রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর : দাড়ি রাখা ওয়াজিব। রাসুলূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ ছোট করবে এবং দাড়ি বড় রাখবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯; তিরমিযী, হা/৪৪২১)। অন্যত্র দাড়ি লম্বা করে ও গোঁফ ছোট করে অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬০; মুছান্নাফু ইবনি আবী শায়বাহ, হা/২৬০১৩)। এমনকি মুসলিমদের স্বভাবগত দশটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গোঁফ ছোট করা ও দাড়ি লম্বা করা অন্যতম (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬১; আবূ দাঊদ, হা/৫৩; মিশকাত, হা/৩৭৯)। এভাবে দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে হাদীছে বিভিন্ন শব্দ এসেছে। যারা দাড়ি ছাটার ব্যাপারে ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আমলকে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২)। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কেননা সেটা তার ব্যক্তিগত আমল ছিল, যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশসূচক হাদীছের উপর প্রাধান্য পায় না।

দাড়ি না রাখার পরিণাম অত্যন্ত ভয়বাহ। যেমন (ক) আল্লাহর অবাধ্যতা : আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, পারস্যের স¤্রাট কিসরা ইয়ামানের শাসকের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দু’জন দূত পাঠান। যাদের দাড়ি ছিল না আর গোঁফ ছিল বড়। তাদের এই অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেন। জিজ্ঞেস করেন, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের প্রভু কিসরা। তখন তিনি বলেন, إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أُوَفِّرَ لِحْيَتِيْ وَأُحْفِيَ شَارِبِيْ ‘আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন আমি দাড়ি লম্বা রাখি এবং গোঁফ ছোট রাখি’ (মুসনাদুল হারিছ, হা/৫৯২; ফিক্বহুস সীরাহ, পৃ. ৩৫৯, সনদ হাসান)।

(খ) রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ অমান্যকরণ : দাড়ি না রাখার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ সম্বলিত বিধানের বিরোধিতা করা হয়। যার পরিণাম জাহান্নামের আগুন (সূরা আল-জিন : ২৩)। (গ) সুন্নাত থেকে বিচ্যুতি : আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী-রাসূলদের দাড়ি ছিল। পবিত্র কুরআনে হারূন (আলাইহিস সালাম)-এর দাড়ির বর্ণনা এসেছে (সূরা ত্বোহা : ৯৪)। অনুরূপভাবে সর্বশেষ নবী, তাঁর খলীফাগণ, তাঁর ছাহাবীগণ এবং পরবর্তীতে যুগের পর যুগে তাদের অনুসারী সালফে ছালেহীনদের পালনীয় সুন্নাত হল এই দাড়ি (উছায়মীন, মাজমূ‘ঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১৬ তম খণ্ড, পৃ. ২৭)। (ঘ) অমুসলিমদের অনুকরণ : দাড়ি কাটার মাধ্যমে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করা হয়। আর যারা যাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য (আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১; মিশকাত, হা/৪৩৪৭, সনদ হাসান)। (ঙ) নারীদের অনুকরণ : দাড়ি না রাখার মাধ্যমে নারীদের মতো মুখাবয়ব বানানো হয়, যাতে প্রকরান্তরে তাদের অনুকরণ করাই হয়। এ সমস্ত ব্যক্তিদের উপর আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৯০৪; মিশকাত, হা/৪৪২৯)।


প্রশ্নকারী : ইমদাদুল হক, শিবগঞ্জ, বগুড়া।




প্রশ্ন (১০) : ফরয ছালাতের পর পঠিত যিকির-আযকারের সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করার সময় কি শুরুতে ‘আঊযুবিল্লাহ’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ পড়তে হবে, না-কি অন্যান্য যিকিরের সাথে সরাসরি আয়াতুল কুরসি পড়ে নিলেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছহীহ মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সাবধান থাক। কেননা বানী ইসরাঈলের উপর প্রথম যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নারীদের মধ্য হতে ঘটেছিল’ (হা/২৭৪২)। বানী ইসরাঈলের সেই নারী কেন্দ্রিক ঘটনা কী ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘তোমরা রাতের বেলায় রাস্তার মধ্যভাগে অবস্থান নেয়া থেকে সাবধান থাক। কেননা উহা হল, সাপ ও হিংস্র প্রাণীদের আশ্রয়স্থল’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : হাত তুলে দু‘আর শুরুতে হামদ ও দরূদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। কোন্ বাক্য দ্বারা হামদ ও দরূদ পাঠ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কোন ব্যক্তি তওবা করার পর পুনরায় সেই পাপে লিপ্ত হলে তাকে কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : একজন মহিলা হয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতার চাকুরী করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : একজন স্বামী রাগের মাথায় বলে- ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। কিন্তু স্বামীর ত্বালাক্ব দেয়ার কোন নিয়ত (ইচ্ছা) ছিল না। সে কথাগুলো শুধু রাগ ও গালির ভাষায়, ত্বালাক্বের উদ্দেশ্য ছাড়া উচ্চারণ করেছে। স্বামী জানে যে, ‘তোমাকে ত্বালাক্ব দিলাম’- এই কথা নিয়তসহ বললে তবেই ত্বালাক্ব হয়। ইংরেজিতে ডিভোর্স, বললে হয় না। এখন প্রশ্ন হলো- এই অবস্থায় স্বামীর উক্তি ‘তোমাকে ডিভোর্স, তোমার ১৪ গুষ্টিকে ডিভোর্স’। বলার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ত্বালাক্ব সংঘটিত হয়েছে কি না? যদি হয়, তাহলে কয়টা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জুমু‘আর খুৎবাহ বসে বসে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আক্বীক্বার সপ্তম দিনে যদি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হয়, তাহলে আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : নিম্নের দু‘আটি পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : শরী‘আতে একাকী সফর করা সম্পর্কে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে- তা কি ছহীহ? যদি ছহীহ হয় তবে সফরসঙ্গী না পেলে দূরবর্তী সফরে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কেউ যদি মাযারে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী ও টাকা-পয়সা দান করে, তাহলে শিরক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ