অমিয় বাণী
-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
١- خَلَفُ بْنُ تَمِيْمٍ قَالَ قُلْتُ لِعَلِيِّ بْنِ بَكَّارٍ مَا حُسْنُ الظَّنِّ بِاللهِ؟ قَالَ لَا يَجْمَعُكَ وَالْفُجَّارَ فِيْ دَارٍ وَاحِدَةٍ
১- খালাফ ইবনু তামীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আলী ইবনে বাক্কারকে বললাম, ‘আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা কী’? তিনি বললেন, ‘তিনি তোমাকে এবং দুষ্টদের একই ঘরে থাকতে দেবেন না’।[১]
٢- مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيٰى بْنِ أَبِيْ حَاتِمٍ الْأَزْدِيُّ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ دَاوُدَ عَنِ التَّوَكُّلِ فَقَالَ أَرَى أَنَّ التَّوَكُّلَ حُسْنَ الظَّنِّ
২- মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবূ হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু দাঊদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর তিনি বললেন, ‘আমার মতে তাওয়াক্কুল হলো আল্লাহর প্রতি সুন্দর ধারণা রাখা’।[২]
٣- ابْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سُلَيْمَانَ الدَّارَانِيَّ يَقُوْلُ مَنْ حَسُنَ ظَنُّهُ بِاللهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ لَا يَخَافُ اللهَ فَهُوَ مَخْدُوْعٌ
৩- ইবনু আবি আল-হাওয়ারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি আবূ সুলাইমান আদ-দারানীকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে সুন্দর ধারণা পোষণ করে, কিন্তু তারপরও আল্লাহকে ভয় করে না সে প্রতারিত’।[৩]
٤- عَنْ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ كَانُوْا يَسْتَحِبُّوْنَ أَنْ يُلَقِّنُوا الْعَبْدَ مَحَاسِنَ عَمَلِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ لِكَيْ يُحْسِنَ ظَنَّهُ بِرَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ
৪- ইবরাহীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাঁরা (সালাফগণ) এটা পসন্দ করতেন যে, যখন কোন বান্দা মৃত্যুবরণ করে, তখন তাকে তার ভালো আমলগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত যেন সে তার প্রতিপালকের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করতে পারে।[৪]
٥- عَنْ يَحْيَى بْنِ يَمَانٍ قَالَ قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ رَحِمَهُ اللهُ مَا أُحِبُّ أَنَّ حِسَابِيَ جُعِلَ إِلَى وَالِدَيَّ رَبِّي خَيْرٌ لِيْ مِنْ وَالِدَيَّ
৫- ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সুফয়ান ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি পসন্দ করি না যে, আমার হিসাব আমার পিতা-মাতার ওপর ন্যস্ত করা হোক, আমার প্রতিপালক আমার জন্য আমার পিতা-মাতার চেয়েও উত্তম’।[৫]
٦- عَنْ إِدْرِيسَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْمَرْوَزِيِّ قَالَ مَرِضَ أَعْرَابِيٌّ فَقِيْلَ لَهُ إِنَّكَ تَمُوْتُ قَالَ وَأَيْنَ أَذْهَبُ؟ قَالُوْا إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ فَمَا كَرَاهَتِيْ أَنْ أَذْهَبَ إِلَى مَنْ لَا أَرَى الْخَيْرَ إِلَّا مِنْهُ
৬- ইদরীস ইবনু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, একজন বেদুইন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বলা হল তুমি তো মারা যাচ্ছ, সে জিজ্ঞেস করল, আমি কোথায় যাচ্ছি? লোকেরা বলল, তুমি আল্লাহর কাছে যাচ্ছ। তখন সে বলল, তাহলে আমি কেন অপসন্দ করব এমন এককের কাছে যাওয়া, যার পক্ষ থেকে ছাড়া আমি কখনো কোন কল্যাণ দেখিনি।[৬]
٧- عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ لَيَغْفِرَنَّ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْفِرَةً لَمْ تَخْطُرْ عَلَى قَلْبِ بِشْرٍ
৭- আঊন ইবনু আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন এমনভাবে ক্ষমা করবেন, যা কোন মানুষের অন্তরে কল্পনায়ও আসেনি।[৭]
٨- عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ الْأَشْعَثِ قَالَ سَمِعْتُ الْفُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ رَحِمَهُ اللهُ يَقُوْلُ لَوْ أَدْخَلَنِيَ اللهُ النَّارَ فَصِرْتُ فِيهَا مَا أَيِسْتُهُ
৮- ইবরাহীম ইবনুল আশ‘আছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, ‘যদি আল্লাহ আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন এবং আমি নিজেকে সেখানে পাই, তাহলে আমি তা থেকে নিরাশ হব না’।[৮]
٩- عَنْ أَبِيْ حَازِمٍ الْمَدِيْنِيِّ قَالَ مِنْ أَعْظَمِ خَصْلَةٍ تُرْجَى لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَكُوْنَ أَشَدَّ النَّاسِ خَوْفًا عَلَى نَفْسِهِ وَأَرْجَاهُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ
৯- আবূ হাযিম আল-মাদানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় গুণ হল, সে যেন নিজের উপর সবচেয়ে বেশি ভয় রাখে, আর অন্য সব মুসলিমের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশা রাখে’।[৯]
١٠- عَنْ عَامِرِ بْنِ حَفْصٍ قَالَ وَقَفَ الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ عَلَى قَبْرِ وَكِيْعِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ فَقَالَ اللَّهُمَّ ارْحَمْ وَكِيْعًا فَإِنَّ رَحْمَتَكَ لَنْ تَعْجِزْ عَنْ وَكِيْعٍ
১০- আমির ইবনু হাফছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) ওয়াকী‘ ইবনু আবিল আসওয়াদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি ওয়াকী‘কে রহম করুন। কারণ আপনার রহমত ওয়াকী‘ পর্যন্ত পৌঁছাতে অক্ষম হবে এমন নয়’।[১০]
তথ্যসূত্র :
[১]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/১১, পৃ. ২৫।
[২]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/২৭, পৃ. ৪০।
[৩]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/২৮, পৃ. ৪০।
[৪]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৩০, পৃ. ৪০।
[৫]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৩৭, পৃ. ৪৫।
[৬]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৪০, পৃ. ৪৬।
[৭]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৬৬, পৃ. ৭৫।
[৮]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৮১, পৃ. ৯৫।
[৯]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/৮৯, পৃ. ৯৭।
[১০]. ইবনু আবিদ দুনইয়া, হুসনুয যান্নি বিল্লাহ, হা/১০১, পৃ. ১০১।
প্রসঙ্গসমূহ »:
অমিয় বাণী