রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

 অমিয় বাণী 

- হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান 



١ -قَالَ عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ كَانَ شَقِيْقُ بْنُ سَلَمَةَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ يُصَلِّيْ ثُمَّ يَنْشِجُ كَمَا تَنْشِجُ الْمَرْأَةُ

১. আমর ইবনু ক্বাইস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, শাক্বীক্ব ইবনু সালামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদে প্রবেশ করে ছালাত আদায় করতেন, তারপর তিনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন, যেমন একজন মহিলা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে।[১]

٢ -عَنْ أَبِيْ هَارُوْنَ مُوْسَى قَالَ كَانَ عَوْنٌ يُحَدِّثُنَا وَلِحْيَتُهُ تَرْتِشُ بِالدُّمُوْعِ

২. আবূ হারূন মূসা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আউন (ইবনু আব্দুল্লাহ) আমাদের নিকট হাদীছ বর্ণনা করতেন, আর তখন তাঁর দাড়ি অশ্রুতে ভিজে যেত।[২]

٣ -عَنْ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ قَرَأَ عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ كِتَابَ الْأَهْوَالِ فَمَرَّ فِيْ صِفَةِ النَّارِ فَشَهِقَ فَغُشِيَ عَلَيْهِ فَحُمِلَ إِلَى مَنْزِلِهِ وَعَاشَ أَيَّامًا ثُمَّ مَاتَ

৩. ইউনুস ইবনু আব্দুল আ‘লা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু ওয়াহব (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আল আহ‌ওয়াল’ নামক কিতাব পড়ছিলেন, তিনি যখন জাহান্নামের বর্ণনায় পৌঁছালেন, তখন এমন চিৎকার দিয়ে উঠলেন যে, তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন, তাকে তার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো, এরপর তিনি কিছুদিন বেঁচে ছিলেন তারপর মৃত্যু বরণ করেন।[৩]

٤ -عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ قَالَ كُنْتُ أَرْمُقُ سُفْيَانَ في اللَّيْلَةِ بَعْدَ اللَّيْلَةِ يَنهَضُ مَرْعُوبًا يُنَادِي النَّارَ النَّارَ شَغَلَنيْ ذِكْرُ النَّارِ عَنِ النَّوْمِ وَالشَّهَوَاتِ٠

৪. আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি রাতের পর রাত সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে লক্ষ্য করতাম, তিনি হঠাৎ আতঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন, আগুন! আগুন! জাহান্নামের স্মরণ আমাকে ঘুম ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত রেখেছে।[৪]

٥ -عَنْ يُوْسُفَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ بَكَى عَلِيُّ بنُ بَكَّارٍ حَتَّى عَمِيَ وَكَانَ قَدْ أَثَّرَتِ الدُّمُوْعُ فِيْ خَدَّيْهِ

৫. ইউসুফ ইবনু মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলী ইবনু বাক্কার এত বেশি কেঁদেছিলেন যে, তিনি অন্ধ হয়ে যান এবং অশ্রু তাঁর দুই গালে চিহ্ন রেখে দেয়।[৫]

٦ -عَنْ يَزِيْدَ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ الْبُكَاءُ مِنْ سَبْعَةِ أَشْيَاءَ مِنَ الْفَرَحِ، وَالْحَزَنِ وَالْفَزَعِ وَالْوَجَعِ وَالرِّيَاءِ وَالشُّكْرِ وَبُكَاءٌ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ فَذَلِكَ الَّذِيْ تُطْفِيُ الدَّمْعَةُ مِنْهُ أَمْثَالَ الْجِبَالِ مِنَ النَّارِ

৬. ইয়াযীদ ইবনু মাইসারাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কান্না সাত জিনিসের কারণে হয়, আনন্দে, দুঃখে, ভয়ে, যন্ত্রণায়, লৌকিকতায় (রিয়া), কৃতজ্ঞতায় (শুকর) এবং আল্লাহর ভয়ের কান্না, আর এই কান্নার অশ্রুতে পাহাড়সম আগুন নিভিয়ে দেয়।[৬]

٧ -عنْ عَمْرٍو بْنِ عَوْنٍ قَالَ مَا صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ  عَبْدِ اللهِ إِلاَّ سَمِعْتُ قَطْرَ دُمُوْعِهِ عَلَى الْبَارِيَّةِ

৭. আমর ইবনু আউন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইবনু আব্দুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছি; আর তার অশ্রুর ফোঁটা মাটিতে পড়ার শব্দ শুনেছি।[৭]

٨ -عَنْ أَبِيْ بَكْرٍ بْنِ عَيَّاشٍ قَالَ كُنْتُ إِذَا رَأَيْتُ عَطَاءَ بْنَ السَّائِبِ وَضِرَارَ بْنَ مُرَّةَ رَأَيْتُ أَثَرَ الْبُكَاءِ عَلَى خُدُوْدِهِمَا

৮. আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি যখন আত্বা ইবনু সায়িব এবং যিরার ইবনু মুর্রাহ দ্বয়কে দেখতাম, তখন তাদের গালের উপর কান্নার চিহ্ন দেখতে পেতাম।[৮]

٩ -عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ مَهْدِيٍّ قَالَ كُنْتُ لاَ أَسْتطِيْعُ سَمَاعَ قِرَاءَةِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ مِنْ كَثْرَةِ بُكَائِهِ

৯. আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কির‘আত অধিক ক্রন্দনের কারণে শুনতে পেতাম না।[৯]

١٠ -كَانَ ابْنُ الْمُبَارَكِ إذَا قُرِئَ عَلَيْهِ كِتَابُ الزُّهْدِ كَأَنَّهُ ثَوْرٌ قَدْ ذُبِحَ لَا يَقْدِرُ أَنْ يَتَكَلَّمَ

১০. ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সামনে যখন কিতাবুয যুহুদ পাঠ করা হতো, তখন তিনি যবেহ করা ষাঁড়ের মত হয়ে যেতেন, আর কথা বলতে পারতেন না।[১০]

١١ -عَنِ الْقَاسِمِ الْأَعْرَجِ قَالَ كَانَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ يَبْكِيْ بِاللَّيْلِ حَتَّى عَمِشَ

১১. ক্বাসিম আল-আ‘রাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) রাতের বেলায় এত কাঁদতেন যে, তাঁর দৃষ্টি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।[১১]

١٢ -بَكَى الْحَسَنُ فَقِيْلَ مَا يُبْكِيْكَ؟ قَالَ أَخَافُ أَنْ يُطْرَحَنِيْ غَدًا فِي النَّارِ وَلَا يُبَالِيْ

১২. হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) কাঁদলেন, তখন জিজ্ঞেস করা হলো কী তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি ভয় পাই যে, আগামী দিনে আমাকে জাহান্নামে ফেলা হবে এবং তা নিয়ে আমার কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই।[১২]

 

* অধ্যায়নরত, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব।।

তথ্যসূত্র :
[১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২০।
[২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২১।
[৩]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২১।
[৪]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২১।
[৫]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২২।
[৬]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২২।
[৭]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২২।
[৮]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২৩।
[৯]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২৪।
[১০]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২৪।
[১১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২৪।
[১২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ১২৪।




প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী - ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১১তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৪র্থ বর্ষ) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৫ম বর্ষ : নবম সংখ্যা - এপ্রিল ২০২৪) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (আল-ইখলাছ সম্পর্কিত) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী - অনুবাদ : ইউনুস বিন আহসান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৬ষ্ঠ সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৪র্থ বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১০ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ