বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

বিপদাপদ, অসুস্থতা ও তার চিকিৎসা

- আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম*


বিপদাপদ, অসুস্থতা ও তার চিকিৎসা

মুমিনের উপর সর্বদা বিপদ-আপদ আসতে থাকে। মুমিনের জীবন শস্য জাতীয় গাছের ন্যায়। বাতাস সর্বদা তাকে আন্দোলিত করে।[১] অনুরূপভাবে বিপদ-আপদও তাকে আন্দোলিত করে। মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ, বালা-মুছীবত, অসুস্থতা, ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় তারাই কৃতকার্য হোন, যারা বিপদাপদ ও অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ করে এবং দু‘আ ও যিকরের মাধ্যমে রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। তাছাড়া বিপদাপদ ও অসুস্থতায় ধৈর্যধারণ ও রবের দিকে প্রত্যাবর্তনে রয়েছে অত্যধিক মর্যাদা। মহান আল্লাহ বলেন,

وَ لَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَ الۡجُوۡعِ وَ نَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَنۡفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ . الَّذِیۡنَ اِذَاۤ  اَصَابَتۡہُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ  ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا لِلّٰہِ وَ  اِنَّاۤ اِلَیۡہِ رٰجِعُوۡنَ .ؕ اُولٰٓئِکَ عَلَیۡہِمۡ صَلَوٰتٌ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَ رَحۡمَۃٌ ۟ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُہۡتَدُوۡنَ

‘নিশ্চয় আমরা তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন ও প্রাণ এবং ফল শস্যের অভাবের কোন একটি দ্বারা পরীক্ষা করব এবং ঐসব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান করুন। যাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হলে তারা বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এদের উপর তাদের প্রভুর পক্ষ হতে শান্তি ও করুণা বর্ষিত হবে এবং এরাই সুপথগামী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৫-১৫৭)। হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

১). আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন।[২]
২). নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট ব্যক্তির জন্য এক বিশেষ মর্যাদার স্থান রয়েছে, যে পর্যন্ত সে কোন আমলের দ্বারা পৌঁছতে পারবে না। ফলে আল্লাহ তাকে এমন পরীক্ষা করেন, যা সে অপসন্দ করে। এমনকি এটাই তাকে ঐ বিশেষ মর্যাদা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।[৩]
৩). নিশ্চয় বান্দার জন্য আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা আছে, যা কোন আমল দ্বারা অর্জন করতে পারে না। ফলে আল্লাহ তাকে এমন পরীক্ষা করেন, যা সে অপসন্দ করে। শেষ পর্যন্ত এটা তাকে ঐ উচ্চ মর্যাদা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।[৪]
৪). কোন ব্যক্তির জন্য বিনাশ্রমে আল্লাহর পক্ষ থেকে মর্যাদার আসন নির্ধারিত হলে আল্লাহ তার দেহ, সম্পদ অথবা সন্তানকে বিপদগ্রস্ত করেন। অতঃপর সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে শেষ পর্যন্ত বরকতময় মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত উক্ত মর্যাদার স্তরে উপনীত হয়।[৫]
৫). যখন কোন মুসলিম বান্দা কষ্টে পতিত হয়ে কষ্ট ব্যক্ত করে, তখন যারা (যে ফেরেশতারা) লেখেন তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, সে বিপদমুক্ত থাকাকালীন যে আমল করত, তোমরা তার জন্য এর চেয়ে উত্তম কিছু লিখ। যাতে আমি তাকে মুক্ত করে দিতে পারি।[৬]
৬). নিশ্চয় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপদ আপতিত হয় নবীদের উপর, অতঃপর তাদের পরবর্তী মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপর, অতঃপর তাদের পরবর্তী মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপর অতঃপর তাদের পরবর্তী মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপর।[৭]
৭). নিশ্চয় বড় পরীক্ষায় বড় পুরস্কার। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদেরকে পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি বিদ্যমান। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি বিদ্যমান।[৮]
৮) . দুনিয়ায় যারা বিপদ-আপদে নিপতিত হয়েছে, তাদেরকে যখন ক্বিয়ামতের দিন বিনিময় প্রদান করা হবে, তখন বিপদ-আপদ মুক্ত ব্যক্তিরা আশা করবে দুনিয়ায় যদি তাদের চামড়া কাঁচি দিয়ে টুকরা টুকরা করে ফেলা হত (কতই না ভাল হত)।[৯]
৯). যখন কোন মুসলিমের গায়ে একটি কাঁটা বিদ্ধ হয় কিংবা তার চেয়ে অধিক ছোট্ট কোন আঘাত লাগে, তখন তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।[১০]

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত এবং কারারুদ্ধ ব্যক্তির দু‘আ

মহান আল্লাহ বলেন,

وَ ذَاالنُّوۡنِ  اِذۡ ذَّہَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنۡ لَّنۡ نَّقۡدِرَ عَلَیۡہِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ  اَنۡ  لَّاۤ  اِلٰہَ   اِلَّاۤ  اَنۡتَ  سُبۡحٰنَکَ ٭ۖ اِنِّیۡ  کُنۡتُ  مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ  -  فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ ۙ وَ نَجَّیۡنٰہُ مِنَ الۡغَمِّ ؕ وَ کَذٰلِکَ  نُــۨۡجِی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

‘আর স্মরণ কর যুন-নূন এর কথা, যখন সে রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিল এবং মনে করেছিল যে, আমরা তার উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না। তারপর সে অন্ধকার থেকে ডেকে বলেছিল, ‘আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই’। আপনি পবিত্র। নিশ্চয় আমি ছিলাম যালিম। ‘অতঃপর আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৮৭- ৮৮)। মহান আল্লাহ বলেন,

وَ اَیُّوۡبَ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ  اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنۡتَ  اَرۡحَمُ  الرّٰحِمِیۡنَ   -  فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَکَشَفۡنَا مَا بِہٖ مِنۡ ضُرٍّ وَّ اٰتَیۡنٰہُ  اَہۡلَہٗ  وَ مِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ  رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَ ذِکۡرٰی  لِلۡعٰبِدِیۡنَ

‘আর স্মরণ কর আইয়ূবের কথা, যখন সে তার রবকে আহ্বান করে বলেছিল, আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। ‘তখন আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম। আর তাঁর যত দুঃখ-কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন তাকে দিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের মত আরো তাকে দিলাম; আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদতকারীদের জন্য  উপদেশস্বরূপ’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩-৮৪)।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَعَوَّذُوْا بِاللهِ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ وشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা বিপদের কষ্ট, দুর্ভাগ্যের আক্রমণ, নিয়তির মন্দতা ও বিপদে শত্রুর উপহাস হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও।[১১]

কঠিন বিপদাপদ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্তের সময় দু‘আ ও যিকর

দু‘আ-১ : ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন। আর মুহাম্মাদ (ﷺ) এ কথাই বলেছিলেন, যখন বিরাট সেনাদল মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর তাহল,    

حَسْبُنَا اللّٰهُ  وَنِعْمَ  الْوَكِيْلُ

উচ্চারণ : হাসবুনাল্ল-হু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল।

অর্থ : ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক’ (সূরা আলে ‘ইমরান : ১৭৩)।[১২]

দু‘আ-২ : যখন আইয়ূব (আলাইহিস সালাম) কঠিন বিপদাপদে (সম্পদ, সন্তান এবং শারীরিক অসুস্থতা) পতিত হয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন,

اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنۡتَ  اَرۡحَمُ  الرّٰحِمِیۡنَ 

অর্থ : ‘আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)।

দু‘আ-৩ : সা‘দ  ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মাছওয়ালা নবী ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর দু‘আ হল এই যে, যখন তিনি মাছের পেট থেকে দু‘আ করেছিলেন,

لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ

অর্থ : ‘আপনি ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই, আপনি পবিত্র আর আমি অত্যাচারী অপরাধী’।

ফযীলত : যখন কোন মুসলিম কোন ব্যাপারে কখনো এই দু‘আ করবে, তখন নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তার দু‘আ কবুল করবেন।[১৩]

দু‘আ-৪ : ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির উপর যখন কোন বিপদাপদ বা দুশ্চিন্তা ভর করে এবং সে বলে,

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِيْ بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَائُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِيْ كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِيْ عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيْعَ قَلْبِيْ وَجِلَاءَ حُزْنِيْ وَذَهَابَ هَمِّيْ وَغَمِّي 

উচ্চারণ : আল্ল-হুম্মা ইন্নী ‘আব্দুকা ওয়াবনু ‘আবদিকা ওয়াবনু আমাতিকা নাছিয়াতী বিয়াদিকা মাযিন ফীয়্যা হুকমুকা ‘আদলুন ফিয়্যা ক্বাযাউকা আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা সাম্মায়তা বিহি নাফসাকা আও আংযালতাহু ফী কিতাবিকা আও ‘আল্লামতাহু আহাদান মিন খলক্বিকা আও ইসতা’ছারতা বিহি ফী ‘ইলমিল গায়বি ‘ইংদাকা আং তাজ‘আল কুরআন রবী‘আ ক্বলবী ওয়া জিলাআ হুযনী ওয়া যাহাবা হাম্মী ওয়া গম্মী।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ আমি তোমার বান্দা। তোমার বান্দা ও বান্দীর ছেলে। আমার ভাগ্য তোমার হাতে। আমি তোমার নির্দেশের উপর অটল। তোমার ফয়সালা গ্রহণে নিরপেক্ষ। তুমি নিজের জন্য যে সকল নাম নির্ধারণ করেছ, অথবা তোমার কিতাবে অবতীর্ণ করেছ, অথবা তোমার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছ, অথবা যার দ্বারা তুমি গায়েবের জ্ঞানকে নিজের করে নিয়েছ, সে সকল নামের ওছীলায় প্রার্থনা করছি। তুমি কুরআনকে কর আমার অন্তরের জন্য বসন্তকালীন বৃষ্টির ন্যায়, দুশ্চিন্তা দুরকারী, বিষণ্নতা দুরকারী’।

ফযীলত : কেউ যদি বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় এ দু‘আ পড়ে, তাহলে মহান আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দুর করে তার অন্তরকে খুশিতে ভরে দিবেন।[১৪]

দু‘আ-৫ : আবূ বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বিপদগ্রস্ত লোকের দু‘আ হল,

اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ فَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ

উচ্চারণ : আল্ল-হুম্মা রহমাতাকা আরজূ ফালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বরফাতা ‘আইনিন ওয়া আছলিছ লী শা’নী কুল্লাহু।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমতের প্রত্যাশী, আপনি আমাকে আমার নাফসের হাতে সমর্পণ করবেন না এক মুহূর্তের জন্য। আর আপনি আমার সব ব্যাপার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দিন। আর আপনি ব্যতীত কোন সত্যিকারের ইলাহ নেই’।[১৫]

দু‘আ-৬ : আসমা বিনতে উমায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিব না, যা তুমি বিপদাপদের সময় পাঠ করতে পার? অতঃপর তিনি বলেন,

اَللّٰهُ اَللّٰهُ رَبِّيْ لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا

উচ্চারণ : আল্ল-হু, আল্ল-হু রব্বী, লা উশরিকু বিহি শায়আন।

অর্থ : ‘আল্লাহ, আল্লাহই আমার রব, আমি তার সাথে কাউকে শরীক করি না’।[১৬]

দু‘আ-৬ : আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দুই কানে আঙ্গুল প্রবেশ করে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট, অসুস্থতা, কিংবা ভোগান্তিতে পতিত হয়, অতঃপর বলে,

اَللّٰهُ  رَبِّيْ  لَا شَرِيْكَ  لَهُ

উচ্চারণ : আল্ল-হু রব্বী, লা শারীকা লাহু।

অর্থ : ‘আল্লাহ আমার প্রতিপালক তার কোন অংশীদার নেই’।

ফযীলত : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তাহলে তার বিপদাপদ দূর হয়ে যাবে।[১৭]

দু‘আ-৭ : ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিপদ ও কষ্টের সময় এই দু‘আ পড়তেন,

لَا إِلٰهَ  إِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيْمُ الْحَلِيْمُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ  رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ  رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ  وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيْمِ

উচ্চারণ : লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়া রব্বুল আরযি ওয়া রব্বুল ‘আরশিল কারীম।

অর্থ : ‘মহা ধৈর্যশীল আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই, যিনি মহান আরশের রব্ব, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই, যিনি আসমান সমূহ ও যমীনের রব্ব এবং মহান আরশের রব্ব’।[১৮]

দু‘আ-৮ :  উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন মুসলিমের প্রতি কোন বিপদ আসে আর তাতে সে বলে,

إِنَّا لِلّٰهِ  وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ  اَللّٰهُمَّ  أَجِرْنِيْ  فِىْ مُصِيْبَتِيْ  وَاخْلُفْ  لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا

উচ্চারণ : ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি র-জি‘উন, আল্ল-হুম্মা আর্জিনী ফী মুছীবাতী ওয়াখ্লুফ্ লী খইরাম মিনহা।

অর্থ : ‘আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার এ বিপদে প্রতিফল দান করুন এবং তা অপেক্ষা উত্তম বিনিময় আমাকে দান করুন’।

ফযীলত : উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন মুসলিমের প্রতি কোন বিপদ আসে আর সে তাই বলে, যা বলতে আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেমন إِنَّا لِلّٰهِ  وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ অর্থ : ‘আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন’। অতঃপর বলে, হে আল্লাহ! আমাকে আমার এ বিপদে প্রতিফল দান করুন এবং তা অপেক্ষা উত্তম বিনিময় আমাকে দান করুন, তাহলে আল্লাহ তাকে তা অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন। অতঃপর যখন আবূ সালমা মারা গেলেন, তখন আমি মনে মনে বললাম, কোন্ মুসলিম আছেন, যিনি আবূ সালামা অপেক্ষা উত্তম হতে পারেন? কেননা আবূ সালামার পরিবারই তো প্রথম পরিবার, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হিজরত করে এসেছিলেন। উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তথাপি আমি তা (উক্ত দু‘আ) বললাম, আর আল্লাহ আমাকে আবূ সালামার পরির্বতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দান করলেন।[১৯]

দু‘আ-৯ : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নের বিষয়গুলো থেকে আশ্রয় চাইতেন। নিম্নের বিষয়গুলো থেকে আশ্রয় চেয়ে বলা,

أَعُوْذُ  بِاللّٰهِ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ وشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ

উচ্চারণ : আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিন জাহদিল বালা-ই ওয়া দারাকিশ শাকা-ই ওয়া সূইল ক্বাযা-ই ওয়া শামা-তাতিল আ‘দা-ই।

অর্থ : ‘আমি বিপদের কষ্ট, দুর্ভাগ্যের আক্রমণ, নিয়তির মন্দতা ও বিপদে শত্রুর উপহাস হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি’।[২০]

দু‘আ-১০ : আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যখন কোন বিষয় চিন্তাগ্রস্ত করত, তখন তিনি বলতেন,

يَا حَيُّ  يَا قَيُّوْمُ   بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ

উচ্চারণ : ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যুম বিরহ্মাতিকা আস্তাগীছ।

অর্থ : ‘হে চিরঞ্জীব হে চিরস্থায়ী! আপনার দয়ার নিকট আমি ফরিয়াদ কামনা করি’।[২১]  

শত্রু ও শক্তিধর দল বা ব্যক্তির সাক্ষাতকালে দু‘আ

দু‘আ : আবূ মূসা আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) যখন কোন দল সম্পর্কে ভয় করতেন, তখন বলতেন,

اَللّٰهُمَّ  إِنَّا  نَجْعَلُكَ فِيْ نُحُوْرِهِمْ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ

উচ্চারণ : আল্লহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া না‘উযুবিকা মিং শুরূরিহিম।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের সম্মুখে করলাম এবং তাদের মন্দ প্রভাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় নিলাম’।[২২]

অসুস্থতার ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেন,

وَ اَیُّوۡبَ اِذۡ نَادٰی رَبَّہٗۤ  اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنۡتَ  اَرۡحَمُ  الرّٰحِمِیۡنَ  .  فَاسۡتَجَبۡنَا لَہٗ فَکَشَفۡنَا مَا بِہٖ مِنۡ ضُرٍّ وَّ اٰتَیۡنٰہُ  اَہۡلَہٗ  وَ مِثۡلَہُمۡ مَّعَہُمۡ  رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا وَ ذِکۡرٰی  لِلۡعٰبِدِیۡنَ

‘আর স্মরণ কর আইয়ূবের কথা, যখন সে তার রবকে আহ্বান করে বলেছিল, আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। তখন আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম। আর তাঁর যত দুঃখ-কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন তাকে দিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের মত আরো তাকে দিলাম; আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদতকারীদের জন্য  উপদেশস্বরূপ’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩-৮৪)।

১. আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন রোগ নাযিল করেননি, যার ঔষধ সৃষ্টি করেননি।[২৩]
২. প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ রয়েছে। সুতরাং রোগের জন্য যখন সঠিক ঔষধ ব্যবহৃত হয়, তখন আল্লাহর হুকুমে রোগী রোগমুক্ত হয়ে যায়।[২৪]
৩. আগুন যেভাবে সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয়, তদ্রƒপ মহান আল্লাহ কোন মুসলিমের রোগের দ্বারা তার গুনাহসমূহ দূর করে দেন।[২৫]
৪. যখন বান্দা রোগাক্রান্ত হয় কিংবা সফর করে, তখন তার জন্য তাই লিখিত হয়, যা সে মুক্বীম ও সুস্থ অবস্থায় আমল করত।[২৬]
৫. মহান আল্লাহ কোন বান্দাকে তার অতি প্রিয় দুটি জিনিসের ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলেন, আর সে যদি তাতে ধৈর্যধারণ করে, তাহলে তিনি তাকে সে দু’টির বিনিময়ে জান্নাত দান করবেন।[২৭]
৬. যে লোককে পেটের পীড়া মৃত্যু দিয়েছে, কবরে সে লোককে কোন রকম শাস্তি দেয়া হবে না।[২৮]

রোগের নিরাময়

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, اَلشِّفَاءُ فِيْ ثَلَاثٍ فِيْ شَرْطَةِ مِحْجَمٍ أَوْ شَرْبَةِ عَسَلٍ أَوْ كَيَّةٍ بِنَارٍ وَأَنَا أَنْهَى أُمَّتِيْ عَنِ الْكَيِّ ‘তিনটি জিনিসের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। শিংগা লাগানো, মধু পান করা এবং উত্তপ্ত লোহা দ্বারা দাগ দেয়া। তবে আমি আমার উম্মতকে দাগ হতে নিষেধ করেছি’।[২৯] অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَ   ‘কালজিরার মধ্যে মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ রয়েছে’।[৩০]

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,إِنَّ أَمْثَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ والقُسْطُ الْبَحْرِيُّ ‘তোমরা যে সব জিনিস দিয়ে চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিংগা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ’।[৩১]

পাঁজরের ব্যথা এবং বাচ্চাদের আলজিহ্বা ফুলার ব্যথার চিকিৎসা

উম্মে ক্বায়স (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের শিশু-সন্তানদেরকে তালুতে দাগ দিয়ে কেন এভাবে কষ্ট দিচ্ছ? অবশ্যই তোমরা এই রোগের জন্য ভারতীয় চন্দন কাঠ ব্যবহার কর। কেননা এটাতে সাত প্রকার রোগের নিরাময় রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হল পাঁজরের ব্যথা এবং বাচ্চাদের আলজিহ্বা ফুলার ব্যথা। তা ঘষে পানির সাথে মিশ্রিত করে ফোঁটা ফোঁটা নাকের ভিতরে দিবে। আর পাঁজরের ব্যথা হলে মুখ দিয়া খাওয়াতে হবে।[৩২]

জ্বরের চিকিৎসা

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, اَلْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوْهَا بِالْمَاءِ ‘জ্বরের উৎপত্তি জাহান্নামের তাপ হতে। সুতরাং তোমরা পানি দ্বারা তা ঠাণ্ডা কর’।[৩৩]

ফযীলত : ওছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, اَلْحُمَّى حَظُّ الْمُؤْمِنِ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘জ্বর হল মুমিনের জন্য ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের বদলা বা অংশ'।[৩৪]

(ইনশাআল্লাহ আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)


* পি-এইচ. ডি গবেষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র :
[১]. আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুমিনের উপমা শস্য জাতীয় গাছের ন্যায়। বাতাস সর্বদা তাকে আন্দোলিত করে। অনুরূপভাবে মুমিনের উপরও সর্বদা বিপদ-আপদ আসতে থাকে। পক্ষান্তরে মুনাফিকের উপমা দেবদারু বৃক্ষের ন্যায়। মূল না কাটা পর্যন্ত তা প্রকম্পিত হয় না। হাদীছে আরো এসেছে, জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুমিনের উদাহরণ শস্যের শিষের ন্যায়, তা একবার সোজা-স্থির হয়ে থাকে আরেকবার তা নুয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে কাফিরের উপমা দেবদারু বৃক্ষের ন্যায়, তা কখনও নুয়ে পড়ে না বরং তা সোজা ও স্থির হয়ে থাকে। দ্র. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩২০; ছহীহ মুসলিম, হা/২৮০৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫১৯৩, সনদ ছহীহ; ছহীহুল জামে‘, হা/৫৮৪৪।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩২১।
[৩]. আবূ ই‘আলা, হা/৬০৯৫; ইবনে হিব্বান, হা/২৮৯৭, সনদ ছহীহ।
[৪]. আবূ ই‘আলা, হা/৬১০০, হুসাইন সালীম আসাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, সনদ ছহীহ; আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, সনদ হাসান ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/৩৪০৮; ছহীহুল জামে‘, হা/১৬২৫; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৫৯৯।
[৫]. আবূ দাঊদ, হা/৩০৯০, সনদ ছহীহ।
[৬]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯১৬; হিলয়াতুল আউলিয়া, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৩০৯; ছহীহুল জামি‘, হা/৩৪৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১২৩২, সনদ ছহীহ।
[৭]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭১২৪, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, হাদীছটি ছহীহ লিগাইরহী এবং হাদীছটির সনদ হাসান, আলবানী  (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, ছহীহ, ছহীহুল জামি‘, হা/৯৯৬।
[৮]. তিরমিযী, হা/২৩৯৬, সনদ হাসান।
[৯]. তিরমিযী, হা/২৪০২, সনদ হাসান।
[১০]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭২।
[১১]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৬১৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০৭; মিশকাত, হা/২৪৫৭।
[১২]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৫৬৩।
[১৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৬২; তিরমিযী, হা/৩৫০৫, সনদ ছহীহ।
[১৪]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৩১৮; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৯৭২; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৯৯।
[১৫]. মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বা, হা/২৯১৫৪; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৯৭০, সনদ হাসান।
[১৬]. আবূ দাঊদ, হা/১৫২৫, সনদ ছহীহ।
[১৭]. ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/৩৯৬; সনদ হাসান; ছহীহুল জামে‘, হা/৬০৪০।
[১৮]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩০; মিশকাত, হা/২৪১৭।
[১৯]. ছহীহ মুসলিম, হা/৯১৮; মিশকাত, হা/১৬১৮।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৬১৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০৭; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৬৯; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০১৬; মিশকাত, হা/২৪৫৭।
[২১]. তিরমিযী, হা/৩৫২৪; মুসতাদরাক হাকিম, হা/১৮৭৫; মিশকাত, হা/২৪৫৪, সনদ হাসান; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩১৮২।
[২২]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৭২০; আবূ দাঊদ, হা/১৫৩৭; মুসতাদরাক হাকিম, হা/২৬২৯; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৭৬৫; মিশকাত, হা/২৪৪১।
[২৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৭৮; মিশকাত, হা/৪৫১৪।
[২৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/২২০৪; মিশকাত, হা/৪৫১৫।
[২৫]. আবূ দাঊদ, হা/৩০৯২, সনদ ছহীহ।
[২৬]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৩৪।
[২৭]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৩২৯।
[২৮]. তিরমিযী, হা/১০৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৩৩৮, সনদ ছহীহ।
[২৯]. ছহীহ বুখারী হা/৫৬৮০; মিশকাত, হা/৪৫১৬।
[৩০]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২২১৫; মিশকাত, হা/৪৫২০।
[৩১]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৭৭; মিশকাত, হা/৪৫২২। 
[৩২]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭১৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২২১৪; মিশকাত, হা/৪৫২৪।  
[৩৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৫৭২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২২১০; মিশকাত, হা/৪৫২৫।  
[৩৪]. আল-মারাযু ওয়াল কাফফারাত লিইবনি আবিদ দুনিয়া, হা/১৫৭; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘, হা/৩১৮৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৮২১।




প্রসঙ্গসমূহ »: আমল চিকিৎসা দু‘আ
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (শেষ কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় (৩য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
তরুণদের বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে সতর্কীকরণ (৭ম কিস্তি) - মাসঊদুর রহমান
বিদ‘আত পরিচিতি (২৬তম কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ঘুম ও রাত্রিকালীন দু‘আ ও যিকর - আবূ মাহী
ছালাতের সঠিক সময় ও বিভ্রান্তি নিরসন (২য় কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
জঙ্গিবাদ বনাম ইসলাম (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা (৫ম কিস্তি) - মুহাম্মাদ আযীযুর রহমান
সুন্নাতের রূপরেখা (৪র্থ কিস্তি) - মাইনুল ইসলাম মঈন
নববী গৃহ : প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য এক উত্তম আদর্শ - অনুবাদ : মুহা. মাহফুজুর রহমান বিন আব্দুস সাত্তার
ঈদুল ফিতরে করণীয় ও বর্জনীয় - আব্দুল্লাহ বিন খোরশেদ
ইসলামী পুনর্জাগরণের মূলনীতি (২য় কিস্তি) - ড. মুযাফফর বিন মুহসিন

ফেসবুক পেজ