রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
উত্তর : ছহীহ হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, ‘আরাফার দিনে ছিয়াম পালন করতে হবে, যদিও এ বিষয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। কারণ ছিয়ামের ফযীলতটা আরাফার দিনের কারণেই।  রাসূলুল্লাহ (ছা.) বলেন, ‘আরাফা দিবসের (عرفة یوم) ছিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের পাপ মোচন করে দিবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১৯৪১, ৪/২৫০-৫১ পৃ.)।

শাইখ বিন বায (রহ.)-এর তত্ত্বাবধানে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড আরাফার দিন সম্পর্কে বলেছে, (الناس یقف الذي الیوم ھو عرفة یوم بعرفة فىه) যেদিন হাজীগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন সেটা আরাফার দিন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/৩৯৩ পৃঃ)। বোর্ড এই বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়েছে (https://youtu.be/ZfnGxnEJ5gchttps:/ww/w.alukah.net/sharia/0/94239/#ixyy70ynaGOl3)।

বোর্ড আরো উল্লেখ করেছে যে, কেউ চাইলে আগে বা পরেও রাখতে পারে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/৩৯৩ পৃঃ)। শাইখ সুলায়মান আর-রুহায়লী বলেন, এই দিনটা আরাফার মাঠের সাথে সম্পৃক্ত। আর আরাফার মাঠ অন্যান্য দেশে নেই, এটা সঊদীতে অবস্থিত। তাই সম্ভব হলে এ দিনেই ছিয়াম রাখবে। যদি এই দিনটি অন্যদের ঈদের দিনের সাথে মিলে যায়, তবে তারা আগের দিন রাখবে (https://youtu.be/ZfnGxnEJ5gc)। শাইখ উছায়মীন (রহ.) বলেন, চাঁদের বিষয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। তিনি অন্যান্য ছিয়ামের মত আরাফার ছিয়ামকেও নিজ নিজ দেশের ৯ তারিখ অনুযায়ী রাখার  মতকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং আম দলীল পেশ করেছেন (উছায়মীন, মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ২০তম খণ্ড, পৃ. ২৮)। উভয় মতের পক্ষে আরো আলোচনা আছে।

এখানে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সঊদী আরবের ফাতাওয়া বোর্ড, শাইখ বিন বায, শাইখ  উছায়মীন, প্রফেসর ড. সুলায়মান আর-রুহায়লী সবাই অন্যান্য ছিয়াম নিজ  নিজ ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু আরাফার ছিয়ামকে সঊদী  আরবের ফাতাওয়া বোর্ড, শাইখ রুহায়লী আরাফার দিনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন  এবং আগে বা পরে রাখার বিষয়েও ছাড় দিয়েছেন। আর শায়খ উছায়মীন (রহ.) অন্যান্য ছিয়ামের মত আরাফার ছিয়ামকেও নিজ নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী রাখার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। এখানেই সামান্য ইখতিলাফ।

অন্যদিকে নফল ছিয়াম আগে বা পরে রাখার ক্ষেত্রে যে ছাড় রয়েছে, তা স্পষ্ট। যেমন-আইয়ামে বীয-এর ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তিগণ যিলহজ্জ মাসে ১৪ ও ১৫ তারিখে ২ দিন ছিয়াম পালন করতে পারেন। যেহেতু ১৩ তারিখ তাশরীক্বের মধ্যে পড়ে যায়, যেদিন ছিয়াম রাখা নিষিদ্ধ। তাই পরের দু’দিন ছিয়াম পালন করলেই যথেষ্ট হবে (নাসাঈ, হা/২৪৩৪, ২৩৯৪, সনদ ছহীহ)। এছাড়া চাইলে ১৬ তারিখ বা ঐ মাসের অন্য কোন দিনে অবশিষ্ট একটি ছিয়াম রাখতে পারবে (আবূ দাঊদ, হা/২৪৫৩, সনদ ছহীহ; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ৩৮০)।

 অতএব এ বিষয়ে যিদ করা  উচিত নয়, যা আমরা বিভিন্ন আলোচনায় একাধিকবার বলেছি। আল্লাহু আ‘লাম।




প্রশ্ন (৩৮) : ইটভাটার মালিককে ১ লক্ষ টাকা এক বছরের জন্য প্রদান করি এই শর্তে যে, বছর শেষে আমাকে ১৯ হাজার ইট দেবে। আর ঐ সময় প্রতি হাজার ইটের মূল্য ৭ হাজার টাকা করে নিলে সেক্ষেত্রে আমাকে দিবে ১,৩৩,০০০ টাকা। কিন্তু আমি যদি তার কাছে ইট বিক্রি করে দিই, তবে সেক্ষেত্রে আমাকে দিবে ১,২০,০০০ টাকা। উক্ত টাকা আমার জন্য হালাল হবে, না-কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাবা-মা জান্নাতী নাকি জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : সমাজে শরী‘আতের নামে একটি কথা চালু আছে যে, মুহাররমের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম পালন করলে ৫০ বছরের নফল ছিয়ামের নেকী লেখা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হাজারে আসওয়াদ একটি ফেরেশতা ছিল। আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক খত্বীব বলেছেন, আব্দুল কাদের জিলানীর কারণে বাগদাদ শহরের সব কবরের আযাব মাফ হয়ে গেছে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হারাম মাস কয়টি? এই মাসগুলোকে হারাম বলা হয় কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার স্ত্রী দুইবার ইচ্ছাকৃত বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে শুনেনি। এখন স্বামী হিসাবে আমার ও তার কীরূপ পাপ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পাপ কাজের জন্য কি মানুষ রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যমযমের পানি পানের সময় নিম্নের দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : হিন্দু ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর তার পরিবারেই জীবন-যাপন করছে। সে কি তার পিতা-মাতাকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ