শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

অমিয় বাণী

-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান



١- عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ إِنَّ مَنْ يُفْتِيْ فِيْ كُلِّ مَا يَسْتَفْتُوْنَهُ لَمَجْنُونٌ

১. ইবনু মাস‌ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নিশ্চয়‌ যে ব্যক্তি তার কাছে জিজ্ঞাসিত প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর দেয় সে অবশ্যই পাগল।[১]

٢- عَنْ عَلِيٌّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ مَا أَبْرَدَهَا عَلَى الْكَبِدِ، مَا أَبْرَدَهَا عَلَى الْكَبِدِ فَقِيْلَ لَهُ وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ أَنْ تَقُوْلَ لِلشَّيْءِ لَا تَعْلَمُهُ اللهُ أَعْلَمُ

২. আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, কলিজার জন্য এর চেয়ে আর শীতল করা কথা কী হতে পারে, কলিজার জন্য এর চেয়ে আর শীতল করা কথা কী হতে পারে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলÑ বিষয় টা কী? তিনি বললেন, যে বিষয়টি তুমি জানো না সে বিষয়ে আল্লাহ‌ই ভালো জানেন বলা।[২]

٣- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ الْعِلْمُ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ كِتَابٌ نَاطِقٌ، وَسُنَّةٌ مَاضِيَةٌ، وَلَا أَدْرِيْ

৩. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, জ্ঞান তিনটি জিনিসর মধ্যে, একটি সুস্পষ্ট কিতাব (কুরআন), একটি প্রচলিত সুন্নাহ এবং ‘আমি জানি না’।[৩]

٤- عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ قَالَ سَأَلْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ وَالْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ عَنْ الصَّرْفِ فَجَعَلَ كُلَّمَا سَأَلْتُ أَحَدَهُمَا قَالَ سَلِ الْآخَرَ فَإِنَّهُ خَيْرٌ مِنِّي وَأَعْلَمُ مِنِّي

৪. আবুল মিনহাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি যায়েদ বিন আরক্বাম এবং বারা ইবনু আযিবকে মুদ্রা বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। যখনই আমি তাদের একজনকে জিজ্ঞাসা করতাম, তখন তিনি বলতেন:  অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ সে আমার চেয়ে উত্তম এবং আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী’।[৪]

٥- قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ لَيْلَى أَدْرَكْتُ عِشْرِيْنَ وَمِئَةً مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَسْأَلُ أَحَدَهُمْ عَنْ الْمَسْأَلَةِ فَيَرُدُّهَا هَذَا إلَى هَذَا، وَهَذَا إِلَى هَذَا، حَتَّى تَرْجِعَ إلَى الْأَوَّلِ مَا مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ إلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ الْفُتْيَا

৫. আব্দুর রহমান ইবনু আবি লায়লা বলেন, আমি আনছারদের মধ্য থেকে একশ’ বিশজন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ছাহাবীকে পেয়েছি, তাদের কারো নিকট কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এটাকে অন্যজনের কাছে, আবার উনি সেটাকে আরেকজনের কাছে ফিরিয়ে দিতেন, যতক্ষণ না তা প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে আসত। তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না, যে চাইত না তার ভাই যেন তাকে ফাতাওয়া দেয়া থেকে রক্ষা করেন।[৫]

٦- سُئِلَ الشَّافِعِيُّ عَنْ مَسْأَلَةٍ فَسَكَتَ فَقِيْلَ لَهُ أَلَا تُجِيْب يَرْحَمُكَ اللهُ؟ فَقَالَ حَتَّى أَدْرِيَ الْفَضْلَ فِي سُكُوْتِيْ أَوْ فِي الْجَوَابِ

৬. ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নীরব থাকলেন। তখন তাকে বলা হল, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কি উত্তর দেবেন না? তিনি বললেন, যতক্ষণ না আমি জানতে পারছি যে, আমার নীরব থাকার মধ্যে কল্যাণ আছে না-কি উত্তর দেয়ার মধ্যে।[৬]

٧- كَانَ سَعِيْدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ لَا يَكَادُ يُفْتِيْ فُتْيَا وَلَا يَقُوْلُ شَيْئًا إِلَّا قَالَ اللَّهُمَّ سَلِّمْنِيْ وَسَلِّمْهُ مِنِّيْ

৭. সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহিমাহুল্লাহ) খুব‌ই কম কোনো ফাতাওয়া দিতেন বা কোনো বিষয়ে বলতেন, তবে তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে নিরাপদ রাখুন এবং আমার থেকে অন্যদের নিরাপদ রাখুন।[৭]

٨- قَالَ ابْنُ وَهْبٍ سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُوْلُ يَنْبَغِيْ لِلْعَالِمِ أَنْ يَأْلَفَ فِيْمَا أَشْكَلَ عَلَيْهِ قَوْلُ (لَا أَدْرِي) فَإِنَّهُ عَسَى أَنْ يُهَيَّأَ لَهُ خَيْرٌ

৮. ইবনু ওয়াহব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, আলেমের জন্য উচিত যে বিষয়ে তার কাছে জটিল মনে হবে সে ক্ষেত্রে ‘আমি জানি না’ বলাকে অভ্যাসে পরিণত করা, কারণ এতেই হয়তো তার জন্য কল্যাণ প্রস্তুত রয়েছে।[৮]

٩- عَنْ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ قَالَ رَأَيْتُ سُفْيَانَ إِذَا سُئِلَ عَنِ الْمَسَائِلِ قَالَ لَا أَدْرِيْ حَتَّى يَظُنَّ مَنْ رَأَى سُفْيَانَ وَلَا يَعْرِفُهُ أَنَّهُ لَا يُحْسِنُ مِنَ الْعِلْمِ شَيْئًا

৯. যায়েদ ইবনু হুবাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি সুফিয়ান ছাওরীকে দেখেছি, যখন তাঁকে মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হত, তখন তিনি বলতেন, আমি জানি না। এ অবস্থায় যে ব্যক্তি সুফিয়ানকে দেখেছে এবং তাকে চিনত না, সে মনে করত যে, তিনি জ্ঞানের বিষয়ে কোন কিছু জানেন না।[৯]

১০. আবূ মুছ‘আব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেন) আমি ফাতাওয়া দেইনি যতক্ষণ না সত্তর জন লোক আমার জন্য সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আমি এর যোগ্য কোনকিছু জানেন না।[১০]


তথ্যসূত্র :
[১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৫।
[২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৫।
[৩]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৫।
[৪]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৫।
[৫]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৬।
[৬]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৭।
[৭]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৭।
[৮]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৮।
[৯]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৮।
[১০]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৭৯।




প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী (আল-ইখলাছ সম্পর্কিত) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৬ষ্ঠ সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৫ম বর্ষ : নবম সংখ্যা - এপ্রিল ২০২৪) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : তৃতীয় সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - অনুবাদ : ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১০ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী : ইখলাছ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১১তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ৯ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ