উত্তর : মানুষকে আল্লাহ ফিতরাতের উপর সৃষ্টি করেছেন (সূরা রূম ৩০)। কিন্তু পিতা-মাতার কারণে অনেক সময় পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে (বুখারী হা/১৩৮৫)। তাই মানুষের ফিতরাতের জন্য নবী-রাসূল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তাকে বিফল করে না। কারণ মানুষ জন্মগতভাবে ইসলামের বিস্তারিত জ্ঞান নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। সে জানে না যে, আল্লাহর ইবাদত কীভাবে করতে হবে? ছালাতের পদ্ধতি কী? যাকাতের বিধান কী? হজ্জের নিয়ম কী? কোন্টি হালাল ও কোন্টি হারাম? আক্বীদার বিস্তারিত বিষয়গুলো কী? মানুষের পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব কী? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান কী? ইত্যাদি। অন্যদিকে মানুষের ফিতরাত বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত ও বিকৃত হতে পারে। পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবেশ, শিক্ষা, প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা মানুষের স্বাভাবিক ফিতরাতকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম বড় নে‘মত হল- তিনি মানুষের কাছে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন এবং আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন। এর উদ্দেশ্য হল- ফিতরাতকে পরিপূর্ণ করা, মানুষকে সত্যের বিস্তারিত পরিচয় দেয়া এবং ফিতরাতের ওপর যে বিকৃতি ও পরিবর্তন সৃষ্টি হয়েছে তা সংশোধন করা। অতএব, ফিতরাত ও অহীর পরস্পরের বিকল্প নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৪৫৮৯৮৯)।
প্রশ্নকারী : সেলিম, মাদারীপুর।