উত্তর : হাদীছ অস্বীকারকারী ও বিদ‘আতীদের ভ্রান্ত যুক্তির অপনোদন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব। তবে এই দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রথমত হাদীছ অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করার প্রধান হাতিয়ার হলো কুরআন ও যুক্তির সমন্বয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ مَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡہُ ٭ وَ مَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ‘রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক’ (সূরা আল-হাশর : ৭)। হাদীছ অস্বীকারকারীকে প্রশ্ন করতে হবে যে, কুরআন মাজীদের অসংখ্য আয়াত (যেমন ছালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ্জ করা)-এর বিস্তারিত পদ্ধতি সে কোথায় পেল? কারণ কুরআনে ছালাতের রাকা‘আত সংখ্যা বা যাকাতের নেছাবের পরিমাণ বিস্তারিত নেই। সুতরাং হাদীছ অস্বীকার করলে কার্যত কুরআনকেও অস্বীকার করা হয়। অতঃপর সুন্নাহ যে ওহী, তার প্রমাণ হিসাবে এই আয়াত পেশ করা যায় : اِنۡ ہُوَ اِلَّا وَحۡیٌ یُّوۡحٰی-وَ مَا یَنۡطِقُ عَنِ الۡہَوٰی ‘তিনি (নবী) নিজের ইচ্ছা থেকে কথা বলেন না। তা তো ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়’ (সূরা আন-নাজম : ৩-৪)।
দায়িত্বটি কি সাধারণ মানুষের, না-কি আলেমদের? ইসলামী শরী‘আতের পরিভাষায় দ্বীনের হেফাযত ও বাতিলপন্থীদের খণ্ডন করা ‘ফরয-এ-কিফায়া’। গভীর ইলমী ও তাত্ত্বিক যুক্তি দিয়ে বাতিলপন্থীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া এবং তাদের সংশয় নিরসন করা মূলত আলেমদের কাজ। শাইখ ইবনু তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الراد على أهل البدع مجاهد ‘বিদ‘আতীদের প্রতিবাদকারী হলো একজন মুজাহিদ’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ৪/১৩ পৃ.)। আর সাধারণ জনগণের দায়িত্ব হলো-
১. হক্কানী আলেমদের নিকট থেকে সঠিক ইলম জেনে নিজের ঈমান রক্ষা করা।
২. ভ্রান্ত লোকদের প্রচার-প্রসার থেকে অন্যদের সতর্ক করা।
৩. গভীর তর্কে না জড়ানো। কারণ পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে বাতিলপন্থীদের কুযুক্তি সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, على أهل العلم والطلبة أن يبينوا للناس الحق بالأدلة الشرعية ‘আলেম ও তালিবে ইলমদের দায়িত্ব হলো দলীল দিয়ে মানুষের সামনে হক পরিষ্কার করা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১/২৯০ পৃ.)। অতএব সাধারণ মানুষের প্রধান কাজ হলো আলেমদের লিখিত ও প্রকাশিত সত্য বাণীগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং নিজেরা তর্কে না জড়িয়ে হকপন্থীদের অনুসরণ করা। আর বিদ‘আতীদের সাথে বিতর্কের ময়দান আলেমদের জন্য ছেড়ে দেয়া নিরাপদ।
প্রশ্নকারী : মোস্তফা মনোয়ার অনিক, হারাগাছ, রংপুর।