বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  যে ইসলাম গ্রহণের জন্য কালেমাহ শাহাদত পাঠ করতে চাইবে, তার জন্য সাক্ষ্য উপস্থিত করা যরূরী নয়। বরং ইসলামে প্রবেশ করার জন্য শুধু মুখে কালেমা পাঠ করলেই যথেষ্ট হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং ১১৯৩৬)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হল- এতে সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে কোন মাধ্যম নেই। ইসলামের আরেকটি সুন্দর দিক হচ্ছে- এই দ্বীন গ্রহণ করার জন্য বিশেষ কোন ব্যক্তির কাছে কর্মপ্রক্রিয়া নেই। কিংবা বিশেষ ব্যক্তিবর্গের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বরং ইসলাম গ্রহণ করা খুবই সহজ। কোন মানুষ নিজে নিজেই সেটা করতে পারে, এমনকি সে যদি একেবারে নিঃসঙ্গ হয় কিংবা মরুভূমিতে থাকে কিংবা কোন বদ্ধ গৃহে থাকে সেখানেও সে নিজে ইসলাম গ্রহণ করতে পারে।

আর এর প্রক্রিয়াটি হচ্ছে- ‘আশ্‌হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’ এই সুন্দর দু’টি বাক্য উচ্চারণ করা। যার মধ্যে পরিপূর্ণ ইসলামের মর্ম নিহিত রয়েছে। যাতে অন্তর্ভুক্ত আছে- মানুষের পক্ষ থেকে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি, আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, আল্লাহকে মা‘বূদ হিসাবে স্বীকার করে নেয়া, নিজের উপর আল্লাহকে সব কিছুর হুকুমদাতা হিসাবে মেনে নেয়া। যাতে রয়েছে- মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর নবী হওয়ার সাক্ষ্য, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু অহী হিসাবে নিয়ে এসেছেন সে সবের অনুসরণ করা আবশ্যকীয়, তাঁর আনুগত্য হচ্ছে- আল্লাহরই আনুগত্য। যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে এ সাক্ষ্যবাণীদ্বয় উচ্চারণ করবে সে ইসলামে প্রবেশ করবে এবং মুসলিমদের একজন হিসাবে গণ্য হবে। মুসলিমদের প্রাপ্য যে যে অধিকার রয়েছে তার জন্যও সেসব অধিকার সাব্যস্ত হবে এবং মুসলিমদের উপর যে যে দায়িত্ব রয়েছে তার উপর সেসব দায়িত্ব বর্তাবে। যেমন যথাসময়ে ছালাত আদায় করা, যাকাত আদায় করা, রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করা ইত্যাদি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৭/৩২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৭০৩)

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) মু‘আয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামান দেশে শাসক হিসাবে প্রেরণ করেন। অতঃপর বললেন, সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহ্বান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর প্রতি দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন। যদি সেটা তারা মেনে নেয় তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে যাকাত ফরয করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৯৫, ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯)

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এ কথা দিবালোকের ন্যায় প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম গ্রহণকালে সাক্ষী রাখা ও প্রকাশ করা মৌলিক শর্ত নয়, বরং তা মুস্তাহাব। তবে বিপদের আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনে ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখাও দোষণীয় নয় (সূরা আল-মুমিন বা গাফির : ২৮)


প্রশ্নকারী : ছাকিব, নওগাঁ।





প্রশ্ন (২৮) : অনেক বক্তা বলেন, জুমু‘আর দিনটি গরীবের হজ্জ। এই দাবী কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : একজন মুসলিম ব্যক্তি ছিয়ামের পরিবর্তে কখন ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কুনূতে নাযেলা নফল ছালাতে পড়া যাবে কি? এর নিয়মটা কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মৃত ব্যক্তিকে কবরে চিত করে শোয়ানো কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ঘরে সূরা বাক্বারা পাঠ করা এবং এ সূরার পঠন শয়তানকে তাড়ানো: সূরাটি উচ্চৈঃস্বরে পড়া কি আবশ্যকীয়? ক্যাসেট-প্লেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে কি এ উদ্দেশ্য হাছিল হতে পারে? সূরাটি ভাগ ভাগ করে পড়লে কি যথেষ্ট হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯): জনৈক বক্তা বলেন যে, ‘জান্নাতে একটি কনফারেন্স হবে। সেই কনফারেন্সের সভাপতি হবেন স্বয়ং আল্লাহ। আর সেখানে উপস্থিত থাকবেন আমাদের নবী (ﷺ) ও নূহ (আলাইহিস সালাম)। আর পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলা কুরআন তেলাওয়াত করবেন’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মেয়েদের বাচ্চা প্রসবের পর সাধারণত ৪০ দিন নাপাক থাকে এবং ছালাত, ছিয়াম ও কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকে। প্রশ্ন হল- এই সময় তারা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত বা স্মরণ করবে? সরাসরি কুরআন না পড়ে মোবাইল ধরে তাতে কুরআন পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : নারীরা সাজগোজ করে মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের সামনে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মুনাজাতের পর মুখে হাত মাসাহ করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সূদি ব্যাংকে সকল প্রকার চাকুরী কি নিষিদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম ব্যক্তির জন্য গোসল করা কি জায়েয? মুহরিমের জন্য ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ