অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ১১তম সংখ্যা)
-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
١ -قَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ ثَلَاثٌ مَنْ جَمَعَهُنَّ فَقَدْ جَمَعَ الْإِيْمَانَ الْإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِكَ، وَبَذْلُ السَّلَامِ لِلْعَالَمِ، وَالْإِنْفَاقُ مِنَ الْإِقْتَارِ
১. আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনটি গুণ যার মাঝে একত্রে থাকবে, সে পূর্ণ ঈমান লাভ করবে, নিজের পক্ষ থেকে ইনছাফ বা ন্যায়বিচার করা, বিশ্ববাসীকে সালাম দেয়া এবং অভাবের সময়ও দান করা।[১]
٢- قَالَ ابْنُ كَثِيْرٍ رَحِمَهُ اللهُ يَأْمُرُ تَعَالَى بِالْعَدْلِ فِي الْفِعَالِ وَالْمَقَالِ عَلَى الْقَرِيْبِ وَالْبَعِيْدِ، وَاللهُ تَعَالَى يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ لِكُلِّ أَحَدٍ، فِي كُلِّ وَقْتٍ، وَفِي كُلِّ حَالٍ
২. ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কাজকর্ম ও কথাবার্তায় ইনছাফ বা ন্যায়ের নির্দেশ করেন নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী হোক সবার ক্ষেত্রেই। আর আল্লাহ তা‘আলা সর্বদা এবং সর্বাবস্থায় প্রত্যেকের সাথে ইনছাফ বা ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দেন।[২]
٣- قَالَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ مَا نَاظَرْتُ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الْغَلَبَةِ وَوَدِدْتُ إذَا نَاظَرْتُ أَحَدًا أَنْ يَظْهَرَ الْحَقُّ عَلَى يَدَيْهِ
৩. ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি জেতার উদ্দেশ্যে কখনো কারো সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক করিনি। বরং আমি যখনই কারো সাথে বিতর্ক করেছি, তখনই আকাক্সক্ষা করেছি যেন আল্লাহ সত্যকে তার মাধ্যমেই প্রকাশ করে দেন।[৩]
٤- قَالَ الْإِمَامُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ رَحِمَهُ اللهُ مَا فِيْ زَمَانِنَا شَيْءٌ أَقَلُّ مِنَ الْإِنْصَافِ
৪. ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমাদের যুগে ইনছাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার চেয়ে দুর্লভ আর কিছু নেই।[৪]
٥- قَالَ الْإِمَامُ ابْنُ حَزْمٍ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ أَرَادَ الْإِنْصَافَ فَلْيَتَوَهَّمْ نَفْسَهُ مَكَانَ خَصْمِهِ فَإِنَّهُ يَلُوْحُ لَهُ وَجْهُ تَعَسُّفِهِ
৫. ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ইনছাফ করতে চায়, সে যেন নিজেকে তার প্রতিপক্ষের স্থানে কল্পনা করে। তাহলে তার কাছে নিজের অন্যায় বা যুলুম প্রকাশ হয়ে যাবে।[৫]
٦- قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ رَجَبٍ رَحِمَهُ اللهُ الْمُنْصِفُ مَنِ اغْتَفَرَ قَلِيْلَ خَطَإِ الْمَرْءِ فِيْ كَثِيْرِ صَوَابِهِ
৬. হাফিয ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইনছাফকারী ব্যক্তি হলো সে, যে কোন মানুষের বহু সঠিক কাজের মাঝে তার সামান্য ভুলকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে।[৬]
٧- قَالَ الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ الْمُؤْمِنُ لَا يَحِيْفُ عَلَى مَنْ يُبْغِضُ، وَلَا يَأْثَمُ فِيمَنْ يُحِبُّ
৭. হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুমিন সে ব্যক্তি যাকে সে অপসন্দ করে, তার উপর অবিচার করে না এবং যাকে সে ভালোবাসে তার কারণে গুণাহেও লিপ্ত হয় না।[৭]
٨- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيْرِيْنَ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ ظُلْمًا لِأَخِيْكَ أَنْ تَذْكُرَ فِيْهِ أَسْوَأَ مَا تَعْلَمُ مِنْهُ وَتَكْتُمَ خَيْرَهُ
৮. মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের প্রতি এটি বড় অবিচার যে, তুমি তার সম্পর্কে তোমার জানা সবচেয়ে মন্দ বিষয়গুলো আলোচনা করো এবং তার ভালো গুণগুলো গোপন রাখো।[৮]
٩- قَالَ الْإِمَامُ ابْنُ الْعَرَبِيِّ رَحِمَهُ اللهُ إِنَّ الدَّاخِلَ فِيْ طَلَبِ الْعِلْمِ كَثِيْرٌ، وَالسَّعِيْدَ قَلِيْلٌ، وَعَدَمُ الْإِنْصَافِ خَطْبٌ جَلِيْلٌ
৯. ইমাম ইবনুল আরাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, নিশ্চয় জ্ঞানার্জনে আগমনকারী অনেক, কিন্তু সৌভাগ্যবান (সফলকাম) খুবই কম, আর ইনছাফ না করা এক মহা বিপদ।[৯]
١٠- قَالَ الْعَلَّامَةُ ابْنُ الْقَيِّمِ رَحِمَهُ اللهُ اللهُ تَعَالَى يُحِبُّ الْإِنْصَافَ، بَلْ هُوَ أَفْضَلُ حِلْيَةٍ تَحَلَّى بِهَا الرَّجُلُ، خُصُوصًا مَنْ نَصَّبَ نَفْسَهُ حَكَمًا بَيْنَ الْأَقْوَالِ وَالْمَذَاهِبِ
১০. আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ইনছাফকে ভালোবাসেন, তবে এটি মানুষের সর্বোত্তম অলংকার। বিশেষভাবে সেই ব্যক্তির জন্য, যে বিভিন্ন মত ও মতবাদের মাঝে নিজেকে বিচারকার্যে নিযুক্ত রেখেছেন।[১০]
তথ্যসূত্র :
[১]. আল-কালিমুত ত্বাইয়্যিব, পৃ. ৮৪।
[২]. তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৫।
[৩]. আল-মাজমূঊ শারহুল মুহাযযাব, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৮।
[৪]. জামি‘ঊ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫১।
[৫].সুউল খলক্ব, পৃ. ১৩১।
[৬]. ক্বাওয়ায়িদু ইবনি রজব, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪।
[৭]. ঊয়ুনুল আকবার, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪।
[৮]. আয-যুহুদ লিল ওয়াক্বিদী, পৃ. ৭৭৫।
[৯]. ক্বানূনুত তা’বীল, পৃ. ৬৪৬।
[১০]. ই‘লামুল মুওয়াক্কিঈন, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৯৭।
প্রসঙ্গসমূহ »:
অমিয় বাণী