রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
 অমিয় বাণী
-হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান


١ -عَنْ جَابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ اتَّقُوا اللهَ وَاسْتَحْيُوْا وَتَوَارَوْا وَلَا يَغْتَسِلْ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَّا وَعَلَيْهِ سُتْرَةٌ.

১. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, লজ্জা কর এবং পর্দা কর, তোমাদের কেউ যেন আবরণ ছাড়া গোসল না করে।[১]

٢ -عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ أَبَا مُوْسَى الْأَشْعَرِيَّ كَانَ يَلْبَسُ تَبَّانًا يَنَامُ فِيْهِ مَخَافَةَ أَنْ تَنْكَشِفَ عَوْرَتُهُ.

২. আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঘুমানোর সময় ছোট পায়জামা পরিধান করতেন এই ভয়ে যে, যেন তাঁর সতর (লজ্জাস্থান) উন্মুক্ত হয়ে না যায়।[২]

٣ -عَنْ عَبْدِ اللهِ الرُّوْمِيِّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ كَانَ عُثْمَانُ يَلِيْ وُضُوْءَ اللَّيْلِ بِنَفْسِهِ فَقِيْلَ لَهُ لَوْ أَمَرْتَ بَعْضَ الْخَدَمِ فَكَفَوْكَ، فَقَالَ لَا إِنَّ اللَّيْلَ لَهُمْ يَسْتَرِيحُوْنَ فِيْهِ.

৩. আব্দুল্লাহ আর-রূমী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাতের ওযূর কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি যদি কোন খাদেমকে নির্দেশ দিতেন, তাহলে তো সে আপনার এই কাজগুলো করে দিত। তিনি বললেন, না, রাত তো তাদের বিশ্রামের জন্য, তারা এ সময় বিশ্রাম করবে।[৩]

٤ -عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ لَيْسَ مِنَ الْمُرُوْءَةِ كَثْرَةُ الْالْتِفَاتِ فِي الطَّرِيْقِ.

৪. ইবরাহীম ইবনু আদহাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বারবার এদিক-ওদিক তাকানো সচ্চরিত্র বা ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়।[৪]

٥ -عَنْ لَيْثٍ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ كُنْتُ أَمْشِيْ مَعَ طَلْحَةَ فَقَالَ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ أَسَنُّ مِنِّيْ بِلَيْلَةٍ مَا تَقَدَّمْتُكَ.

৫. লাইছ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি তালহা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তিনি বললেন, যদি আমি জানতাম যে, আপনি আমার চেয়ে এক রাতের‌ও বয়সে বড়, তাহলে আমি কখনো আপনার আগে হাঁটতাম না।[৫]

٦ -قَالَ الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ رَحِمَهُ اللهُ لَا تَكْمُلُ مُرُوءَةُ الرَّجُلِ حَتَّى يَسْلَمَ مِنْهُ عَدُوُّهُ، كَيْفَ وَالْآنَ لَا يَسْلَمُ مِنْهُ صَدِيقُهُ.

৬. ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক ব্যক্তির সচ্চরিত্রতা বা ব্যক্তিত্ব ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তার শত্রু তার হতে নিরাপদ থাকে, অথচ এখন অবস্থা এমন যে, তার বন্ধুও তার থেকে নিরাপদ নয়।[৬]

٧ -قَالَ بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ رَحِمَهُ اللهُ جَلَسْتُ إِلَى مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَقُوْمَ قَالَ أَتَأْذَنُ؟

৭. বিশর ইবনুল মুফাযযাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে বসেছিলাম। তিনি যখন উঠে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন, আপনি কি আমাকে অনুমতি দিবেন?[৭]

٨ -عَنِ ابْنِ حُمَيْدٍ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ ابْنِ الْمُبَارَكِ فَقَالَ لَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَيْشَ يَقُوْلُ الرَّجُلُ إِذَا عَطَسَ؟ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَقَالَ لَهُ يَرْحَمُكَ اللهُ.

৮. ইবনু হুমাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক ব্যক্তি ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকটে হাঁচি দিল। তখন ইবনুল মুবারক তাকে বললেন, মানুষ হাঁচি দিলে কী বলে? সে বলল, ‘আল-হামদুলিল্লাহ’, তখন তিনি তাকে বললেন, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)।[৮]

٩ -عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ أَنَّهُ قَالَ مَا مَاتَ ذُوْ قَرَابَةٍ لِيْ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ إِلَّا وَقَضَيْتُ عَنْهُ وَلَا ضَرَبْتُ مَمْلُوكًا لِيْ قَطُّ.

৯. ইসমাঈল ইবনু সালিম (রাহিমাহুল্লাহ) শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, শা‘বী বলেন, আমার কোন নিকটাত্মীয় ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায়নি যার ঋণ আমি পরিশোধ করে দিইনি এবং আমি কোনদিন আমার কোন গোলামকে প্রহার করিনি।[৯]

١٠ -عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ قَالَ لِيْ مَخْلَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ نَحْنُ إِلَى كَثِيْرٍ مِنَ الْأَدَبِ أَحْوَجُ مِنَّا إِلَى كَثِيْرٍ مِنَ الْحَدِيْثِ.

১০. ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মাখলাদ ইবনু হুসাইন আমাকে বলেছেন, আমরা অধিক হাদীছের চেয়ে অধিক বেশি শিষ্টাচারের মুখাপেক্ষী।[১০]

١١ -عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِلَى أَدَبٍ حَسَنٍ أَحْوَجُ مِنْهُ إِلَى خَمْسِيْنَ حَدِيثًا.

১১. হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাত (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, তোমাদের পঞ্চাশটি হাদীছ শেখার চেয়েও  উত্তম আদব-আখলাক্ব শেখা বেশি প্রয়োজন।[১১]

١٢ -عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ رَحِمَهُ اللهُ قَالَ إِنْ كُنَّا لَنَأْتِي الرَّجُلَ مَا نُرِيْدُ عِلْمَهُ وَحَدِيْثَهُ إِنَّمَا نَأْتِيْ نَتَعَلَّمُ مِنْ هَدْيِهِ وَسَمْتِهِ.

১২. আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমরা কোন ব্যক্তির কাছে কেবল তার ইলম বা কথা শোনার জন্য যাইতাম না, বরং আমরা তার আদর্শ ও চরিত্র শিখতে যাইতাম।[১২]

 


[১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৬।

[২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৬।

[৩]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৬।

[৪]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৭।

[৫]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৭।

[৬]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৭।

[৭]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৭।

[৮]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৭।

[৯]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৮।

[১০]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৯।

[১১]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪১৯।

[১২]. কিতাবু মিন আখবারিস সালাফিছ ছালিহ, পৃ. ৪২১।

 





প্রসঙ্গসমূহ »: অমিয় বাণী
অমিয় বাণী : ইখলাছ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৫ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৯ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৪র্থ বর্ষ) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : অষ্টম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১০ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৭ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ৮ম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৬ষ্ঠ বর্ষ : ১১তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : প্রথম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী (৭ম বর্ষ : ১২তম সংখ্যা) - হাফেয আবূ তাহের বিন মজিবুর রহমান
অমিয় বাণী - আল-ইখলাছ ডেস্ক

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ