ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপনের বিধান
- মূল: শায়খ ড. আব্দুর রাযযাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বদর
- অনুবাদ: সাইনুল ইসলাম বিন শাহজাহান আলী*
বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রহীম
আলহামদুলিল্লাহ, অগণিত প্রশংসা, পবিত্র ও বরকতময়, যেমন আমাদের রব পসন্দ করেন এবং যা দ্বারা তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি এরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল ছহাবীর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
নিশ্চয় আল্লাহর নে‘মতসমূহ তার বান্দাদের উপর অগণিত ও অসংখ্য। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বমহান নে‘মত হল যে, আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সত্য ও হিদায়াত সহকারে এই উম্মতের কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর (রাসূলের) মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে হিদায়াত করেছেন এবং তিনি তাদের উপর রাসূলের প্রতি এমন এক মহব্বত আরোপ করেছেন, যা সকল সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যেমন তিনি বলেছেন,
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُوْنَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ
‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়েও বেশি প্রিয় না হই’।[১] আর তার (রাসূলের) মহব্বত তো তার অনুসরণ করা এবং তার পথে চলার মাধ্যমেই হয়। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ কর; আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন’ (সূরা আলে ইমরান : ৩১)।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلَا صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُوْلُ صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ. وَيَقُوْلُ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুতবাহ দিতেন তখন তার চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হত এবং তাঁর রাগ বেড়ে যেত, এমনকি মনে হত, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর বলছেন, তোমরা ভোরেই আক্রান্ত হবে, তোমরা সন্ধ্যায়ই আক্রান্ত হবে। তিনি বলতেন, অতঃপর উত্তম বাণী হল, আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ হল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত পথ। অতীব নিকৃষ্ট বিষয় হল (ধর্মের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবন (বিদ‘আত) এবং প্রতিটি বিদ‘আতই পথভ্রষ্টতা’।[২] আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
إِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِيْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيْرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ، تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُوْرِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে আমার পরে বেঁচে থাকবে, সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং দাঁত দিয়ে (আঁকড়ে ধরে রাখার মত) শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে। আর সতর্ক থাকবে (ধর্মে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে; কারণ নিশ্চয় প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বিদ‘আত, আর প্রতিটি বিদ‘আত পথভ্রষ্টতা’।[৩] আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোন নতুন বিষয় সৃষ্টি করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত’।[৪] আর এক বর্ণনায় এসেছে, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ‘যে এমন কোন কাজ করল, যার উপর আমাদের কোন বিধান নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত’।[৫]
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র এই হাদীছটি ইসলামের একটি মহান মূলনীতি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জাওয়ামি‘উল কালিমের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক বিদ‘আত ও উদ্ভাবিত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।
নিশ্চয় রাসূল (ﷺ)-এর বক্তব্য وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ ‘এবং প্রতিটি বিদ‘আতই পথভ্রষ্টতা’ পরিষ্কার ও স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে থাকে যে, ভালো বিদ‘আতও রয়েছে! তাদের এই বক্তব্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এই বাণী وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, বিদ‘আতের মধ্যে ভালো কিছু রয়েছে, সে মূলত শরী‘আতের উপর (তথা এর অসম্পূর্ণতার) ইঙ্গিত করছে। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) এজাতীয় কথার জবাবে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বলেছেন,
مَنِ ابْتَدَعَ فِي الْإِسْلَامِ بِدْعَةً يَرَاهَا حَسَنَةً فَقَدْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا خَانَ الرِّسَالَةَ، لِأَنَّ اللهَ يَقُوْلُ: ﴿ اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ﴾ فَمَا لَمْ يَكُنْ يَوْمَئِذٍ دِيْنًا فَلَا يَكُوْنُ الْيَوْمَ دِيْنًا
‘যে ব্যক্তি ইসলামে এমন কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করল, যাকে সে ভালো মনে করে, সে মূলত এ দাবি করল যে মুহাম্মাদ (ﷺ) রিসালাতের দায়িত্বে খিয়ানত করেছেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম’ (সূরা আল-মায়েদাহ: ৩)। সুতরাং যে বিষয় সেদিন (নবুয়তের যুগে) দ্বীন ছিল না, তা আজও দ্বীন হতে পারে না’।[৬]
আর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ‘নি‘মাতুল বিদ‘আহ’ (কি ভালো বিদ‘আত!) এই বক্তব্যের অর্থ হল, এটি ভাষাগত বিদ‘আত, শারঈ অর্থে নয়। কারণ, যে বিষয়ের জন্য শরী‘আতে কোন মূলনীতি রয়েছে, সেটি তার দিকে ফিরে আসে। যখন তাকে বিদ‘আত বলা হয়, তখন তা কেবল ভাষাগত বিদ‘আত, শারঈ বিদ‘আত নয়। কারণ উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তারারাবীহ ছালাত নিজের উদ্যোগে শুরু করেননি; বরং তিনি জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায়ের এই সুন্নতকে পুনর্জীবিত করেছেন। আর শারঈ অর্থে বিদ‘আত হল, এমন কোন বিষয়, যার জন্য শরী‘আতে কোন মূলনীতি নেই এবং যার দিকে ফিরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। আর এই সকল বিদ‘আতের অন্তর্ভুক্ত হল, রবিউল আউয়াল মাসে কিছু লোক দ্বারা সৃষ্ট। যেমন বিদ‘আতুল মাওলিদ বা ‘মীলাদুন্নবী’ (নবী করীম (ﷺ)-এর জন্মদিন) উদযাপনের বিদ‘আত। তারা এই মাসের ১২ তারিখ রাতে একত্রিত হয় এবং নবী (ﷺ)-এর উপর নতুনভাবে সৃষ্ট দুরূদ ও সালাম পাঠ করে। আর তারা নবী (ﷺ)-এর জন্য এমন সব প্রশস্তিমূলক কবিতা পাঠ করে, যা তাদেরকে সীমালংঘনের দিকে নিয়ে যায়, যা থেকে নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন।[৭] এর পাশাপাশি তারা খাবারের আয়োজন করে এবং তার উপর রাত জেগে থাকে। ফলে তারা অর্থ ও সময় অপচয় করে এবং শরীরকে ক্লান্ত করে এমন এক কাজে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) শরী‘আত হিসাবে সাব্যস্ত করেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন, ছাহাবায়ে কিরাম, শ্রেষ্ঠ যুগের মুসলিমগণ এবং তাদের পরবর্তী উত্তম অনুসারীরাও কখনো তা করেননি। আর যদি এটি কল্যাণকর হত, তাহলে তারা অবশ্যই আমাদের আগে তা করতেন।
আর এই বিদ‘আতটি (মীলাদ উদযাপন) সর্বপ্রথম চতুর্থ হিজরী শতকে উবায়দীয় (ফাতেমী) শী‘আরা প্রবর্তন করে। তারা ছিল রাফিযী বাতিনী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সম্পর্কে ইমাম আবূ বকর আল-বাকিল্লানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, هُمْ قَوْمٌ يُظْهِرُوْنَ الرَّفْضَ وَيَبْطِنُوْنَ الْكُفْرَ الْمَحْضَ ‘তারা এমন এক সম্প্রদায়, যারা প্রকাশ্যে রাফিযী মতবাদ প্রদর্শন করে, অথচ অন্তরে লুকিয়ে রাখে খাঁটি কুফর’।[৮]
নিশ্চয় যারা এই মীলাদ (উৎসব) আয়োজন করে তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে যে, এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি পূর্ণ মহব্বত, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি ও সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। অথচ এটি সঠিক নয়। কারণ তাঁর (ﷺ)-এর প্রতি মহব্বত, সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন কখনোই তাঁর হিদায়াতের লঙ্ঘনের মাধ্যমে এবং সেই দ্বীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করার মাধ্যমে হতে পারে না, যে দ্বীনকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর (রাসূল) ও তাঁর উম্মতের জন্য পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন। বরং তাঁর প্রতি মহব্বত, সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন হয় তাঁর আনুগত্যে অটল থাকার মাধ্যমে, তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করার মাধ্যমে, তাঁর হিদায়াত ও তাঁর সুন্নতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে, কথা ও কাজে তা পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে এবং সেই সব নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে, যেগুলো থেকে তিনি সতর্ক করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে এগুলো মন্দ, পথভ্রষ্টতা এবং জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। তিনি বলেছেন, لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি (ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা) আমার নিয়ে আসা (দ্বীনের) অনুসারী না হয়’।[৯]
আর এই পদ্ধতিই হল সে পদ্ধতি, যা প্রথম অগ্রগামীগণ মুহাজিরীন ও আনণার এবং যারা তাদেরকে সঠিকভাবে অনুসরণ করেছেন তাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন নবী (ﷺ)-এর প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনকারী মানুষ। আর তারা ছিলেন পরবর্তীদের তুলনায় সকল কল্যাণকর কাজে সর্বাধিক আগ্রহী। তবুও তারা মীলাদুন্নবী পালন করতেন না এবং একে ঈদ বা উৎসব হিসাবে গ্রহণ করেননি। অতএব, যদি মীলাদ পালনে নবী (ﷺ)-এর প্রতি সামান্যতম ভালোবাসাও অন্তর্ভুক্ত থাকত, তবে তারাই এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হতেন এবং সর্বপ্রথম এগিয়ে আসতেন। সুতরাং আমাদের জন্য প্রথম (সালাফ) প্রজন্মের আদর্শই যথেষ্ট। ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,
مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ، أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ ، كَانُوْا خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ، أَبَرُّهَا قُلُوْبًا، وَأَعْمَقُهَا عِلْمًا، وَأَقَلُّهَا تَكَلُّفًا، قَوْمًا اخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَنَقْلِ دِيْنِهِ، فَتَشَبَّهُوْا بِأَخْلَاقِهِمْ وَطَرَائِقِهِمْ، فَهُمْ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ كَانُوْا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيْمِ، وَاللهِ رَبِّ الْكَعْبَةِ
‘যে ব্যক্তি অনুসরণ করতে চায়, সে যেন এমন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা হলেন মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ। তারা ছিলেন এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ; অন্তর ছিল সর্বাধিক পবিত্র, জ্ঞান সর্বাধিক গভীর এবং কৃত্রিমতা সর্বনিম্ন। তারা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য ও দ্বীন প্রচারের জন্য নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং তাঁদের চরিত্র ও পদ্ধতির অনুসরণ কর। কারণ, তারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ এবং সরল, সঠিক পথের অনুসারী ছিলেন। কা‘বার রবের শপথ!’।[১০] ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, عَلَيْكُمْ بِالْهُدَى الْأَوَّلِ ‘তোমরা (সালাফে সালিহীনের) প্রথম হিদায়াত (সঠিক পথ)-কে আঁকড়ে ধর’।[১১] অন্যত্র তিনি বলেছেন,اتَّبِعُوا وَلَا تَبْتَدِعُوا فَقَدْ كُفِيتُمْ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ ‘তোমরা (সুন্নতের) অনুসরণ কর এবং (দ্বীনে) নতুন বিষয় সৃষ্টি কর না; কারণ, তোমাদের জন্য (দ্বীন) পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। আর প্রত্যেকটি বিদ‘আতই পথভ্রষ্টতা’।[১২]
তারা হল সেই ছাহাবীগণ,যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ ‘তোমরাই মানুষের জন্য উত্তম উম্মত, যাদের কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভূত করা হয়েছে’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)। তাদের সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) বলেছেন, خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হল আমার যুগের মানুষ (ছাহাবীগণ)’।[১৩] তাঁরা (ছাহাবায়ে কিরাম) এই মীলাদ (উৎসব) উদযাপন করেননি, এ ধরনের কাজ সৃষ্টি করেননি, এবং তাদেরকে সঠিক ভাবে অনুসরণকারী তাবেয়ীনও তা করেননি। অথচ তারা ছিলেন রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি সর্বাধিক ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের মানুষ, তাঁর সুন্নাহ মেনে চলায় সবচেয়ে আগ্রহী এবং সকল প্রকার বিদ‘আত ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে সব চেয়ে দূরে থাকতেন। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَنْ يَصْلُحَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا بِمَا صَلَحَ بِهِ أَوَّلُهَا ‘এই উম্মতের শেষের লোকেরা কখনোই সঠিকভাবে উন্নতি করবে না, শুধু সেইপথে যা প্রথম উম্মতের লোকেরা অনুসরণ করে উন্নতি লাভ করেছিল’।[১৪] একজন কবিও সুন্দর ভাবে বলেছেন,
وَكُلُّ خَيْرٍ فِي اتِّبَاعِ مَنْ سَلَفْ، وَكُلُّ شَرٍّ فِي ابْتِدَاعِ مَنْ خَلَفْ
‘সমস্ত কল্যাণ রয়েছে পূর্বসূরীদের (সালাফ) অনুসরণে, এবং সমস্ত অপকার বামন্দ রয়েছে পরবর্তীদের (খালাফ) (দ্বীনে) নতুন কিছু উদ্ভাবনে মধ্যে’। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اَنَّ ہٰذَا صِرَاطِیۡ مُسۡتَقِیۡمًا فَاتَّبِعُوۡہُ ۚ وَ لَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمۡ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡن
‘আর নিশ্চয় এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথ অনুসরণ কর। আর অন্যান্য পথ অনুসরণ কর না; তা হলে সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এই হচ্ছে সেই নির্দেশনা, যা তিনি তোমাদের জন্য দিয়েছেন, যেন তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করতে পারো’ (সূরা আল-আন‘আম : ১৫৩)।
কেউ বলতে পারে, যারা মীলাদ উদযাপন করে, তাদের উদ্দেশ্য ভালো। তারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি তাদের মহব্বত প্রকাশ করার জন্যই এই মীলাদ আয়োজন করে থাকে। এর উত্তর হল- ভালো উদ্দেশ্য অপরিহার্যভাবে রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এটি প্রমাণিত হয় এই ঘটনায় যে, এক ছাহাবী ঈদের ছালাতের পূর্বেই তার কুরবানীর পশু যব্হ করেছিলেন, তাঁর এই ভালো ইচ্ছায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছালাত শেষ করে এর গোশত থেকে আহার করবেন। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ঘটনা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে বললেন, شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ ‘তোমার বকরীটি গোশ্তের উদ্দেশ্যে যব্হ করা হয়েছে’ (অর্থাৎ এটি কুরবানী হিসাবে গণ্য হবে না’।[১৫] অর্থাৎ, এটি কুরবানী হিসাবে পরিগণিত হল না, কারণ তা যব্হের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যব্হ করা হয়েছিল, যা সুন্নাতের সাথে সাংঘর্ষিক। সুতরাং তাঁর ভালো উদ্দেশ্য তাঁকে (ছাওয়াব পেতে) সাহায্য করেনি, যখন তাঁর কাজটি সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
আর যখন ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মসজিদে প্রবেশ করলেন, সেখানে তিনি কিছু লোককে দলে দলে (হালকা আকারে) বসে থাকতে দেখলেন। তারা ছালাতের জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রতিটি দলে একজন বলছিল, ১০০ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বল। তখন তারা তাকবীর বলছে। এরপর সে বলছে। ১০০ বার তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বল। তখন তারা তাহলীল বলছেন। এরপর সে বলছে, ১০০ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) বল। তখন তারা তাসবীহ বলছে। এ দৃশ্য দেখে ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাদের বললেন, ‘এটা কী, যা তোমাদের করতে দেখছি?’ তারা বলল, ‘হে আবু আবদুর রহমান! এগুলো কাঁকর বা ছোট পাথর, যার সাহায্যে আমরা তাকবীর, তাহলীল ও তাসবীহ গণনা করছি’। তিনি বললেন, ‘তাহলে তোমাদের পাপগুলো গণনা কর! আফসোস, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উম্মত! তোমরা কি এমন একটি দ্বীনের উপর রয়েছ, যা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দ্বীনের চেয়ে বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত? না-কি তোমরা পথভ্রষ্টতার দরজা খুলছ?’ তারা বলল, আল্লাহর কসম! আমরা তো শুধু ভাল নিয়তে এই কাজ করছি। তিনি বললেন, কত মানুষ আছে, যারা ভালো চায়, অথচ কখনোই তা অর্জন করতে পারে না’।[১৬]
কিছু লোক যারা মীলাদকে জায়েয মনে করে, তারা এর পক্ষে দলীল হিসবে এভাবে বলে থাকে, إِذَا كَانَ أَهْلُ الصَّلِيْبِ اتَّخَذُوْا لَيْلَةَ مِيْلَادِ نَبِيِّهِمْ عِيْدًا أَكْبَرَ، فَأَهْلُ الْإِسْلَامِ أَوْلَى بِالتَّكْرِيْمِ وَأَجْدَرُ ‘যদি খ্রিস্টানরা তাদের নবীর জন্মরাতকে (একটি বড় দিন হিসাবে) সর্ববৃহৎ উৎসব বানিয়ে থাকে, তবে মুসলিমরা তাদের নবী (ﷺ)-কে সম্মান প্রদর্শনে অবশ্যই অধিক হকদার এবং আরও বেশি উপযুক্ত’।[১৭]
এটি তার পক্ষ থেকেই একটি স্বীকারোক্তি যে, মাওলিদ উদযাপনের উদ্দেশ্য মূলত খ্রিষ্টানদের অনুসরণ করা। কেননা তারা ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মদিনকে বড় উৎসব হিসাবে গ্রহণ করেছে। আর এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ বাণীর বাস্তব প্রতিফলন রয়েছে,
لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوْا جُحْرَ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمُوْهُ
‘তোমরা তোমাদের আগের লোকের নীতি-আদর্শ পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করবে, এক বিঘত এক বিঘতের সঙ্গে ও হাত হাতের সঙ্গে, এমনকি তারা যদি গোসাপের গর্তে ঢুকে থাকে তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে’।[১৮]
সুতরাং মাওলিদ পালন করা খ্রিষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার শামিল। তাদের মধ্যে অনেকেই এ কথা স্বীকারও করেছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’।[১৯]
অতএব আসুন! আমরা এ ধরনের বিদ‘আত দ্বারা প্রতারিত হওয়া এবং তাতে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَلۡیَحۡذَرِ الَّذِیۡنَ یُخَالِفُوۡنَ عَنۡ اَمۡرِہٖۤ اَنۡ تُصِیۡبَہُمۡ فِتۡنَۃٌ اَوۡ یُصِیۡبَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদেরকে কোন ফিতনা পাকড়াও করবে অথবা তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে’ (সূরা আন-নূর : ৬৩)। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ), তাঁর পরিবার ও সকল ছাহাবীর ওপর ছালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
* ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, (বিবিএ-অনার্স), রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী ।
তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪।
[২]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭।
[৩]. আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭; তিরমিযী, হা ২৬৭৬; ইবনু মাজাহ, হা/৪৩; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামি‘, হা/২৫৪৯।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮।
[৫]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮।
[৬]. ইমাম ইবনু হাযম, আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ৬/৮৫ পৃ.; আশ-শাত্বেবী, আল-ই‘তিছাম, ১/৬৬ পৃ.।
[৭]. ইবনু মাজাহ, হা/৩০২৯; নাসাঈ, হা/৩০৫৭-এ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ ‘হে মানুষ! তোমরা ধর্মে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকেদেরকে ধর্মের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে। সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১২৮৩, সনদ ছহীহ।
[৮]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ১১/৩৯৮ পৃ.। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘ক্বাযী আবূ বকর আল-বাকিল্লানী এ সকল ফাতেমীয়দের খণ্ডনের উদ্দেশ্যে ‘কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আসতার’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এতে তিনি তাদের কেলেঙ্কারি ও জঘন্য কার্যকলাপ প্রকাশ করেন এবং তাদের বাস্তব অবস্থা এমনভাবে পরিষ্কার করেন যে, যারা তাদের কাজকর্ম ও বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পর্কে সামান্য ধারণা রাখে, তারাও সহজে তা বুঝতে পারে। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই বলতেন, ‘এই সম্প্রদায় বাহ্যিকভাবে রাফিযী মতবাদ প্রকাশ করে, অথচ অন্তরে লুকিয়ে রাখে খাঁটি কুফর’।
[৯]. ইবনু আবী ‘আসিম, আস-সুন্নাহ, হা/১৫; যিলালুল জান্নাহ, ১২/১। তবে আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। যদিও এর অর্থ ছহীহ এবং এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: فَلَا وَ رَبِّکَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ حَتّٰی یُحَکِّمُوۡکَ فِیۡمَا شَجَرَ بَیۡنَہُمۡ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیۡتَ وَ یُسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا ‘অতএব, আপনার রবের শপথ! তারা কখনো মুমিন হবে না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যে উদ্ভূত বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারকরূপে গ্রহণ করে। এরপর তারা আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিজেদের মনে কোন দ্বিধা না পায় এবং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে’ (সূরা আন-নিসা : ৬৫)।
[১০]. আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১/৩০৫ পৃ.।
[১১]. আল-মারওয়াযী, আস-সুনান, হা/৮০।
[১২]. ইমাম আদ-দারিমী, হা/২১১।
[১৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৩।
[১৪]. কাযী ইয়ায, আশ-শিফা বি তা‘রীফি হুকুকিল মুস্তাফা’, ২/২০৫ পৃ.।
[১৫]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯৬১।
[১৬]. ইমাম আদ-দারিমী, হা/২১০; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২০০৫।
[১৭]. শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রাহমান আস-সাখাভী, আল-তিবরুল মসবূক ফী যায়লুস সুলূক, পৃ. ১৪।
[১৮]. ছহীহুল বুখারী, হা/৩৪৫৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৯।
[১৯]. আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১; সনদ ছহীহ, আল-ইরওয়া, হা/১২৬৯।