বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামী দাওয়াতের স্বার্থে নবী (ﷺ) কখনো কখনো দুর্নাম বা লোকের কথার ভয়ে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকতেন। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘তখন উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এই মুনাফিকের (আব্দুল্লাহ্ ইবনু উবাই এর) গর্দান উড়িয়ে দিই। নবী (ﷺ) বললেন, دَعْهُ لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ ‘উমার! তাকে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা এমন কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর সাথীদের হত্যা করছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫১৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৪)। নবী (ﷺ) লোকের কথা ও সমালোচনার ভয়ে মুনাফিক্বদের হত্যা করেননি। কারণ, তারা লোকেদের ইসলাম গ্রহণ করতে বাধা প্রদান করত। তারা বলত যে, ‘দেখো মুহাম্মাদ তার সাথীদের হত্যা করছে’। রাসূল (ﷺ)-এর মুক্ত ক্রীতদাস ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘... এমতাবস্থায় রাসূল (ﷺ) আসলেন। তখন ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গলার হারটি তাঁর হাতে ছিল।

তিনি বললেন, ‘ফাতিমা! তুমি কি পসন্দ কর যে, লোক বলাবলি করবে যে, রাসূল (ﷺ)-এর কন্যা, অথচ তাঁর হাতে আগুনের হার রয়েছে। অতঃপর তিনি (ﷺ) বের হয়ে গেলেন, আর বসলেন না। ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তখনই হারখানা খুলে বাজারে পাঠিয়ে তা বিক্রি করালেন এবং তা দ্বারা একজন ক্রীতদাস ক্রয় করে আযাদ করে দিলেন। এ খবর শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহর শুকর, যিনি ফাতিমাকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করলেন’ (নাসাঈ, হা/৫১৪০, ৫১৫৫; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৪১১)।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, লোকের কথার ভয়ে বা মানুষ কি বলবে সেই ভয় যখন এমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখে, যে কাজকে সাধারণ মানুষ অপসন্দ করে, তখন সেটি প্রশংসনীয়। সেটাকে আপনি হারাম মনে করে বর্জন করছেন না, বরং এটিকে মানুষ অপসন্দ করে তাই সমালোচনা থেকে বাঁচার জন্য বর্জন করছেন। যেমন, কেউ লোকলজ্জার কারণে নাইট ড্রেস পরে বা লুঙ্গি পরে বাজারে বাহির হয় না অথবা কেউ জনসম্মুখে খেতে বা চিবাতে অপসন্দ করে ইত্যাদি। পক্ষান্তরে যদি কেউ দুর্নামের ভয়ে হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে, এক্ষেত্রে তাকে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার কারণে কোন ছাওয়াব দেয়া হবে না। কেননা সে তো আল্লাহর ভয়ে হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে-নি, বরং সে মানুষের কথার ভয়ে বা সামাজিক পদমর্যাদা হারানোর ভয়ে বিরত থেকেছে।

আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ্ বলেন, আমার বান্দা কোন গুনাহর কাজ করতে চাইলে তা না করা পর্যন্ত তার গুনাহ লেখো না। আর যদি তা করেই ফেলে, তাহলে তা সমপরিমাণ লেখো। আর যদি আমার (মাহাত্ম্যের) কারণে তা ত্যাগ করে, তাহলে তার পক্ষে একটি নেকী লেখো...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৫০১; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৮)।

অনুরূপভাবে যদি কেউ দুর্নামের ভয়ে বা সমালোচনার ভয়ে শরী‘আত নির্দেশিত ভালো কাজ করে, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই কাল ক্বিয়ামতের দিন সকলের সামনে প্রকাশ করে দেবেন। যেমন, যদি কেউ লোকের ভয়ে ছালাত আদায় করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা সকলের সামনে তা প্রকাশ করে দেবেন। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলার পায়ের নলা দেখা মাত্রই ঈমানদারগণ সবাই সাজদাহয় পড়ে যাবে। বাকি থাকবে তারা, যারা লোক-দেখানো এবং লোক-শোনানো সাজদাহ করেছিল। তবে তারা যখন সাজদাহর মনোভাব নিয়ে সাজদাহ করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদণ্ড একটি তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে...।

‘ছহীহ মুসলিম’-এর বর্ণনায় এসেছে, তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশে সাজদাহ করত, সে মুহূর্তে তাদেরকে আল্লাহ সাজদাহ করতে অনুমতি দিবেন এবং তারা সবাই সাজদাহবনত হয়ে পড়বে। আর যে কারো ভয়-ভীতি কিংবা লোক দেখানোর জন্য সাজদাহ করতো তার মেরুদণ্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সাজদাহ করতে ইচ্ছা করবে তখনই তারা চিত হয়ে পড়ে যাবে....’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩)।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, লোকের কথার ভয়ে বা মানুষ কী বলবে সেই ভয়ে যখন আপনি এমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকছেন, যে কাজকে ইসলাম হারাম করেছে, অথবা এমন কোন কাজ করছেন যে কাজ করতে ইসলাম আদেশ করেছে, তখন সেটি নিন্দনীয়। অতএব মোদ্দাকথা হল- দুর্নামের ভয়ে ভালো কাজ করলে বা দান করলে সেটি রিয়া হিসাবে গণ্য হবে।


প্রশ্নকারী : হৃদয়, বকশিবাজার, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৬) : পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া ছেলে বিবাহ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : অসুস্থতার কথা প্রকাশ না করে অসুস্থ প্রাণী বাজারে বিক্রি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : পেশাব করে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং ৪০ কদম হাঁটা বা উঠাবসা করার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মানুষ কি আশরাফুল মাখলূক্বাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জনৈক বক্তা বলেন, যে বান্দা রামাযানের ছিয়াম পালন করে তার সাথে প্রত্যেক দিন তাঁবুতে সুরক্ষিত হুরদের মধ্য হতে একজনকে বিবাহ দিয়ে দেন। প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে ৭০টি দামী কাপড় থাকবে। প্রত্যেকটির রং হবে পৃথক পৃথক। তাকে ৭০ প্রকারের সুগন্ধিযুক্ত রং দেয়া হবে। এক রঙের সাথে অন্য রঙ মিলবে না। প্রত্যেকেই বসে থাকবে হীরার খাটে, যাতে মুক্তা দ্বারা বিন্যস্ত করা থাকবে ৭০টি বিছানা, যার আস্তর থাকবে রেশমের। ৭০টি বিছানার উপর থাকবে ৭০টি পালঙ্ক। প্রত্যের স্ত্রীর জন্য থাকবে ৭০ জন্য সেবিকা, যারা তার সেবা করবে। আর ৭০ জন সেবিকা থাকবে তার সাথে মুলাক্বাতের জন্য। আর প্রত্যেক সহচরের সাথে থাকবে অনেক সম্ভ্রান্ত সাথী। জান্নাতে স্বর্ণের পাত্র থাকবে তাতে বিভিন্ন রঙের খাবার থাকবে। প্রথম যে স্বাদ পাওয়া যাবে শেষেও সে স্বাদ পাওয়া যাবে। আর তার স্বামীকেও অনুরূপ লাল হীরার খাট দেয়া হবে, যার উপর দু’টি স্বর্ণের বালা থাকবে, যা বিন্যস্ত থাকবে লাল হীরা দ্বারা। এটা রামাযানের প্রত্যেক দিন ছিয়াম পালনকারীর জন্য, অন্য নেক আমলের জন্য নয় (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৯৬৭)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : স্ত্রীকে ছালাত আদায় করার জন্য বললে সে ছালাত আদায় করে না। তাতে কি আমার পাপ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ইসলামের দৃষ্টিতে AI (Artificial Intelligence)-এর ব্যবহার বিধি কীরূপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনিচ্ছাকৃত সূদের অংশ পেলে তা কী করব? নিকট গরিব আত্মীয়দের মাঝে ছাওয়াবের আশা ব্যতীত সূদের টাকা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বিকাশে মাঝেমধ্যে কার্ড টু বিকাশ এড মানিতে ক্যাশব্যাক দেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ ৫,৫০০/- কার্ড থেকে বিকাশে আনলে ৫০/- টাকা ক্যাশব্যাক দেয়া হয়। এটা সূদ না-কি হিবা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জনৈক বক্তা বলেন, হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি ১০ মুহাররম আশূরার দিন গোসল করবে, সারা বছর তার কোন রোগ হবে না। উক্ত বক্তব্য সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ