মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতে এই বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। যে কথাটি লোকমুখে প্রচলিত আছে তা কুরআন, ছহীহ হাদীছ বা নির্ভরযোগ্য আছার দ্বারা প্রমাণিত নয়। জান্নাত হলো আল্লাহ তা‘আলার তৈরি এমন এক স্থান, যা সৃষ্টির কোন উপাদান বা পশুর দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি হওয়ার ধারণা সঠিক নয়। পশু-পাখির বিচার ও তাদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ছহীহ হাদীছ দ্বারা যা প্রমাণিত, সেটাই আমাদের আক্বীদা। এই বিষয়ে দু’টি মূলনীতি রয়েছে। যথা :
(১) পারস্পরিক প্রতিশোধ (ক্বিছাছ) : ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত পশু-পাখিকে একত্রিত করবেন এবং তাদের মধ্যে সংঘটিত পারস্পরিক যুল্মের প্রতিশোধ (ক্বিছাছ) গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ

‘ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারকে তার হক বুঝিয়ে দেয়া হবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলকে শিংওয়ালা ছাগলের কাছ থেকে (তার আঘাতের) প্রতিশোধ নেয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হ/২৫৮২)।

(২) চূড়ান্ত পরিণতি : মাটি হয়ে যাওয়া। পারস্পরিক প্রতিশোধ গ্রহণের পরই আল্লাহ তা‘আলা পশু-পাখিকে মাটি হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। তাদের জন্য মানুষ ও জ্বিনের মত চিরস্থায়ী কোন জীবন বা পরকালের পুরস্কার নেই। তারা ক্বিছাছের পর তাদের অস্তিত্ব হারাবে। পশু-পাখিদের এই পরিণতি দেখে দুনিয়াতে যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে, সেই কাফিররা চরম আক্ষেপ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یَّوۡمَ یَنۡظُرُ  الۡمَرۡءُ مَا قَدَّمَتۡ یَدٰہُ  وَ یَقُوۡلُ الۡکٰفِرُ یٰلَیۡتَنِیۡ  کُنۡتُ تُرٰبًا ‘যেদিন মানুষ দেখবে তার দু’হাত কী আগে পাঠিয়েছে এবং কাফির বলবে, হায়! আমিও যদি মাটি হয়ে যেতাম! (সূরা আন-নাবা : ৪০)।

কাফিররা যখন দেখবে যে, ক্বিছাছ শেষে পশু-পাখি মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে এবং তারা চিরস্থায়ী আযাব থেকে মুক্তি পাচ্ছে, তখন তারা কামনা করবে- যদি তারা মানুষ না হয়ে পশু হত এবং মাটি হয়ে যেতে পারত। সুতরাং, পশু-পাখির প্রতিশোধের পর মাটি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। কিন্তু তাদের সেই মাটি দিয়ে জান্নাত তৈরি হওয়ার কথাটির কোন ভিত্তি ইসলামী শরী‘আতে নেই। এটি ভিত্তিহীন জনশ্রুতি মাত্র।


প্রশ্নকারী : ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বেলাল হোসেন, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (২০) : মানব সৃষ্টির ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই বলে থাকেন, আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করার পূর্বে জিন জাতিকে সমূলে ধ্বংস করেছেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : দাইয়ূছের পরিণতি কেমন হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমাদের মসজিদে লক্ষ্য করা যায় যে, প্রতিদিনই অনেক লোক ফজরের ছালাত চলাকালীন সুন্নাত ছালাত আদায় করতে থাকে। তাদের ধারণা হল- ফরজের আগেই সুন্নাত ছালাত পড়তে হবে। পরে পড়া যাবে না। উক্ত ধারণা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে কাকে দাওয়াত দেয়া বেশি উত্তম? আলেমগণকে, না গরীব-মিসকীনদেরকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কুরআনের আয়াত বাংলা ভাষায় উচ্চারণ করে পড়া বা লিখা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন্ কোন্ রক্ত বের হলে ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জানাযার ছালাতে দাঁড়ানোর সময় পায়ে পায়ে মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ পোশাকের বৈশিষ্ট্য কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম কত দিন পর কাটতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী কোন কাজ করতে পারে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কিছু মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত। যেমন- দাড়ি মুণ্ডন করা, ধূমপান করা, হারামের সাথে জড়িত থাকা ইত্যাদি। যদি এগুলো বর্জন করতে বলা হয় তখন সে বলে, ঈমান ঠিক আছে। দাড়ি লম্বা করা, ধুমপান বর্জন করাই শুধু ঈমান নয়। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ