রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন

তরুণদের বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে সতর্ক করা

- মুহাম্মাদ ইবনু নাছির আল-উরাইনি (রাহিমাহুল্লাহ)
- অনুবাদ : মাসঊদুর রহমান*


(শেষ কিস্তি)

দ্বীন- ধর্মের প্রতি সঊদী রাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা

সঊদী রাষ্ট্র দ্বীন-ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সঊদ এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) উভয়েই সঠিক পদ্ধতিতে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানের পথ প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। সকল স্থানীয়, আঞ্চলিক, সমসাময়িক ও আধুনিক ঐতিহাসিক সূত্র ও গবেষণা দ্বারা এটি নিশ্চিত হয়েছে। (১) সঊদী রাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সমর্থন ও সহযোগিতার লক্ষ্যে  মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্র নির্মাণ, ধর্মপ্রচারক প্রেরণ, পবিত্র কুরআন ও উপকারী ধর্মগ্রন্থ মুদ্রণ ও বিতরণ, শরী‘আহ আদালত প্রতিষ্ঠা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন, আন্তর্জাতিক কুরআন মুখস্থকরণ প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং স্কুল, ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ১৬০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থী রয়েছে এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সঊদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ১৪০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ৬০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান করে। মহান আল্লাহই তার দ্বীনের সাহায্য ও হেফাজতকারী, যদিও অবিশ্বাসীরা ও বিদ্বেষকারীরা এটাকে ঘৃণা করে।

(১) ড. আব্দুর রহমান বিন আলী আল উরাইনি রচিত ‘কিতাবুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সঊদ ওয়া জুহুদুহ’

বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি তাঁর পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন সালাফি এবং আমি সালাফি হতে পেরে গর্বিত। আমি দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত করতে এবং মুসলিম ও আরবদের হৃদয়ে ন্যায়পরায়ণ পূর্বসূরিদের মানহাজের প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলতে আমার সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়োজিত করি’। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি একজন সালাফি, আমার আক্বীদা হলো সালাফিবাদ, যা আমি কিতাব ও সুন্নাহ অনুসারে অনুসরণ করি’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি শরী‘আতের বিধান প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার জন্য মহান আল্লাহর পবিত্র ঘর-আবাসের দিকে যাত্রা করছি। আজ থেকে শরী‘আত ছাড়া অন্য কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না’।

মহামান্য যুবরাজ নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যায়কারীদের শাস্তি প্রয়োগের ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করি, যে রাষ্ট্র প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয় না। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও আমি শরী‘আতের বিধান ছাড়া কাউকে শাস্তি দিতে পারি না। যখন আমি কোনো বিধান কার্যকর করি, তখন আমি তা স্বচ্ছ বিবেকের সাথে করি, কারণ আমি আল্লাহর বিধানই পালন করছি। আমাদের বিচার বিভাগ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুসারে পরিচালিত হয় ফালিল্লাহিল হামদ’।[১]

মহামান্য যুবরাজ ইমাম, দাঈ এবং বক্তাদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের সময় বলেছেন, ‘হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনাদের দেশ ইসলামের দেশ, এবং এটি আমাদের সকলের জন্য একটি সম্মান। অতএব, আমাদের উচিত আমাদের এই দ্বীন এবং এই মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করা, যে দ্বীনকে মহান আল্লাহ জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ও সর্বক্ষেত্রে পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সম্মানিত করেছেন।[২]

শায়খ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর শুকরিয়া যে, সঊদীআরব তার জনগণের মধ্যে শরী‘আহ শাসন বাস্তবায়ন করে এবং শরী‘আহ সম্মত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করে। দেশটি সমগ্র রাজ্য জুড়ে শরী‘আহ সম্মত আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। আর এই বিষয়টি কারো অজানা নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশ ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর বিধান পালনে সবচেয়ে অনড়’।[৩]

শায়খ মুহাম্মাদ বিন উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আমি  মহান আল্লাহ অতঃপর আপনাদেরকেও সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি পৃথিবীতে এমন কোন রাষ্ট্রের ব্যাপারে জানি না, যে রাষ্ট্র এই দেশ তথা সঊদীআরবের মতো মহান আল্লাহর আইন প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করে। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নে‘মত। সুতরাং, আমাদের উচিত আজ আমাদের যা আছে তা রক্ষা করা এবং আল্লাহর আইনের প্রতি আমাদের আনুগত্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা, কারণ আমি পরিপূর্ণতার দাবি করি না এবং আল্লাহর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা শীর্ষে আছি বলেও দাবি করি না।  অবশ্যই এই ক্ষেত্রে আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু এর পরও -- আমরা অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় উত্তম’।

আমরা যে আদর্শের ওপর রয়েছি তা যদি বজায় রাখি অতঃপর আক্বীদা ও মানহাজগত ভাবে আল্লাহর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা আরো বৃদ্ধি করি, তাহলে আমাদের চতুর্দিকের সকল শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হলেও আমরাই সফল ও বিজয় হব ইনশাআল্লাহ।[৪] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ کَانَ حَقًّا عَلَیۡنَا نَصۡرُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ‘মু’মিনদেরকে সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব’ (সূরা আর-রুম : ৪৭)। তিনি আরো বলেন, اِنۡ تَنۡصُرُوا اللّٰہَ یَنۡصُرۡکُمۡ  وَ  یُثَبِّتۡ  اَقۡدَامَکُمۡ  ‘যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন’ (সুরা মুহাম্মাদ : ৭)।

শাইখ আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এটি মুমিনদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটি আদেশ যে, তারা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত রেখে মানুষকে তার দিকে আহ্বান করে এবং তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যদি তারা তা করে, তবে আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তাদের পদযুগলকে সুদৃঢ় করবেন’।[৫] তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ ও উদারতার প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের, শাসক ও প্রজাদের, তাঁর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার এবং তাঁর শরী‘আতের প্রয়োগ বৃদ্ধি করার তাওফীক্ব দান করেন। যাতে আমরা বিজয় ও ক্ষমতা উভয়টাই লাভ করতে পারি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

اَلَّذِیۡنَ  اِنۡ مَّکَّنّٰہُمۡ  فِی الۡاَرۡضِ اَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَوُا الزَّکٰوۃَ وَ اَمَرُوۡا بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ  نَہَوۡا عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَ لِلّٰہِ  عَاقِبَۃُ  الۡاُمُوۡرِ

‘আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা ছালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কার্য হতে নিষেধ করবে। সকল কাজের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে’ (সূরা আল-হাজ্জ : ৪১)।

এই বরকতময় দেশে শ্রেফ দ্বীনের প্রতি আমাদের আনুগত্যের কারণেই আমরা দারিদ্র্যের পর সমৃদ্ধিতে, ভয়ের পর নিরাপত্তায়, অপমানের পর সম্মানে এবং অজ্ঞতার পর জ্ঞান সমৃদ্ধভাবে বসবাস করছি। যা বিদ্বেষকারীদের ক্ষুব্ধ ও বিচলিত করেছে, যার ফলে তারা আমাদের পতন কামনা করছে এবং এই দেশের বিরোধিতা ও ধ্বংসের  জন্য সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বন করছে। আর তারা সফল হবে না ইনশাআল্লাহ, যতক্ষণ আমরা সঠিক পথে থাকব এবং আল্লাহর আনুগত্য করব।

আমাদের উচিত অন্যান্য জাতির পদাঙ্ক অনুসরণ না করে আমাদের পূর্বসূরী নেক্কার মুমিনদের অনুসরণ করা এবং আমাদের যে সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতি রয়েছে, সেটার কদর ও মূল্য দেওয়া। 

আমাদের উচিত মহান আল্লাহর দেওয়া আবশ্যকীয় বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করা, যাতে করে আমাদের উপর আল্লাহর সাহায্য স্থায়ী হয়। অতঃপর এই ভূমি ও এর জনগণকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ যাদেরকে আমাদের বিষয়াদির দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আমাদের উচিত তাদেরকে সহযোগিতা করা। কেননা এই ভূমি ইসলামের শেষ আশ্রয়স্থল। আমাদের অবশ্যই তাদের সাফল্য ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য দু‘আ করতে হবে, কারণ তাদের জন্য দু‘আ করা নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ কাজ এবং সর্বোত্তম আনুগত্যের পরিচায়ক। আলেমগণের মতে, এটি এক প্রকার আন্তরিক উপদেশও বটে। বর্ণিত আছে যে, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আমি যদি জানতাম যে, আমার এমন কোনো দু‘আ আছে যা কবুল হবে, তবে আমি তা শাসকের জন্যই করতাম’। এই কথাটি আল-ফুদায়েল ইবনে ইয়াদ এবং অতীত ও বর্তমানের অন্যান্য আলেমগণও বর্ণনা করেছেন। এর কারণ হলো, শাসকদের জন্য মুসলমানদের সৎ প্রার্থনা তাদের এবং তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে আনে। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শাসকদেরকে তাঁর প্রিয় ও সন্তোষজনক পথের দিকে পরিচালিত করেন, তাঁদেরকে সৎ ও একনিষ্ঠ উপদেষ্টা দান করেন এবং তাঁদেরকে মন্দ উপদেষ্টাদের থেকে দূরে রাখেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বগ্রাহী।

সারা বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, এই দেশের জন্য আন্তরিকভাবে দু‘আ করা, একে নিজেদের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে গণ্য করা এবং এই রাষ্ট্রের শাসকদের সহযোগিতা করা। কেননা এই রাষ্ট্রে মুসলিম এবং ইসলামের জন্য কল্যাণ রয়েছে।

যারা আমাদের দেশের নিরাপত্তা, আমাদের ঐক্য এবং আমাদের বিশ্বাসের অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের সকলের জন্য অপরিহার্য। আমাদের অবশ্যই এই ভূমিকে রক্ষা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, কারণ এটি ইসলামের ভূমি, তাওহীদ ও সঠিক আক্বীদা-বিশ্বাসের ভূমি, মুসলমানদের কিবলা এবং সেই স্থান যেখানে অহি অবতীর্ণ হয়েছিল। উক্ত কাজগুলো আমাদের উপর আবশ্যক এবং ধর্মীয় গত দিক থেকেও অপরিহার্য হয়, যাতে করে মহান আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের ফেতনা এবং বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেন। ওৎ পেতে থাকা প্রত্যেক শত্রু ও বিদ্বেষকারীর উপর আমাদের বিজয় দান করেন এবং নিরাপত্তা ও শক্তিমত্তার সাথে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষমতা ও তাওফীক্ব দান করেন। মহান আল্লাহ বলেন,

وَعَدَ  اللّٰہُ  الَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۪ وَ لَیُمَکِّنَنَّ لَہُمۡ دِیۡنَہُمُ  الَّذِی ارۡتَضٰی لَہُمۡ وَ لَیُبَدِّلَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِہِمۡ  اَمۡنًا ؕ یَعۡبُدُوۡنَنِیۡ لَا  یُشۡرِکُوۡنَ بِیۡ شَیۡئًا

‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেনই, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে; যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয় ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন; তারা আমার ইবাদাত করবে, আমার সাথে কোন শরীক করবে না’ (সূরা আন-নুর : ৫৫)।

পরিশেষে, এই বইটি লিখতে পারায় আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আশা করি তিনি তাঁর অসীম করুণায় এর জন্য আমাকে পুরস্কৃত করবেন এবং এটিকে তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করে তুলবেন। আমি সম্মানিত আলেম শায়খ ছালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযানকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি সদয়ভাবে এটি পর্যালোচনা করেছেন, ভূমিকা লিখেছেন এবং কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন করেছেন।

এমনিভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই শায়েখ ছালেহ বিন মুহাম্মাদ আল-লুহাইদানকে, যিনি সদয়ভাবে আমাকে এটি পর্যালোচনা ও উপস্থাপন করার অনুমতি দিয়েছেন, আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাঁদের উভয়কে প্রচুর পরিমাণে পুরস্কৃত করবেন এবং তাঁরা আমার ও অন্যদের কাছে যা উপস্থাপন করেছেন এবং সঠিক উপায়ে আল্লাহর দ্বীন প্রচারের মাধ্যমে জাতিকে যা দিয়ে উপকৃত করেছেন, তা ক্বিয়ামতের দিনে তাঁদের জন্য আলোস্বরূপ হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি সর্বশ্রোতা, পরম সাড়াদানকারী।

অতঃপর এই দুই বিশিষ্ট আলেম এই বইটিতে যে বিধি-বিধান, নাসীহা ও বিভিন্ন উপদেশবলি লিপিবদ্ধ করেছেন তা সত্যান্বেষী ব্যক্তিদের জন্য একটি প্রামাণ্য দলীল হওয়ার পাশাপাশি এটি আরো বেশি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। আর যারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

فَاِنۡ لَّمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکَ فَاعۡلَمۡ  اَنَّمَا یَتَّبِعُوۡنَ  اَہۡوَآءَہُمۡ ؕ وَ مَنۡ اَضَلُّ  مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىہُ بِغَیۡرِ ہُدًی مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  لَا  یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ

‘অতঃপর তারা যদি আপনার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখুন, তারা তো নিজেদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হেদায়াত করেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫০)।

পঞ্চম সংস্করণে আমি বইটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বিষয়ক কমিশনের সাধারণ সভাপতি মহামান্য শায়েখ ড. আব্দুল লতিফ কে তাঁর অংশগ্রহণের জন্য প্রদান করি। তিনি সদয়ভাবে আমাকে এটি প্রদান করেছেন এবং আমি এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর, এই বইটি ও এর পূর্ববর্তী প্রকাশনাগুলো সম্পাদনে সহযোগিতার জন্য আমি অবশ্যই প্রকাশনা মহাপরিচালক, মহামান্য অধ্যাপক ইউসুফ বিন আব্দুল রহমান আল-ইউসুফকে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ তাঁকে হেদায়াত দান করুন এবং সৎকর্মে সাফল্য দান করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ), তাঁর পরিবার ও ছাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।



* শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-জাজিরাহ : ২৪/২/১৪৩২ হি.
[২]. আল-জাজিরা : ৬/৬/১৪২৮ হিজরি.
[৩]. টেপ : শাসকদের আনুগত্য বিষয়ে আলেমদের ফাতাওয়া।
[৪]. উৎস : জিহাদের বার্তা।
[৫]. তাফসীর ইবনে সাদী, পৃ. ৭৮৫।




কুরবানীর মাসায়েল - আল-ইখলাছ ডেস্ক
মসজিদ: ইসলামী সমাজের প্রাণকেন্দ্র (৮ম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
পরবর্তীদের তুলনায় সালাফদের ইলমী শ্রেষ্ঠত্ব (৪র্থ কিস্তি) - অনুবাদ : আযহার বিন আব্দুল মান্নান
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
সুন্নাতের রূপরেখা (শেষ কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
যাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সংশয় নিরসন (৮ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
আত্মসাতের পরিণাম - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
সুখময় সৌভাগ্যের মৃত্যু লাভের উপায় (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন
ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজ (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ড. মেসবাহুল ইসলাম
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৭ম কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
মীলাদুন্নবী ও আমাদের অবস্থান - ড. ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর

ফেসবুক পেজ