অমিয় বাণী
-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
١- عَنْ رَجَاءِ بْنِ أَبِيْ سَلَمَةَ قَالَ الْحِلْمُ خَصْلَةٌ مِنْ خِصَالِ الْعَقْلِ
১- রাজা ইবনু আবী সালামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সহনশীলতা বা ধৈর্য আক্বলের একটি বৈশিষ্ট্য’।[১]
٢- عَنْ أَبِيْ رَزِينٍ فِي قَوْلِهِ ﴿ کُوۡنُوۡا رَبّٰنِیّٖنَ﴾ قَالَ: حُلَمَاءَ عُلَمَاءَ
২- আবূ রাযীন (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর বাণী ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও’ (সূরা আলে ইমরান: ৭৯) সম্পর্কে বলেন, ‘তারা হলেন সহনশীল আলেমগণ’।[২]
٣- عَنِ الْحَسَنِ ﴿وَّ اِذَا خَاطَبَہُمُ الۡجٰہِلُوۡنَ قَالُوۡا سَلٰمًا﴾ قَالَ: حُلَمَاءُ وَإِنْ جُهِلَ عَلَيْهِمْ لَمْ يَجْهَلُوْا
৩- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর বাণী ‘যখন জাহেল ব্যক্তিরা তাদেরকে অশালীন ভাষায় সম্বোধন করে তখন তারা বলেন সালাম’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৩) সম্পর্কে বলেন, ‘তারা হলেন সহনশীলগণ। তাদের সাথে জাহেলিপনা করলেও তারা তাদের সাথে জাহেলিপনা করে না’।[৩]
٤- عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِيْ رَبَاح ٍ ﴿یَمۡشُوۡنَ عَلَی الۡاَرۡضِ ہَوۡنًا﴾ قَالَ حُلَمَاءُ عُلَمَاءُ
৪- ‘আত্বা ইবনু আবী রাবাহ (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর বাণী ‘যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে’ (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৩) সম্পর্কে বলেন, ‘তারা হলেন সহনশীল আলেমগণ’।[৪]
٥- عَنْ عُقْبَةَ بْنِ سِنَانٍ قَالَ قَالَ أَكْثَمُ بْنُ صَيْفِيٍّ دِعَامَةُ الْعَقْلِ الْحِلْمُ وَجِمَاعُ الْأَمْرِ الصَّبْرُ وَخَيْرُ الْأُمُورِ الْعَفْوُ
৫- ঊক্ববা ইবনু সিনান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আকছাম ইবনু ছাইফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আকলের স্তম্ভ হল সহনশীলতা, যেকোন কাজের সারমর্ম হল ধৈর্য এবং সর্বোত্তম কাজ হল ক্ষমা করা’।[৫]
٦- عَنْ سُفْيَانَ قَالَ مُعَاوِيَةُ لِعَمْرِو بْنِ الْأَهْتَمِ أَيُّ الرِّجَالِ أَشْجَعُ؟ قَالَ مَنْ رَدَّ جَهْلَهُ بِحِلْمِهِ قَالَ أَيُّ الرِّجَالِ أَسْمَى؟ قَالَ مَنْ بَذَلَ دُنْيَاهُ فِيْ صَلَاحِ دِيْنِهِ
৬- সুফিয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মু‘আবিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) আমর ইবনুল আহতামকে বললেন, ‘পুরুষদের মধ্যে কে সবচেয়ে সাহসী’? তিনি বললেন, ‘যে তার সহনশীলতার মাধ্যমে তার অজ্ঞতা দূর করে’। তিনি আরো বললেন, ‘পুরুষদের মধ্যে কে সবচেয়ে সম্রান্ত’? তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীনের উপকারিতার জন্য তার পার্থিব জীবন ব্যয় করে’।[৬]
٧- عَنِ الْحَسَنِ قَالَ الْمُؤْمِنُ حَلِيْمٌ لَا يَجْهَلُ وَإِنْ جُهِلَ عَلَيْهِ حَلِيْمٌ لَا يَظْلِمُ وَإِنْ ظُلِمَ غَفَرَ لَا يَقْطَعُ وَإِنْ قُطِعَ وَصَلَ لَا يَبْخَلُ وَإِنْ بُخِلَ عَلَيْهِ صَبَرَ
৭- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তি সহনশীল। সে অজ্ঞতাপূর্ণ আচরণ করে না। যদিও তার সাথে অজ্ঞতাপূর্ণ আচরণ করা হয়। সে অন্যদের উপর অন্যায় করে না, যদিও তার উপর অন্যায় করা হয়, তবে সে ক্ষমা করে। সে সম্পর্ক ছিন্ন করে না, যদিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়, তবে সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। সে কৃপণ নয়, যদিও তার সাথে কৃপণতাপূর্ণ আচরণ করা হয়, তবে সে ধৈর্যধারণ করে’।[৭]
٨- قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ بَلَغَنِيْ أَنَّ الْأَحْنَفَ بْنَ قَيْسٍ قِيْلَ لَهُ مَا الْحِلْمُ؟ قَالَ أَنْ تَصْبِرَ عَلَى مَا تَكْرَهُ قَلِيْلًا
৮- আবূ বাকর প বলেন, ‘আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আল-আহনাফ বিন কাইসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘সহনশীলতা কী’? তিনি বললেন, ‘তুমি যা অপসন্দ করো তার উপর কিছুক্ষণ ধৈর্যধারণ করা’।[৮]
٩- عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ رَجُلًا كَتَبَ إِلَى أَخٍ لَهُ إِنَّ الْحِلْمَ لِبَاسُ الْعِلْمِ فَلَا تَعْرَيَنَّ مِنْهُ
৯- আমর ইবনু হারিছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এক ব্যক্তি তার ভাইকে লিখেছিলেন সহনশীলতা হল- জ্ঞানের পোশাক। তাই এটি ছিনিয়ে নিও না’।[৯]
١٠- عَنِ الْحَسَنِ قَالَ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ أَيْ بُنَيَّ حَلِيْمٌ فِيْ صُوْرَتِهِ خَيْرٌ مِنْ صُوْرَةٍ لَا حِلْمَ لَهُ
১০- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘লুক্বমান তার ছেলেকে বলেছিলেন, হে আমার ছেলে! যে ব্যক্তি তার চেহারায় সহনশীল, সে তার তুলনায় ভালো যে সহনশীল নয়’।[১০]
١١- عَنْ أَسْمَاءِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ بَلَغَنَا أَنَّ لُقْمَانَ قَالَ لِابْنِهِ حَلِيْمٌ كُلَّمَا لَقِيَكَ قَرَعَكَ بِعَصَاهُ خَيْرٌ مِنْ سَفِيْهٍ كُلَّمَا لَقِيَكَ سَرَّكَ
১১- আসমা ইবনু ঊবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, লুক্বমান তার ছেলেকে বলেছিলেন, ‘সেই সহনশীল ব্যক্তি; যে তোমার সাথে দেখা হলেই লাঠি দিয়ে আঘাত করে, সে সেই মূর্খ ব্যক্তির চেয়ে ভালো যে তোমার সাথে দেখা হলেই তোমাকে খুশি করে’।[১১]
١٢- عَنِ الْكَلْبِيِّ قَالَ مَا كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَشْرُفُوْنَ بِيَسَارٍ وَلَا شَجَاعَةٍ وَلَكِنْ حِلْمٌ وَسَخَاءٌ
১২- আল-ক্বালবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জাহেলি যুগের লোকেরা সম্পদ বা সাহসিকতা দ্বারা সম্মানিত হত না, বরং সহনশীলতা ও উদারতা দ্বারা সম্মানিত হত’।[১২]
তথ্যসূত্র :
[১]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৫, পৃ. ২১।
[২]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৯, পৃ. ২৫।
[৩]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/১০, পৃ. ২৬।
[৪]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/১১, পৃ. ২৬।
[৫]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/১৬, পৃ. ২৯।
[৬]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/২২, পৃ. ৩৩।
[৭]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৬১, পৃ. ৫৩।
[৮]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৭৩, পৃ. ৫৭।
[৯]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৭৪, পৃ. ৫৭।
[১০]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৯৬, পৃ. ৬৩।
[১১]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/৯৭, পৃ. ৬৩।
[১২]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল-হিলমু, হা/১০১, পৃ. ৬৬।
প্রসঙ্গসমূহ »:
অমিয় বাণী