বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

 অমিয় বাণী

-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান*



١ -عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ لَوْ بَغَى جَبَلٌ عَلَى جَبَلٍ لَجَعَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْبَاغِيَ مِنْهُمَا دَكًّا

১. ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যদি একটি পাহাড় অন্য পাহাড়ের উপর যুলম করত, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা সেই যালিম পাহাড়টিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতেন।[১]
----
٢ -عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْهَاشِمِيِّ أَنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ جَمَعَ بَنِيْهِ عِنْدَ وَفَاتِهِ وَهُمْ يَوْمَئِذٍ عَشَرَةٌ وَأَمَرَهُمْ وَنَهَاهُمْ وَقَالَ إِيَّاكُمْ وَالْبَغْيَ فَوَاللهِ مَا خَلَقَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا أَعْجَلَ عُقُوْبَةً مِنَ الْبَغْيِ وَلَا رَأَيْتُ أَحَدًا بَقِيَ عَلَى الْبَغْيِ إِلَّا إِخْوَتَكُمْ مِنْ بَنِيْ عَبْدِ شَمْسٍ

২. আব্দুল্লাহ ইবনু মু‘আবিয়া আল-হাশিমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আব্দুল মুত্তালিব তার মৃত্যুকালে তার সন্তানদের একত্রিত করলেন। সে সময়ে তারা ছিল দশজন। তিনি তাদেরকে আদেশ ও নিষেধ করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা যুলম (বাগি) থেকে বেঁচে থাকবে। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন জিনিস সৃষ্টি করেননি যার শাস্তি যুলম-এর চেয়ে দ্রুত আসে। আর আমি কাউকে দেখিনি যে, যুলুমের উপর টিকে আছে তোমাদের ভাইদের মধ্যে বনু আব্দে শামস ব্যতীত’।[২]
----
٣ -عَنِ الْفَرَزْدَقِ أَنَّ قَيْسَ بْنَ عَاصِمٍ كَانَ لَهُ ثَلَاثَةٌ وَثَلَاثُوْنَ ابْنًا وَكَانَ يَنْهَاهُمْ عَنِ الْبَغْيِ وَيَقُوْلُ إِنَّهُ وَاللهِ مَا بَغَى قَوْمٌ قَطُّ إِلَّا ذُلُّوْا ثُمَّ قَالَ فَإِنْ كَانَ الرَّجُلُ مِنْ بَنِيْهِ يَظْلِمُهُ بَعْضُ قَوْمِهِ فَيَنْهَى إِخْوَتَهُ أَنْ يَنْصُرُوْهُ مَخَافَةَ الْبَغْيِ

৩. ফারাযদাক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিশ্চয় কায়েস ইবনু আছিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তেত্রিশজন সন্তান ছিল। তিনি তাদেরকে সর্বদা সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করতেন এবং বলতেন, ‘আল্লাহর কসম! কোন জাতিই সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হয়েছে তখনই তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে’। অতঃপর তিনি আরও বলেন ‘যদি আমার কোন সন্তানের ওপর তার গোত্রের কিছু লোক যুলম করে, তবে আমি তার ভাইদেরকে তাকে সাহায্য করা থেকেও নিষেধ করতাম এই আশঙ্কায় যে, সেই সাহায্য যেন আবার যুলমে পরিণত না হয়’।[৩]
----
٤ -عَنْ شَرْقِيِّ بْنِ الْقُطَامِيِّ قَالَ قَالَ صَيْفِيُّ بْنُ رَبَاحٍ التَّمِيْمِيُّ لِبَنِيْهِ يَا بَنِيَّ اعْلَمُوْا أَنَّ أَسْرَعَ الْجُرْمِ عُقُوْبَةً الْبَغْيُ وَشَرَّ النُّصْرَةِ التَّعَدِّي وَأَلْأَمُ الْأَخْلَاقِ الضِّيقُ وَأَسْوَأَ الْأَدَبِ كَثْرَةُ الْعِتَابِ

৪. শারক্বী ইবনুল কুত্বামী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছাইফী ইবনু রাবাহ আত-তামীমী তাঁর সন্তানদেরকে বলেছিলেন, ‘হে আমার সন্তানরা! জেনে রেখো অপরাধসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত শাস্তি আসে যেটার কারণে তাহলো যুলম, আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সাহায্য হল সীমালঙ্ঘন করা, চরিত্রের মধ্যে সবচেয়ে নীচু হলো সংকীর্ণতা বা কৃপণতা, আর শিষ্টাচারের দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো অতিরিক্ত দোষারোপ করা’।[৪]
----
٥ -عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ قَالَ ثَلَاثُ خِصَالٍ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كُنَّ عَلَيْهِ الْبَغْيُ وَالنُّكْثُ وَالْمَكْرُ وَقَرَأَ ﴿ وَ لَا یَحِیۡقُ الۡمَکۡرُ السَّیِّیُٔ  اِلَّا بِاَہۡلِہٖ﴾ [فاطر: ٤٣]، ﴿ یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ  اِنَّمَا بَغۡیُکُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِکُمۡ﴾ [يونس: ٢٣]، ﴿ فَمَنۡ  نَّکَثَ فَاِنَّمَا یَنۡکُثُ عَلٰی نَفۡسِہٖ﴾ [الفتح: ١]

৫. মুহাম্মাদ ইবনু কা‘ব আল-কুরায্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনটি স্বভাব এমন আছে যে, সেগুলো যার  মধ্যে পাওয়া যাবে তা তার বিরুদ্ধেই পরিণত হবে: যুলম ও সীমালঙ্ঘন, অঙ্গীকার ভঙ্গ (নুকছ) চক্রান্ত (মাক্‌র), এরপর তিনি কুরআনের এই আয়াতগুলো পাঠ করেন ‘কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে’ (সূরা ফাতির : ৪৩)। ‘হে মানুষ! তোমাদের সীমালঙ্ঘন কেবল তোমাদের নিজেদেরই বিরুদ্ধে’ (সূরা ইউনুস : ২৩)। ‘অতএব যে ব্যক্তি অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, সে আসলে নিজেরই বিরুদ্ধে অঙ্গীকার ভঙ্গ করে’ (সূরা আল-ফাতহ : ১০)।[৫]
----
٦ -عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَكَلَّمَ مَلِكٌ مِنَ الْمُلُوْكِ كَلِمَةَ بَغْيٍ وَهُوَ جَالِسٌ عَلَى سَرِيْرِهِ فَمَسَخَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَمَا يُدْرَى أَيُّ شَيْءٍ مُسِخَ أَذُبَابٌ أَمْ غَيْرُهُ إِلَّا أَنَّهُ ذَهَبَ فَلَمْ يُرَ

৬. ইবনু আব্বাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, একজন বাদশাহ তার সিংহাসনে বসে সীমালঙ্ঘনের কথা বলেছিল, তাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে রূপান্তরিত করেছিলেন। তাকে কিসে রূপান্তরিত করা হয়েছিল তা জানা যায়নি, এটি কি একটি মাছি ছিল নাকি অন্য কিছু, তবে তা অদৃশ্য হয়ে গেল আর দেখা গেল না।[৬]


* অধ্যায়নরত, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।

তথ্যসূত্র :
[১]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৫৪।
[২]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৫৬।
[৩]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৬৯।
[৪]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৭৩।
[৫]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৮৮।
[৬]. ইবনু আবীদ দুন‌ইয়া, যাম্মুল বাগয়ি, পৃ. ৫৪।




প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৬ষ্ঠ সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৫ম বর্ষ : নবম সংখ্যা - এপ্রিল ২০২৪) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৭ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৩য় বর্ষ : ১১তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : তৃতীয় সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ৯ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান

ফেসবুক পেজ