শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : শরী‘আতের পরিভাষায় হিজড়া বলা হয়, যার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টি রয়েছে অথবা কোনটিই নেই, শুধু পেশাবের জন্য একটিমাত্র ছিদ্রপথ রয়েছে। সংক্ষেপে একই দেহে স্ত্রী এবং পুংচিহ্ন যুক্ত অথবা উভয় চিহ্নবিযুক্ত মানুষই হল লিঙ্গ প্রতিবন্ধী বা হিজড়া (কামূসুল ফিক্বহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৭)। তবে যে সকল হিজড়ার মাঝে দাড়ি গোঁফ গজানো, স্বপ্নদোষ জাতীয় নরচিহ্ন প্রকাশিত হয় তারা পুরুষ শ্রেণীভুক্ত হিজড়া। আর যে সকল হিজড়ার মাঝে স্তন, ঋতুস্রাব এবং নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তারা নারী শ্রেণীভুক্ত হিজড়া। এদের খুনসা গায়ির মুশকিলা অর্থাৎ যাদের সহজে চিনতে পারা যায় বলা হয়। অন্যদিকে যে সকল হিজড়ার মাঝে নারী-পুরুষের কোন নিদর্শনই পরিলক্ষিত হয় না অথবা উভয় ধরনের নিদর্শনই সমানভাবে পরিলক্ষিত হয়, শরী‘আতের পরিভাষায় তাদেরকে খুনসায়ে মুশকিলা তথা জটিল হিজড়া বলা হয় এবং এরাই প্রকৃত হিজড়া’ (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২০তম খণ্ড, পৃ. ২১-২৩)।

ভালো মন্দের মানদণ্ডে হিজড়া দুই প্রকার। যথা : (ক) যারা সৃষ্টিগতভাবে হিজড়া, যারা অসহায়। (খ) যারা সৃষ্টিগতভাবে হিজড়া নয়, বরং কৃত্রিম উপায়ে বা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গে পরিণত হয়েছে, কথা-বার্তায় এবং আচরণে নারীদের বৈশিষ্টের সঙ্গে সাদৃশ্য স্থাপন করে। এরা মহাপাপী এবং অভিশপ্ত। কেননা লিঙ্গ পরিবর্তন করা হারাম এবং সে ছালাত আদায়কারী হলে তাকে নির্বাসন দিতে হবে, অন্যথা হত্যা করতে হবে (আবূ দাঊদ, হা/৪৯২৮; মিশকাত, হা/৪৪৮১, সনদ ছহীহ)। যুদ্ধে থাকাকালীন ছাহাবীগণের সঙ্গে তাদের বিবিগণ না থাকায় তারা খাসি হতে চাইলে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিষেধ করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫০৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০৪)। এমনকি পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লা‘নত করেছেন এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৬; আবূ দাঊদ, হা/৪৯৩০; মিশকাত, হা/৪৪২৮; বিস্তারিত দ্র. : সুবুলুস সালাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯; ইসলাম সাওয়াল জাওয়াব, প্রশ্ন নং-১১৪৬৭০)।

ইসলামী শরী‘আতে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী বা হিজড়ারা অন্যদের ন্যায় সমান মর্যাদার অধিকারী। কেননা মর্যাদা-অমর্যাদার মাপকাঠি পরিপূর্ণ মানুষের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং তাক্বওয়াই হল সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি (সূরা আল-হুজুরাত :১৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪)। তাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে আখ্যায়িত করা যাবে না। ভিন্ন সম্প্রদায় হিসাবে আখ্যায়িত করে বঞ্চিত করা যাবে না। তাদের যে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অধিকার রয়েছে, সেগুলো থেকেও তাদেরকে মাহরূম করা যাবে না। তাদেরকে অবজ্ঞা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, ঘৃণা, তিরস্কার, ভৎর্সনা করার কারণে সবকিছু থেকে তারা বিচ্ছন্ন। ফলে অধিকাংশই অন্যের কাছে হাত পেতে কিংবা চাঁদাবাজি করে জীবনযাপন করে থাকে। অথচ ইসলাম তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। কোনভাবেই ইসলামে তাদের অবহেলা করা হয়নি (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৩২০০৮৯)।


প্রশ্নকারী : মাহফুযুর রহমান, নাটোর।




প্রশ্ন (৩৪) : বিবাহ করে আমল করলে দ্বিগুন ছওয়াব পাওয়া যায় এই কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনেকে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-কে শয়তানের শিং বলে অভিহিত করে থাকে। এটা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০): সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : দ্রুত আয়-উপার্জনের জন্য কি কোন আমল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন মুসলিম কি আহলে কিতাবকে কোন পুরস্কার কিংবা কুরবানীর গোশত হাদিয়া স্বরূপ দিতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ইবাদতের মধ্যে বিদ‘আত প্রবেশ করলে সম্পূর্ণ আমল কি বাতিল হয়ে যাবে? না-কি যে অংশে বিদ‘আত প্রবেশ করেছে সেটুকু বাতিল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি প্রচার করা হয়, যেখানে প্রচারকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি নিজস্ব পরিচিতি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে থাকে। দাওয়াতী কাজের ক্ষেত্রে এরূপ পরিচয় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ছালাতে সিজদায় বাংলাতে দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ইমাম যদি রুকূ‘, সিজদা, কিরাআত, তাসবীহ খুব দ্রুত করে তাহলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : প্রচলিত আছে যে, সমাজের কেউ ই‘তিকাফ না করলে সবাই পাপী হবে। উক্ত কথা কোন ভিত্তি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন ব্যক্তি যদি একাধারে কয়েক বছর যাকাত আদায় না করে, তাহলে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ