রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতে এই বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। যে কথাটি লোকমুখে প্রচলিত আছে তা কুরআন, ছহীহ হাদীছ বা নির্ভরযোগ্য আছার দ্বারা প্রমাণিত নয়। জান্নাত হলো আল্লাহ তা‘আলার তৈরি এমন এক স্থান, যা সৃষ্টির কোন উপাদান বা পশুর দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি হওয়ার ধারণা সঠিক নয়। পশু-পাখির বিচার ও তাদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ছহীহ হাদীছ দ্বারা যা প্রমাণিত, সেটাই আমাদের আক্বীদা। এই বিষয়ে দু’টি মূলনীতি রয়েছে। যথা :
(১) পারস্পরিক প্রতিশোধ (ক্বিছাছ) : ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত পশু-পাখিকে একত্রিত করবেন এবং তাদের মধ্যে সংঘটিত পারস্পরিক যুল্মের প্রতিশোধ (ক্বিছাছ) গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ

‘ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই হকদারকে তার হক বুঝিয়ে দেয়া হবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলকে শিংওয়ালা ছাগলের কাছ থেকে (তার আঘাতের) প্রতিশোধ নেয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হ/২৫৮২)।

(২) চূড়ান্ত পরিণতি : মাটি হয়ে যাওয়া। পারস্পরিক প্রতিশোধ গ্রহণের পরই আল্লাহ তা‘আলা পশু-পাখিকে মাটি হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। তাদের জন্য মানুষ ও জ্বিনের মত চিরস্থায়ী কোন জীবন বা পরকালের পুরস্কার নেই। তারা ক্বিছাছের পর তাদের অস্তিত্ব হারাবে। পশু-পাখিদের এই পরিণতি দেখে দুনিয়াতে যারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে, সেই কাফিররা চরম আক্ষেপ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, یَّوۡمَ یَنۡظُرُ  الۡمَرۡءُ مَا قَدَّمَتۡ یَدٰہُ  وَ یَقُوۡلُ الۡکٰفِرُ یٰلَیۡتَنِیۡ  کُنۡتُ تُرٰبًا ‘যেদিন মানুষ দেখবে তার দু’হাত কী আগে পাঠিয়েছে এবং কাফির বলবে, হায়! আমিও যদি মাটি হয়ে যেতাম! (সূরা আন-নাবা : ৪০)।

কাফিররা যখন দেখবে যে, ক্বিছাছ শেষে পশু-পাখি মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে এবং তারা চিরস্থায়ী আযাব থেকে মুক্তি পাচ্ছে, তখন তারা কামনা করবে- যদি তারা মানুষ না হয়ে পশু হত এবং মাটি হয়ে যেতে পারত। সুতরাং, পশু-পাখির প্রতিশোধের পর মাটি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। কিন্তু তাদের সেই মাটি দিয়ে জান্নাত তৈরি হওয়ার কথাটির কোন ভিত্তি ইসলামী শরী‘আতে নেই। এটি ভিত্তিহীন জনশ্রুতি মাত্র।


প্রশ্নকারী : ইঞ্জিনিয়ার মোঃ বেলাল হোসেন, গুলশান, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : বিদেশে কাজের কারণে আমরা কয়েকজন জুমু‘আর ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারি না। এখন আমরা কি যোহরের ছালাত আদায় পারব, না-কি জুমু‘আর ছালাত আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): আমি একটি কোম্পানিতে চাকুরি করি যারা বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। সেলস ম্যানেজার আমাকে বলেছেন: এই পণ্যটি আমি এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারি। কিন্তু আমার কিছু ক্রেতা আছে যারা ১৫০০ টাকা দিয়ে এই পণ্য কিনবে। আমি কি এটি বিক্রি করে কোম্পানিকে ১০০০ টাকা দিয়ে বাকিটুকু নিজে রেখে দিতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমরা প্রায়শই দেখতে পাই, ঘরে কিংবা দরজায় বিভিন্ন সূরা, আয়াতুল কুরসি লিখে টাঙিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও হাতে বিভিন্ন ধরনের তাবীয পড়া হয়। বিভিন্ন হুজুরদের কাছে গিয়ে পানি পড়া এনে সেটা খাওয়া হয়। এই বিষয়টা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমার একটি পাঠা ছাগল আছে, যেটি আমি প্রজননের জন্য রেখেছি। আশেপাশের লোকজন তাদের ছাগলকে প্রজনন করানোর জন্য নিয়ে আসে এবং এজন্য তারা আমাকে কিছু টাকা দেয়। এটা গ্রহণ করা জায়েয হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫): দরিদ্র ও অস্বচ্ছল নিকটাত্মীয় যেমন ভাই, বোন, চাচা অথবা ফুফুকে যাকাতের অর্থ দেয়া জায়েয হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শরী‘আতে হালাল-হারাম ঘোষণা করার অধিকার কার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : বর্তমানে শিশুদেরকে তাহনীক্ব করানো যাবে কি? কেউ কেউ বলেন, এটি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খাছ ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছোট বাচ্চাদের চোখে কাজল (কালো কালি) দেয়া, কোমরে ডোরা (কালো সুতা) বাঁধা অথবা কপালে কালো ফোঁটা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : সকাল সন্ধ্যার দু‘আ ও যিকিরের মধ্যে যদি ইস্তেগফারের দু‘আও করি, তাহলে কি বিদ‘আত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে ‘সূরা হা-মীম দুখান’ পড়ে সকালে উঠে, তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রর্থনা করতে থাকেন (তিরমিযী, হা/২৮৮৮; মিশকাত, হা/২১৪৯)। এ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জনৈক বক্তা বলেন, আশূরার দিনেই ক্বিয়ামত হবে। উক্ত দাবী কি  শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তির জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। কাজেই আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬৪)। প্রশ্ন হল- যেখানে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিলেন, সেখানে বলা হয়, ‘সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়’। উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ