রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
উত্তর :  প্রত্যেক মুসলিমের উপর তার সাধ্য অনুযায়ী দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করা আবশ্যক। খিলাফত প্রবর্তিত হয়েছে মূলত আল্লাহর দ্বীন ক্বায়িম করার জন্যই। তাই কেউ যেন এ ধারণা না করে যে, কোন দেশে ইমাম বা খলীফা না থাকলে এর অর্থ হল- দ্বীনকে অবহেলা করা, গুটিয়ে নেয়া কিংবা দ্বীনের কোন অংশই বাস্তবায়ন না করা। বর্তমান যুগে এবং অতীতেও কিছু ভ্রান্তপন্থী লোক এমন কথা বলেছে যে, মুসলিমদের জন্য খলীফা নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনের সব ইবাদত ও বিধান স্থগিত থাকবে। এটি ভ্রান্তির সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপগুলোর একটি। এ মত গ্রহণ করলে জুমু‘আর ও জামা‘আতের ছালাত বন্ধ হয়ে যাবে, হজ্জ বন্ধ হয়ে যাবে, যাকাত আদায় ও সংগ্রহ করা হবে না, ইস্তিসকার ছালাত ও দুই ঈদের ছালাত আদায় হবে না, মসজিদের জন্য ইমাম ও মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়া হবে না। এভাবে দ্বীনের বহু বিধান স্থগিত ও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাহলে এ মতের অনুসারীরা আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে কী বলবে: ‘তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন : ১৬)। আর নবী (ﷺ)-এর এই বাণীর ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, ‘আমি তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ দিই, তা তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী পালন কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২)।

অতএব দ্বীনের বিষয়গুলোর যত্ন নেয়া ফরয এবং তা গুরুত্বের ক্রমানুসারে পালন করতে হবে, প্রথমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তারপর অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার আগে আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা ফরয, বিশেষ করে তাওহীদ ও আক্বীদাহ জানা, এরপর ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ ক্বায়িম করা এবং অন্যান্য ফরয আদায় করা। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এ কাজেই মনোযোগ দেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যতটুকু সম্ভব তা বাস্তবায়ন করা যরূরী। বরং দ্বীনের সঠিক জ্ঞান, ঈমান ও তাওহীদের প্রতিষ্ঠা এবং শিরক থেকে মুক্তি ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পসন্দ করেছেন; এবং তাদের ভয়ের পর নিরাপত্তা দান করবেন- তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাওহীদ ও আক্বীদার শিক্ষা দিয়েছেন, তাদের উপর অহী পাঠ করেছেন, উত্তম পন্থায় কাফিরদের সাথে তর্ক করেছেন এবং কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছেন। তখন মক্কায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও তিনি দ্বীনের শিক্ষা বন্ধ করেননি এবং সে সময় যেসব ইবাদত ফরয হয়েছিল তা আদায় করেছেন। অতএব, সঠিক আক্বীদা ও দ্বীনি ভিত্তি এবং ইসলামী আদর্শে গড়ে ওঠা সমাজ ছাড়া কীভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? যেমন কেউ যথার্থই বলেছেন: أقيموا دولة الإسلام في أنفسكم تقم لكم في أرضكم ‘তোমরা আগে নিজেদের অন্তরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কর; তাহলে তা তোমাদের ভূমিতেও প্রতিষ্ঠিত হবে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৭৩)।


প্রশ্নকারী : সেলিম, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (১৫) : আমি অবিবাহিত মেয়ে। ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম মাখি কিন্তু কাউকে ঠকানোর জন্য নয়। প্রশ্ন হল- এমনটা করা যাবে কি এবং এটি করলে আমার ইবাদত কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়টি স্ত্রী ও কয়টি ছেলে-মেয়ে ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কবরস্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : জুমু‘আর দিনে ইমাম মিম্বারে বসেছেন এবং মুওয়াযযিন আযান দিচ্ছেন; এমতাবস্থায় কোন মুছল্লী মসজিদে প্রবেশ করলে তার করণীয় কি? সে দু’ রাকা‘আত ছালাত শুরু করবে নাকি আযানের জবাব দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : অর্থ বা সম্পদ আত্মসাতের গুনাহ মোচনের উপায় কী? পরিশোধ করা সম্ভব না হলে, করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : তারাবীহর ছালাত কয় রাক‘আত? কেউ ৮ রাক‘আত পড়ে, কেউ পড়ে ২০ রাক‘আত। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : আমি যেখানে চাকুরী করি সেখানে যোহরের জন্য ১০ মিনিটের বেশি সময় দেয় না। এজন্য আমি শুধু ফরয ছালাত আদায় করি। প্রশ্ন হল, এমতাবস্থায় পরে সময় পেলে সুন্নাত ছালাত আদায় করতে পারব কি? ছাহাবীগণ যোহর, মাগরিব ও এশার ছালাতের সুন্নাত কি বাড়ীতে আদায় করতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম কয়টি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি হারাম অর্থ দিয়ে বাড়ীতে নলকূপ স্থাপন করেছে। ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই নলকূপের পানি দিয়ে ওযূ করা বা ফরয গোসল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : এক ব্যক্তি প্রতি মাসে আমার বিকাশে হাজারে বিশ টাকাসহ টাকা পাঠায়। কিন্তু আমি প্রায় এজেন্ট নাম্বার দিয়ে টাকা ওঠালে আমার খরচ পড়ে চৌদ্দ টাকা পঞ্চাশ পয়সা। বাকী ৫ টাকা ৫০ পয়সা আমার কাছে থেকে যায়। এই টাকাগুলো আমি খরচ করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আক্বছা ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে না। এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মানুষের মৃত্যুর পর তাকে সামনে রেখে বলা হয় যে, মানুষটি ভাল ছিল, না-কি খারাপ ছিল? প্রচলিত পদ্ধতি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ