রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর : সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায়, নিজের অধীনস্থদের বিপদে না ফেলে অবিলম্বে কার্যকরযোগ্য হলে সমস্ত সম্পত্তি ওয়াক্বফ করা জায়েয’ (ইসলাম ওয়েব নেট, ৬/৪/২০০৮)। জানা আবশ্যক যে, ওয়াক্বফ মানে মূল সম্পত্তি আবদ্ধ রেখে এর উপকার আল্লাহর রাস্তায় দান করা। অর্থাৎ মূল সম্পত্তিকে আবদ্ধ রেখে এর দ্বারা উপকৃত হওয়া। যেমনঃ ঘরবাড়ি, দোকানপাট, ক্ষেতখামার ইত্যাদি। এখানে উপকার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই মূল সম্পত্তি থেকে লব্ধ আয়। যেমন ফল, ভাড়া, ঘরে বসবাস করা ইত্যাদি। ইসলামে ওয়াক্বফের বিধান হচ্ছে, ‘এটি একটি নেকীর কাজ ও মুস্তাহাব। যেমনঃ উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) খায়বারে কিছু জমি লাভ করেন। তিনি এ জমির ব্যাপারে পরামর্শের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি খায়বারে এমন উৎকৃষ্ট কিছু জমি লাভ করেছি, যা ইতিপূর্বে আর কখনো পাইনি। আপনি আমাকে এ ব্যাপারে কী আদেশ দেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি ইচ্ছা করলে জমির মূলসত্ত্ব নিজ দায়িত্বে রেখে উৎপন্ন বস্তু ছাদাক্বাহ করতে পারো। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ শর্তে তা ছাদাক্বাহ (ওয়াক্বফ) করেন যে, তা বিক্রি করা যাবে না, তা দান করা যাবে না এবং কেউ এর উত্তরাধিকারী হবে না’। তিনি ছাদাক্বাহ করে দেন এর উৎপন্ন বস্তু অভাবগ্রস্ত, আত্মীয়-স্বজন, দাসমুক্তি, আল্লাহর রাস্তায়, মুসাফির ও মেহমানদের জন্য...’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৩৭, ২৭৭২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩২; তিরমিযী, হা/১৩৭৫; আবূ দাঊদ, হা/২৮৭৮)। ওয়াক্বফ ছহীহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:

১. ওয়াক্বফকারী লেনদেন করার উপযুক্ত হওয়া। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও বুঝদার হওয়া।

২. ওয়াক্বফকৃত সম্পত্তির মূলকে অটুট রেখে এর থেকে অব্যাহতভাবে উপকৃত হওয়া যায় এমন হওয়া। যে জিনিসের মূল অটুট থাকে না এমন জিনিস ওয়াক্বফ করা যায় না। যেমন খাবার।

৩. ওয়াক্বফকৃত সম্পত্তি নির্দিষ্ট হওয়া। তাই কোন অনির্দিষ্ট সম্পত্তি ওয়াক্বফ করা ছহীহ নয়। যেমন কেউ যদি বলে যে, আমি আমার কোন একটি দাসকে কিংবা আমার কোন একটি বাড়ীকে ওয়াক্বফ করলাম।

৪. ওয়াক্বফ নেকীর কাজে হতে হবে। যেমন মসজিদ, সেতু, মিসকীন, পানির উৎস, ইলমী কিতাবপত্র, আত্মীয়স্বজন ইত্যাদি।

৫. নির্দিষ্ট কারো জন্য ওয়াক্বফ করলে সে ওয়াক্বফ সঠিক হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে ঐ ওয়াক্বফ সম্পত্তির উপর সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যেহেতু কারো জন্য ওয়াক্বফ করা মানে তাকে মালিক বানিয়ে দেয়া। তাই যে ব্যক্তি মালিক হতে পারে না তার জন্য ওয়াকফ করা ছহীহ নয়। যেমন মৃত ব্যক্তি বা পশু।

৬. ওয়াক্বফ ছহীহ হওয়ার জন্য অবিলম্বে কার্যকরযোগ্য হওয়া শর্ত। তাই নির্দিষ্ট সময়কেন্দ্রিক ওয়াক্বফ কিংবা বিশেষ কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করে ওয়াক্বফ করা ছহীহ নয়। তবে কেউ যদি তার মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত করে ওয়াক্বফ করে, তাহলে ছহীহ হবে। যেমন কেউ বলল যে, আমি যদি মারা যাই তাহলে আমার ঘরটি গরীবদের জন্য ওয়াক্বফ। তবে মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত ওয়াক্বফ সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দিয়ে করা যাবে। কারণ তা ওয়াছিয়্যাতের পর্যায়ভুক্ত (আল-মুলাখ্‌খাছুল ফিক্বহী, পৃ. ১৫৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৩৭২০)।

৭. ইমাম ইবনু কুদামাহ, মুরদাবী, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ওয়াক্বফ ছহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল, অবিলম্বে কার্যকরযোগ্য হওয়া। অর্থাৎ ওয়াক্বফ করার সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা ওয়াক্বফকৃত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা। মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত না করা। যেমন কেউ যদি বলে যে, ওয়াক্বফ মৃত্যুর পর কার্যকর হবে বা মৃত্যুর পর মালিকানা হস্তান্তর করা হবে। এক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওয়াক্বফ করতে পারবে না। কেননা তখন এটি ওয়াছিয়্যাতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে (আল-মুক্বনি‘, পৃ. ২৩৯; আল-ইনছাফ, ৭/২৩; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১১/৫৭; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ৪৪/১২৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৬৪২১৬)।

দ্বিতীয়তঃ শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় সমস্ত মাল ছাদাক্বাহ্ করা বৈধ। অর্থাৎ মৃত্যু শয্যায় শায়িত অবস্থায় নয় এবং যদি তার দায়িত্ব গ্রহণ করার বা তাকে দেখাশোনা করার মত লোক থাকে তাহলে। সুতরাং দু’টি শর্তসাপেক্ষে এইরূপ ছাদাক্বাহ করা বৈধ। (১) সমস্ত মাল ছাদাক্বাহ্ করার পরও তার জীবন-যাপনে কোন সমস্যা হবে না, এরূপ কোন কর্মসংস্থান বা ব্যবস্থা থাকতে হবে। (২) সে যেন, দারিদ্রতায় ধৈর্যধারণকারী এবং আল্লাহর উপর ভরসাকারী হয়। যদি এই দু’টি শর্তের কোন একটি বিলুপ্ত হয়, তাহলে সমস্ত মাল ছাদাক্বাহ্ করা অপসন্দনীয় হবে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০৫৭০)। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উত্তম হচ্ছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দান করা। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হতে ছাদাক্বাহ করা উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে, প্রথমে তাদেরকে দিবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪২৬, ১৪২৮, ৫৩৫৫, ৫৩৫৬)। কিন্তু যদি ব্যক্তি এমন হয় যে, তার কোন কর্মসংস্থান আছে কিংবা তার দায়িত্ব গ্রহণ করার মত বা তাকে দেখাশোনা করার মত লোক আছে, তাহলে সমস্ত সম্পত্তি দান করতে পারে। যেমন উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘একদিন রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে ছাদাক্বাহ্ করার নির্দেশ দেন। আমি আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর থেকে অগ্রগামী হব ভেবে আমি আমার অর্ধেক মাল নিয়ে উপস্থিত হলাম। রাসূল (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখে এসেছো? আমি বললাম, এর সম-পরিমান। ওদিকে আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার সমস্ত মাল নিয়ে উপস্থিত হলেন। রাসূল (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখে এসেছো? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি’। তখন আমি (‘উমার) বললাম, ‘আমি কখনো কোন বিষয়েই আপনাকে অতিক্রম করতে পারবো না’ (আবূ দাঊদ, হা/১৬৭৮; তিরমিযী, হা/৩৬৭৫)। সুতরাং যে ব্যক্তি দারিদ্রতায় ধৈর্যধারণ করতে পারবে এবং নিজের পরবর্তী জীবন-যাপনের উপকরণের ব্যবস্থা হয়ে যাবে তার জন্য সমস্ত সম্পত্তি দান করা দোষনীয় নয় (আল-মুগনী, ২/১০২ পৃ.)।





প্রশ্ন (২৪) : প্রতি বছর ‘আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে ‘আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘তোমরা হজ্জ কর, কারণ হজ্জ গুনাহকে ধুয়ে ফেলে যেরূপ পানি ময়লা ধুয়ে ফেলে’ (ত্বাবারাণী-আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৪৯৯৭)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন  (৫) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে ঝাড়ফুঁক কত প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ‘ওশর’ শব্দের অর্থ কী? কৃষিপণ্যের যাকাতের নিছাব ও পরিমাণ কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : মসজিদের নাম পাগলা মসজিদ বলে পরিচিত। হাজার হাজার মানুষ মনের বাসনা পূরণের জন্য সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা দান করে, মানত করে। প্রতিমাসে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এমন মসজিদে দান করা যাবে কি? আর এভাবে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে নামকরণ করা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রাসূল (ﷺ)-কে ইমানদার বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পাইলস, অর্শ, ভগন্দর রোগের কারণে তেল বা মলম ব্যবহার করলে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আযানের সময় কোন ওয়ায বা কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘রাসূল (ﷺ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে সমস্ত নবীর ক্বিবলাহ বাইতুল মাক্বদিছ ছিল’ এই কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কুরআন তেলাওয়াত করার সময় মসজিদে আযান শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে কোনটি উত্তম হবে তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, না-কি আযানের জবাব দেয়া? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ) তথা ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা‘বূদ নেই’ (وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًّا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ) ‘এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল’। এর প্রকৃত অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : লায়লাতুল ক্বদরের দু‘আটি প্রত্যেক ফরয ছালাতের শেষে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ