শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : জিনেরা মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং বিভিন্নভাবে আক্রমণ করে কষ্ট দেয়। কখনো জিনেরা মানুষকে মেরে ফেলে। কখনো বা পাথর নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্নভাবে ভয় দেখায়। জিনদের এ সকল কর্ম হাদীছ এবং বিভিন্ন বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৯৭-৩২৯৮ ও ৩৩১০-৩৩১১)। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খন্দক যুদ্ধের দিন জনৈক ছাহাবীকে তার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেন। কারণ তিনি নতুন বিবাহ করেছিলেন। অতঃপর যুবক ঘরে ফিরে দেখলেন যে, স্ত্রী ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি তার প্রতি মনক্ষুণ্ন হলেন। স্ত্রী বললেন, ঘরে প্রবেশ করুন। ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন বিছানার উপরে একটি সাপ ব্যাড় দিয়ে বসে আছে। যুবকটির হাতেই ছিল বর্শা। বর্শা দিয়ে সাপকে আঘাত করার সাথে সাথে সাপটি মারা গেল এবং উক্ত ছাহাবীও মৃত্যুবরণ করলেন। সাপ এবং ছাহাবীর মধ্যে কে আগে মারা গেল, তা জানা যায়নি। এই সংবাদ নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি ঘরের মধ্যে বসবাসকারী পিঠের উপরে রেখা বিশিষ্ট এবং লেজহীন ছোট ছোট সাপগুলো ব্যতীত অন্যগুলো মারতে বললেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩৬; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, প্রশ্ন-৪৩)।

উক্ত ঘটনা থেকে জানা গেল যে, জিনেরা মানুষের উপরে আক্রমণ করে এবং নানাভাবে কষ্ট দেয়। মুতাওয়াতির ও মাশহূর সনদে বর্ণিত হাদীছে আছে যে, মানুষ কখনো কখনো পুরাতন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ী-ঘরে প্রবেশ করলে পাথর নিক্ষিপ্ত হয়। অথচ সেখানে কোন মানুষ দেখতে পায় না। আবার কখনো কখনো আওয়াজ এবং গাছের পাতার নাড়াচড়া শুনতে পায়। এতে মানুষ ভয় পায়। এমনিভাবে আসক্ত হয়ে কিংবা কষ্ট দেয়ার জন্য অথবা অন্য কোন কারণে জিন মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে। এ দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ বলেন, ‘যারা সূদ খায়, তারা ক্বিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আছর করে ভারসাম্যহীন পাগলের মত করে দেয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)।

আর জিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য হাদীছে বর্ণিত দু‘আগুলো পাঠ করতে হবে। তার মধ্যে আয়াতুল কুরসী অন্যতম। রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শয়নকালে যদি কেউ আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তাহলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত থাকে। যাতে শয়তান (জিন) তার নিকটবর্তী হতে না পারে (ছহীহ বুখারী, হা/২৩১১ ‘প্রতিনিধিত্ব’ অধ্যায়-৪০; মিশকাত হা/২১২৩ ‘কুরআনের ফযীলত’ অধ্যায়)। কোন বাড়ীতে সূরা বাক্বারাহর শেষ দু’টি আয়াত একাধারে তিনদিন পাঠ করলে উক্ত বাড়ীতে শয়তান প্রবশে করে না (তিরমিযী, হা/২৮৮২; দারেমী, হা/৩৩৮৭, সনদ ছহীহ)।




প্রশ্ন (২৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে আমি যদি ইমামের ৩য় বা ৪র্থ রাক‘আত পাই, তাহলে সেটা আমার কততম রাক‘আত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন করা কী ইসলামে জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ‘ইয়া মুহাম্মদ! শাফা‘আত (চাই)’। এ কথাটি কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মানুষ মারা গেলে মাইকিং করে শোক সংবাদ প্রচার করা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কোন জরুরী কারণে মুক্বীম অবস্থায় ছালাত জমা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : রামাযানের প্রতিটি ছিয়ামের জন্যই কি নিয়ত করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): যে ব্যক্তির ডিউটি টাইম ফজর পর্যন্ত বিলম্বিত সে কি যোহর-আছর একত্রে আদায় করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : পুরুষরা হাতে-পায়ে মেহেদি লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মসজিদের টাইলসে ‘লা ইলা-হা ইল্লা-ল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : স্বামী তার স্ত্রীকে বলেছে, তার মায়ের প্রতিটি কথা মেনে চলতে হবে। কিন্তু শাশুড়ি চান যে, তার ছেলের বউ তার দেবর, চাচা, চাচাতো ভাই, খালাত ভাই সবার সাথেই সাধারণভাবেই চলুক। এক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমি বাংলাদেশ জেলে কারারক্ষী পদে (সৈনিক পদে ভর্তি হয়ে) চাকুরী করি। সাধারণ পদে কিছুদিন ডিউটি পালন করার পর খেলোয়াড় (খেলোয়াড় কোটায়) হিসাবে চাকুরি শুরু করেছি। পেশা হিসাবে এটা করা কি সঠিক হয়েছে? আমি চাইলে অন্য বিভাগেও চাকুরী করতে পারব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ