বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত দু‘আ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পড়েছেন মর্মে প্রচার করা হলেও এর কোন সনদ পাওয়া যায় না (তাখরীজু আহাদীছিল ইহইয়া হা/৮৭৩)। অতএব নির্দিষ্টভাবে মানুষের বানানো দু‘আ পড়া যাবে না। বরং হাদীছে বর্ণিত দু‘আ পাঠ করতে হবে। যেমন রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নের দু‘আ পাঠ করতেন-

سُبْحَانَكَ  وَبِحَمْدِكَ لَا إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণ : সুব্হা-নাকা ওয়া বিহাম্দিকা লা ইলা-হা ইল্লা আংতা আস্তাগ্ফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা।
অর্থ : ‘পবিত্রতা সহ আপনার প্রশংসা বর্ণনা করছি। আপনি ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি’ (ইমাম নাসাঈ, আল-কুবরা হা/১০১৪০; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ হা/৩০৮, সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১৬৪; দ্রঃ নাসাঈ (বৈরুত : দারুল মা‘আরিফাহ ১৯৯৭), হা/১৩৪৪-এর টীকা দ্রঃ, পৃঃ ৩/৮১)।

উল্লেখ্য, কুরআন তেলাওয়াত শেষে ‘ছাদাক্বাল্লাহুল আযীম’ (صَدَقَ اللهُ الْعَظِيْمُ) বলার যে প্রথা সমাজে প্রচলিত আছে, তার শারঈ কোন ভিত্তি নেই। মুহাদ্দিছ উলামায়ে কেরাম এই প্রথাকে বিদ‘আত বলেছেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৪/১৪৯ পৃঃ, ফৎওয়া নং ৩৩০৩; ফাতাওয়া উছায়মীন ৩৯/১-৬ পৃ.)।

অনুরূপ কুরআন মাজীদ খতম করার পর সূরা ফাহিতা ও বাক্বারার শুরু থেকে ‘মুফলিহূন’ পর্যন্ত পড়ার যে নিয়ম চালু আছে, তারও ছহীহ কোন দলীল নেই (তিরমিযী হা/২৯৪৮; ই‘লামুল মুয়ক্কেঈন, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৮৯)। সেই সাথে কুরআন মাজীদের শেষে ‘দু‘আউ খতমিল কুরআন’ নামে যে সমস্ত নির্দিষ্ট দু‘আ কুরআনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোরও কোন ভিত্তি নেই (গুনইয়াতুত ত্বালেবীন ৩/২৯৬-৩১৫ পৃঃ; সিলসিলাহ যঈফাহ হা/৬১৩৫)। এ সমস্ত বিদ‘আতী দু‘আ পাঠ করা যাবে না (ফাতাওয়া শায়খ বিন বায ৬/২৯৪)। অনুরূপ মৃত ব্যক্তি বা অন্য কারো উপর বখশানোরও কোন দলীল নেই। এটাও একটি বিদ‘আতী প্রথা।

মোটকথা হল, কুরআন খতমের পর আনুষ্ঠানিক কোন দু‘আ বা আয়োজন সম্পর্কে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমল পাওয়া যায় না। কোন কোন ছাহাবী থেকে দু‘আ করার কথা পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট কোন দু‘আ নয় (শু‘আবুল ঈমান হা/১৯০৭)। তাই কুরআন মাজীদ খতমের পর সৎ আমল হিসাবে অসীলা করে আল্লাহ্র কাছে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং মুসলিম উম্মাহ্র দু‘আ করতে পারে, রহমত ও ক্ষমা চাইতে পারে (ছহীহ বুখারী হা/৫৯৭৪; রওযাতুল মুহাদ্দিছীন হা/৪৬৬১)। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা, আয়োজন বা বখশানোর কোন সুযোগ নেই।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম, উত্তরা, ঢাকা।




প্রশ্ন (১৬) : কোন্ কাজগুলো ডান দিক থেকে এবং কোন্ কাজগুলো বাম দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কুরআনের কোন আয়াত ওযূ ছাড়া লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জনের জন্য চীন দেশে হলেও তোমরা যাও’, হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বিতর ছালাত ছুটে গেলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : ঈদের খুৎবা কয়টি? কোথাও একটি আবার কোথাও দু’টি দিতে দেখা যায়। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : জনৈক খত্বীব বলেন, পাঁচটি রাতের দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। রজবের প্রথম রাত্রি, শা‘বানের মধ্য রাত্রি, জুমু‘আর রাত্রি, ঈদুল ফিতরের রাত্রি এবং ঈদুল আযহার রাত্রি (ইবনু আসাকির, তারীখে দিমাষ্ক ১০/২৭৫ পৃঃ)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পাঠের সময় আঊযুবিল্লাহ-সহ বিসমিল্লাহ বলে পাঠ করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক তাক্বওয়াশীল ব্যক্তির দাদা’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মৃত ব্যক্তিকে গালি-গালাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বয়স কমিয়ে দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিষয়টি হারাম জানার পরে জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য সার্টিফিকেট পুনরায় ঠিক করতে অনেক সময় ও অর্থ খরচ হবে এবং অনেক হয়রানির শিকার হতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বিধর্মীরা কত ভাগে বিভক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাকাতের টাকা দিয়ে গোরস্থানের জমি ক্রয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ