বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত পাত্রীকে বিবাহ করা যাবে না। কারণ আদর্শ পাত্র-পাত্রীর যোগ্যতার মাপকাঠি তার দ্বীনদারিতা ও উত্তম চরিত্র। বিবাহের ক্ষেত্রে আল্লাহভীরুতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতাই মূখ্য বিষয়। ধনসম্পদ, বংশ পরিচয়, বংশ মর্যাদা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এগুলো গৌণ বিষয়। যেমনটি শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (লিক্বা আশ-শাহরী, লিক্বা নং-৪৬)। শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পাপিষ্ঠ, অধর্মচারী ও কাবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব পাঠালে, তাওবাহ না করা পর্যন্ত তাকে বর্জন করতে হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৪৮ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘অভিভাবকের উচিত দ্বীনদার ছেলেকে চয়ন করা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১৩)।

দ্বীন, আমানাতদারী ও চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হলে তার সঙ্গে বিবাহ দেয়া জায়েয হবে না। প্রয়োজনে তাহাজ্জুদ ও ইস্তিখারার ছালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৮/২৯৮, ১৮/১৯১, ১৮/৪৬-৪৭, ১৮/১৮৫-১৮৮ পৃ.; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব ইবনে বায, ২০/১৫১ ও ২০/৪২৩-৪২৪ পৃ.)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,  ‘তোমরা যে লোকের দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্র দ্বারা সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সেই ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে (তোমাদের পাত্রীর) বিবাহ দিয়ে দাও। অন্যথা পৃথিবীতে ফিতনা-ফাসাদ, বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তার মাঝে কিছু থাকলেও কি? (অর্থাৎ সে যদি অভাবগ্রস্থ ও দরিদ্র হয়?) তিনি বললেন, তোমরা যে লোকের দ্বীনদারী ও নৈতিক চরিত্র দ্বারা সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সেই ব্যক্তি বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে (তোমাদের পাত্রীর) বিবাহ দিয়ে দাও। রাবী বলেন, এ কথা তিনি তিনবার বললেন’ (তিরমিযী, হা/১০৮৪-১০৮৫; ইবনু মাজাহ, হা/১৯৬৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১০২২; ইরওয়াউল গালীল, ৬/২৬৭ পৃ.)। অতএব বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্রপক্ষ ও পাত্রীপক্ষ উভয়কেই দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিতে হবে (সূরা আল-হুজুরাত : ১৩;  ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৬৬)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি, শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও জমহূর আলেমের মতানুযায়ী শিরককারী, ছালাত ত্যাগকারী, সূদখোর বা অন্য কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত পুরুষ বা নারীর সঙ্গে তাওবাহের পূর্বে বিবাহ করা নাজায়েয (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২০/১৪৯-১৫১, ১৫৪-১৫৭, ১৫৯-১৬০, ২০৯-২১১, ৩৮২-৩৮৪; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৮/১২৫-১২৬ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : আল-আমীন, রাজশাহী।




প্রশ্ন (২৮) : ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম, শিং ও ক্ষুর  উপস্থিত হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : এক ব্যক্তি সূদভিত্তিক ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং সংসার চালান। পরবর্তীতে তিনি সূদ থেকে মুক্ত হওয়ার নিয়ত করেছেন। তবে এখনো সূদসহ কিছু ঋণ বাকি আছে। প্রশ্ন হল, ঐ টাকা শোধ হওয়া পর্যন্ত কি তার গুনাহ হতে থাকবে?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়াদের অধিকার, মীরাছ, ইবাদতের পদ্ধতি, পোশাক, মু‘আমালাত, চালচলন, কর্মজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছোট বাচ্চাদের প্রাণীর খেলনা বা প্রাণীর ছবিযুক্ত খেলনা দেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেক মসজিদ বা বাড়ীতে রং-বেরংয়ের জায়নামায দেখা যায়।সেগুলোতে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : হালাল ১০ টাকা ধার করে একটা কলম কিনে হারাম টাকা দিয়ে ধার পরিশোধ করলে ক্রয়কৃত কলমটি কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কাফির ও মুুশরিকের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাত সঠিক হওয়ার পরেও ইমাম যদি সাহু সিজদা দেন তাহলে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : তওবা করার পর পুনরায় সেই পাপ হয়ে গেলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জনৈক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কারণে দেউলিয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যারা সমকামিতার সাথে জড়িত তাদের শারঈ হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ