বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : নবী (ﷺ) সম্পূর্ণ সূরা বাক্বারার মহান ফযীলতের কথা জানিয়েছেন এবং এই সূরার মহান কিছু আয়াত যেমন- আয়াতুল কুরসি ও শেষ দুই আয়াত-এর ফযীলতের কথাও জানিয়েছেন। নবী (ﷺ) এই সূরার ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যে ঘরে এ সূরাটি পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায় এবং যাদু থেকে সুরক্ষা ও যাদুর চিকিৎসায় এটি উপকারী। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ) বলেন, لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِى تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাক্বারা পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮০)। আবূ উমামা আল-বাহেলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلاَ تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ ‘তোমরা সূরা বাক্বারা পড়। কেননা এর পাঠে বরকত রয়েছে এবং তা বর্জন করা আফসোসের কারন। আর বাতিলপন্থীরা এতে সক্ষম হয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৪)। বাতিলপন্থীরা হচ্ছে: যাদুকরগণ।

এটি উচ্চৈঃস্বরে পড়া শর্ত নয়। বরং ঘরে পড়া বা তেলাওয়াত করাই যথেষ্ট; এমনকি সেটা নিম্নস্বরে হলেও। অনুরূপভাবে একবারে পড়া শর্ত নয়। বরং ধাপে ধাপে পড়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে তেলাওয়াতকারী একজন হওয়া শর্ত নয়। বরং ঘরবাসী নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া জায়েয। যদিও এক ব্যক্তির একবারে পড়াটা উত্তম (ফাতাওয়া সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং ৬৯৯৬৩)।

রেডিও বা ক্যাসেট থেকে বেরিয়ে আসা ধ্বনিকে পড়া হিসাবে গণ্য করা জায়েয নয়। বরং অবশ্যই ঘরবাসীদের নিজেদেরকে পড়তে হবে। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীছ আছে যে, কোন ব্যক্তি যদি সূরা ‘বাক্বারা’ পড়ে তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না। কিন্তু সূরাটি যদি ক্যাসেটে রেকর্ড করে রাখা হয়, তাহলে কি একই বিষয় হাছিল হবে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘না, না। ক্যাসেটের শব্দ কিছুই না। এটি কোন উপকার দিবে না। কেননা ক্যাসেট বাজিয়ে এ কথা বলা যায় না যে, ‘সে কুরআন পড়েছে’। বলা যায়, ‘সে পূর্বে তেলাওয়াতকৃত ক্বারীর কণ্ঠস্বর শুনেছে’। তাই আমরা যদি কোন এক মুয়াযিযনের আযান রেকর্ড করে রাখি এবং যখন ওয়াক্ত হয় তখন সেটাকে মাইক্রোফোনে চালু করে এটাকে আযান হিসাবে গ্রহণ করি— এটা কি জায়েয হবে? জায়েয হবে না। অনুরূপভাবে আমরা যদি একটি হৃদয়াগ্রহী খুতবা রেকর্ড করে রাখি। এরপর যখন জুমু‘আর দিন আসবে তখন আমরা মাইক্রোফোনের সামনে ক্যাসেট-প্লেয়ারে এ রেকর্ডটি চালু করি। ক্যাসেট প্লেয়ার বলল, ‘আস-সালামু আলাইকুম’। এরপর মুয়াযিযন আযান দিল। তারপর ক্যাসেট-প্লেয়ার খুতবা দিল। এটা কি জায়েয হবে? জায়েয হবে না। কেন? কেননা এটি পূর্ববর্তী একটি কণ্ঠস্বরের রেকর্ড। যেমনিভাবে আপনি যদি কোন একটি কাগজে লিখেন কিংবা ঘরে একটি মুসহাফ (কুরআনগ্রন্থ) রাখেন পড়ার বদলে সেটা কি যথেষ্ট হবে? না; যথেষ্ট হবে না’ (আসয়িলাতুল বাব আল-মাফতূহ, প্রশ্ন নং ৯৮৬)।

কিন্তু ঘরের লোকদের মধ্যে সূরা বাক্বারা পড়তে পারার মত কেউ যদি না থাকে এবং ঐ ঘরে এসে পড়ে দিবে এমন কেউ যদি না থাকে; সেক্ষেত্রে তারা যদি ক্যাসেট-প্লেয়ার ব্যবহার করে ইনশাআল্লাহ‌ অগ্রগণ্য মত হচ্ছে- এতে করে তারা এ ফযীলত তথা ‘ঘর থেকে শয়তানের পলায়ন করা’র ফযীলত হাছিল করবে। বিশেষতঃ ঘরবাসীর মধ্যে কেউ যদি ক্যাসেট-প্লেয়ারের এ পড়াটা শুনে। শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘রাসূল (ﷺ) এর বাণী— ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাক্বারা পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে’— আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যদি কেউ একটা ক্যাসেট-প্লেয়ারে সূরা বাক্বারার রেকর্ডকৃত ক্যাসেট বাজায় এবং সম্পূর্ণ সূরাটি পড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্যাসেট চালু রাখে? না-কি অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে পড়তে হবে কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে সূরাটি পড়তে হবে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘যে অভিমতটি অগ্রগণ্য তাহল- গোটা সূরাটি রেডিওতে কিংবা ঘরের মালিকের নিজে পড়ার মাধ্যমে নবী (ﷺ) ‘শয়তান পালিয়ে যাওয়া’র যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেটা হাছিল হবে। কিন্তু শয়তান পালিয়ে গেলেও পড়া শেষ হলে আবার না-ফেরা অনিবার্য নয়। যেমনটি শয়তান আযান ও ইকামত শুনে পালিয়ে যায়; এরপর সে ফিরে এসে ব্যক্তি ও তার অন্তরের মাঝে আড়াল তৈরি করে এবং বলে: এটা এটা স্মরণ কর। যেমনটি এ মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তাই মুমিন ব্যক্তির জন্য শরী‘আতের বিধান হল তিনি সর্বদা আল্লাহ্‌র কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবেন, শয়তানের ষড়যন্ত্র, কুমন্ত্রণা ও যে পাপের দিকে শয়তান ডাকে— এসব ব্যাপারে সাবধান থাকবেন (মাজমূঊ ফাতাওয়া বিন বায, (২৪/৪১৩)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, পাবনা।





প্রশ্ন (১১) : রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন করার সঠিক নিয়ম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৪) : বিনা ওযূতে আযান দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক বক্তা বলেন, যে ব্যক্তি নেকির আশায় পবিত্র অন্তরে মনে কুরবানী করবে, সেই কুরবানী তার জন্য জাহান্নামের পর্দা হবে। হাদীছটি কি গ্রহণযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যে ব্যক্তি পূর্বে নিয়মিত ছালাত আদায় করত না, সে যদি শেষ জীবনে ছালাত আদায় করে এবং তওবা করে তাহলে তার পাপ ক্ষমা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কাগজ নকল করে কোনো দেশের ভিসা করে টাকা উপার্জন করলে, সেই টাকা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ‘যে বিয়েতে খরচ কম ঐ বিয়েতে বরকত বেশি’। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : জনৈক ব্যক্তি স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে প্রবাসে থাকে। প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা কাজের অনুমতি থাকলেও রাত জেগে সে ২টা কাজ করে। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠায়। প্রশ্ন হল- এইভাবে কাজ করা বা টাকা পাঠানো কি হারাম হচ্ছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ঘুমানোর পূর্বে করণীয় ও তার ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিবাহ করে আমল করলে দ্বিগুন ছওয়াব পাওয়া যায় এই কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক লেখক তার বইয়ে লিখেছেন যে, আশূরার দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-এর তাওবা কবুল হয়েছে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকা যেদিন জূদী পাহাড়ে থেমেছিল, এই দিনেই ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর দু‘আ কবুল হয়েছিল। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : বিভিন্ন এলাকায় ফিতরা ও কুরবানীর অর্থ থেকে ইমাম-মুওয়াযযিনের বেতন দেয়া হয়। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিনাকারীর শাস্তি কি দুনিয়ার জীবনে কার্যকর করতে হবে, না-কি খালিছ অন্তরে তাওবা করলে মাফ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ