শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
উত্তর : ধীরস্থিরতার সাথে শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তা করে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতম তারাবীহ পড়া ভালো। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) পসন্দ করতেন যে,  রামাযান মাসে ইমাম ছাহেব মুক্তাদিদেরকে পুরো কুরআন শুনাবে। এ আমল সালাফে ছালিহীনের যুগ থেকে চলে আসছে। কিন্তু একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা ও ধীরস্থিরতাকে ত্যাগ করে, দ্রুতগতিতে তুফানের বেগে তিলাওয়াত করে খতম না করাই উত্তম (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/৩৩১-৩৩৩ পৃ.)। তিনি আরো বলেন,

والسنة للإمام أن يسمع المأمومين في قيام رمضان القرآن كله، إذا تيسر له ذلك من غير مشقة عليهم، فإن لم يتيسر ذلك فلا حرج وإن لم يختمه

‘রামাযান মাসের তারাবীহতে মুক্তাদিদেরকে সম্পূর্ণ কুরআন শুনানো ইমামের জন্য সুন্নাত, যদি ইমামের জন্য সম্ভব হয় এবং মুক্তাদীদের উপর অস্বস্তিকর না হয়। আর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে খতম না করলেও কোন অসুবিধা নেয় (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৩০/৩৩ পৃ.)। অন্যত্র  তিনি বলেন,

هذا عمل حسن فيقرأ الإمام كل ليلة جزءا أو أقل لكن في العشر الأخيرة يزيد حتى يختم القرآن ويكمله هذا إذا تيسر بدون مشقة 

‘এটা উত্তম আমল। সুতরাং ইমাম প্রত্যেক রাত্রিতে কমবেশি এক পারা করে পড়বেন এবং শেষ দশকে একটু বেশি করে পড়বেন, যাতে পুরো কুরআন খতম হয়। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পরিবার নিয়ে খতম করতেন। তবে এটা যদি অসুবিধাজনক না হয় তবেই...’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনি বায, ১১/৩৩৩-৩৩৪ পৃ.; ইসলাম ওয়েব, ফাতাওয়া নং-২২৮৮; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম ইবনে উছাইমীন, পৃ. ৩৫৩, ‘ছালাত’ অধ্যায় প্রশ্ন নং-২৮০)। ইবনু ‘আববাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِيْ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُوْلُ اللهِ ম أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيْحِ الْمُرْسَلَةِ

‘আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল রামাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রামাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৩২০৮)

তারাবীহর ছালাত জামা‘আত সহকারে আদায় করা উত্তম। একাকী আদায় করলে ক্বিয়ামুল লাইল এর ছাওয়াব পাওয়া যাবে না।

فَقَالَ الشَّافِعِيّ وَجُمْهُوْر أَصْحَابه وَأَبُوْ حَنِيْفَة وَأَحْمَد وَبَعْض الْمَالِكِيَّة وَغَيْرهمْ: الأَفْضَل صَلَاتهَا جَمَاعَة كَمَا فَعَلَهُ عُمَر بْن الْخَطَّاب وَالصَّحَابَة رَضِىَ اللهُ عَنْهُ، وَاسْتَمَرَّ عَمَل الْمُسْلِمِيْنَ عَلَيْهِ

‘ইমাম শাফিঈ, ইমাম আবূ হানিফা, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, মালিকী মাযহাবের কিছু অংশ এছাড়াও অন্যান্য আলেম বলেন, তারাবীহর ছালাত জামা‘আত সহকারে আদায় করা উত্তম। যেমনটি উমার বিন খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) করতেন এবং পরর্বতী মুসলিম সম্প্রদায়ের আমালও অনুরূপই আছে’ (ইসলাম সাওয়াল ও জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৮৯৫৭)। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ছালাতে শামিল হয় এবং ইমামের সাথেই ছালাত শেষ করে, তার জন্য সারা রাত্রী ক্বিয়াম করার ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়’ (তিরমিযী, হা/৮০৬; আবূ দাঊদ,  হা/১৩৭৫)। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয়ে কুরআনের হাফিয ও আলেমদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে, যেন খতমের নামে কুরআনের মানহানী না হয়। খতম তারাবীহতে এমন তীব্র ঝড়ের বেগে কুরআন তেলাওয়াত করা হয় যে, ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে কিছুই বুঝতে পারে না।

অথচ এটা তেলাওয়াতের আদর্শ ও নীতি বিরোধী কারজ। আল্লাহ তা‘আলা তেলাওয়াতের উত্তম আদর্শ সম্পর্কে বলেন, وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ  تَرۡتِیۡلًا ‘আর স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন তেলাওয়াত কর’ (সূরা আল-মুযযাম্মিল : ৪)। এখানে বলা হয়েছে যে, তারতীল সহকারে পড়তে হবে। ترتيل বলতে বোঝায় ধীরে ধীরে সঠিকভাবে বাক্য উচ্চারণ করা। অর্থাৎ কুরআনের শব্দগুলো ধীরে ধীরে মুখে উচ্চারণ করার সাথে সাথে তা উপলব্ধি করার জন্য গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনাও করতে হবে (ইবনু কাছীর)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে রাসূল (ﷺ)-এর কুরআন পাঠের নিয়ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, ‘নবী (ﷺ) শব্দগুলোকে টেনে টেনে পড়তেন। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ‘বিসমিল্লা-হির রাহমানির রহীম’ পড়ে বললেন যে, তিনি আল্লাহ, রাহমান এবং রহীম শব্দকে মাদ্দ করে বা দীর্ঘায়িত করে পড়তেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৪৬)। ছাহাবী ও তাবেয়ীগণেরও এই অভ্যাস ছিল।

তাছাড়া যথাসম্ভব সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করাও তারতীলের অন্তর্ভুক্ত (ছহীহ বুখারী, হা/৫০২৩, ৫০২৪)। অতএব  পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ উচ্চারণসহ শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তা করে তাদ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়াই আসল তারতীল।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রাকিব, সুনামগঞ্জ।





প্রশ্ন (৬) : হজ্জের সামর্থ্য বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত সংক্রান্ত কথা বলা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনার সুযোগ দেয়া হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়ম কী এবং এ জন্য কোন নির্দিষ্ট কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): হায়েযের সময়সীমা ব্যাপারে একেক হাদীছে একেক রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হল- ঠিক কতদিন পর্যন্ত ছালাত আদায় করা যাবে না? যদিও একেক মাসে একেক সময়সীমা থাকে। কখনো ৪ দিন আবার কখনো ৭ দিন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০): রামাযানের দিনের বেলায় কোন্ আমলটি উত্তম- কুরআন তেলাওয়াত, না-কি নফল ছালাত আদায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : সাতদিনের মধ্যে বাচ্চা মারা গেলে ‘আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : কোন পণ্যের দাম ৩৯ টাকা কিন্তু ক্রেতা আমাকে ৪০ টাকা দিলে আমি আর ফেরত দেইনি বা তিনিও ফেরত চাননি। পরবর্তীতে মনে খটকা লাগল যে, তাকে ১ টাকা ফেরত দেয়া উচিত কিন্তু ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন। প্রশ্ন হল, এই ১ টাকা কি উনাকে যেভাবেই হোক ফেরত দিতে হবে, না দিতে পারলে কি আমি ক্বিয়ামতের মাঠে জিজ্ঞাসিত হব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ‘চিরস্থায়ী জাহান্নামী’-এর অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ফের্কাবন্দীর পরিণতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আমার মেয়ের জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীক্বা করেছি। কিন্তু নামটা ইসলামী বা সুন্দর অর্থবোধক নয়। এমতাবস্থায় আবার আক্বীক্বা করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক বক্তা বলেন, বায়‘আত না করলে জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে। তাই ইসলামী দলের নেতা বা আমীরের হাতে বায়‘আত না করলে জান্নাত পাওয়া যাবে না। আরে হাদীছে এসেছে, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমন অবস্থায় যে, তার গর্দানে বায়‘আত নেই, সে জাহেলী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল (মুসলিম হা/১৮৫১)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : রাসূল (ﷺ) মক্কা বিজয়ের আগে মূর্তি থাকা অবস্থায় কা‘বার পাশে ছালাত আদায় করেছেন মর্মে বক্তব্য কি সঠিক? উল্লেখ্য যে, জানা যায় যে, মক্কা বিজয়ের আগে কা‘বা ঘরের ভিতরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ