অমিয় বাণী
- হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
قَالَ بِشْرُ بْنُ الْحَارِثِ الْإِسْلَامُ هُوَ السُّنَّةُ وَالسُّنَّةُ هِيَ الْإِسْلَامُ
১- বিশর ইবনুল হারিছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলাম হলো সুন্নাহ আর সুন্নাহই হলো ইসলাম’।[১]
عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ كَانَ مَنْ مَضَى مِنْ عُلَمَائِنَا يَقُوْلُوْنَ الْاِعْتِصَامُ بِالسُّنَّةِ نَجَاةٌ
২- ইমাম যুহ্রী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমাদের মাঝ থেকে যেসব উলামায়ে কেরাম গত হয়ে গেছেন তারা বলতেন, ‘সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকায় মুক্তি রয়েছে’।[২]
قَالَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ إِذَا وَجَدْتُمْ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ سُنَّةً فَاتَّبِعُوْهَا، وَلَا تَلْتَفِتُوْا إِلَى قَوْلِ أَحَدٍ
৩- ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যখন তোমরা রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত পেয়ে যাবে তখন তোমরা তার অনুসরণ করো, কারো কথার দিকে তাকাইয়ো না’।[৩]
قَالَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ إِذَا وَجَدْتُمْ فِيْ كِتَابِيْ خِلَافَ سُنَّةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقُوْلُوْا بِهَا وَدَعُوْا مَا قُلْتُهُ
৪- ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যখন তোমরা আমার কিতাবে এমন কিছু পাবে যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহের সাথে সাংঘর্ষিক, তাহলে তোমরা তা (রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাহ) বল এবং আমি যা বলেছি তা পরিত্যাগ কর’।[৪]
عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ شِهَابٍ يَقُوْلُ سَلِّمُوْا لِلسُّنَّةِ وَلَا تُعَارِضُوْهَا
৫- ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইবনু শিহাবকে বলতে শুনেছি, ‘তোমরা সুন্নাতের প্রতি আত্মসমর্পণ করো এবং তার বিরোধিতা করো না’।[৫]
قَالَ الْإِمَامُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ كَانَ الْفُقَهَاءُ يَقُوْلُوْنَ لَا يَسْتَقِيْمُ قَوْلٌ إِلَّا بِعَمَلٍ وَلَا يَسْتَقِيْمُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ إِلَّا بِنِيَّةٍ وَلَا يَسْتَقِيْمُ قَوْلٌ وَعَمَلٌ وَنِيَّةٌ إِلَّا بِمُوَافَقَةِ السُّنَّةِ
৬- ইমাম সুফিয়ান আছ-ছাওরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ফক্বীহগণ বলতেন, ‘কোন কথাই কর্ম ছাড়া সঠিক নয়, আর কথা ও কাজ নিয়ত ছাড়া সঠিক নয় এবং কোন কথা, কাজ ও নিয়ত সুন্নাহ অনুসারে না হলে সঠিক নয়’।[৬]
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ فِيْ قَوْلِهِ تَعَالَى وَ عَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اہۡتَدٰی قَالَ لَزِمَ السُّنَّةَ وَالْجَمَاعَةَ
৭- সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর তা‘আলার বাণী, ‘আর সে সৎকর্ম করেছে এবং তারপর হেদায়াত লাভ করেছে’ (সূরা ত্বো-হা: ৮২), (এই আয়াত) সম্পর্কে বলেন, সে সুন্নাহ ও জামা‘আতের উপর আঁকড়ে ছিল’।[৭]
قَالَ أَبُوْ عُثْمَانَ النَّيْسَابُوْرِيُّ مَا تَرَكَ أَحَدٌ شَيْئًا مِنَ السُّنَّةِ إلَّا لِكِبْرٍ فِي نَفْسِهِ
৮- আবূ উছমান আন-নাইসাবুরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কেউই সুন্নাহ থেকে কিছু ত্যাগ করে না, কেবল তার অন্তরের অহংকার ছাড়া’।[৮]
قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ الْحُجَّةُ عِنْدَ التَّنَازُعِ السُّنَّةُ فَمَنْ أَدْلَى بِهَا فَقَدْ فَلَحَ وَمَنِ اسْتَعْمَلَهَا فَقَدْ نَجَا
৯- ইবনু আব্দুল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিবাদের সময় হুজ্জত বা দলীল হলো সুন্নাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে সফল হবে, আর যে তা প্রয়োগ করবে সে মুক্তি পাবে’।[৯]
يَقُوْلُ الْإِمَامُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ الْبَرَكَةُ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِيْ أَتْبَاعِ أَدَبِ رَسُوْلِ اللهِ وَامْتِثَالِ أَمْرِهِ
১০- ইমাম ইবনু আব্দুল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সকল বরকত ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর শিষ্টাচার অনুসরণে এবং তাঁর আদেশ পালনে’।[১০]
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ مَنْ تَمَسَّكَ بِالسُّنَّةِ وَثَبَتَ نَجَا وَمَنْ أَفْرَطَ مَرَقَ وَمَنْ خَالَفَ هَلَكَ
১১- যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে এবং তার উপর অটল থাকবে; সে নাজাত পাবে। আর যে সীমালঙ্ঘন করবে সে পথভ্রষ্ট হবে এবং যে বিরোধিতা করবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে’।[১১]
তথ্যসূত্র :
[১]. হায়াতুস সালাফী বাইনাল ক্বওলী ওয়াল আমাল, পৃ. ৩৬।
[২]. হায়াতুস সালাফী বাইনাল ক্বওলী ওয়াল আমাল, পৃ. ৩৬।
[৩]. হায়াতুস সালাফী বাইনাল ক্বওলী ওয়াল আমাল, পৃ. ৩৯।
[৪]. হায়াতুস সালাফী বাইনাল ক্বওলী ওয়াল আমাল, পৃ. ৩৯।
[৫]. আল ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্বিহ, পৃ. ৩৮৫।
[৬]. আল-ইবানাতুল কুবরা, পৃ. ৩৩৩।
[৭]. আল-ইবানাতুল কুবরা, পৃ. ৩২২।
[৮]. তাহযীবু ইক্বতিযায়িছ ছিরাত্বিল মুস্তাক্বীম, পৃ. ১৪৮।
[৯]. আল-মুগনী লি ইবনি কুদামা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩২৯।
[১০]. আল-ক্বাওয়ায়িদু ফী তাওহীদিল ইবাদাহ, পৃ. ২৬৯।
[১১]. যাম্মুল কালামি ওয়া আহলিহী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪০।