উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের পর ফাদাক নামক বাগানের মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং প্রথম খলীফা আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যে একটি আলোচনার বিষয়টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। তবে বর্তমানে ‘খুতবায়ে ফাদাক’ নামে যে দীর্ঘ ও আলঙ্কারিক ভাষণটি বিভিন্ন বইয়ে বা অনলাইনে পাওয়া যায়, তা সঠিক নয়। এটা রাফেযী শী‘আদের বানানো খুত্ববা। এটি কোন হাদীছের কিতাবে বর্ণিত হয়নি। হাদীছ গ্রন্থসমূহে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ফাদাক দাবি করার বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে এই দীর্ঘ ভাষণের কোন অস্তিত্ব নেই। বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর উত্তরাধিকার দাবি করেছিলেন এবং আবূবকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল (ﷺ)-এর একটি বাণীর (আমরা নবীরা কোন উত্তরাধিকার রেখে যাই না) প্রেক্ষিতে তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মনঃক্ষুণ্ন হয়েছিলেন-এতটুকুই প্রমাণিত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ’-তে এই ভাষণটির ঐতিহাসিক ও সনদগত অসারতা তুলে ধরেছেন। ‘অতঃপর ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর পক্ষ থেকে এই যে ভাষণ বা কথাগুলো বর্ণনা করা হয়, তা এমন সব কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যার ওপর নির্ভর করা যায় না...। এই কথাগুলোর এমন কোন পরিচিত সনদ নেই যা দলীল হিসাবে পেশ করা যায়...। ছাহাবায়ে কেরামের অবস্থা সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক বিবেকবান ও আলেম ব্যক্তি মাত্রই বুঝতে পারেন যে, এটি একটি মিথ্যা ও বানোয়াট বিষয় (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, ৪/২২৬-২২৭ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আবু হুরাইরা সিফাত, মান্দা, নওগাঁ।