শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপ হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করতে এবং তা উপহাসের বিষয় বানাতে ‘অবান্তর কথা-কাব্য’ ক্রয় করে। তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি’ (সূরা লুক্বমান: ৬)। এই আয়াতে لَہۡوَ الۡحَدِیۡثِ শব্দটি দ্বারা গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে। ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সহ অনেক সালাফ এই আয়াতকে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ‘তাফসীর ইবনু কাছীর’ এবং ‘তাফসীরে কুরতুবী’-তে বলা হয়েছে যে, ‘লাহওয়াল হাদীছ’ দ্বারা এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্র বুঝানো হয়েছে (তাফসীর ইবনু কাছীর, ৬/৩৩০; তাফসীরে কুরতুবী, ১৪/৫১ পৃ.)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের কিছু লোক এমন হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/ ৫৫৯০)। এ হাদীছ থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, কিছু লোক ইসলামে হারাম কিছু বিষয়কে হালাল করার চেষ্টা করবে, যার মধ্যে বাদ্যযন্ত্রও অন্তর্ভুক্ত। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের কিছু লোক মদ্যপান করবে এবং তাদের সামনে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪০১০)।

ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলামী শরী‘আতে গান এবং বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ। শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানে ডাফ ব্যবহার করা অনুমোদিত হয়েছে। যেকোন অন্য বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৩/৩৮৪-৩৮৬ পৃ.)। শায়খ ইমাম ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বাদ্যযন্ত্র পুরোপুরি হারাম এবং এটি নফসকে মন্দের দিকে প্রলুব্ধ করে। মুসলিমরা তাদের জীবন থেকে বাদ্যযন্ত্র পরিহার করবে, কারণ এটি মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়’ (শারহুল মুমতে‘ ‘আলা যাদিল মুসতাক্বনি‘, ৫/৩৬ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি আল-লাজনা আদ-দাঈমাহ ঘোষণা করেছে যে, ‘বাদ্যযন্ত্র ও গান হারাম এবং এটি মানুষের ইমানকে দুর্বল করে। শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানে ডাফ ব্যবহার করা বৈধতা পেয়েছে, যা একটি বিশেষ অনুমোদিত বাদ্যযন্ত্র’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাঈমাহ, ২৬/২৫৯-২৬০)।


প্রশ্নকারী : আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ফাইয়াজ খান, শাহতলী, চাঁদপুর।





প্রশ্ন (১৫) : কোন্ কোন্ উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের সফরে গিয়ে ওমরাহ আদায় করে মদীনা বা মীক্বাতের বাইরে কোন স্থানে সফর করে, তবে তিনি কি মক্কায় আগমনের সময় পুনরায় ওমরাহ করতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি সব মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য দু‘আ করবে আল্লাহ তাকে প্রতিটি মুমিন পুরুষ ও নারীর পরিবর্তে একটি করে পুণ্য দেবেন’। হাদীছটি কী ছহীহ? ছহীহ হলে কোন্ দু‘আটি পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছাদাক্বাতুল ফিতর মিসকীনকে দিতে হবে। এই মিসকীন বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : একটি সূদী প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর নিজ খরচে কিছু কর্মচারীকে হজ্জে পাঠায়। উক্ত হজ্জ কি কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আরাফার মাঠে অবস্থানের জন্য কি পবিত্রতা অর্জন করা শর্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করা যাবে কি? যদি যায়, তবে চেয়ার কাতারের কোথায় রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : একাকী ফরজ ছালাত আদায় করলে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : দাজ্জালের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য জানিয়ে বাধিত করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত (২) ‘আরাফার রাত (৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আদম সন্তানের সৌভাগ্য তিনটি আর দুর্ভাগ্যও তিনটি। সৌভাগ্য তিনটি হলো, দ্বীনদার-নেককার স্ত্রী, ভালো বাসস্থান, ভালো সওয়ারী বা বাহন। আর দুর্ভাগ্য তিনটি হলো, খারাপ স্ত্রী, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ সওয়ারী’ (মুসনাদে আহমাদ)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কেমন? মসজিদে যদি কেবল একটিই কাতার থাকে তবে সেই ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ