বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন

অমিয় বাণী

- হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান*



1- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، قَالَ: لَوْ كَانَ لِلذُّنُوْبِ رِيْحٌ مَا قَدَرَ أَحَدٌ أَنْ يَجْلِسَ إِلَيَّ.

১- মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি‘ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি পাপের বাতাস প্রবাহিত হত, তাহলে আমার কাছে বসার কারো ক্ষমতা হত না’।[১]

2- قَالَ دَاوُوْدُ الطَّائِيُّ: تَرَكْنَا الذُّنُوْبَ وَإِنَّا لَنَسْتَحِيْ مِنْ كَثِيْرٍ مِنْ مُجَالَسَةِ النَّاسِ.

২- দাঊদ আত-ত্বাই (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমরা পাপ বর্জন করেছি কারণ আমরা মানুষের মজলিসে বসতে অধিক লজ্জাবোধ করি’।[২]

3- عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: ابْنَ آدَمَ عَنْ نَفْسِكَ فَكَايِسْ فَإِنَّكَ إِنْ دَخَلْتَ النَّارَ لَمْ تَنْجَبِرْ بَعْدَهَا أَبَدًا.

৩- হাসান বাছরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি তোমার ব্যাপারে বিচক্ষণ হ‌ও। কেননা তুমি যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে তারপর আর সস্থানে ফিরে আসতে পারবে না’।[৩]

4- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: إِذَا أَصْبَحَ الرَّجُلُ اجْتَمَعَ هَوَاهُ وَعَمَلُهُ فَإِنْ كَانَ عَمَلُهُ تَبَعًا لِهَوَاهُ فَيَوْمُهُ يَوْمٌ سُوءٌ وَإِنْ كَانَ هَوَاهُ تَبَعًا لِعَمَلِهِ فَيَوْمُهُ يَوْمٌ صَالِحٌ.

৪- আবূ দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘যখন কোন ব্যক্তি সকালে উপনীত হয় তখন তার প্রবৃত্তি ও আমল একত্রিত হয়, অতঃপর তার আমর যদি প্রবৃত্তির অনুসরণে হয় তাহলে তার সেই দিনটি খারাপ দিনে পরিণত হয়, আর যদি তার প্রবৃত্তি তার আমল অনুযায়ী হয় তাহলে তার সেই দিনটি উত্তম দিনে পরিণত হয়’।[৪]

5- عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ الْأَشْعَثِ، سَمِعَ فُضَيْلَ بْنَ عِيَاضٍ، يَقُوْلُ فِيْ قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ [النِّسَاء: ٢٩] قَالَ: وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ» ثُمَّ قَالَ: مَنْ غَفَلَ عَنْ نَفْسِهِ فَقَدْ قَتَلَهَا.

৫- ইবরাহীম ইবনু আশ‘‌আছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আল্লাহ তা‘আলার বাণীوَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংস করিও না’ (সূরা আন-নিসা: ২৯) সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ব্যাপারে গাফেল হয়ো না, অতঃপর বলেন, যে নিজের ব্যাপারে গাফেল হলো সে তাকে হত্যা করলো’।[৫]

6- عَنْ عُثْمَانَ بْنِ زَائِدَةَ، قَالَ: قِيْلَ لِابْنِ الْحَنَفِيَّةِ: مَنْ أَعْظَمُ النَّاسِ قَدْرًا؟ قَالَ: مَنْ لَمْ يَرَ الدُّنْيَا كُلَّهَا لِنَفْسِهِ خَطَرًا.

৬- উছমান ইবনু যায়িদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইবনু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, মানুষের মধ্যে হতে ক্ষমতার দিক থেকে কে উত্তম? তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি পৃথিবীর সব কিছুকেই নিজের নফসের জন্য ক্ষতিকর মনে করে’।[৬]

7- عَنْ يُوْنُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ: إِنِّيْ لَأَعُدُّ مِائَةَ خَصْلَةٍ مِنْ خِصَالِ الْخَيْرِ مَا أَعْلَمُ أَنَّ فِيْ نَفْسِيْ وَاحِدَةً مِنْهَا.

৭- ইউনুস ইবনু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিশ্চয় আমি ভালো বৈশিষ্ট্য হতে এক’শটি বৈশিষ্ট্য গণনা করেছি, কিন্তু আমি জানি না তার মধ্য হতে আমার মাঝে একটিও আছে কি না’।[৭]

8- قَالَ مُحَمَّدُ ابْنُ الْحَنَفِيَّةِ: مَنْ كَرُمَتْ عَلَيْهِ نَفْسُهُ لَمْ يَكُنْ لِلدُّنْيَا عِنْدَهُ قَدْرٌ.

৮- মুহাম্মাাদ ইবনু হানীফাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যার আত্মা তাকে সম্মানিত করেছে, তার নিকটে দুনিয়ার কোন মূল্য নেই’।[৮]

9- قَالَ مُحَمَّدُ ابْنُ الْحَنَفِيَّةِ: إِنَّ اللهَ جَعَلَ الْجَنَّةَ بِمَثَابَةٍ لِأَنْفُسِكُمْ فَلَا تَبِيْعُوْهَا بِغَيْرِهَا.

৯- মুহাম্মাদ ইবনু হানাফিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে তোমাদের আত্মার প্রত্যাবর্তনস্থল করেছেন। সুতরাং তোমরা সেটাকে অন্য কিছুর বিনিময়ে বিক্রি করে দিও না’।[৯]

10- عَنْ مَيْمُوْنٍ، قَالَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَعْلَمَ مَا مَنْزِلَتُهُ غَدًا، فَلْيَنْظُرْ مَا عَمَلُهُ فِي الدُّنْيَا، فَعَلَيْهِ يَنْزِلُ.

১০- মাইমূন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভবিষ্যতের স্থান জেনে খুশি হতে চাই, সে যেন তার দুনিয়ার আমলের প্রতি লক্ষ্য করে অতঃপর তার উপর অবিচল থাকে’।[১০]

11- عَنِ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَال: أَدْرَكْتُ ثَلَاثِيْنَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ : كُلُّهُمْ يَخَافُ النِّفَاقَ عَلَى نَفْسِهِ٠

১১- ইবনু আবী মুলাইকা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)-এর ত্রিশজন ছাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-কে পেয়েছি তারা প্রত্যেকেই নিজের আত্মার নিফাকের ভয় করতেন’।[১১]


তথ্যসূত্র :
[১]. ইবনু আবিদ দুন‌ইয়া, মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৩৭, পৃ. ৮২।

[২]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৪৩, পৃ. ৮৫।

[৩]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৪৭, পৃ. ১০৫।

[৪]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৮৩, পৃ. ১০৯।

[৫]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৯৫, পৃ. ১১৩।

[৬]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৭১, পৃ. ১০৪।

[৭]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৩৪, পৃ. ৮০।

[৮]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৬৭, পৃ. ১০৩।

[৯]. মুহাসাবাতুন নাফস, হা/৬৯, পৃ. ১০৪।

[১০]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ২৬৫।

[১১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ২৬৫।




প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ১০ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১২তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : তৃতীয় সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৯ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৫ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৮ম বর্ষ : ১ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৭ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (আল-ইখলাছ সম্পর্কিত) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৪র্থ বর্ষ) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী : ইখলাছ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান

ফেসবুক পেজ