পারে, সে জন্য তাদের তারকাটা, রসুন, ম্যাচের কাঠি ইত্যাদি রাখা হয়। এগুলো কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বর্তমানে বহু ঈদগাহে ছালাতের পূর্বেই মুছল্লীদের নিকট হতে ছাদাক্বাহ ও দানের টাকা কালেকশন করা হয়। এটা শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : জানাযার ছালাতে এক সালামে ছালাত শেষ করা যায়। প্রশ্ন হলো, অন্যান্য যে কোন ছালাতেও কি এক সালামে ছালাত শেষ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : প্রচলিত আছে যে, বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আযান সঠিকভাবে দিতে না পারার জন্য তাকে বাদ দিয়ে নতুন মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়। তখন বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে আল্লাহ তুমি আমাকে তোতলা বানিয়েছ। এটার জন্য দায়ী তুমি। আর আমার মুয়াযিযন না থাকার দায়ী তুমি। নতুন মুয়াযিযন ফজরের আযান দিল, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে বলেন, আজ কি আযান হয়নি? তখন লোকজন বলল, হ্যাঁ, অনেক সুন্দর হয়েছে। তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বলেন, বিলাল আযান না দিলে সকাল হবে না এবং সূর্যও উঠবে না। প্রশ্ন হল- উক্ত ঘটনার কি কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : সিজদাহ অবস্থায় পাগুলো কি একত্র থাকবে, না-কি ফাঁকা থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ