উত্তর : পালক পুত্র শরী‘আত নির্ধারিত কোন ‘উত্তরাধিকারী’ নয়। ফলে পালক বাবার মৃত্যুর পর সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন সম্পত্তি পাবে না। তবে পালক বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সুস্থ মস্তিষ্কে চাইলে তাদের পালক সন্তানকে সম্পত্তির কোন অংশ ‘হেবা’ বা দান করে দিতে পারেন। এটি গুনাহের কাজ নয়, বরং একটি নেক কাজ হতে পারে যদি সন্তানটি অভাবী হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এই দান যেন অন্য কোন বৈধ উত্তরাধিকারীকে (যেমন: নিজের ভাই-বোন বা নিকটাত্মীয়) বঞ্চিত করার অশুভ উদ্দেশ্যে না হয়। অথবা পালক বাবা-মা চাইলে তাদের মৃত্যুর পর কার্যকর হবে এমন ‘অছিয়ত’ করে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো- মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) বেশি অছিয়ত করা যাবে না। শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে বলেন, ‘পালক পুত্রের উত্তরাধিকারের কোন অধিকার নেই। তবে লালন-পালনকারী ব্যক্তি চাইলে তার জন্য তার মালের অনধিক এক-তৃতীয়াংশ অছিয়ত করতে পারেন, অথবা তার জীবদ্দশায় তাকে মাল থেকে দান করতে পারেন’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২০/৩৫১ পৃ.)। পালক বাবা-মা সম্পত্তি দিলে গুনাহগার হবেন না, বরং তারা ছাওয়াব পাবেন যদি নিয়ত সঠিক থাকে। তবে দু’টি ক্ষেত্রে গুনাহগার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে: যদি পালক সন্তানকে নিজের ‘আসল সন্তান’ হিসাবে পরিচয় দিয়ে কাগজপত্রে বংশ পরিচয় পরিবর্তন করা হয় (এটি কবীরা গুনাহ)। যদি বৈধ উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে সম্পত্তি লিখে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন (ইবনু মাজাহ, হা/২৭০৩)।
প্রশ্নকারী : আসাদুযযামান, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।