বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : দাড়ি রাখা ওয়াজিব। রাসুলূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ ছোট করবে এবং দাড়ি বড় রাখবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; তিরমিযী, হা/৪৪২১)। অন্যত্র দাড়ি লম্বা করে ও গোঁফ ছোট করে অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০; মুছান্নাফু ইবনি আবী শায়বাহ, হা/২৬০১৩)। এমনকি মুসলিমদের স্বভাবগত দশটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গোঁফ ছোট করা ও দাড়ি লম্বা করা অন্যতম (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬১; আবূ দাঊদ, হা/৫৩; মিশকাত, হা/৩৭৯)। এভাবে দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে হাদীছে বিভিন্ন শব্দ এসেছে। যারা দাড়ি ছাটার ব্যাপারে ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আমলকে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২)। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কেননা সেটা তার ব্যক্তিগত আমল ছিল, যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশসূচক হাদীছের উপর প্রাধান্য পায় না।

দাড়ি না রাখার পরিণাম অত্যন্ত ভয়বাহ। যেমন (ক) আল্লাহর অবাধ্যতা : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, পারস্যের স¤্রাট কিসরা ইয়ামানের শাসকের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দু’জন দূত পাঠান। যাদের দাড়ি ছিল না আর গোঁফ ছিল বড়। তাদের এই অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেন। জিজ্ঞেস করেন, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের প্রভু কিসরা। তখন তিনি বলেন, إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أُوَفِّرَ لِحْيَتِيْ وَأُحْفِيَ شَارِبِيْ ‘আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন আমি দাড়ি লম্বা রাখি এবং গোঁফ ছোট রাখি’ (মুসনাদুল হারিছ, হা/৫৯২; ফিক্বহুস সীরাহ, পৃ. ৩৫৯, সনদ হাসান)।

(খ) রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ অমান্যকরণ : দাড়ি না রাখার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ সম্বলিত বিধানের বিরোধিতা করা হয়। যার পরিণাম জাহান্নামের আগুন (সূরা আল-জিন : ২৩)। (গ) সুন্নাত থেকে বিচ্যুতি : আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী-রাসূলদের দাড়ি ছিল। পবিত্র কুরআনে হারূন (আলাইহিস সালাম)-এর দাড়ির বর্ণনা এসেছে (সূরা ত্বোহা : ৯৪)। অনুরূপভাবে সর্বশেষ নবী, তাঁর খলীফাগণ, তাঁর ছাহাবীগণ এবং পরবর্তীতে যুগের পর যুগে তাদের অনুসারী সালফে ছালেহীনদের পালনীয় সুন্নাত হল এই দাড়ি (উছায়মীন, মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১৬ তম খণ্ড, পৃ. ২৭)। (ঘ) অমুসলিমদের অনুকরণ : দাড়ি কাটার মাধ্যমে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করা হয়। আর যারা যাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭, সনদ হাসান)। (ঙ) নারীদের অনুকরণ : দাড়ি না রাখার মাধ্যমে নারীদের মতো মুখাবয়ব বানানো হয়, যাতে প্রকরান্তরে তাদের অনুকরণ করাই হয়। এ সমস্ত ব্যক্তিদের উপর আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৯০৪; মিশকাত, হা/৪৪২৯)।


প্রশ্নকারী : ইমদাদুল হক, শিবগঞ্জ, বগুড়া।




প্রশ্ন (৯) : কেমন ব্যক্তি চাঁদ দেখার সাক্ষী দিলে ছিয়াম রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের মেহরাবের দক্ষিণ দেয়ালে থুথু ফেলার জন্য কি জানালা রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জুম‘আর খুতবা ও ছালাতের সময় এবং অন্যান্য ছালাতের সময় সামনে, পিছনে কিংবা উপর থেকে ভিডিও করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অনেক মহিলারা ডান হাতের নখ রাখে। কারণ তারা তা না রাখলে নাকি কাজ করতে পারে না। এখন কেউ যদি বড় নখ রাখে তাহলে তার পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আছরের ছালাত ক্বাযা হলে মাগরিব ছালাতের সময় আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : নারীরা সাজগোজ করে মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের সামনে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : নেশাজাতীয় দ্রব্য ভক্ষণকারীকে সালাম দেয়া যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব বা যা ইসলামে হারাম করা হয়েছে সেসবের ডিজাইন করতে হয়। আবার কোন সময় গানের ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হয়। এক্ষেত্রে কেউ গান শুনলে ডিজাইনার কি গুনাহ পেতে থাকব? আবার বিদেশী নারী ক্লায়েন্টের জন্য বিদেশী নারীদের ছবি ডিজাইনের কাজ করতে হয়। প্রশ্ন হল- এরকম ডিজাইনের কাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার বন্ধু অনলাইনে জুয়া খেলে টাকা উপার্জন করে। অতঃপর ঐ টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের নাস্তা ও চা বিস্কুট খাওয়ায়। এক্ষেত্রে আমাদের খাওয়াটা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : বড় অপবিত্রতা থেকে গোসল করার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ