অমিয় বাণী
-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
١- قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ بُلِيْنَا بِفِتْنَةِ الضَّرَّاءِ فَصَبَرْنَا وَبُلِيْنَا بِفِتْنَةِ السَّرَّاءِ فَلَمْ نَصْبِرْ
১. আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমাদেরকে যখন দুঃখ-কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, তখন আমরা ধৈর্যধারণ করেছি। কিন্তু যখন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে পরীক্ষা করা হল, তখন আমরা ধৈর্যধারণ করতে পারিনি।[১]
٢- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِذَا اشْتَدَّ الْبَلَاءُ فَلَا يَقُوْلَنَّ أَحَدُكُمْ لِيْ بِالنَّاسِ أُسْوَةٌ
২. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যখন বিপদ-আপদ তীব্রতর হয় তখন তোমাদের কেউ যেন এ কথা না বলে যে, মানুষের মাঝেই আমার আদর্শ রয়েছে (অর্থাৎ মানুষ যা করে আমিও তাই করব।[২]
٣- قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا وَمَا مُلِئَ بَيْتٌ حَبْرَةً إِلَّا يُوْشِكُ أَنْ يُمْلَأَ عَبْرَةً
৩. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আনন্দময় এমন কোন ঘর নেই যা অচিরেই বিষাদে (অশ্রুতে) পূর্ণ হবে না।[৩]
٤- قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ إِنَّ اللهَ لَمْ يَخْلُقْ شَيْئًا قَطُّ إِلَّا صَغِيْرًا ثُمَّ يَكْبُرُ إِلَّا الْمُصِيْبَةَ، فَإِنَّهُ خَلَقَهَا كَبِيْرَةً ثُمَّ تَصْغُرُ
৪. হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা কোন কিছু সৃষ্টি করলে তা প্রথমে ছোট থাকে, অতঃপর বড় হয়। তবে বিপদ-আপদ এর ব্যতিক্রম। কেননা তা বড় হয়ে আবির্ভূত হয়, অতঃপর তা ছোট হতে থাকে।[৪]
٥- قَالَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ رَحِمَهُ اللهُ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُبْتَلَى وَيُعَافَى فَيَكُوْنُ بَلَاؤُهُ كَفَّارَةً وَاسْتِعْتَابًا وَإِنَّ الْكَافِرَ لَيُبْتَلَى وَيُعَافَى فَيَكُوْنُ مِثْلَ بَعِيْرٍ عُقِلَ لَا يَدْرِيْ فِيْمَ عُقِلَ وَلَا لِمَ أُرْسِلَ
৫. সুলাইমান আত-তাইমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুমিন ব্যক্তি বিপদে পড়ে যখন সুস্থ হয়, তখন তার সেই বিপদ কাফফারা (পাপমোচন) ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়। আর কাফির যখন বিপদে পড়ে সুস্থ হয়, তখন সে সেই উটের মত যাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল কিন্তু সে জানে না কেন তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল আর কেনই বা তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।[৫]
٦- قَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ لَوْلَا مَصَائِبُ الدُّنْيَا لَوَرَدْنَا الْآخِرَةَ مَفَالِيْسَ
৬. ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কতিপয় সালাফ বলেছেন, দুনিয়ার বিপদ-আপদ না থাকলে আমরা আখেরাতে রিক্তহস্তে (দেউলিয়া হয়ে) উপস্থিত হতাম।[৬]
٧- قَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ رَحِمَهُ اللهُ الشَّاكِرُ الَّذِي يَشْكُرُ عَلَى الْعَطَاءِ، وَالشَّكُوْرُ الَّذِيْ يَشْكُرُ عَلَى الْبَلَاءِ
৭. ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, শাকির (কৃতজ্ঞ ব্যক্তি) হল সে, যে আল্লাহর দান-নে‘মতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর শাকূর (অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ব্যক্তি) হল সে, যে বিপদ-আপদের মধ্যেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে।[৭]
٨- قَالَ يُوسُفُ رَحِمَهُ اللهُ سَمِعْتُ الثَّوْرِيَّ يَقُوْلُ لَمْ يَفْقَهْ مَنْ لَمْ يَعُدَّ الْبَلَاءَ نِعْمَةً وَالرَّخَاءَ مُصِيْبَةً
৮. ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি সুফিয়ান আছ-ছাওরীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বিপদ-আপদকে নে‘মত এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে মুসিবত (পরীক্ষা) বলে গণ্য করে না, সে প্রকৃত দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি।[৮]
٩- قَالَ ابْنُ حَجَرٍ رَحِمَهُ اللهُ أُمِرُوْا بِاسْتِدْفَاعِ الْبَلَاءِ بِالذِّكْرِ وَالدُّعَاءِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ
৯. ইবনু হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যিক্র, দু‘আ, ছালাত ও ছাদক্বার মাধ্যমে বিপদ-আপদ প্রতিহত করার।[৯]
١٠- قَالَ ابْنُ كَثِيْرٍ رَحِمَهُ اللهُ كُلُّ مَنْ قَامَ بِحَقٍّ أَوْ أَمَرَ بِمَعْرُوْفٍ أَوْ نَهَى عَنْ مُنْكَرٍ فَلَا بُدَّ أَنْ يُؤْذَى فَمَا لَهُ دَوَاءٌ إِلَّا الصَّبْرُ فِي اللهِ وَالِاسْتِعَانَةُ بِاللّٰهِ وَالرُّجُوْعُ إِلَى اللهِ
১০. ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, অথবা সৎকাজের আদেশ দেয়, কিংবা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, তাকে অবশ্যই কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। এমতাবস্থায় ধৈর্যধারণ করা, আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ছাড়া তার আর কোন প্রতিকার নেই।[১০]
তথ্যসূত্র :
[১]. আয-যুহদ লি ইবনিল মুবারক, পৃ. ১৮১।
[২]. আয-যুহদ লি আবী দাঊদ, পৃ. ১৪২।
[৩]. আয-যুহদ লি আবী দাঊদ, পৃ. ১৪২।
[৪]. নাছরুদ দুর্রি ফিল মুহাযারাত লি মানছূর আর-রাযী, ২/৭৮ পৃ.।
[৫]. বাহজাতুল মাজালিস, ১/৩৮১ পৃ.।
[৬]. যাদুল মা‘আদ লি ইবনিল ক্বাইয়িম, ৪/১৭৬ পৃ.।
[৭]. উদ্দাতুছ ছাবিরীন ওয়া যাখীরাতুশ শাকিরীন, পৃ. ২৯১।
[৮]. তারীখুল ইসলাম, ১৩/৪৮৫ পৃ.।
[৯]. ফাৎহুল বারী লি ইবনি হাজার, ২/৫৩১ পৃ.।
[১০]. তাফসীরে ইবনু কাছীর, ২/১৮০ পৃ.।
প্রসঙ্গসমূহ »:
অমিয় বাণী