রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতের পরিভাষায় হিজড়া বলা হয়, যার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টি রয়েছে অথবা কোনটিই নেই, শুধু পেশাবের জন্য একটিমাত্র ছিদ্রপথ রয়েছে। সংক্ষেপে একই দেহে স্ত্রী এবং পুংচিহ্ন যুক্ত অথবা উভয় চিহ্নবিযুক্ত মানুষই হল লিঙ্গ প্রতিবন্ধী বা হিজড়া (কামূসুল ফিক্বহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৭)। তবে যে সকল হিজড়ার মাঝে দাড়ি গোঁফ গজানো, স্বপ্নদোষ জাতীয় নরচিহ্ন প্রকাশিত হয় তারা পুরুষ শ্রেণীভুক্ত হিজড়া। আর যে সকল হিজড়ার মাঝে স্তন, ঋতুস্রাব এবং নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তারা নারী শ্রেণীভুক্ত হিজড়া। এদের খুনসা গায়ির মুশকিলা অর্থাৎ যাদের সহজে চিনতে পারা যায় বলা হয়। অন্যদিকে যে সকল হিজড়ার মাঝে নারী-পুরুষের কোন নিদর্শনই পরিলক্ষিত হয় না অথবা উভয় ধরনের নিদর্শনই সমানভাবে পরিলক্ষিত হয়, শরী‘আতের পরিভাষায় তাদেরকে খুনসায়ে মুশকিলা তথা জটিল হিজড়া বলা হয় এবং এরাই প্রকৃত হিজড়া’ (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২০তম খণ্ড, পৃ. ২১-২৩)।

ভালো মন্দের মানদণ্ডে হিজড়া দুই প্রকার। যথা : (ক) যারা সৃষ্টিগতভাবে হিজড়া, যারা অসহায়। (খ) যারা সৃষ্টিগতভাবে হিজড়া নয়, বরং কৃত্রিম উপায়ে বা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গে পরিণত হয়েছে, কথা-বার্তায় এবং আচরণে নারীদের বৈশিষ্টের সঙ্গে সাদৃশ্য স্থাপন করে। এরা মহাপাপী এবং অভিশপ্ত। কেননা লিঙ্গ পরিবর্তন করা হারাম এবং সে ছালাত আদায়কারী হলে তাকে নির্বাসন দিতে হবে, অন্যথা হত্যা করতে হবে (আবূ দাঊদ, হা/৪৯২৮; মিশকাত, হা/৪৪৮১, সনদ ছহীহ)। যুদ্ধে থাকাকালীন ছাহাবীগণের সঙ্গে তাদের বিবিগণ না থাকায় তারা খাসি হতে চাইলে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিষেধ করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০৪)। এমনকি পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা‘নত করেছেন এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৬; আবূ দাঊদ, হা/৪৯৩০; মিশকাত, হা/৪৪২৮; বিস্তারিত দ্র. : সুবুলুস সালাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯; ইসলাম সাওয়াল জাওয়াব, প্রশ্ন নং-১১৪৬৭০)।

ইসলামী শরী‘আতে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী বা হিজড়ারা অন্যদের ন্যায় সমান মর্যাদার অধিকারী। কেননা মর্যাদা-অমর্যাদার মাপকাঠি পরিপূর্ণ মানুষের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং তাক্বওয়াই হল সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি (সূরা আল-হুজুরাত :১৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪)। তাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে আখ্যায়িত করা যাবে না। ভিন্ন সম্প্রদায় হিসাবে আখ্যায়িত করে বঞ্চিত করা যাবে না। তাদের যে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অধিকার রয়েছে, সেগুলো থেকেও তাদেরকে মাহরূম করা যাবে না। তাদেরকে অবজ্ঞা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, ঘৃণা, তিরস্কার, ভৎর্সনা করার কারণে সবকিছু থেকে তারা বিচ্ছন্ন। ফলে অধিকাংশই অন্যের কাছে হাত পেতে কিংবা চাঁদাবাজি করে জীবনযাপন করে থাকে। অথচ ইসলাম তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। কোনভাবেই ইসলামে তাদের অবহেলা করা হয়নি (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৩২০০৮৯)।


প্রশ্নকারী : মাহফুযুর রহমান, নাটোর।




প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি জুম‘আর দিন আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হজ্জের সময় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে হয় কী কারণে? সেখানে কি শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ যদি নিজের চাকরি বা অন্য কোন ব্যস্ততার কারণে রামাযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ না করতে পারে, তাহলে একদিন বা দুই অর্থাৎ কম সময় ই‘তিকাফ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারণে সাহারী খাওয়া সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ছিয়াম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ কখন যরূরী আর কখন যরূরী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : নূহ (আলাইহিস সালাম) ও হূদ (আলাইহিস সালাম) উভয়ের স্ত্রী কাফের, না-কি শুধু কাবীরা গুনাহের জন্য উভয়ে জাহান্নামে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মুহাম্মাদ (ﷺ) দিনের কোন্ কোন্ সময় ঘুমাতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রবীঊল আউয়াল মাসে কি নির্দিষ্ট কোন ইবাদত আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ইসলামে চুরি করার বিধান এবং শাস্তি কি? কি পরিমাণ সম্পদ চুরির জন্য কেমন শাস্তি হবে? শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব কার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ