অমিয় বাণী
- হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
١ -عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْهُ قَال يَأْتِيْ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الْمُؤْمِنُ فِيْهِ أَذَلُّ مِنَ الْأَمَةِ أَكْيَسُهُمُ الَّذِيْ يَرُوْغُ بِدِيْنِهِ رَوَغَانَ الثَّعَالِبِ
১. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন মুমিন ব্যক্তি একজন দাসীর চেয়েও হীন ও লাঞ্ছিত হবে। তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই বুদ্ধিমান হবে, যে শেয়ালের পলায়নের মতো তার দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে’।[১]
٢ -قَالَ زُرَيْكٌ رَحِمَهُ اللهُ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُوْلُ الْفِتْنَةُ إِذَا أَقْبَلَتْ عَرَفَهَا كُلُّ عَالِمٍ وَإِذَا أَدْبَرَتْ عَرَفَهَا كُلُّ جَاهِلٍ
২. যুরাইক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি হাসান আল বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, ফিতনা যখন উপস্থিত হয়, তখন প্রত্যেক আলেম তা চিনতে পারে। আর যখন ফিতনা চলে যায়, তখন প্রত্যেক জাহেলও তা চিনতে পারে।[২]
٣ -قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ رَحِمَهُ اللهُ الْفِتَنُ إِنَّمَا يُعْرَفُ مَا فِيهَا مِنَ الشَّرِّ إِذَا أَدْبَرَتْ، فَأَمَّا إِذَا أَقْبَلَتْ فَإِنَّهَا تُزَيَّنُ، وَيُظَنُّ أَنَّ فِيهَا خَيْرًا، فَإِذَا ذَاقَ النَّاسُ مَا فِيهَا مِنَ الشَّرِّ وَالْمَرَارَةِ وَالْبَلَاءِ، صَارَ ذَلِكَ مُبَيِّنًا لَهُمْ مَضَرَّتَهَا، وَوَاعِظًا لَهُمْ أَنْ يَعُودُوا فِي مِثْلِهَا
৩. শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ফিতনাগুলোর মধ্যে যে অকল্যাণ রয়েছে, তা ফিতনা চলে যাওয়ার পরই জানা যায়। পক্ষান্তরে যখন ফিতনা সামনে আসে, তখন সেটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে উপস্থাপন করা হয় এবং ধারণা করা হয় যে, এর মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। অতঃপর মানুষ যখন ফিতনার মধ্যে থাকা অকল্যাণ, তিক্ততা ও বালা-মুছীবতের স্বাদ গ্রহণ করে, তখন তা তাদের কাছে ফিতনার ক্ষতিকর দিক স্পষ্ট করে দেয় এবং তাদের জন্য উপদেশ হয়ে যায়, যেন তারা আর কখনো এ ধরনের ফিতনায় ফিরে না যায়।[৩]
٤ -قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ رَحِمَهُ اللهُ الْفِتْنَةُ إِذَا وَقَعَتْ عَجَزَ الْعُقَلَاءُ فِيهَا عَنْ دَفْعِ السُّفَهَاءِ
৪. শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ফিতনা যখন সংঘটিত হয়ে যায়, তখন জ্ঞানী বিবেকবান ব্যক্তিরাও তাতে লিপ্ত নির্বোধদেরকে প্রতিহত করতে অক্ষম হয়ে পড়েন।[৪]
٥ -قَالَ الْإِمَامُ الْبَرْبَهَارِيُّ رَحِمَهُ اللهُ إِذَا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ فَالْزَمْ جَوْفَ بَيْتِكَ وَفِرَّ مِنْ جِوَارِ الْفِتْنَةِ
৫. ইমাম বারবাহারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যখন ফিতনা সংঘটিত হয়, তখন তুমি তোমার ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থান করো এবং ফিতনার সান্নিধ্য থেকে পালিয়ে থাকো।[৫]
٦ -عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ قَالَ لِيْ رَاهِبٌ يَا سَعِيْدُ فِي الْفِتْنَةِ يَتَبَيَّنُ لَكَ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ مِمَّنْ يَعْبُدُ الطَّاغُوْتَ
৬. সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক পাদ্রী আমাকে বলেছিলেন, হে সাঈদ! ফিতনার সময়ই তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে, কে আল্লাহর ইবাদত করে আর কে তাগুতের।[৬]
٧ -قَالَ الْإِمَامُ ابْنُ الْقَيِّمِ رَحِمَهُ اللهُ وَالْفِتْنَةُ نَوْعَانِ فِتْنَةُ الشُّبُهَاتِ وَهِيَ الْعُظْمٰى وَفِتْنَةُ الشَّهَوَاتِ وَقَدْ يَجْتَمِعَانِ لِلْعَبْدِ وَقَدْ يَنْفَرِدُ بِإِحْدَاهُمَا
৭. ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ফিতনা দুই প্রকার : (১) সংশয়-সন্দেহের ফিতনা, আর এটি অধিকতর ভয়াবহ এবং (২) প্রবৃত্তি ও কামনার ফিতনা, কখনো কোনো বান্দার ক্ষেত্রে উভয় ফিতনা একত্রিত হয়, আবার কখনো সে দুটির কোনো একটি ফিতনায় আক্রান্ত হয়।[৭]
٨ -قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ رَحِمَهُ اللهُ احْذَرُوا فِتْنَةَ الْعَالِمِ الْفَاجِرِ، وَالْعَابِدِ الْجَاهِلِ، فَإِنَّ فِتْنَتَهُمَا فِتْنَةٌ لِكُلِّ مَفْتُونٍ
৮. শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তোমরা পাপাচারী আলেমের ফিতনা এবং অজ্ঞ ইবাদতকারীর ফিতনা থেকে সাবধান হও। কারণ তাদের উভয়ের ফিতনাই প্রত্যেক ফিতনাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ফিতনা।[৮]
٩ -قَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا إِيَّاكُمْ وَالْفِتْنَةَ فَلَا تَهُمُّوا بِهَا فَإِنَّهَا تُفْسِدُ الْمَعِيشَةَ وَتُكَدِّرُ النِّعْمَةَ وَتُورِثُ الِاسْتِئْصَالَ.
৯. মু‘আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ফিতনা থেকে তোমরা সাবধান থাকো এবং এর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করো না। কারণ ফিতনা জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, নে‘মতকে বিষময় করে তোলে এবং সর্বনাশ ডেকে আনে।[৯]
١٠ -قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ رَحِمَهُ اللهُ صَاحِبُ الصِّدْقِ مَعَ اللهِ لَا تَضُرُّهُ الْفِتَنُ
১০. হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহর সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিকে সাধারণত ফিতনাসমূহ ক্ষতি করতে পারে না।[১০]
তথ্যসূত্র :
[১]. কিতাবুয যুহদ, লিআবি দাঊদ, পৃ. ১৭৩।
[২]. আত-তারীখুল কাবীর লিল বুখারী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৫৫৫।
[৩]. মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪০৯।
[৪]. মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৪৩।
[৫]. শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী, পৃ. ১০৪।
[৬]. আল-ইবানাতুল কুবরা লিইবনে বাত্তা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৯৯।
[৭]. ফায়যুল ক্বাদীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৬১।
[৮]. মাজমূঊল ফাতাওয়া লি ইবনে তাইমিয়া, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৫৪২।
[৯]. মাউসূ‘আতুল ফিরাক্বিল মুনতাসিবাতি লিল ইসলাম, ১ম খণ্ড, পৃ. ১১১।
[১০]. ফাতহুল বারী বিশারহিল বুখারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৪৮৩।
প্রসঙ্গসমূহ »:
অমিয় বাণী