বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  প্রত্যেক মুসলিমের উপর তার সাধ্য অনুযায়ী দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করা আবশ্যক। খিলাফত প্রবর্তিত হয়েছে মূলত আল্লাহর দ্বীন ক্বায়িম করার জন্যই। তাই কেউ যেন এ ধারণা না করে যে, কোন দেশে ইমাম বা খলীফা না থাকলে এর অর্থ হল- দ্বীনকে অবহেলা করা, গুটিয়ে নেয়া কিংবা দ্বীনের কোন অংশই বাস্তবায়ন না করা। বর্তমান যুগে এবং অতীতেও কিছু ভ্রান্তপন্থী লোক এমন কথা বলেছে যে, মুসলিমদের জন্য খলীফা নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনের সব ইবাদত ও বিধান স্থগিত থাকবে। এটি ভ্রান্তির সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপগুলোর একটি। এ মত গ্রহণ করলে জুমু‘আর ও জামা‘আতের ছালাত বন্ধ হয়ে যাবে, হজ্জ বন্ধ হয়ে যাবে, যাকাত আদায় ও সংগ্রহ করা হবে না, ইস্তিসকার ছালাত ও দুই ঈদের ছালাত আদায় হবে না, মসজিদের জন্য ইমাম ও মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়া হবে না। এভাবে দ্বীনের বহু বিধান স্থগিত ও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাহলে এ মতের অনুসারীরা আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে কী বলবে: ‘তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন : ১৬)। আর নবী (ﷺ)-এর এই বাণীর ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, ‘আমি তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ দিই, তা তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী পালন কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২)।

অতএব দ্বীনের বিষয়গুলোর যত্ন নেয়া ফরয এবং তা গুরুত্বের ক্রমানুসারে পালন করতে হবে, প্রথমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তারপর অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার আগে আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা ফরয, বিশেষ করে তাওহীদ ও আক্বীদাহ জানা, এরপর ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ ক্বায়িম করা এবং অন্যান্য ফরয আদায় করা। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এ কাজেই মনোযোগ দেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যতটুকু সম্ভব তা বাস্তবায়ন করা যরূরী। বরং দ্বীনের সঠিক জ্ঞান, ঈমান ও তাওহীদের প্রতিষ্ঠা এবং শিরক থেকে মুক্তি ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পসন্দ করেছেন; এবং তাদের ভয়ের পর নিরাপত্তা দান করবেন- তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাওহীদ ও আক্বীদার শিক্ষা দিয়েছেন, তাদের উপর অহী পাঠ করেছেন, উত্তম পন্থায় কাফিরদের সাথে তর্ক করেছেন এবং কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছেন। তখন মক্কায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও তিনি দ্বীনের শিক্ষা বন্ধ করেননি এবং সে সময় যেসব ইবাদত ফরয হয়েছিল তা আদায় করেছেন। অতএব, সঠিক আক্বীদা ও দ্বীনি ভিত্তি এবং ইসলামী আদর্শে গড়ে ওঠা সমাজ ছাড়া কীভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? যেমন কেউ যথার্থই বলেছেন: أقيموا دولة الإسلام في أنفسكم تقم لكم في أرضكم ‘তোমরা আগে নিজেদের অন্তরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কর; তাহলে তা তোমাদের ভূমিতেও প্রতিষ্ঠিত হবে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৭৩)।


প্রশ্নকারী : সেলিম, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (১০) : আযানের সময় মাথায় কাপড় দেয়ার কোন গুরুত্ব আছে কী? না দিলে পাপ হবে কি?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আউয়াল ওয়াক্তে ফরয ছালাত আদায় করে বিলম্বিত ওয়াক্তে মসজিদে ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুছল্লী কি নফল ছালাতের নিয়ত করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ঈদের সম্ভাষণ হিসাবে ‘ঈদ মোবারক’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ‘আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঈমানের সাথে সমস্ত মানুষের ঈমান ওযন করলে তাঁর ঈমানের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে’-এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সমাজে অনেক নামধারী ফকীর দেখা যায়। যারা বিত্তশালী। এদের কেউ সূদের উপর টাকা দেয়। টাকা নিয়ে নেশা করে। এদেরকে ভিক্ষা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : জনৈক আলেম বলেন, জোড় রাতেও ক্বদর হতে পারে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক আলেম বলেন, শিশুদের নিয়মিত ঝাড়ফুঁক করলে কান্নাকাটি কম করে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কোন্ অবস্থায় ছাদাক্বাহ করলে নেকী বেশী পাওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ছিয়াম অবস্থায় ইনজেকশন নিলে কি ছিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যার চরিত্র যেমন, তার জীবনসঙ্গী বা স্ত্রী তেমন হবে। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭): আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে প্রশ্ন করা হয়, রাসূল (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ কি হাসতেন? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। তবে তাঁদের অন্তরে ঈমান ছিল পাহাড়ের চেয়ে বড়’ (আল-মাউসূ‘আতুল কুবরা, ৩১/১৯৩)। বর্ণনাটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : খাঁচার ভিতরে পাখি রাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ