বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হাদীছ অস্বীকারকারী ও বিদ‘আতীদের ভ্রান্ত যুক্তির অপনোদন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব। তবে এই দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রথমত হাদীছ অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করার প্রধান হাতিয়ার হলো কুরআন ও যুক্তির সমন্বয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
 وَ مَاۤ  اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ  فَخُذُوۡہُ ٭ وَ مَا نَہٰىکُمۡ  عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ‘রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক’ (সূরা আল-হাশর : ৭)। হাদীছ অস্বীকারকারীকে প্রশ্ন করতে হবে যে, কুরআন মাজীদের অসংখ্য আয়াত (যেমন ছালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ্জ করা)-এর বিস্তারিত পদ্ধতি সে কোথায় পেল? কারণ কুরআনে ছালাতের রাকা‘আত সংখ্যা বা যাকাতের নেছাবের পরিমাণ বিস্তারিত নেই। সুতরাং হাদীছ অস্বীকার করলে কার্যত কুরআনকেও অস্বীকার করা হয়। অতঃপর সুন্নাহ যে ওহী, তার প্রমাণ হিসাবে এই আয়াত পেশ করা যায় :  اِنۡ  ہُوَ   اِلَّا  وَحۡیٌ   یُّوۡحٰی-وَ مَا یَنۡطِقُ عَنِ  الۡہَوٰی  ‘তিনি (নবী) নিজের ইচ্ছা থেকে কথা বলেন না। তা তো ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৪)।

দায়িত্বটি কি সাধারণ মানুষের, না-কি আলেমদের? ইসলামী শরী‘আতের পরিভাষায় দ্বীনের হেফাযত ও বাতিলপন্থীদের খণ্ডন করা ‘ফরয-এ-কিফায়া’। গভীর ইলমী ও তাত্ত্বিক যুক্তি দিয়ে বাতিলপন্থীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া এবং তাদের সংশয় নিরসন করা মূলত আলেমদের কাজ। শাইখ ইবনু তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الراد على أهل البدع مجاهد ‘বিদ‘আতীদের প্রতিবাদকারী হলো একজন মুজাহিদ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৪/১৩ পৃ.)। আর সাধারণ জনগণের দায়িত্ব হলো-
১. হক্কানী আলেমদের নিকট থেকে সঠিক ইলম জেনে নিজের ঈমান রক্ষা করা।
২. ভ্রান্ত লোকদের প্রচার-প্রসার থেকে অন্যদের সতর্ক করা।
৩. গভীর তর্কে না জড়ানো। কারণ পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে বাতিলপন্থীদের কুযুক্তি সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, على أهل العلم والطلبة أن يبينوا للناس الحق بالأدلة الشرعية ‘আলেম ও তালিবে ইলমদের দায়িত্ব হলো দলীল দিয়ে মানুষের সামনে হক পরিষ্কার করা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১/২৯০ পৃ.)। অতএব  সাধারণ মানুষের প্রধান কাজ হলো আলেমদের লিখিত ও প্রকাশিত সত্য বাণীগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং নিজেরা তর্কে না জড়িয়ে হকপন্থীদের অনুসরণ করা। আর বিদ‘আতীদের সাথে বিতর্কের ময়দান আলেমদের জন্য ছেড়ে দেয়া নিরাপদ।


প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার অনিক, হারাগাছ, রংপুর।





প্রশ্ন (১৮) : নারীর ব্যবসায়ী হওয়ার বিধান কী? সে সফরে থাকুক বা নিজ এলাকায় থাকুক, উভয় অবস্থায় কি ব্যবসা করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জানাযার ছালাতে ইমাম মুক্তাদী উভয় কি সূরা ফাতিহা, অন্য একটি সূরা, দরূদে ইবরাহীম ও জানাযার দু‘আ পড়তেই হবে, না-কি শুধু ইমাম পড়লেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পিতা মারা যাওয়ার পরে ছেলেরা জানতে পেরেছে যে, তিনি ফুফুকে জমি দেননি। এখন আমার ফুফুকে কি জমি দেয়া লাগবে, না-কি ফুফুর কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিলেই হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কিছু খুশির সংবাদ গোপন রাখতে হয়। কেননা প্রত্যেক সংবাদ শ্রবণকারী বন্ধু হয় না’। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : ‘যখন কোন সদাচরণকারী সন্তান যদি তার পিতা-মাতার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকায়, তখন আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে তার ‘আমলনামায় একটি ‘কবুল হজ্জ’ তথা কবুলযোগ্য হজ্জের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন’। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, যদি সে দৈনিক একশ’বার তাকায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ মহান এবং অতি পবিত্র’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/৭৪৭৫; মিশকাত হা/৪৯৪৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৪৭২৭)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি নির্জনে সংঘটিত একটি গোপন পাপে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হতে পারছি না। কিছুদিন ছেড়ে দিই, আবার ফিরে যাই। এভাবেই বারবার ঘটছে। আমি চিন্তিত যে, এই গুনাহ নিয়ে কীভাবে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হব? আমার পরিণতি খারাপ হয়ে যেতে পারে। তবে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত মসজিদে আদায় করি, সুন্নাত ছালাত পড়ি, ছালাত-পরবর্তী যিকির এবং সকাল-সন্ধ্যার যিকির পাঠ করি, ছালাতুদ-দুহা ও তাহাজ্জুদ পড়ি, ছাদাক্বাহ করি, নফল ছিয়াম রাখি, কুরআনের নিয়মিত তিলাওয়াত বজায় রাখার চেষ্টা করি, কুরআন হিফয করছি এবং শরয়ী ইলম অর্জনের চেষ্টা করছি। তাহলে আমি গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা করার পরও কি আল্লাহ এসব আমল কবুল করবেন? না-কি এগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো করে দেবেন? এই গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২): স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক দৃঢ় করার কোন দু‘আ বা আমল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার যত নিকটবর্তী হয়েছি আর কেউ কি এতো নিকটবর্তী হতে পারবে। আল্লাহ বললেন, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত ইফতারের সময় এর চেয়েও বেশী নিকটবর্তী হবে। উক্ত ঘটনা কোন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মজলিসের শেষের দু‘আ একাকী পড়া যাবে কি? না-কি একজন বলে দিবে আর সবাই তার সাথে সাথে বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : নিম্নের দু‘আটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : এক রাক‘আত বিতরের ছালাত আদায় করার প্রমাণ জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): আযান ও ইকামতের মাঝে দু‘আ কবুল হয়। এক্ষণে আযান ও ইকামতের মাঝে দু‘আ করার সময় হামদ ও দরুদ পাঠ করতে হবে কি, আর দুই হাত তুলে দু‘আ করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ