শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

 অমিয় বাণী 

-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান 
 


١- عَنْ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُوْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ يَقُوْلُ لِأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ مَا حُسْنُ الْخُلُقِ؟ قَالَ هُوَ أَنْ تَحْتَمِلَ مَا يَكُوْنُ مِنَ النَّاسِ

১- আহমাদ ইবনু ইসহাক ইবনু মানছূর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আমার বাবাকে আহমদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি ‘উত্তম চরিত্র’ কী? তিনি বললেন, ‘মানুষের সাথে যা ঘটে তা সহ্য করা’।[১]

٢- قَالَ طَاوُسُ بْنُ كَيْسَانَ إِنَّ هَذِهِ الْأَخْلَاقَ مَنَائِحُ يَمْنَحُهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ فَإِذَا أَرَادَ اللهُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ بِعَبْدٍ خَيْرًا مَنَحَهُ مِنْهَا خَلْقًا صَالِحًا

২- ত্বাউস ইবনু কাইসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিশ্চয় এই উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী হল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক একটি দান, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দার জন্য কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে সেসব গুণাবলীর মধ্যে একটি উত্তম গুণ দান করেন’।[২]

٣- قَالَ رَجُلٌ لِمَيْمُوْنَ بْنِ مِهْرَانَ كَيْفَ أَصْبَحْتَ ؟ قَالَ أَصْبَحْتُ مُسْتَوْحِشًا كَمْ مِنْ خَلُقٍ كَرِيْمٍ وَفِعْلٍ جَمِيْلٍ قَدْ دَرَسَ تَحْتَ التُّرَابِ

৩- জনৈক ব্যক্তি মাইমূন ইবনু মিহরান (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললেন, আপনি কিভাবে সকালে উপনিত হলেন? তিনি বললেন, আমি একাকিত্ব ভরা মনে সকাল করেছি, কত উত্তম চরিত্র ও সুন্দর কর্মই না আছে, যা মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে! [৩]

٤- عَنِ الْحَسَنِ قَالَ ابْنَ آدَمَ، اصْحَبِ النَّاسَ بِمَكَارِمِ أَخْلَاقِكَ، فَإِنَّ الثَّوَاءَ فِيْهِمْ قَلِيْلٌ

৪- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হে আদমসন্তান! তুমি মানুষের সঙ্গে উত্তম চরিত্রে সঙ্গ দাও, কারণ তাদের মাঝে স্থায়িত্ব (থাকার সময়) খুব অল্প’।[৪]

٥- عَنْ أَيُّوْبَ السِّخْتِيَانِيِّ قَالَ لَا يَنْبُلُ الرَّجُلُ حَتَّى يَكُوْنَ فِيْهِ خَصْلَتَانِ الْعِفَّةُ عَمَّا فِيْ أَيْدِي النَّاسِ وَالتَّجَاوُزُ عَمَّا يَكُوْنُ مِنْهُمْ

৫- আইয়ূব আল-সিখতিয়ানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মর্যাদা অর্জন করতে পারবে, না যতক্ষণ না তার মধ্যে দু’টি গুণ থাকে, মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে বিরত থাকা এবং তাদের পক্ষ থেকে যা ঘটে তা উপেক্ষা করা’।[৫]

٦- قَالَ الْحَسَنُ مَكَارِمُ الْأَخْلَاقِ لِلْمُؤْمِنِ قُوَّةٌ فِيْ لِيْنٍ وَحَزْمٌ فِيْ دِيْنٍ وَإِيْمَانٌ فِيْ يَقِيْنٍ وَحِرْصٌ عَلَى الْعِلْمِ وَاقْتِصَادٌ فِي النَّفَقَةِ  وَبَذْلٌ فِي السَّعَةِ وَقَنَاعَةٌ فِي الْفَاقَةِ وَرَحْمَةٌ لِلْمَجْهُوْدِ وَإِعْطَاءٌ فِيْ حَقٍّ وَبِرٌّ فِيْ اسْتِقَامَةٍ

৬- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘একজন মুমিনের উত্তম চরিত্র হল: নমনীয়তায় দৃঢ়তা, ধর্মে দৃঢ় অবস্থান, নিশ্চিয়তার উপর বিশ্বাস, জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ, ব্যয়ে মিতব্যয়ীতা, প্রাচুর্যে দান, দারিদ্র্যে সন্তুষ্টি, কষ্টভোগকারীর প্রতি দয়া, ন্যায়ের পথে দান, এবং সৎভাবে সদাচরণ’।[৬]

٧- قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ فَلْيَتَّقِ الرَّجُلُ دَنَاءَةَ الْأَخْلَاقِ كَمَا يَتَّقِي الْحَرَامَ فَإِنَّ الْكَرَمَ مِنْ الدِّينِ

৭- আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষ যেন নিকৃষ্ট আচার-আচরণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলে, যেমনভাবে সে হারাম থেকে বাঁচে কারণ উত্তম চরিত্র ধারণ করা দ্বীনের অংশ’।[৭]

٨- عَنْ حَبِيْبِ بْنِ أَبِيْ ثَابِتٍ قَالَ مِنْ حُسْنِ خُلُقِ الرَّجُلِ أَنْ يُحَدِّثَ صَاحِبَهُ وَهُوَ مُقْبِلٌ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ 

৮- হাবীব ইবনু আবী ছাবিত (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তির উত্তম চরিত্রের আলামত হলো: সে তার সাথীর সঙ্গে কথা বলার সময় পুরো মুখমণ্ডল তার দিকে ফেরানো অবস্থায় কথা বলে’।[৮]

٩- قَالَ الْفُضَيْلُ لَا تُخَالِطْ إِلَّا حُسْنَ الْخُلُقِ فَإِنَّهُ لَا يَأْتِيْ إِلَّا بِخَيْرٍ وَلَا تُخَالِطْ سَيِّئَ الْخُلُقِ فَإِنَّهُ لَا يَأْتِيْ إِلَّا بِشَرٍّ

৯- ফুযাইল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তুমি কেবল ভালো চরিত্রসম্পন্ন মানুষের সাথে মিশো। কারণ তারা শুধু ভালোই আনবে, আর খারাপ চরিত্রসম্পন্ন মানুষের সাথে মিশো না, কারণ তারা শুধু খারাপই আনবে’।[৯]

١٠- عَنِ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ أَنَّهُ قَالَ لَهُ رَجُلٌ دَلَّنِيْ عَلَى أَحْمَدَ أَمْرُ عَاقِبَةٍ فَقَالَ لَهُ خَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ وَكَفَّ عَنِ الْقَبِيْحِ

১০- আহনাফ ইবনু ক্বাইস (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমাকে ভালো পরিণতির পথে নির্দেশ দিন। তিনি তাকে বললেন, মানুষদের সাথে ভালো আচরণ করো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা’।[১০]


তথ্যসূত্র :
[১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩০।
[২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩১।
[৩]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩১।
[৪]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩১।
[৫]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩১।
[৬]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩১।
[৭]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩২।
[৮]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩২।
[৯]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩২।
[১০]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৩৩২।




প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী (১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১২তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (আল-ইখলাছ সম্পর্কিত) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - অনুবাদ : ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : তৃতীয় সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ৯ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১০ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৩য় বর্ষ : ১১তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী : ইখলাছ - আল-ইখলাছ ডেস্ক

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ