বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর : সঊদী আরবের ফাতাওয়া বোর্ডসহ শায়খ ইবনু বায, শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী এবং শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) সকলেই বুকের উপর হাত বাঁধার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা অন্যতম দলীল পেশ করেছেন যে, ত্বাউস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ

‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাত অবস্থায় স্বীয় ডান হাতকে বাম হাতের উপর স্থাপন করে নিজের বুকের উপর বাঁধতেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৭৫৯, সনদ ছহীহ; আত-তামহীদ, ২০/৭৫ পৃ.; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব ইবনে বায, ৮/১৪৮ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৩/৩৯২ পৃ.; ছিফাতু ছালাতিন নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ১/২১৫ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন,

من السنة وضع كف اليمنى على كف اليسرى والرسغ والساعد فوق الصدر أثناء القراءة في القيام

‘দণ্ডায়মান অবস্থায় ক্বিরআত পাঠকালে ডান হাতকে বাম হাতের পাতা, কব্জি ও বাহুর উপর রেখে বুকের উপর হাত বাঁধা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৬/৩৭০-৩৭২ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছালাতের মধ্যে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা সুন্নাত। সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

كانَ النَّاسُ يُؤْمَرُوْنَ أنْ يَضَعَ الرَّجُلُ اليَدَ اليُمْنَى علَى ذِرَاعِهِ اليُسْرَى في الصَّلَاةِ قَالَ أَبُوْ حَازِمٍ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا يَنْمِي ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِسْمَاعِيْلُ يُنْمَى ذَلِكَ

‘লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, ছালাতে প্রত্যেকে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে’। আবূ হাযিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাহল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এ হাদীছটি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীছটি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতেই বর্ণনা করা হত’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০; মুওয়াত্তা মালিক, হা/৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৪৯)। এখন প্রশ্ন হল, হস্তদ্বয়কে কোথায় রাখতে হবে? বিশুদ্ধতার সর্বাধিক নিকটবর্তী ও অধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতে হবে, যা ওয়াইল ইবনু হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে বুকের উপর রাখতেন (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/৪৭৯, ১/২৪৩ পৃ.; বুলূগুল মারাম, হা/২৭৫)। অন্যান্য হাদীছের তুলনায় এটিই বিশুদ্ধতার সর্বাধিক নিকটবর্তী। .... অপরদিকে নাভীর নিচে হস্তদ্বয়কে রাখার ব্যাপারে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে আছার বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ। বরং ওয়াইল ইবনু হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীছই এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৩/৯৭ ও ৭৩ পৃ.; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৩/৩৬-৩৭ পৃ.)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَلَا شَيْءَ فِي الْبَابِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْمَذْكُوْرِ فِيْ صَحِيْحِ ابْنِ خُزَيْمَةَ

‘হাত বাঁধা বিষয়ে ছহীহ ইবনু খুযায়মাতে ওয়াইল ইবনু হুজর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীছের চাইতে বিশুদ্ধতম কোন হাদীছ আর নেই’ (নায়লুল আওত্বার, ৩/২৫ পৃ.)।

আল্লামা নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যিরার উপর ডান হাত রাখার আদেশ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, হাত বুকের উপরেই বাঁধতে হবে। নচেৎ তার নিচে ঐভাবে হাত রাখা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, ‘বুকের উপরে হাত বাঁধার পদ্ধতি সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত। আর এর বিপরীত হয় যঈফ, না হয় ভিত্তিহীন’ (ছিফাতু ছালাতিন নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), পৃ. ৮৮)। এছাড়া আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) আবূ দাঊদের তাহক্বীক্বে বুকের উপর হাত বাঁধার হাদীছ ছহীহ বলেছেন (হা/৭৫৯)। তিনি তাঁর ‘ছিফাতু ছালাতিন নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ গ্রন্থে হাত বাঁধা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে শিরোনাম দিয়েছেন, وضعهما على الصدر ‘বুকের উপর দু’হাত রাখা’। অতঃপর হাদীছ উল্লেখ করে নিচে টীকা লিখেছেন। যা বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হল। ‘নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন’ (আবূ দাঊদ, হা/৭২৩, ৭২৬-৭২৭, ৭৫৫, ৭৫৯, ৯৫৭; নাসাঈ, হা/৮৮৭-৮৮৮; ইবনু মাজাহ, হা/৮০৯-৮১১)। এ বিষয়ে তিনি স্বীয় ছাহাবীগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০; মুওয়াত্তা মালিক, হা/৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৪৯)। তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন (নাসাঈ, হা/৮৮৭-৮৮৮, দারাকুত্বনী)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘বুকের উপর হাত বাঁধার বিষয়টি সুন্নাত থেকে প্রমাণিত (ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/৪৭৯, ১/২৪৩ পৃ.; বুলূগুল মারাম, হা/২৭৫; ছিফাতু ছালাতিন নাবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), পৃ. ৬৯)। এর বিপরীতে নাভীর নিচে হাত বাঁধার বিষয়টি হয় যঈফ না হয় ভিত্তিহীন। সুনানু ইবনু মাজার ভাষ্যকার মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল হাদী আস-সিন্দী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সুন্নাত অনুযায়ী হাত বাঁধার স্থান বুকের উপর ব্যতীত অন্য কোন স্থান নয়। পক্ষান্তরে ছালাতের মধ্যে নাভীর নিচে হাতের পাতার উপর হাতের পাতা রাখা’ হাদীছটি সর্বসম্মতিক্রমে যঈফ’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫৯৯৫৭)।

উল্লেখ্য যে, বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২ জন তাবিঈ থেকে মোট ২০টি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্দিল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর বিপরীত কোন আমল বর্ণিত হয়নি এবং এটাই অধিকাংশ ছাহাবী ও তাবিঈনের অনুসৃত পদ্ধতি (নায়লুল আওত্বার, ৩/২২ পৃ.; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/১০৯ পৃ., কায়রো ১৪১২ হি./১৯৯২ খ্রি.)।

পক্ষান্তরে নাভীর নিচে হাত বাঁধা সম্পর্কে আহমাদ, আবূ দাঊদ, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ প্রভৃতি গ্রন্থে চারজন ছাহাবী ও দু’জন তাবিঈ থেকে যে চারটি হাদীছ ও দু’টি আছার বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে মুহাদ্দিছীনের বক্তব্য হল, لَا يَصْلُحُ وَاحِدٌ مِنْهَا لِلْاِسْتِدْلَالِ ‘যঈফ হওয়ার কারণে এগুলোর একটিও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়’ (মির‘আতুল মাফাতীহ, ৩/৬৩ পৃ.; তুহফাতুল আহওয়াযী, ২/৮৯ পৃ.; ফিক্বহুস সুন্নাহ, ১/১০৯ পৃ.; নাইলুল আওত্বার, ৩/১৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আল-মামুন, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৩) : অনেক মসজিদ বা বাড়ীতে রং-বেরংয়ের জায়নামায দেখা যায়।সেগুলোতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নবী-রাসূলদেরকে মু‘জিযা দান করার কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : শবে মি‘রাজ উপলক্ষে ছিয়াম পালন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সফরে কছর করা কী ওয়াজিব? আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সফরে পূর্ণ ছালাত আদায় করেছেন। এমন বর্ণনা কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু’-এর ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছাত্রাবাসে দেশের নতুন বিজয় উপলক্ষে এবং যারা মারা গেছে তাদের স্মরণে নফল ছিয়াম রাখে। এরকম আনুষ্ঠানিকভাবে নফল ছিয়াম রাখার কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মোবাইলে ত্বালাক্ব দিলে ত্বালাক্ব পতিত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জিনরাও কি মৃত্যুবরণ করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ওযূ করার পর ছালাত চলাকালীন যদি জানতে পারি যে, আমার দাঁতে সামান্য খাবার অবশিষ্ট আছে। এখন উক্ত ছালাত কি ওযূ করে আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের ইমাম যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নূর থেকে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মৃত ব্যক্তির জন্য জামাই, ছেলের বউ বা অন্য যে কেউ যদি দান করেন, তবে সেই ব্যক্তির কোন উপকার হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মক্কায় একদিনের ছিয়াম বাইরের এক লক্ষ ছিয়ামের সমতুল্য। সেখানে এক দেরহাম খরচ করলে এক লক্ষ দেরহামের সমান এবং একটি নেকী করলে এক লক্ষ নেকীর সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদীছে মসজিদে নববীর ছওয়াব সমজিদে আক্বছার চেয়ে অধিক এসেছে। অথচ এখানে উভয় মসজিদের ছওয়াব পঞ্চাশ হাজার বলা হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে, প্রত্যেক মসজিদের ছওয়াব পূর্ববর্তী মসজিদ হিসাবে বলা হইয়াছে অর্থাৎ জামে মসজিদের ছওয়াব পাঁচশ’ ছালাত নয়, বরং মহল্লার মসজিদ হতে পাঁচশ’ গুণ বেশী। এই হিসাব মতে জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০) (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ. ৯২)। তাবলীগী নিসাবের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ কিতাবে বর্ণিত উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ