রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর :  প্রত্যেক মুসলিমের উপর তার সাধ্য অনুযায়ী দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করা আবশ্যক। খিলাফত প্রবর্তিত হয়েছে মূলত আল্লাহর দ্বীন ক্বায়িম করার জন্যই। তাই কেউ যেন এ ধারণা না করে যে, কোন দেশে ইমাম বা খলীফা না থাকলে এর অর্থ হল- দ্বীনকে অবহেলা করা, গুটিয়ে নেয়া কিংবা দ্বীনের কোন অংশই বাস্তবায়ন না করা। বর্তমান যুগে এবং অতীতেও কিছু ভ্রান্তপন্থী লোক এমন কথা বলেছে যে, মুসলিমদের জন্য খলীফা নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনের সব ইবাদত ও বিধান স্থগিত থাকবে। এটি ভ্রান্তির সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপগুলোর একটি। এ মত গ্রহণ করলে জুমু‘আর ও জামা‘আতের ছালাত বন্ধ হয়ে যাবে, হজ্জ বন্ধ হয়ে যাবে, যাকাত আদায় ও সংগ্রহ করা হবে না, ইস্তিসকার ছালাত ও দুই ঈদের ছালাত আদায় হবে না, মসজিদের জন্য ইমাম ও মুয়াযিযন নিয়োগ দেয়া হবে না। এভাবে দ্বীনের বহু বিধান স্থগিত ও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাহলে এ মতের অনুসারীরা আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে কী বলবে: ‘তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন : ১৬)। আর নবী (ﷺ)-এর এই বাণীর ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, ‘আমি তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ দিই, তা তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী পালন কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২)।

অতএব দ্বীনের বিষয়গুলোর যত্ন নেয়া ফরয এবং তা গুরুত্বের ক্রমানুসারে পালন করতে হবে, প্রথমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তারপর অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার আগে আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা ফরয, বিশেষ করে তাওহীদ ও আক্বীদাহ জানা, এরপর ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ ক্বায়িম করা এবং অন্যান্য ফরয আদায় করা। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এ কাজেই মনোযোগ দেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং যতটুকু সম্ভব তা বাস্তবায়ন করা যরূরী। বরং দ্বীনের সঠিক জ্ঞান, ঈমান ও তাওহীদের প্রতিষ্ঠা এবং শিরক থেকে মুক্তি ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পসন্দ করেছেন; এবং তাদের ভয়ের পর নিরাপত্তা দান করবেন- তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাওহীদ ও আক্বীদার শিক্ষা দিয়েছেন, তাদের উপর অহী পাঠ করেছেন, উত্তম পন্থায় কাফিরদের সাথে তর্ক করেছেন এবং কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছেন। তখন মক্কায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও তিনি দ্বীনের শিক্ষা বন্ধ করেননি এবং সে সময় যেসব ইবাদত ফরয হয়েছিল তা আদায় করেছেন। অতএব, সঠিক আক্বীদা ও দ্বীনি ভিত্তি এবং ইসলামী আদর্শে গড়ে ওঠা সমাজ ছাড়া কীভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে? যেমন কেউ যথার্থই বলেছেন: أقيموا دولة الإسلام في أنفسكم تقم لكم في أرضكم ‘তোমরা আগে নিজেদের অন্তরে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কর; তাহলে তা তোমাদের ভূমিতেও প্রতিষ্ঠিত হবে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৭৩)।


প্রশ্নকারী : সেলিম, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (২) : বাদ্যযন্ত্র কি হালাল? তা কোনভাবে হালালের ন্যূনতম অবকাশ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বিভিন্ন দল ও গ্রুপের মধ্যে যে মতভেদ বিদ্যমান, তাতে একজন মুসলিমের ভূমিকা কেমন হবে?
প্রশ্ন (১৫) : ‘আরাফার দিনের মত শুক্রবারের দিনও কি আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : তাবলীগ জামা‘আতের চিল্লায় মুরুব্বীরা বলেন যে, ‘কোন ব্যক্তি যদি কুরআন পড়ে মানুষের নিকট খায়, তাহলে ক্বিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় হাড় থাকবে, কোন গোশত থাকবে না’। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমি ছালাতের পদ্ধতি ও নিয়ম জানি না। আমি যদি জামা‘আতে ছালাত আদায় করি, তাহলে কি আমার ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একই কাতারে ইমাম মুক্তাদিরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? অনেক সময় দু’জন দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে তাদের সাথে আরো লোকজন শামিল হয়। এমতাবস্থায় ইমাম সামনে না যেয়ে বা মুক্তাদিদের পিছনে না ঠেলে যদি একই কাতারে থেকে ছলাত শেষ করে তাহলে কি সেটা নাজায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : কারো সাথে আলাপ করার পর বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেয’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : প্রতি বছর ‘আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে ‘আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : পাত্রী দ্বীনদার কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল পাত্রী ফেসবুক মেসেঞ্জারে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে। জানা সত্ত্বেও ওই পাত্রীকে বিয়ে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মুবাহালার বিধান কী? এটা কি শুধু রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য খাছ ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ