তাওহীদের স্বরূপ
- ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম*
তাওহীদ হলো কোন জিনিসকে অন্য জিনিস হতে একক করা। ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে অন্যান্য মা‘বূদ থেকে একক গণ্য করাই তাওহীদ। কেননা তিনি হলেন সমস্ত কাজের একক ব্যবস্থাপক, সৃষ্টজীবের একক সৃষ্টিকারী, তিনি তাঁর রাজত্বে এবং কার্যক্রমে একক, তাঁর কোন সমকক্ষ নেই, তিনি তাঁর অস্তিত্ব এবং ছিফাতে একক, তাঁর ইলাহিয়্যাত এবং ইবাদতে একক, উত্তম নামসমূহের অধিকারী এবং অন্যরা ব্যতীত তিনিই ইবাদতের একমাত্র অধিকারী। অতএব তাওহীদ হলো আল্লাহ তা‘আলাকে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলিতে একক বলে জানা ও মানা এবং ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর একত্বের প্রমাণ দান। নিশ্চয় আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তার কোনো শরীক নেই।
তাওহীদ তিন প্রকার। প্রথম প্রকার তাওহীদ হলো আল্লাহর রুবূবিয়্যাহ সম্পর্কিত। আর তা হলো আল্লাহ তা‘আলাকে সৃষ্টি, কর্তৃত্ব ও পরিচালনায় একক নির্ধারণ করা (সূরা আল-আরা‘ফ, ৭ : ৫৪)।[১] দ্বিতীয় প্রকার তাওহীদ হলো আল্লাহর ইলাহিয়্যাহ সম্পর্কিত তাওহীদ। তা হলো আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং সেই ইবাদতে অন্যকে অংশীদার নির্ধারণ না করা (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, ৯৮ : ৫)। তৃতীয় প্রকার তাওহীদ হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবিল সম্পর্কিত। আর তা হলো আল্লাহর জন্য সেসব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা, যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) সাব্যস্ত করেছেন। আর তাঁর থেকে সেসব নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা, যা আল্লাহ তাঁর নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) তাঁর থেকে অস্বীকার করেছেন।[২]
তাওহীদ ইসলামের সর্বপ্রথম বিষয়। তাওহীদের তিনটি স্তর তথা ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দুনিয়াতে যত নবী-রাসূল আগমন করেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এ স্তর অর্থাৎ তাওহীদের দিকেই মানুষকে আহবান করা। এই তাওহীদ বাস্তবায়নের জন্য জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১ : ৫৬; সূরা হূদ, ১১ : ২৫-২৬; সূরা আল-আহকাফ, ৪৬ : ২১)। তাওহীদই ছিল নবী-রাসূলদের সর্বপ্রথম দা‘ওয়াত, নবী-রাসূলদের প্রেরণের মৌলিক উদ্দেশ্য এবং নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতের মূল ভিত্তি এবং তাদের স্ব স্ব জাতির মধ্যে যুদ্ধ-বিবাদের মূল বিষয়। পৃথিবীতে আল্লাহ দ্রোহী সকল মতবাদের মূলোৎপাটন করে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ চেষ্টা-সাধনা করেছেন।
তাওহীদের পরিধি ব্যাপক। সর্বশেষ আসমানী কিতাব কুরআনুল কারীম বিস্তারিতভাবে তাওহীদের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।[৩] এই তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি সৃষ্টজগৎকে সৃষ্টি করেছেন, শরী‘আতসমূহ প্রণয়ন করেছেন এবং আসমানী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন (সূরা আন-নাহল, ১৬ : ২)। যাবতীয় আসমানী কিতাব এবং সমস্ত নবী-রাসূল, এ তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিপরীত ধ্যান-ধারণা তথা শিরক ও অংশিবাদিতাকে নিষিদ্ধ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা এবং নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এ তাওহীদকে ফরয করেছেন। দৃঢ়তার সাথে এর ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলিষ্ঠ ভাষায় এর বর্ণনা দিয়েছেন। সাথে সাথে একথা জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ তাওহীদ ব্যতীত কোন ইবাদত কবুল হবে না। সকল আকলী নকলী প্রমাণাদি এ তাওহীদের অপরিহার্যতার প্রমাণ পেশ করে। কেননা তাওহীদই দুনিয়া ও আখেরাতের সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়ার সর্বপ্রথম সোপান এবং আল্লাহ তা‘আলার সান্নিধ্যে পৌঁছার জন্য বান্দার সর্বপ্রথম ধাপ। এ তাওহীদ যমীনে প্রতিষ্ঠিত থাকলে কল্যাণ হয়, আর না থাকলে বিশৃঙ্খলা, অনিষ্টতা ও বিপর্যয় দেখা দেয়।[৪] আর এজন্যই প্রত্যেক মুসলিমের উপর তাওহীদের স্বরূপ জানা, শিক্ষা নেয়া এবং শিক্ষা দেয়া অপরিহার্য কর্তব্য। অতএব তাওহীদ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার হক্ব, যা বান্দার উপর ওয়াজিব। তাওহীদ দীনের সর্বশ্রেষ্ঠ বুনিয়াদ। সকল মূলনীতির মূল এবং আমলের ভিত্তি।
তাওহীদের পরিচয়
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ‘আমি জিন ও মানুষকে এজন্যে সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে’ (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১ : ৫৬)। ইবাদত অর্থ হলো গোলামী বা দাসত্বগিরী করা। আর তাওহীদ হলো মহান আল্লাহকে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলিতে একক বলে জানা ও মানা। তিনি ইবাদতের হক্বদার এবং সত্যিকার মা‘বূদ, তিনি ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই। আল্লাহর রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া ছিফাতে আল্লাহকে একক গণ্য করাই তাওহীদ।
তাওহীদের আভিধানিক অর্থ
তাওহীদ (توحيد) শব্দটি আরবী। এটা (وَحَّدَ يُوَحِّدُ تَوْحِيْدًا) ক্রিয়ামূল থেকে উৎপত্তি।[৫] এর আভিধানিক অর্থ جعل الشيء واحدا ‘কোন জিনিসকে একক হিসাবে নির্ধারণ করা’[৬] বা إفراد الشي عن غيره ‘কোন জিনিসকে অন্য জিনিস হতে একক করা’।[৭] ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে একক গণ্য করাই তাওহীদ।[৮] যে ব্যক্তি ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে একক গণ্য করবে, সে আল্লাহ তা‘আলাকে একক হিসাবে নির্ধারণ করল। অর্থাৎ আল্লাহকে অন্যদের থেকে একক করল। যেমন বলা হয়- একক করা (وَحَّدَ), দ্বিগুণ করা (ثَنَّى), ত্রিগুণ করা (ثَلَّثَ)। একক করার অর্থ কোন জিনিসকে একক নির্ধারণ করা। দ্বিগুণ করার অর্থ কোন জিনিসকে দ্বিগুণ নির্ধারণ করা এবং ত্রিগুণ করার অর্থ কোন জিনিসকে ত্রিগুণ করা।[৯] আর আল্লাহ তা‘আলা হলেন (اَحَدٌ) একক (সূরা আল-ইখলাছ, ১১২ : ১)। আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বায[১০] (১৩৩০-১৪২০ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
التوحيد مصدر وحد يوحد توحيدا يعني وحد الله أي اعتقده واحدا لا شريك له في ربوبيته ولا في أسمائه وصفاته ولا في ألوهيته وعبادته سبحانه وتعالى فهو واحد جل وعلا وإن لم يوحده الناس وإنما سمي إفراد الله بالعبادة توحيدا
‘তাওহীদ (وَحَّدَ يُوَحِّدُ تَوْحِيْدًا)-এর মাছদার। অর্থাৎ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসী হওয়া। তাঁকে একক হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। তাঁর রুবূবিয়্যাহ, আসমা ওয়া ছিফাত, উলূহিয়্যাহ এবং ইবাদতে তাঁর কোন শরীক বা সমকক্ষ নেই, তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ। তিনি একক। যদিও মানুষ তাঁকে একক না করে। আর এ কারণেই ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করাকে ‘তাওহীদ’ নামকরণ করা হয়েছে’।[১১] তিনি আরো বলেন, ‘তিনি হলেন সমস্ত কাজের ব্যবস্থাপক, সমস্ত সৃষ্টজীবের সৃষ্টিকারী, উত্তম নামসমূহের অধিকারী এবং অন্যরা ব্যতীত তিনিই ইবাদতের একমাত্র অধিকারী’।[১২]
সুলাইমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্দুল ওয়াহহাব (১২০০-১৩০১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাওহীদ (وَحَّدَ يُوَحِّدُ تَوْحِيْدًا)-এর মাছদার। অর্থাৎ আল্লাহকে একক হিসেবে নির্ধারণ করা। ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে তাওহীদ নামকরণ করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাজত্বে এবং কার্যক্রমে একক, তাঁর কোন সমকক্ষ নেই, তিনি তাঁর অস্তিত্ব এবং ছিফাতে একক অদ্বিতীয়, তাঁর ইলাহিয়্যাত এবং ইবাদতে একক; ইসলামী জীবন ব্যবস্থা এগুলোর উপর ভিত্তিশীল’।[১৩]
অতএব আল্লাহর এককত্বের অর্থ হলো আল্লাহর একত্বে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সমকক্ষ নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের গুণে তিনি যে একক, দৃঢ়তার সাথে তার স্বীকৃতি ও ঘোষণা দেয়া এবং একনিষ্ঠ ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর একত্বের প্রমাণ করা। তিনি পবিত্র ও সুউচ্চ এবং একক। তিনি ব্যতীত কোন সত্য মা‘বূদ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, قُلۡ ہُوَ اللّٰہُ اَحَدٌ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, তিনিই আল্লাহ একক (ও অদ্বিতীয়)’ (সূরা আল-ইখলাছ, ১১২ : ১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ ‘এবং তোমাদের মা‘বূদ একমাত্র আল্লাহ; সেই পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই’ (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২ : ১৬৩)।
তাওহীদের পারিভাষিক অর্থ
সালাফে ছলেহীন অর্থাৎ পূর্বসূরী আলেমগন তাঁদের কিতাবে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে তাওহীদের পরিচয় প্রদান করেছেন। যদিও অর্থ এবং মর্মার্থ একই। নিম্নে কিছু বর্ণনা পেশ করা হলো।
(ক) ড. ছালিহ আল-ফাওযান বলেন,هو إفراد الله تعالي بالعبادة ‘তাওহীদ হচ্ছে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা’।[১৪]
(খ) আবুল ফুযাইল নাছিরুদ্দীন আন-নু‘আইমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তাওহীদ হলো আল্লাহকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক গণ্য করা এবং তিনি ব্যতীত অন্যান্য মা‘বূদ এবং আরবাবদের[১৫] অস্বীকার করা’।[১৬]
(গ) মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আলী আল-ইয়ামানী (১৩৭৬-১৪৩৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আল্লাহর রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ, আসমা ওয়া ছিফাত এবং তাঁর বিধানে আল্লাহকে একক করাকে তাওহীদ বলে’।[১৭]
(ঘ) আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী[১৮] (১৩০৭-১৩৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাওহীদ হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলাকে ছিফাতে কামাল বা পূর্ণাঙ্গ গুণাবলিতে একক বলে জানা এবং মানা। আজমত, জালালাত, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের গুণে তিনি যে একক, দৃঢ়তার সাথে তার ঘোষণা দেয়া এবং ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর একত্বের প্রমাণ দান’।[১৯]
অতএব তাওহীদ হলো আল্লাহর রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া ছিফাতে আল্লাহকে একক গণ্য করা, ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর একত্বকে প্রমান করা এবং অন্যান্য মা‘বূদদের ইবাদতকে অস্বীকার করা। এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাবান সৃষ্টিদ্বয় জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১ : ৫৬)। রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন (সূরা আন-নাহল, ১৬ : ৩৬; সূরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ২৫), আসমানী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন (সূরা আন-নাহল, ১৬ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ‘আমি জ্বিন ও মানুষকে এজন্যে সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত (তাওহদী বাস্তবায়ন) করবে’ (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১ : ৫৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ لَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ کُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَ اجۡتَنِبُواالطَّاغُوۡتَ ‘আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে আদেশ প্রদান করার জন্য যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও তাগূতকে বর্জন করবে’ (সূরা আন-নাহল, ১৬ : ৩৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا نُوۡحِیۡۤ اِلَیۡہِ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدُوۡنِ ‘আমরা আপনার পূর্বে কোন রাসূল প্রেরণ করি নাই এই অহি ব্যতীত যে, আমি ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর’ (সূরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ২৫)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
الٓرٰ کِتٰبٌ اُحۡکِمَتۡ اٰیٰتُہٗ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِنۡ لَّدُنۡ حَکِیۡمٍ خَبِیۡرٍ . اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ اِنَّنِیۡ لَکُمۡ مِّنۡہُ نَذِیۡرٌ وَّ بَشِیۡرٌ
‘আলিফ-লাম-রা। এটা (কুরআন) এমন কিতাব যার আয়াতগুলো (প্রমাণাদি দ্বারা) মজবুত অকাট্য করা হয়েছে, অতঃপর বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞাতার পক্ষ থেকে। এই (উদ্দেশ্যে) যে, আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতা’ (সূরা হূদ, ১১ : ১-২)।
হাদীছে এসেছে, ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মু‘আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করার সময় বলেন,
إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوْهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوْا ذَلِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِىْ يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ
‘তুমি আহলে কিতাবের এক সম্প্রদায়ের নিকট গমন করছ। অতএব তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান হবে- তারা যেন আল্লাহর একত্বকে মেনে নেয়। তারা তা জেনে নিলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচ বার ছালাত ফরয করে দিয়েছেন’।[২০] আবূ মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,مَنْ وَحَّدَ اللهَ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُوْنِهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে একক করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ? আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকট’।[২১] আবূ মালিক তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُوْنِ اللهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এ কথা স্বীকার করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ। আর তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকট’।[২২] ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন,
بُنِىَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسَةٍ عَلَى أَنْ يُوَحَّدَ اللهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَالْحَجِّ
‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত- আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, ছালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, রামাযানের ছিয়াম পালন করা এবং হজ্জ করা’।[২৩]
তাওহীদের প্রকার
কুরআন-হাদীছের গভীর অধ্যয়ন পরিত্যাগ করে নিজের বুদ্ধি-বিবেক, দর্শন ইত্যাদির উপর নির্ভর করে তাওহীদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেক পণ্ডিত বিভ্রান্ত হয়েছে। তারা মনে করেছেন যে, ‘তাওহীদ’ অর্থ মহান আল্লাহকে একমাত্র অনাদি সত্তা বা একমাত্র স্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান হিসেবে বিশ্বাস করা।[২৪] অথচ তাদের এই চিন্তা কুরআন ও হাদীছের সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনের অসংখ্য বর্ণনা প্রমাণ করে যে, আরবের ও অন্যান্য জাতির কাফিরা আল্লাহর অস্তিত্বের একত্বে বিশ্বাস করত এবং তাঁকেই একমাত্র স্রষ্টা, তাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, চাঁদ ও সূর্যকে নিয়োজিতকারী, আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণকারী ও সর্বশক্তিমান প্রতিপালক হিসেবে স্বীকৃতি দিত (সূরা আল-আনকাবূত, ২৯ : ৬১, ৬৩; সূরা লুকমান, ৩১ : ২৫; সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩ : ৯, ৮৭; সূরা ইউনুস, ১০ : ৩১; সূরা আল-মুমিনূন, ২৩ : ৮৪-৮৯)। আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করাই যদি তাওহীদ পরিপূর্ণ হয়, তবে তো আর তাদেরকে কাফির বলার বা তাদের হেদায়াতের জন্য নবী-রাসূলগণের আগমনের প্রয়োজন হতো না। কুরআন ও হাদীছের অগণিত বিবরণের আলোকে অবগত হওয়া যায় যে, তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বে বিশ্বাসের একাধিক স্তর রয়েছে। যেমন কাফিরদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা সত্ত্বেও মুশরিক ছিল (সূরা ইউসুফ, ১২ : ১০৬)। অর্থাৎ তাদের অধিকাংশ আল্লাহর অস্তিত্বে তথা রুবূবিয়্যাহর স্বীকৃতি প্রদান করত। কিন্তু তারা আল্লাহর উলূহিয়্যাত ও এককত্বে অংশীদার নির্ধারণ করত।[২৫] যেমন, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের ইবাদত করা (সূরা ইউনুস, ১০ : ১৮), মূর্তিদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করা (সূরা আয-যুমার, ৩৯ : ৩), বিপদমূক্ত হলে আবার শিরকে ফিরে যাওয়া (সূরা আল-আনকাবূত, ২৯ : ৬৫), আল্লাহর জন্য নির্ধারিত ইবাদতে অন্যদের অংশীদার করা (সূরা আল-আন‘আম, ৬ : ১৩৬), আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কুরবানী করা (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫ : ৩), আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের আহ্বান (দু‘আ) করা (সূরা ইউনুস, ১০ : ১০৬) ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর নামকে অস্বীকার করত (সূরা আর-রা‘দ, ১৩ : ৩০)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বা তাঁর ছাহাবীগণ তাওহীদকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করেননি। কারণ বিশ্বাস তথা ঈমানের এমন ধরণের একটি মূলনীতিকে চুলছেরা বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা তখন বিশেষভাবে অনুভূত হয়নি। তথাপি কুরআন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ছাহাবাগণের ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা দ্বারা তাওহীদের শ্রেণীবিভাগগুলোর ভিত্তিমূল দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়েছে।[২৬]
ছাহাবীগণের সময় থেকে বাতিল ধর্মমত ও বিভিন্ন দর্শনের কুপ্রভাবে মুসলিমদের ঈমান ও আক্বীদায় বিভ্রান্তির মায়াজাল ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, প্রকারান্তরে ইসলামের বিশুদ্ধ ও নির্ভেজাল একত্বের বিশ্বাস তাওহীদের উপর আক্রমণের সূত্রপাত ঘটে।[২৭] অন্যদিকে কতিপয় ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে গোপনে ইসলামকে ধ্বংস করার প্রয়াস পায়, যেহেতু তারা সামরিক শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ইসলামের প্রচার ও প্রসারকে বাধা দিতে অক্ষম ছিল। এ দলটি ঈমানের (বিশ্বাস) প্রথম ভিত্তি তাওহীদকে ধ্বংস করার মাধ্যমে পুরো ইসলামকেই নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে মুসলিম জনগণের মধ্যে গোপনে গোপনে আল্লাহ সম্পর্কে বিকৃত ও ধ্বংসাত্মক মতবাদ প্রচারে লিপ্ত হয়।[২৮]
মুসলিম ঐতিহাসিকগণের মতে, সাওসান নামে এক ইরাকী লোক যিনি খ্রিষ্টান ধর্ম হতে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হওয়ার পর সর্বপ্রথম মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও ভাগ্যের অনুপস্থিতি (তাক্বদীর) সম্পর্কে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে। সাওসান তার বছরাবাসী ছাত্র মা‘বাদ ইবনু খালিদ আল-জুহানীকে প্রভাবান্বিত করে পরবর্তীতে আবার খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে। কিন্তু এদিকে মা‘বাদ তার শিক্ষকের নিকটে দীক্ষা পাওয়া ভ্রান্ত ও বিকৃত মতবাদ বাধাহীন চিত্তে প্রচার করে। পরবর্তীতে ৭০০ খ্রিষ্টাব্দে ‘উমাইয়া খলীফা ‘আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ান (৬৮৫-৭৫৫ খৃ.) মা‘বাদকে গ্রেফতার করে মৃত্যদণ্ড প্রদান করে।[২৯] আব্দুল্লাহ ইবনু উমর, জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ, আবূ হুরায়রা, ইবনু আব্বাস, আনাস ইবনু মালিক, আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আওফা প্রমুখ ছাহাবী তখন জীবিত ছিলেন। তারা ঐসব ভাগ্য অস্বীকারকারীদের থেকে মুক্ত থেকেছেন। তাদের সালাম দিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন এবং তাদের জানাযার ছালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ তারা ঐসব লোকদের কাফের হিসেবে বিবেচনা করেছেন।[৩০] এমনকি অনেক স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি সম্পর্কীয় খ্রিষ্টানী দার্শনিক যুক্তির সমর্থককে মুসলিম শাসকরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। যেমন মা‘বাদের ছাত্র দামেস্কবাসী ঘাইলান ইবনু মুসলিমকে খলীফা হিসাম ইবনু আব্দুল মালিক (৭২৪-৭৪৩ খৃ.) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।[৩১] তাক্বদীর অস্বীকারকারীদের পর খারেজী ও মু‘তাযিলাদের ফেতনা শুরু হয়।[৩২] ছাহাবী ও তাবি‘ঈগণের সময় থেকে জাহমিয়া, মু‘তাযিলা, আশ‘আরী এবং মাতুরীদিরা সহ অনেকেই আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে পরিবর্তন এবং অকার্যকর করেছে।[৩৩] মূলত এসব ভ্রান্ত ফের্কার ভ্রান্ত আক্বীদা থেকে আত্মরক্ষার উপকরণ হিসেবে তাওহীদের শ্রেণী বিন্যাস ও পরিভাষার অভ্যুদয় ঘটে।[৩৪] যার কারণে কুরআনের এজাতীয় অসংখ্য বর্ণনা ও ছাহাবী-তাবি‘ঈগণের তাফসীরের আলোকে পরবর্তী ‘আলিমগণ (সালাফগণ) ‘তাওহীদ’-কে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। কেউ কেউ দু’টি পর্যায়কে আরো বিস্তারিতভাবে তিনটি বা চারটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন।[৩৫] যেমন-
ইবনুল কাইয়্যিম (৬৯১-৭৫১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) তাওহীদকে প্রথমত দু’ শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। ১. العلم والإعتقاد ২. الإرادة والقصد। প্রথমটাকে তিনি التوحيد العلمي এবং দ্বিতীয়টাকে التوحيد القصدي الإرادي নামে নামকরণ করেছেন। আবার দ্বিতীয় প্রকারকে (التوحيد القصدي الإرادي) দুই পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন। ১. توحيد في الربوبية ২. توحيد في الإلهية। আর التوحيد العلمي কে তিনিالأخبر والمعرفة অর্থাৎ الأسماء والصفات توحيد নামকরণ করেছেন।[৩৬]
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা সাদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু আলাউদ্দীন আলী ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবিল ইয্য দিমাশকী (৭৩১-৭৯২ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর রচিত ‘শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ’ বইয়ে তাওহীদকে তিন পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন : ১. তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত ২. তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ ৩. তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ।[৩৭] তিনি আবার তাওহীদকে দু’ পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন : ১. তাওহীদুল ইছবাত ওয়াল মা‘রিফাহ (توحيد الإثبات والمعرفة) বা আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর ছিফাত সম্পর্কিত তাওহীদ এবং ২. তাওহীদুত তালাবি ওয়াল কাছদি (توحيد الطلب والقصد) বা আবেদন-নিবেদন, উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কিত তাওহীদ।[৩৮]
১. (توحيد الإثبات والمعرفة) বা আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর ছিফাত সম্পর্কিত তাওহীদ : এ প্রকার তাওহীদ হলো, মহান প্রভুর সত্তার বাস্তবতা, তার গুণাবলি, কার্যাবলী এবং তার নামসমূহ সাব্যস্ত করা।[৩৯]
২. তাওহীদুত তালাবি ওয়াল কাছদি (توحيد الطلب والقصد) বা আবেদন-নিবেদন, উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কিত তাওহীদ : বান্দা যেসব আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে বা অকল্যাণ প্রতিহত করার আশা করে যেমন দু‘আ করা, ছালাত আদায় করা, সাহায্য চাওয়া, আশ্রয় প্রার্থনা করা, কুরবানী করা, মানত করা ইত্যাদিকে তাওহীদুত তালাবি ওয়াল কাছাদি বলা হয়।[৪০] অনেক ‘আলেম এটাকে তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ হিসাবে নামকরণ করেছেন।[৪১]
মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আলী আল-ইয়ামানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাওহীদকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন : ১. তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ ২. তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ৩. তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত এবং ৪. তাওহীদুল মুতাবি‘আ।[৪২]
তাওহীদুল মুতাবি‘আ (توحيد المتابعة) : আনুগত্যের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একক করা। প্রকৃতই তাঁর আনুগত্য ছাড়া কারও আনুগত্য না করা।[৪৩] আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا ‘আর রাসূল তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন, তা হতে বিরত থাক’ (সূরা আল-হাশর, ৫৯ : ৭)।
বান্দারা কখনও মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক হিসেবে মেনে না নিবে, তৎপর তিনি যে বিচার করেছেন তা দ্বিধাহীন অন্তরে গ্রহণ না করবে এবং ওটা শান্তভাবে পরিগ্রহণ না করবে (সূরা আন-নিসা, ৪ : ৬৫)। সুপথ প্রকাশিত হওয়ার পর যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করে এবং বিশ্বাসীগণের বিপরীত পথে অনুগামী হয়, তবে সে যাতে অভিনিবিষ্ট- আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাতেই প্রত্যাবর্তিত করেন এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন (সূরা আন-নিসা, ৪ : ১১৫)। এই তাওহীদ স্বীকৃতি দেয়ার অর্থই হলো (شهادة أن محمدا رسول الله) ‘এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল।[৪৪] তবে এই প্রকার (তাওহীদ) ‘তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা (তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ) ইবাদত কবুলের শর্ত দু’টি। (১) ইবাদত আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা এবং (২) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ মোতাবেক হওয়া।[৪৫]
সালাফগণ উপরিউক্ত তাওহীদের প্রকারকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। ১. (توحيد الإثبات والمعرفة) বা আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর ছিফাত সম্পর্কিত তাওহীদ। এই প্রকার তাওহীদ দুই ভাগে বিভক্ত। তা হলো توحيد الربوبية এবং توحيد الأسماء والصفات। ২. তাওহীদুত তালাবি ওয়াল কাছদি (توحيد الطلب والقصد) বা আবেদন-নিবেদন, উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কিত তাওহীদ । এই প্রকার তাওহীদ হলো توحيد الإلهية والعبادة ।[৪৬]
অতএব তাওহীদ তিন প্রকার। ১. তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ (توحيد الربوبية) ২. তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ (توحيد الألوهية) ৩. তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত (توحيد الأسماء والصفات)। সকল প্রকার তাওহীদ এই তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইব্ন বায (১৯১২-১৯৯৯ খৃ.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাওহীদকে যে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়েছে এর কারণ হলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করা। আলিমগণ যখন কুরআন এবং সুন্নাহ অনুসন্ধান করেছেন, তখন তাদের নিকট তাওহীদের প্রকার স্পষ্ট হয়েছে। কেউ কেউ তিন প্রকার করেছেন। আবার কেউ কেউ তার উপর এক প্রকার বৃদ্ধি করে চার প্রকার করেছেন। আর সেটা হলো তাওহীদুল মুতা‘বিআ। আর এটা অনুসন্ধানের কারণেই হয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, কুরআনে অসংখ্য আয়াত রয়েছে তাতে আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর সেটা তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ। অনেক আয়াত আছে যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, সকল কর্তৃত্বের অধিকারী। এটা তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ। অনেক আয়াত আছে, যা আল্লাহর নাম ও গুণাবিল প্রমাণ করে। তাঁর কোন সদৃশ্য নেই, সমকক্ষ নেই। এটা তাওহীদুল আসমা ও ছিফাত। আবার অনেক আয়াত আছে, যা নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ইত্তেবা বা অনুসরণের অপরিহার্যতা প্রমাণ করে। এটা তাওহীদুল মুতা‘বিআ। উপরিউক্ত প্রকারগুলো কুরআন ও সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণের আলোকে ভাগ করা হয়েছে’।[৪৭] যেমন-
সূরা ফাতিহার মধ্যে সকল প্রকার তাওহীদ বিদ্যমান। ইবনুল কাইয়্যিম (৬৯১-৭৫১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) এ সূরায় তিন প্রকার তাওহীদ[৪৮] এবং মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আলী আল-ইয়ামানী (রাহিমাহুল্লাহ) চার প্রকার তাওহীদ অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।[৪৯] এছাড়াও সূরা মারইয়ামের ৬৫ নং আয়াতে এক সাথে তিন প্রকার তাওহীদের আলোচনা পেশ করা হয়েছে।[৫০]
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
* সহকারী সম্পাদক, মাসিক আল-ইখলাছ।
তথ্যসূত্র :
[১]. মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উছায়মীন, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, তাহক্বীক্ব : ফাহদ ইবনু নাছির ইবনু ইবরাহীম আস-সুলাইমান, ৮ম খণ্ড (দারুল ওয়াতান, দারুস সুরায়্যা, ১৪১৩ হি.), পৃ. ১৫।
[২]. নুখবাতু মিনাল উলামাই, উছূলুল ঈমান ফী যূইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (ওযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিয়া ওয়াল আওকাফ ওয়াদ দা‘ওয়াতি ওয়াল ইরশাদ, ১৪২১ হি.) পৃ. ৯৮।
[৩]. মুহাম্মাদ ইবনু আবী বকর ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন, ৩য় খণ্ড (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, তাবি), পৃ. ৪৬৮।
[৪]. উছূলুল ঈমান ফী যূইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃ. ২৯।
[৫]. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব ইবনু আলী আল-ইয়ামানী, আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ (বৈরূত : দারু ইবনি হাযম, ১৪২৭ হি.), পৃ. ৭১।
[৬]. মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উছায়মীন, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১ম খণ্ড (দারুল ওতান, ১৪১৩ হি.), পৃ. ৯।
[৭]. ছালিহ ইবনু ফাওযান ইবনু আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান, ই‘আনাতুল মুসতাফীদ বিশারহি কিতাবিত তাওহীদ, ১ম খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, ১৪২৩ হি.), পৃ. ১৯।
[৮]. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৪।
[৯]. প্রাগুক্ত।
[১০]. শায়খ আব্দুল আযীয ইবনু বায ছিলেন সঊদী আরবের একজন প্রখ্যাত আলিম, ফক্বীহ এবং দা‘ঈ। তিনি ১৩৯৫ হিজরী থেকে ইসলামী গবেষণা, ইফতা, দা‘ওয়াত ও দিকনির্দেশনা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে সঊদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতি হন। তিনি ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ/১৩৩০ হিজরীতে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন, কিন্তু ১৩৪৬ হিজরীতে চোখে অসুস্থতা দেখা দেয় এবং ১৩৫০ হিজরীর শুরুতে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে এ প্রতিবন্ধকতা তার জ্ঞানচর্চা থামাতে পারেনি। তিনি বাল্যকালেই কুরআন মুখস্থ করেন এবং পরে বিভিন্ন শাস্ত্রে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল লতীফ ইবনু হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ সালিহ ইবনু আব্দুল আযীয ইবনু হাসান, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আলে শায়খ- যারা শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাবের বংশধর ছিলেন। তিনি ১৪ বছর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রিয়াদে শার‘ঈ কলেজ ও ইসলামিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন। মদীনার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ১৩৮১-১৩৯০ হিজরী পর্যন্ত উপ-উপচার্য এবং পরে ১৩৯০-১৩৯৫ পর্যন্ত উপাচার্য ছিলেন। তিনি ছিলেন রাবেতা আল-আলামী আল-ইসলামীর প্রতিষ্ঠাকালীন পরিষদের সভাপতি, বিশ্ব মসজিদ সংস্থা ও ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান। তিনি ১৯৮২ সালে ‘বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ লাভ করেন। তিনি ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ/১৪২০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- ১. نقد القومية العربية ২. رسالة في نكاح الشغار ৩. الجواب المفيد في حكم التصوير ৪. رسالة في التبرج والحجاب ৫. الشيخ محمد بن عبد الوهاب: دعوته وسيرته ৬. ثلاث رسائل في الصلاة ৭. الجهاد في سبيل الله ৮. فتاوى الحج والعمرة والزيارة- দ্র. Global Arabic Encyclopedia, www.mawsoah.net
[১১]. আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু বায, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ওয়া মাকালাতুন মুতানাওবিয়াতুন; তাহক্বীক্ব : ড. মুহাম্মাদ সা‘ঈদ আশ-শুওয়াঈর, ১ম খণ্ড, (রিয়াদ : দারুল কাসেম, ১৪২০ হি.), পৃ. ৩০।
[১২]. মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ওয়া মাকালাতুন মুতানাওবিয়াতুন, ১ম খণ্ড, , পৃ. ৩০।
[১৩]. সুলাইমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব, তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ, ১ম খণ্ড (রিয়াদ : মাকতাবাতুর রিয়ায, তা.বি.), পৃ. ১৭।
[১৪]. ই‘আনাতুল মুসতাফীদ বিশারহি কিতাবিত তাওহীদ, পৃ. ২৫।
[১৫]. আরবাব বলা হয়, সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্ম নেতাদের। যারা আল্লাহর পরিবর্তে হালালকে হারাম, হারামকে হালাল করে।
[১৬]. আবুল ফুযাইল নাছিরুদ্দীন আন-নুআইমী, আল-জামি‘উল মুফীদ লি-দুরুসি তা‘আল্লুমিত তাওহীদ (মাকতাবাতু আনওয়ারিত তাওহীদ, ১৪৩২ হি.), পৃ. ৬১।
[১৭]. আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৭২।
[১৮]. আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী ছিলেন প্রখ্যাত সঊদী আলিম ও তাফসীরবিদ। তিনি ১৩০৭ হিজরীতে সঊদী আরবের কাসিম অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে পিতাকে হারান। এরপর তিনি জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন, কুরআন সহ বহু ইসলামী কিতাব মুখস্থ করেন। তার নিষ্ঠা, মনোযোগ এবং অধ্যবসায়ের কারণে তিনি দ্রুত খ্যাতি লাভ করেন এবং বহু ছাত্র তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে আসে। তিনি ১৩৭৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বহু কিতাব রচনা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ২. تيسير اللطيف المنان في خلاصة تفسير القرآن ৩. القول السديد في مقاصد التوحيد- দ্র. এষড়নধষ অৎধনরপ ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ, িি.িসধংিড়ধয.হবঃ
[১৯]. আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী, আল কওলুস সাদীদ ফী মাকাছীদিত তাওহীদ (রিয়াদ : দারুত সাবাত, ১৪২৫ হি.), পৃ. ৪২।
[২০]. ছহীহুল বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, ৯ম খণ্ড, হাদীছ নং-৭৩৭২, পৃ. ১১৪।
[২১]. মুসনাদুল ইমাম আহমাদ ইব্ন হাম্বল, ৪৫তম খণ্ড, হাদীছ নং-২৭২১৩, পৃ. ১৮৯।
[২২]. ছহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, হাদীছ নং-২৩, পৃ. ৫৩।
[২৩]. ছহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১ম খণ্ড, হাদীছ নং-১৬, পৃ. ৪৫।
[২৪]. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা (ঝিনাইদহ : আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ২০০৭ খৃ.), পৃ. ৮৪।
[২৫]. فهم وإن أقروا بربوبية الله تعالى وأنه الخالق الرازق المدبر لجميع الأمور فإنهم يشركون في ألوهية الله وتوحيده- আব্দুর রহমান আস-সা‘আদী, তায়সীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, ১ম খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১৪২০ হি.), পৃ. ৪০৬।
[২৬]. ড. আবূ আমীনাহ বিলাল ফিলিপ্স, তাওহীদের মূল নীতিমালা (ঢাকা : তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ২০১৬ খ্রি.), পৃ. ১৮।
[২৭]. তাওহীদের মূল নীতিমালা, পৃ. ১৮।
[২৮]. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯।
[২৯]. হাফিয আবুল ফযল আহমাদ ইবনু আলী ইবনু হাজর আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব, ১০ম খণ্ড (বৈরূত : মুওয়াস্সাসাতুর রিসালাহ, তাবি), পৃ. ২২৫।
[৩০]. আব্দুল কাহির ইবনু তাহির আল-বাগদাদী, আল-ফারাক বাইনাল ফিরাক (কায়রো : মাকতাবাতু ইবনি সীনা, তাবি), পৃ. ৩৫।
[৩১]. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল কারিম আশ-শাহরাস্তানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল মা‘রিফাহ, ১৯৭৫ খ্রি.), পৃ. ৩০।
[৩২]. আল-ফারাক বাইনাল ফিরাক, পৃ. ৩৫।
[৩৩]. আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৮০।
[৩৪]. তাওহীদের মূল নীতিমালা, পৃ. ২১।
[৩৫]. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা, পৃ. ৮৪।
[৩৬]. ইব্নুল কাইয়্যিম, মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন, ১ম খণ্ড (বৈরূত : দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, তাবি), পৃ. ৩৩।
[৩৭]. ইমাম ইবনু আবীল ইয্ আল-হানাফী, শারহুল আকীদা আত-তাহাবীয়া, অনুবাদ : শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী, ১ম খণ্ড (রাজশাহী : মাকতাবুস সুন্নাহ, ২০১৭ খৃ.), পৃ. ৭৭।
[৩৮]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৯।
[৩৯]. প্রাগুক্ত।
[৪০]. শারহুল আকীদা আত-তাহাবীয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৩।
[৪১]. প্রাগুক্ত।
[৪২]. আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৭৬।
[৪৩]. প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৩।
[৪৪]. আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৮৩।
[৪৫]. আবুল ফিদা ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৫ম খণ্ড (রিয়াদ : দারু তায়্যেবা, ২য় সংস্করণ, ১৪২০ হি.), পৃ. ২০৫; উসূলুল ঈমান ফী যূইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫।
[৪৬]. আব্দুর রহমান ইবনু হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব আন-নাজদী, ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ (দামেস্ক : মাকতাবাতু দারুল বায়ান, ১৪০২ হি.), পৃ. ১৭।
[৪৭]. আল-কওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৮৪।
[৪৮]. মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩।
[৪৯]. যেমন- ১. (بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ) এখানে (بِسۡمِ اللّٰہِ) তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এবং (الرَّحۡمٰن الرَّحِیۡم) তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত। ২. (اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ) এখানে (اَلۡحَمۡدُ ) তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ, ( رَبّ الۡعٰلَمِیۡنَ ) তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ এবং (اللّٰہ) তাওহীদুল আসমা ওয়া ছিফাত অন্তর্ভুক্ত। ৩. (مٰلِکِ یَوۡمِ الدِّیۡنِ ) এখানে তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ। ৪. (وَ اِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ اِیَّاکَ نَعۡبُدُ) এখানে তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এবং রুবূবিয়্যাহ। ৫. (....اِہۡدِ نَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ) এখানে তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল মুতা’বি‘আ।
- মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা না‘বূদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৮; আল-ক্বওলুল মুফীদ ফী আদিল্লাতিত তাওহীদ, পৃ. ৭৬।
[৫০]. তায়সীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৪৮৯।
প্রসঙ্গসমূহ »:
তাওহীদ