রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন

তাওহীদের স্বরূপ

-ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম*


(২য় কিস্তি) 

তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ 

তাওহীদুর রুবূবিয়াহ হল আল্লাহর কর্মে আল্লাহকে একক গণ্য করা। আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যমীনের সকল সৃষ্টি, সৃষ্টিজীব ও বস্তুর একচ্ছত্র প্রতিপালক, পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, ইহকাল, পরকাল এবং বিচার দিবসের মালিক (সূরা আল-ফাতিহা, ১ : ২-৪; সূরা আল-লাইল, ৯২ : ১৩), স্রষ্টা ও পরিচালক (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ৫৪; সূরা আস-সাজ্দাহ, ৩২ : ২, ৫; সূরা ইউনুস, ১০ : ৩)। আদেশ, নিষেধ এবং হুকুমের একমাত্র অধিকারী (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ৫৪)। হেদায়াত ও আরোগ্যদানকারী (সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬ : ৮০) এবং বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারকারী (সূরা আত-তাগাবুন, ৬৪ : ১১)। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং সকল ক্ষমতার উৎস (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২ : ১৬৫)। তিনি হলেন সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক ও সংরক্ষক। এ বিশ্বাসকেই বলা হয় আল্লাহর প্রভুত্বের ক্ষেত্রে একত্বের ঘোষণা ও স্বীকৃতি প্রদান। আর এটিই তাওহীদুর রুবূবিয়াহ। আল্লাহর কর্মে তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এ বিশ্বাস রাখা।

রব্ব শব্দের পরিচয় ও তাৎপর্য

আভিধানিক অর্থে রুবূবিয়্যাহ শব্দটি ربب ক্রিয়াটির ক্রিয়ামূল। এ শব্দ থেকেই رب শব্দটি উদ্ভূত।[১] الرب শব্দটি رَبَّ يَرُبُّ এর মাছদার।[২] রুবূবিয়্যাহ হল আল্লাহর বিশেষ গুণ, যা ‘আর-রব’ নাম থেকে গৃহীত।[৩] রব শব্দটি আরবী ভাষায় কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- মালিক, অনুসৃত মনিব, সংস্কারক।[৪] পর্যায়ক্রমে বা ধীরে ধীরে কোন জিনিসকে লালন পালন করে তার পূর্ণতা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া। আরবীতে বলা হয়, رَبَّهُ، رَبَّاهُ، وَرَبَّبَهُ যার অর্থ : সে তাকে (কোন ব্যক্তিকে) লালন পালন করেছে।[৫] শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, الرَّبُّ هُوَ الَّذِي يُرَبِّي عَبْدَهُ فَيُدَبِّرُهُ ‘রব হলেন সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে প্রতিপালন করেন। অতঃপর তাকে পরিচালনা করেন’।[৬] ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (৬৯১-৭৫১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, والرب هو الذي يربى عبده فيعطيه خلقه ثم يهديه إلى مصالحه ‘রব হলেন এমন সত্তা যিনি তার বান্দাকে প্রতিপালন করেন, তাকে আকৃতি দান করেন। অতঃপর তিনি বান্দাকে শান্তিস্থাপনের জন্য পরিচালিত করেন’।[৭] মহান আল্লাহ বলেন, 

یٰۤاَیُّہَا  الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ ۙ . الَّذِیۡ خَلَقَکَ فَسَوّٰىکَ فَعَدَلَکَ  . فِیۡۤ  اَیِّ صُوۡرَۃٍ  مَّا شَآءَ  رَکَّبَکَ

‘হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকা দিয়েছে? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাকে সুসম করেছেন, তারপর তোমাকে সুসমঞ্জস করেছেন। যে আকৃতিতে তিনি চেয়েছেন তোমাকে গঠন করেছন’ (সূরা আল-ইফিতার, ৮২ : ৬-৮)। মহান আল্লাহ বলেন,

سَبِّحِ اسۡمَ رَبِّکَ الۡاَعۡلَی ۙ . الَّذِیۡ خَلَقَ فَسَوّٰی ۪ۙ . وَ الَّذِیۡ  قَدَّرَ فَہَدٰی

‘আপনি আপনার সুমহান রবের নামের তাসবীহ পাঠ করুন, যিনি সৃষ্টি করেন। অতঃপর সুসম করেন। আর যিনি নিরূপণ করেন অতঃপর পথ নির্দেশ দেন’ (সূরা আল-আ‘লা, ৮৭ : ১-৩)। মহান আল্লাহ বলেন,

قَالَ  فَمَنۡ  رَّبُّکُمَا  یٰمُوۡسٰی . قَالَ رَبُّنَا الَّذِیۡۤ اَعۡطٰی کُلَّ شَیۡءٍ خَلۡقَہٗ  ثُمَّ  ہَدٰی

‘ফেরআউন যখন মূসা কে বলেছিল, হে মূসা তাহলে কে তোমাদের রব? মূসা বলল, আমাদের রব তিনি, যিনি সকল বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন’ (সূরা ত্বা-হা, ২০ : ৫০)।

রব (رب) শব্দটি মাছদার হওয়া সত্ত্বেও রূপকভাবে কর্তার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অপর দিকে الرب (আলিফ লাম সহকারে) শব্দটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোনভাবেই ব্যবহার হয় না।[৮] আর যেখানে সম্বন্ধযুক্ত হবে সেখানে আল্লাহকেও বুঝাতে পারে এবং সৃষ্ট জীবনকেও বুঝাতে পারে।[৯] যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَلَمَّا جَآءَہُ الرَّسُوۡلُ قَالَ ارۡجِعۡ  اِلٰی رَبِّکَ ‘যখন ইউসুফ-এর নিকটে দূত আসল, তখন তিনি বললেন, ফিরে যাও তোমাদের মালিকের নিকট’ (সূরা ইউসুফ, ১২ : ৫০)।

অতএব রব্ব শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে معرف (আলিফ লাম যুক্ত) এবং مضاف (সম্বন্ধ যুক্ত) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়- الرب (আর রব্বু) বা رب العالمين (রব্বুল ‘আলামীন) বা رب الناس (রব্বুন্নাস)।[১০] আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রে শুধু সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- رب الدار (ঘরের মালিক), رب المنزل (বাড়ির মালিক),رب الإبل  (উটের মালিক)।[১১]

আল্লাহ তা‘আলা হলেন رب العالمين (রব্বুল ‘আলামীন)। رب العالمين অর্থ হলো আল্লাহ তা‘আলা হলেন সমগ্র জগতের স্রষ্টা, মালিক, কল্যাণদাতা। তিনিই রাসূল পাঠানো, আসমানী কিতাব অবর্তীণ ও নানাবিধ স্বীয় নে‘মত দিয়ে তাদেরকে লালন পালনকারী। তিনি মানুষদেরকে নিজেদের কর্মের ফল দান করবেন।[১২] আর রবের বা প্রভুত্বের চাহিদা হলো, বান্দাদেরকে ভাল কাজের আদেশ ও খারাপ কাজ হতে নিষেধ করা। সৎ কর্মশীলদেরকে ভাল এবং মন্দ কর্মশীলদেরকে খারাপ প্রতিদান দেয়া।[১৩]

পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের নিকট রব্ব শব্দের অর্থ

আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি জগতকে তাঁর এককত্বের স্বভাবজাত ধর্ম এবং স্রষ্টাকে জানার জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاَقِمۡ  وَجۡہَکَ لِلدِّیۡنِ حَنِیۡفًا ؕ فِطۡرَتَ اللّٰہِ  الَّتِیۡ فَطَرَ  النَّاسَ عَلَیۡہَا ؕ لَا تَبۡدِیۡلَ  لِخَلۡقِ اللّٰہِ ‘তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই’ (সূরা আর-রূম, ৩০ : ৩০)। আল্লাহ তা‘আলা বনী আদমের (মানুষ) পৃষ্ঠদেশ থেকে সন্তানদেরকে বের করে নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন যে, তিনি আদম সন্তানের পালনকর্তা। মহান আল্লাহ বলেন,

وَ اِذۡ اَخَذَ رَبُّکَ مِنۡۢ بَنِیۡۤ اٰدَمَ مِنۡ ظُہُوۡرِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَ اَشۡہَدَہُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ ۚ اَلَسۡتُ بِرَبِّکُمۡ ؕ قَالُوۡا بَلٰی ۚۛ شَہِدۡنَا ۚۛ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا یَوۡمَ  الۡقِیٰمَۃِ  اِنَّا کُنَّا عَنۡ  ہٰذَا غٰفِلِیۡنَ

‘আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের উপর সাক্ষী করলেন যে, আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম। যাতে ক্বিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম’ (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ১৭২)।

আল্লাহর প্রভুত্বকে স্বীকার করা এবং তাঁর অভিমুখী হওয়া স্বভাবজাত বিষয়। এর বিপরীত শিরক হলো বহিরাগত নতুন বস্তু।[১৪] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ ‘প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের (ইসলামী স্বভাবজাত) উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান বা অগ্নিপূজক[১৫] বানায়’।[১৬]

তাই কোন বান্দা ও তার স্বভাবজাত ধর্ম বা চরিত্রকে একাকী ছেড়ে দেয়া হলে তাওহীদমুখীই হবে এবং আসমানী কিতাবসহ আনীত নবী-রাসূলগণের দা‘ওয়াতকে গ্রহণ করবে।[১৭] কিন্তু বিপথগামী ধর্মীয়, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নাস্তিক্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা নবজাতকের দিক পরিবর্তন করে। সঙ্গত কারণেই ভ্রষ্টতাও বিপথগামীতায় সন্তানেরা তাদের পিতা-মাতার অনুসরণ করে।[১৮] হাদীছে কুদসীতে মহান আল্লাহ বলেন,وَإِنِّىْ خَلَقْتُ عِبَادِىْ حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِيْنُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِيْنِهِمْ ‘আমি আমার বান্দাদের সকলকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) করে সৃষ্টি করেছি। শয়তান এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিমুখ করে দিয়েছে’।[১৯] কিন্তু শয়তান তাদের নিকট এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন হতে টেনে বিপথে নিয়ে যায়। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত বহু মা‘বূদ গ্রহণের দিকে ধাবিত করেছে। যে ব্যাপারে আল্লাহ নির্দেশ প্রদান করেননি।[২০]

যার কারণে মানুষরা ভ্রষ্টতা, মতিভ্রম, দলাদলী ও মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রত্যেকেই আলাদা মা‘বূদ গ্রহণ করে তার ইবাদত করা শুরু করেছে। কেননা যখন তারা সত্যিকার এক মা‘বূদকে পরিত্যাগ করেছে তখন বিভিন্ন বাতিল মা‘বূদের ফিতনা বা পরীক্ষায় পতিত হয়েছে। ফলে সত্য প্রকাশের পরেও তারা উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে (সূরা ইউনুস, ১০ : ৩২)। গোমরাহী বা ভ্রষ্টতার কোন সীমা ও শেষ নেই। যে নিজের একক ও সত্য মা‘বূদ হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে অবশ্যই ঐ গোমরাহীতে পতিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰصَاحِبَیِ السِّجۡنِ ءَاَرۡبَابٌ مُّتَفَرِّقُوۡنَ خَیۡرٌ  اَمِ  اللّٰہُ   الۡوَاحِدُ  الۡقَہَّارُ  . مَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ  اِلَّاۤ  اَسۡمَآءً سَمَّیۡتُمُوۡہَاۤ  اَنۡتُمۡ وَ اٰبَآؤُکُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ  بِہَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ

‘(ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) কারা সঙ্গীদ্বয়কে বলেছিল) হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের ইবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবর্তীণ করেননি’ (সূরা ইউসুফ, ১২ : ৩৯-৪০)।

একই গুণ ও কর্মের অধিকারী দু’জন স্রষ্টা সাব্যস্তের মাধ্যমে আল্লাহর প্রভূত্বে শিরক করা অসম্ভব। অনেক মুশরিক ধারণা করে যে, দুনিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের মনগড়া মা‘বূদগুলোরও কিছু হাত আছে। এ সকল বাতিল মা‘বূদের ব্যাপারে শয়তান তাদের সাথে খেল-তামাশা করে। প্রত্যেক কওমের সাথে শয়তান তাদের জ্ঞান অনুযায়ী খেলা করে। মৃত ব্যক্তিদেরকে সম্মান করার পথ ধরে এক দলকে ঐ মৃত ব্যক্তিদের ইবাদত করার প্রতি আহ্বান করেছে। এরা ঐ সমস্ত লোক যারা মৃত ব্যক্তিদের মূর্তি তৈরি করেছিল। যেমন নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা আন-নূহ, ৭১ : ২৩), হুদ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ৭০), সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা হূদ, ১১ : ৬২), ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ৫২), ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা ইউসুফ, ১২ : ৩৯), শো‘আইব (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় (সূরা হূদ, ১১ : ৮৭)।

একদল আরবাবদের (ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রনেতাদের) ইবাদত করে।[২১] যারা আল্লাহর অবাধ্যদতার নির্দেশ প্রদান করে, আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল নির্ধারণ করে (সূরা আত-তাওবা, ৯ : ৩১)।[২২] একদল প্রবৃত্তির ইবাদত[২৩] করে (সূরা আল-জাসিয়া, ৪৫ : ২৩)।

আরেক দল গো-বৎস পূজায় ব্যস্ত ছিল (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ১৩৮)। আরেক দল আবার সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রের আকৃতিতে মূর্তি তৈরি করে। এরা মনে করে যে, দুনিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে এ নক্ষত্ররাজির প্রভাব রয়েছে (সূরা আল-আন‘আম, ৬ : ৭৫-৮২)। যার কারণে তারা নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করত।[২৪] ফলে এ সকল মূর্তির জন্য ঘর ও দায়িত্বশীল নিয়োগ করে (সূরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ৬২-৬৬)। তারা এ সকল নক্ষত্রের ইবাদতে মতবিরোধ করেছে। তাদের কেউ সূর্যের পূজা করে, কেউ চন্দ্রের পূজা করে। আবার অনেকে চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্র ব্যতীত অন্য নক্ষত্রের পূজা করে। এমনকি প্রত্যেক নক্ষত্রের আলাদা মূর্তি তৈরি করে। কেউ আবার আগুনের পূজা করে। তারা হলো অগ্নিপূজক। বর্তমানে বাংলাদেশে মঙ্গল প্রদীপ, শিখা অনির্বাণ ও শিখা চিরন্তনে আগুন প্রজ্জ্বলন করা ও সম্মান প্রদর্শন করার নামেও অগ্নিপূজা চলছে।[২৫]

অনেকেই জিনদেরকে আল্লাহর শরীক নির্ধারণ করে (সূরা আল-আন‘আম, ৬ : ১০০)। অনেকেই মৃত্যু ও অন্য বিপদাপদকে প্রকৃতির দিকে সম্বন্ধ করে (সূরা আল-জাসিয়াহ, ৪৫ : ২৩)। কেউ ফেরেশতাদের ইবাদত করে। যার কারণে তারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত (সূরা আন-নাহল, ১৬ : ৫৭)। কেউ গাছ ও পাথরের পূজা করে। অনেকে গরুর পূজা করে, ভারতবর্ষের দিকে খেয়াল করলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেকে আবার কবর ও মাজারের পূজা করে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মাজার কেন্দ্রিক কবরপূজা ব্যাপকহারে হয়ে থাকে।[২৬]

প্রাচীন ধর্ম ও ধর্মাচার সম্পর্কে অনুসন্ধান করলেও বহু মা‘বূদের সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন প্রাগ-ঐতিহাসিককালে মিসরীয়দের ধর্ম ছিল বহু ঈশ্বরবাদী। তাদের ঈশ্বর বা দেবতা দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। জাতীয় ঈশ্বর তাদের প্রতীকী ঈশ্বর ছিল। প্রাচীন মিসরীয়রা প্রকৃতির শক্তিশালী বস্তুর আরাধনা করত। এ সমস্ত ঈশ্বর হলো-চন্দ্র, সূর্য ও তারকা। তারা সূর্যদেবীর প্রতিকৃতি রা’-এর উপাসনা করত। তারা মনে করত যে, এ দেবী হলো সর্বশক্তিমান, যার শক্তিময় আলোতে বিশ্বজগত হয় আলোকিত এবং তারই সাহায্যে যমীনে শস্য উৎপন্ন হয়। এ দেবী প্রতিদিন পূর্বাঞ্চালের অন্ধকারকে দূরীভূত করে। আর স্থানীয় ঈশ্বর বলতে মিসরীয়রা প্রাদেশিক ঈশ্বর বুঝাতো, যা প্রত্যেক প্রদেশ বা শহরের ফটকে প্রতীক হিসেবে স্থাপন করত। তারা মনে করত এ সমস্ত ঈশ্বর প্রধান ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তারা প্রধান ঈশ্বরের সাথে কথা বলে মানুষের ইচ্ছা পূরণ করে।[২৭]

এ সকল ইবাদত ও পূজার কারণ হলো এরা প্রত্যেকেই এ সকল বস্তুর মাঝে রুবূবিয়্যাহ তথা প্রভুত্বের কিছু বিশেষত্ব রয়েছে বলে ধারনা করে।[২৮] তাদের অনেকেরই ধারনা এ মূর্তিগুলো অদৃশ্য বস্তুর প্রতিকৃতি। যেমনটা ইবনুল কাইয়্যিম (৬৯১-৭৫১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘অদৃশ্য মা‘বূদের অনুপস্থিতিতে এসকল মূর্তিগুলো রাখা হয়। তাই মূর্তিগুলো ঐ অনুপস্থিত মা‘বূদের আকৃতিতে তৈরি করা হয়। তারা এই মূর্তিগুলোকে আল্লাহর সমকক্ষ, আকৃতি এবং প্রতিকৃতি মনে করে। তারা এটাও মনে করে যে, এরা আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করছে এবং আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত’।[২৯]

যাতে করে এই মূর্তিগুলো ঐ অনুপস্থিত মা‘বূদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। নতুবা এ কথা সর্বজন বিদিত যে, কোন জ্ঞানী ব্যক্তি স্ব-হস্তে এক খণ্ড কাঠ দিয়ে তৈরি মূর্তি বা পাথরকে দাঁড় করিয়ে তাকে নিজের মা‘বূদ বা ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করতে পারে না। যেমন অতীত ও বর্তমান যুগের কবর পূজারীরা ধারণা করে যে, এ সকল মৃত ব্যক্তি তাদের মঙ্গল করে, তাদের উপকার করে, তাদেরকে সন্তান প্রদান করে এবং তাদের জন্য সুপারিশ করবে ইত্যাদি। তাদের প্রয়োজন পূরণে আল্লাহ ও তাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ  اَوۡلِیَآءَ ۘ مَا نَعۡبُدُہُمۡ  اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ  اِلَی اللّٰہِ  زُلۡفٰی ‘যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে তারা বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্যই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়’ (সূরা আয-যুমার, ৩৯ : ৩)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُہُمۡ وَ یَقُوۡلُوۡنَ ہٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰہِ ‘আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর উপাসনা করে, যা তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না ও উপকারও করতে পারে না এবং তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী’ (সূরা ইউনুস, ১০ : ১৮)।

প্রভুত্বের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের ধ্যান ধারণার জবাব

প্রভুত্বের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট সম্প্রদায় যে বাতিল ধ্যান-ধারণা পোষণ করে আল্লাহ তা‘আলা এ সকল ভ্রান্ত-ধারণার প্রতিবাদ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, 

اَفَرَءَیۡتُمُ  اللّٰتَ وَ الۡعُزّٰی  . وَمَنٰوۃَ  الثَّالِثَۃَ  الۡاُخۡرٰی

‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ‘ওযযা সম্পর্কে এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে’ (সূরা আন-নাজম, ৫৩ : ১৯-২০)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী (মৃ. ৬৭১ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তোমরা কি এ সকল মা‘বূদ সম্পর্কে ভেবে দেখেছো! তারা কি কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে? যার দরুন তারা আল্লাহর শরীক বা অংশীদার হবে’?[৩০] রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ঐ মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ করেছিলেন, তখন কি তারা আত্মরক্ষা করতে পেরেছিলো? আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ اتۡلُ  عَلَیۡہِمۡ  نَبَاَ   اِبۡرٰہِیۡمَ  . اِذۡ قَالَ لِاَبِیۡہِ  وَ قَوۡمِہٖ مَا تَعۡبُدُوۡنَ  . قَالُوۡا نَعۡبُدُ اَصۡنَامًا فَنَظَلُّ لَہَا عٰکِفِیۡنَ  . قَالَ ہَلۡ یَسۡمَعُوۡنَکُمۡ   اِذۡ   تَدۡعُوۡنَ  . اَوۡ  یَنۡفَعُوۡنَکُمۡ  اَوۡ  یَضُرُّوۡنَ  . قَالُوۡا بَلۡ وَجَدۡنَاۤ  اٰبَآءَنَا کَذٰلِکَ یَفۡعَلُوۡنَ

‘আর তাদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন। যখন তাঁর পিতা এবং সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের ইবাদত কর? তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি। ইবরাহীম বললেন, তোমরা যখন আহ্বান কর, তখন তারা শোনে কি? অথবা তারা কি তোমার উপকার বা ক্ষতি করতে পারে? তারা বলল; না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত’ (সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬ : ৬৯-৭৪)। তারা এ কথা মানতো যে, এ সকল মূর্তি কোন আহ্বান বা ডাক শুনতে পায় না। এগুলো কোন উপকার বা অপকার করতে পারে না।

যারা চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রের ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের বাতিল ইবাদতের প্রতিবাদ করে বলেন,

اِنَّ رَبَّکُمُ  اللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ۟ یُغۡشِی الَّیۡلَ النَّہَارَ یَطۡلُبُہٗ حَثِیۡثًا ۙ وَّ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ وَ النُّجُوۡمَ مُسَخَّرٰتٍۭ بِاَمۡرِہٖ ؕ اَلَا لَہُ  الۡخَلۡقُ وَ الۡاَمۡرُ ؕ تَبٰرَکَ اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ

‘নিশ্চয় তোমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশে উঠেছেন। তিনি রাতকে দিনকে দ্বারা ঢেকে দেন। প্রত্যেকটি একে অপরকে দ্রুত অনুসরণ করে। আর (সৃষ্টি করেছেন) সূর্য, চাঁদ ও তারকারাজী, যা তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। আল্লাহ মহান, যিনি সকল সৃষ্টির রব’ (সূরা আল-আ‘রাফ, ৭ : ৫৪)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ مِنۡ  اٰیٰتِہِ  الَّیۡلُ وَ النَّہَارُ وَ الشَّمۡسُ وَ الۡقَمَرُ  لَا تَسۡجُدُوۡا  لِلشَّمۡسِ وَ لَا لِلۡقَمَرِ وَ اسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ  الَّذِیۡ خَلَقَہُنَّ اِنۡ کُنۡتُمۡ  اِیَّاہُ  تَعۡبُدُوۡنَ

‘তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধু তাঁরই ‘ইবাদত কর’ (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৪১ : ৩৭)।

যারা ফেরেশতা ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে আল্লাহর সন্তান মনে করে তাদের ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের বাতিল ইবাদতের প্রতিবাদ করে বলেন,

مَا اتَّخَذَ اللّٰہُ مِنۡ وَّلَدٍ وَّ مَا کَانَ مَعَہٗ مِنۡ  اِلٰہٍ  اِذًا  لَّذَہَبَ  کُلُّ   اِلٰہٍۭ  بِمَا خَلَقَ وَ لَعَلَا بَعۡضُہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ ؕ سُبۡحٰنَ  اللّٰہِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ

‘আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোন মা‘বূদ নেই। থাকলে প্রত্যেক মা‘বূদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত এবং একজন অন্যজনের উপর চড়াও হয়ে আক্রমণ করে বিজয়ী হত। তারা যা বলে, তা থেকে আল্লাহ পবিত্র’ (সূরা আল-মুমিনূন, ৪০ : ৯১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ جَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ الۡجِنَّ وَ خَلَقَہُمۡ وَ خَرَقُوۡا لَہٗ  بَنِیۡنَ وَ بَنٰتٍۭ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یَصِفُوۡنَ ‘আর এ (অজ্ঞ) লোকেরা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অথচ আল্লাহই ওদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর না জেনে না বুঝে তারা তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা রচনা করে; তিনি মহিমান্বিত, এদের আরোপিত বিশেষণগুলো হতে বহু ঊর্ধ্বে তিনি’ (সূরা আল-আন‘আম, ৬ : ১০০)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, اَنّٰی  یَکُوۡنُ  لَہٗ  وَلَدٌ وَّ لَمۡ تَکُنۡ لَّہٗ صَاحِبَۃٌ ‘কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গিনী নেই’ (সূরা আল-আন‘আম, ৬ : ১০১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

لَمۡ  یَلِدۡ ۬ۙ  وَ  لَمۡ  یُوۡلَدۡ  . وَ  لَمۡ  یَکُنۡ  لَّہٗ   کُفُوًا  اَحَدٌ

‘তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই’ (সূরা আল-ইখলাছ, ১১২ : ৩-৪)।

যারা আরবাব (ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রনেতা), প্রবৃত্তি, প্রকৃতি ও বিভিন্ন বস্তুর ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতিবাদ করে বলেন,

اِتَّخَذُوۡۤا اَحۡبَارَہُمۡ وَ رُہۡبَانَہُمۡ اَرۡبَابًا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَ الۡمَسِیۡحَ ابۡنَ مَرۡیَمَ ۚ وَ مَاۤ  اُمِرُوۡۤا  اِلَّا  لِیَعۡبُدُوۡۤا  اِلٰـہًا  وَّاحِدًا ۚ لَاۤ اِلٰہَ  اِلَّا ہُوَ ؕ سُبۡحٰنَہٗ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের আলেম ও ধর্ম-যাজকদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাদের প্রতি শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র এক মা‘বূদের ইবাদত করবে যিনি ব্যতীত কোন সত্য মা‘বূদ নেই। তিনি তাদের অংশী স্থির করা থেকে পবিত্র’ (সূরা আত-তাওবা, ৯ : ৩১)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ  اِلٰـہَہٗ  ہَوٰىہُ وَ اَضَلَّہُ  اللّٰہُ  عَلٰی  عِلۡمٍ  وَّ خَتَمَ عَلٰی سَمۡعِہٖ وَ قَلۡبِہٖ وَ جَعَلَ عَلٰی بَصَرِہٖ  غِشٰوَۃً ؕ فَمَنۡ یَّہۡدِیۡہِ  مِنۡۢ  بَعۡدِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا  تَذَکَّرُوۡنَ ‘তুমি কি লক্ষ্য করেছো তাকে, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছে? আল্লাহ জেনে শুনেই তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার কর্ণ ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চক্ষুর উপর রেখেছেন আবরণ। অতএব, আল্লাহ্র পর কে তাকে হেদায়াত করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না’ (সূরা আল-জাসিয়া, ৪৫ : ২৩)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ ؕ اَفَاَنۡتَ تَکُوۡنُ عَلَیۡہِ  وَکِیۡلًا  . اَمۡ  تَحۡسَبُ اَنَّ  اَکۡثَرَہُمۡ  یَسۡمَعُوۡنَ  اَوۡ یَعۡقِلُوۡنَ ؕ اِنۡ  ہُمۡ   اِلَّا  کَالۡاَنۡعَامِ  بَلۡ ہُمۡ اَضَلُّ  سَبِیۡلًا

‘তুমি কি দেখো না তাকে, যে তার প্রবৃত্তিকে মা‘বূদ রূপে গ্রহণ করে? তবুও কি তুমি তার জিম্মাদার হবে? তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শুনে ও বুঝে? তারা পশুর মত। বরং তারা আরো পথভ্রষ্ট’ (সূরা আল-ফুরকান, ২৫ : ৪২-৪৩)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَضُرُّہُمۡ وَ لَا یَنۡفَعُہُمۡ  ‘আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর উপাসনা করে, যা তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না ও উপকারও করতে পারে না’ (সূরা ইউনুস, ১০ : ১৮)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قُلِ ادۡعُوا الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۚ لَا یَمۡلِکُوۡنَ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ  فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ وَ مَا لَہُمۡ  فِیۡہِمَا مِنۡ شِرۡکٍ وَّ مَا لَہٗ  مِنۡہُمۡ مِّنۡ ظَہِیۡرٍ 

‘আপনি বলুন, তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে, যাদেরকে তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে (মা‘বূদ) মনে করতে, তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ তাঁর সহায়কও নয়’ (সূরা সাবা, ৩৪ : ২২)।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* সহকারী সম্পাদক, মাসিক আল-ইখলাছ।

তথ্যসূত্র :
[১]. মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আলেম, উসূলুল ঈমান, অনুবাদ : ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (ঢাকা : সবুজপত্র পাবলিকেশন্স, ২০১৬ খৃ.), পৃ. ১৭।
[২]. ড. সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান, আকীদাতুত তাওহীদ ওয়া বায়ানু মা ইউযাদ্দুহা আও ইয়ানকুসুহা মিনাশ শিরকিল আকবার ওয়াল আসগার ওয়া তা‘তীল ওয়া বিদ‘ই ওয়া গাইরে যালিকা (রিয়াদ : মাকতাবাতু দারিল মিনহায, ১৪৩৪ হি.), পৃ. ২৫। উল্লেখ্য যে, এই বইটি পরবর্তীতে “আকীদাতুত তাওহীদ” নামে উল্লেখিত হবে।
[৩]. যাকারিয়া বিন আলী, তাওহীদ ও ঈমানের আসল রূপ (ঢাকা : তাওহীদ পাবলিকেশন্স, সেপ্টেম্বর ২০১৩ খৃ.), পৃ. ২৯।
[৪]. উসূলুল ঈমান, পৃ. ১৭।
[৫]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৫।
[৬]. মাজমূ‘উল ফাতাওয়া,, ১০ম খণ্ড, পৃ. ২৮৪।  
[৭]. ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসাইদিশ শয়তান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১।
[৮]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৫।
[৯]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৫; তাওহীদ ও ঈমানের আসল রূপ, পৃ. ২৯-৩০।
[১০]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৬।
[১১]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৬।
[১২]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ৩৫।
[১৩]. মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা‘ঈন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৮০।
[১৪]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৬।
[১৫]. ফিতরাত বলতে মূলত এমন স্বভাবজাত প্রবণতাকে বোঝানো হয়েছে, যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা ও তাওহীদের গ্রহণযোগ্য স্বভাব। মানুষ জন্মগতভাবে কোনো ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান বা মাজুসী পরিচয় নিয়ে জন্মায় না; বরং তার সৃষ্টিগত প্রকৃতি সত্য গ্রহণের উপযোগী ও তাওহীদের অনুকুল। হাদীছে ‘ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ’ বলা হয়েছে; এর অর্থ এই নয় যে, নবজাতক একজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের মতো শরী‘আতের সব বিধান বুঝে ও পালন করে জন্মগ্রহণ করে। বরং অর্থ হলো- সে এমন স্বভাবজাত বিশুদ্ধ প্রকৃতি নিয়ে জন্মায়, যা সত্য দ্বীন ও তাওহীদ গ্রহণের উপযোগী। সে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবার, পরিবেশ, শিক্ষা ও সমাজ তার বিশ্বাস ও চিন্তাকে প্রভাবিত করে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তার পিতা-মাতাই তাকে ইয়াহুদী অথবা খ্রিষ্টান অথবা মাজূসী বানায়। এখানে পিতা-মাতাকে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধান প্রভাবক হিসেবে। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষক তার পিতা-মাতা। মূলত শিশুর হৃদয় শুরুতে এমন এক অবস্থায় থাকে, যেখানে কোনো বিশ্বাসের দৃঢ় ছাপ প্রতিষ্ঠিত থাকে না; এরপর তার চারপাশের পরিবেশ তাকে বিভিন্ন বিশ্বাস ও চিন্তার দিকে নিয়ে যায়। শিশু জন্মের পর তার বিশ্বাস, চিন্তা, মূল্যবোধ ও ধর্মীয় পরিচয় মূলত পরিবার ও পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। একটি শিশু যদি ইয়াহুদী পরিবারে জন্ম নেয়, সে ইয়াহুদী ধর্মের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মধ্যেই বেড়ে ওঠে। খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মালে খ্রিষ্টান বিশ্বাসের শিক্ষা পায়। একইভাবে মুসলিম পরিবারে জন্মালে সাধারণত ইসলামী আক্বীদা ও আমলের শিক্ষা পায়। অতএব হাদীছটি পরিবারের শিক্ষাগত ও পরিবেশগত প্রভাবের বাস্তবতা তুলে ধরছে।
[১৬]. ছহীহুল বুখারী, কিতাবুল জানাইয, ২য় খণ্ড, হাদীছ নং-১৩৮৫, পৃ. ৯৫।
[১৭]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৬।
[১৮]. প্রাগুক্ত।
[১৯]. ছহীহ মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২১৯৭, হাদীছ নং-২৮৬৫।
[২০]. প্রাগুক্ত।
[২১]. আরবাব তথা ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রনেতাদের ইবাদত করার অর্থ হলো আল্লাহর অবাধ্যতায় তাদের আনুগত্য করা। এক্ষেত্রে নিম্নের হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য : আদী ইবনু হাতিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি গলায় স্বর্ণের ক্রুশ পরে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে আগমন করলাম। তিনি বললেন, হে আদী! তোমার গলা হতে এ প্রতিমা সরিয়ে ফেল। তারপর আমি তাঁকে সূরা বারায়াতের নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করতে শুনলাম। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন) ‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদের রব হিসাবে গ্রহণ করেছে’ (সূরা আত-তাওবাহ, ৯ : ৩১)। তারপর তিনি বললেন, তারা অবশ্য তাদের পূজা করত না। তবে তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হালাল বলত, তখন সেটাকে তারা হালাল বলে মেনে নিত। আবার তারা কোন জিনিসকে যখন তাদের জন্য হারাম বলত, তখন নিজেদের জন্য উহাকে হারাম বলে মেনে নিত’ (তিরমিযী হা/৩০৯৫)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আদী ইবনু হাতিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমরা তাদের ইবাদত করি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তারা কি তাকে হারাম করেনি? ফলে তোমরা তা হারাম বলে গণ্য করনি? আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তারা কি তাকে হালাল করেনি? ফলে তোমরা তা হালাল বলে গণ্য করনি? আদী ইবনু হাতিম বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটাই তাদের ইবাদত’ (ত্বাবারাণী, মু‘জামুল কাবীর, হা/২১৮; জামেঊল বায়ান ফী তাবীলিল কুরআন, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ২১০)। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, ‘তারা (ইয়াহুদী এবং খ্রীষ্টানদের পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগীরা) তাদেরকে সেজদা করার নির্দেশ প্রদান করেনি। বরং তারা আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজে লোকদেরকে নির্দেশ প্রদান করত এবং তারা তা মেনে নিত। আর সে কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে রব হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন’ (জামেঊল বায়ান ফী তাবীলিল কুরআন, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ২১২)। হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘তারা তাদের জন্য ছিয়াম পালন করেনি ও ছালাত আদায় করেনি। কিন্তু জনগণের জন্য তারা (ইয়াহুদী এবং খ্রীষ্টানদের পণ্ডিতরা) যখন কোন জিনিসকে হালাল করেছে, তখন জনগণ সেটাকে হালাল হিসাবে গ্রহণ করেছে। আর যখন তাদের জন্য কোন জিনিসকে হারাম করেছে, যা আল্লাহ হালাল করেছেন; তখন তারা সেটাকে হারাম হিসাবে গ্রহণ করেছে। আর এটাই তাদেরকে রবের আসনে বসানো’ (জামেঊল বায়ান ফী তাবীলিল কুরআন, ১৪তম খণ্ড, পৃ. ২১১)। বর্তমানে যারা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ পরিত্যাগ করে, ধর্মীয়, সমাজ ও রাষ্ট্রনেতাদের নির্দেশ মান্য করে, তাদের হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মেনে নেয়, রবের অবাধ্যতায় তাদের আনুগত্য করে, তারাই তাদের ইবাদতে লিপ্ত। আর ঐ সমস্ত ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রনেতারাই মূলত আরবাব। মহান আল্লাহ তাদেরকে রব হিসাবে নামকরণ করেছেন।
[২২]. তাফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩৫।
[২৩]. ‘প্রবৃত্তির ইবাদত’ বলতে বোঝায়- মানুষ নিজের নফসের কামনা-বাসনাকে আল্লাহর বিধানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং তার অনুসরণকে জীবনের মূলনীতি বানিয়ে নেওয়া। প্রবৃত্তিকে উপাস্য বানানো অর্থ এই নয় যে, সে নফসকে সিজদা করে। বরং অর্থ হলো- যখন তার নফস কোনো কিছু চায়, তখন সে আল্লাহর হালাল-হারাম, আদেশ-নিষেধকে বাদ দিয়ে নফসের চাহিদাকেই প্রাধান্য দেয় এবং অনুসরণ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকো, কিন্তু নফস বলল- আমি এটা করবই; সে হারাম কাজে লিপ্ত হলো। মহান আল্লাহ বলেছেন, ছালাত আদায় করো, কিন্তু নফস বলল- ছালাত আদায় করো না বা আজকে ইচ্ছা করছে না; সে ছালাত ছেড়ে দিল। এগুলোই প্রবৃত্তির ইবাদত।
[২৪]. ছহীহুল বুখারী, ৫ম খণ্ড, কিতাবু মানাকিবিল আনসার, হাদীছ নং-৩৮৫০, পৃ. ৪৪।
[২৫]. এগুলো হিন্দু, পারসিক ও যরথ্রুষ্টদের সংস্কৃতি। আগুনকে কোন কিছুর প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করা, আগুনে পুষ্পস্তবক অর্পন করা, তার সামনে দাঁড়িয়ে শপথ করা, দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা, সেলুট দেয়া বা অন্য যে কোন উপায়ে সম্মান প্রদর্শন করা সবই শিরকে অন্তর্ভুক্ত। -অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন, “রাষ্ট্রীয় শিরক”, ছিরাতে মুস্তাক্বীম, চলমান গবেষণা সংকলন : পর্ব-৪ (ঢাকা : ইসলামিক রিসার্চ এ্যান্ড রিফরমেশন সেন্টার, নভেম্বর ২০১৭), পৃ. ২৫১।
[২৬]. অনেকেই মাজারে শায়িত ব্যক্তিদেরকে রব হিসাবে তাদের ইবাদত করে। যেমন, মৃত ব্যক্তির কাছে দু‘আ বা সাহায্য চাওয়া, গায়েবি সাহায্য প্রার্থনা, মৃত ব্যক্তির নামে মানত করা, তার উদ্দেশ্যে জবাই করা, তার গায়েবের জ্ঞান আছে মনে করা, তাকে সর্বত্র উপস্থিত ও সবকিছু প্রত্যক্ষকারী মনে করা, মাজারে সিজদা বা রুকূ করা, কবরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করা। বাংলাদেশের হাজার হাজার মাজার রয়েছে। অধিকাংশ মাজারে উপরিউক্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মাজার যেমন- হযরত শাহজালাল, শাহপরান, আকুম শাহ (সিলেট), খান জাহান আলী (বাগেরহাট), শাহ আমানত, বদর শাহ এবং বিভিন্ন আউলিয়ার মাজার (চট্টগ্রাম), শাহ আলী বাগদাদী (মিরপুর, ঢাকা), মখদুম শাহ (রাজশাহী), লালন শাহের মাজার (কুষ্টিয়া), বেলাল শাহ (নাটোর), শাহ সৈয়দ নারিরুদ্দীন, শাহ ফতেহ গাজীসহ কয়েকটি মাজার (হবিগঞ্জ), কেল্লা শহীদ (ব্রাক্ষণবাড়িয়া), ফরিদপুর আপরশীর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বা শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুর এর দরবার ও মাজার ইত্যাদি।      
[২৭]. ড. মোহাম্মাদ বেলাল হোসেন, “প্রাচীন ধর্ম ও ধমাচার : একটি পর্যালোচনা”  ইসলামিক স্টাডিজ গবেষণা পত্রিকা, ১০ম সংখ্যা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, এপ্রিল ২০১৬-২০১৭, পৃ. ১১।
[২৮]. আকীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ২৮।
[২৯]. ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসাইদিশ শয়তান, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯৭৫।
[৩০]. আল-জামি‘উ লি আহকামিল কুরআন, ১৭তম খণ্ড, পৃ. ১০২।




প্রসঙ্গসমূহ »: তাওহীদ
দু‘আ ও যিকর : আল্লাহর অনুগ্রহ ও প্রশান্তি লাভের মাধ্যম (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের অবস্থান (৩য় কিস্তি) - অনুবাদ : আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল ক্বাদির
ইসলামী দৃষ্টিতে বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন (৩য় কিস্তি) - আবূ মাহদী মামুন বিন আব্দুল্লাহ
মুসলিম বিভক্তির কারণ ও প্রতিকার (শেষ কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন
ইবাদতের দাবী - হাসিবুর রহমান বুখারী
ফিতনা পরিচিতি ও আমাদের করণীয় (শেষ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
তরুণদের বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে সতর্কীকরণ (৭ম কিস্তি) - মাসঊদুর রহমান
বিদ‘আত পরিচিতি (২০তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ছালাতে একাগ্রতা অর্জনের ৩৩ উপায় (৬ষ্ঠ কিস্তি) - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
শিক্ষাদানে নববী পদ্ধতি ও কৌশল - হাসিবুর রহমান বুখারী
রজব মাসের বিধানসমূহ - অনুবাদ : ইউনুস বিন আহসান
মাতুরীদী মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ (১১তম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম

ফেসবুক পেজ