বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কাজের উপর নির্ভর করে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট -এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কখনো বৈধ আবার কখনো অবৈধ। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘একজন মুসলিমের জন্য বৈধ কাজে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা ডিজাইনের কাজ করা জায়েয। তবে হারাম কাজে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা ডিজাইনের কাজ করা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। যেমন ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইট, অ্যালকোহল, সিনেমা, বিপরীত লিঙ্গের চ্যাটিং ওয়েবসাইট ইত্যাদি। দু’টি শর্ত সাপেক্ষে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা ডিজাইনের কাজ করা এবং তার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা বৈধ। যথা
(১) ঐ ওয়েবসাইট বা কোম্পানির কাজগুলো যেন বৈধ এবং শরী‘আতসম্মত কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর কাজগুলো যেন নিষিদ্ধ বা হারাম কাজে ব্যবহৃত না হয়।
(২) এমন কাজ যেটা হারামের সঙ্গে সম্পর্কিত আপনি তেমন কোন কাজ করবেন না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৬৯৯৫৫, ১২১২৫৯, ১০৫৩২৫)। কেননা তা অন্যায়, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ ওয়েবসাইট বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তলব অনুযায়ী শরী‘আতসম্মত কাজ করা জায়েয। এ জগতে এমন হাজার হাজার কাজ আছে, সেগুলো থেকে যদি আপনি কিছু শর্ত সাপেক্ষে হালাল কর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন তাহলে নিঃসন্দেহে তা হালাল। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘নিজের হাতের উপার্জন থেকে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাঊদ (আলাইহিস সালাম) নিজ হাতের উপার্জন থেকে খেতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০৭২; ইবনু মাজাহ, ২১৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৭২৯, ১৫৭৩৯)।

তবে সর্বদা হালাল-হারামের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং হারাম ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাতে হবে। কেননা ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের মধ্যে রয়েছে, ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাস‘আলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাস‘আলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে’। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সন্দেহমুক্ত, বৈধ ও উৎকৃষ্ট পন্থায় অর্থোপার্জন করার প্রচেষ্টা করা এবং পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন উপার্জনের পথ অন্বেষণ করা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৪-২৭৫ ও ১৪/৪২০ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : ওমর ফারুক, নিকুঞ্জ, ঢাকা।





প্রশ্ন (২১) : ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিবল খেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মুমিন ও মুসলিম কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : হারাম রিযিক জেনেও কেউ যদি সেই রিযিকের উপর বহাল থাকে, তাহলে সে কি কাফের হয়ে যাবে যেহেতু তার ইবাদত কবুল হচ্ছে না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দোকানে বিড়ি-সিগারেট ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবকে ভালবাসবে। প্রথমত, আমি হলাম আরবী, দ্বিতীয়ত, কুরআন মাজীদের ভাষা হল আরবী এবং তৃতীয়ত, জান্নাতীদের ভাষাও হবে আরবী। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : প্রথম রাক‘আতে দ্বিতীয় সিজদার পর মাথা তোলার সময় তাকবীর দিয়ে জালসা ইস্তিরাহাতের জন্য বসতে হবে, না-কি জালসা ইস্তিরাহাতের পর তাকবীর দিয়ে দাঁড়াতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বর্তমান যুগের ইহুদী ও খ্রিষ্টান রমণীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আরাফার ময়দানে অনেক হাজীকে নিম্নের দু‘আটি পড়তে দেখা যায়। এই দু‘আটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। চাকরির পাশাপাশি আমি অনলাইনে ট্রেডিং করি বিশেষ করে ফরেক্স ট্রেডিং (ব্রোকার এর মাধমে), ক্রিপটো ট্রেডিং (বাইনান্স এর মাধমে)। আমার পাশাপাশি অনেকেই এই কাজ করে। অনেকেই এটাকে হারাম বলে, আবার অনেকেই হালাল বলে। প্রশ্ন হল, ইসলামে এটা হালাল নাকি হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মেয়ের শ্বশূরবাড়ি আর নিজের বাড়ির লোকের মধ্যে ঝামেলার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী যদি নিজের মা আর চাচাদের চাপে পরে, স্বামীর বাড়িতে মোহরানা না জানিয়ে রেখে যায় এবং এর পর কোর্ট থেকে নোটারীর পাবলিকের মাধ্যমে স্বামীর অনুপস্থিতিতে নোটিশ পাঠিয়ে খোলা ত্বালাক্ব দেয়। তাহলে ত্বালাক হবে কিনা? উল্লেখ্য, এখানে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোন জামেলা ছিলো না। আর স্বামী ত্বালাক্ব দিতে বা মানতেও রাজি না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কারো মেয়ের নাম ‘আনাবিয়া’ ও ‘আব্দিয়া’ রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ