রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : নবী (ﷺ) সম্পূর্ণ সূরা বাক্বারার মহান ফযীলতের কথা জানিয়েছেন এবং এই সূরার মহান কিছু আয়াত যেমন- আয়াতুল কুরসি ও শেষ দুই আয়াত-এর ফযীলতের কথাও জানিয়েছেন। নবী (ﷺ) এই সূরার ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে যে ঘরে এ সূরাটি পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায় এবং যাদু থেকে সুরক্ষা ও যাদুর চিকিৎসায় এটি উপকারী। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ) বলেন, لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِى تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাক্বারা পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮০)। আবূ উমামা আল-বাহেলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلاَ تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ ‘তোমরা সূরা বাক্বারা পড়। কেননা এর পাঠে বরকত রয়েছে এবং তা বর্জন করা আফসোসের কারন। আর বাতিলপন্থীরা এতে সক্ষম হয় না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৪)। বাতিলপন্থীরা হচ্ছে: যাদুকরগণ।

এটি উচ্চৈঃস্বরে পড়া শর্ত নয়। বরং ঘরে পড়া বা তেলাওয়াত করাই যথেষ্ট; এমনকি সেটা নিম্নস্বরে হলেও। অনুরূপভাবে একবারে পড়া শর্ত নয়। বরং ধাপে ধাপে পড়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে তেলাওয়াতকারী একজন হওয়া শর্ত নয়। বরং ঘরবাসী নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া জায়েয। যদিও এক ব্যক্তির একবারে পড়াটা উত্তম (ফাতাওয়া সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং ৬৯৯৬৩)।

রেডিও বা ক্যাসেট থেকে বেরিয়ে আসা ধ্বনিকে পড়া হিসাবে গণ্য করা জায়েয নয়। বরং অবশ্যই ঘরবাসীদের নিজেদেরকে পড়তে হবে। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত একটি হাদীছ আছে যে, কোন ব্যক্তি যদি সূরা ‘বাক্বারা’ পড়ে তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না। কিন্তু সূরাটি যদি ক্যাসেটে রেকর্ড করে রাখা হয়, তাহলে কি একই বিষয় হাছিল হবে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘না, না। ক্যাসেটের শব্দ কিছুই না। এটি কোন উপকার দিবে না। কেননা ক্যাসেট বাজিয়ে এ কথা বলা যায় না যে, ‘সে কুরআন পড়েছে’। বলা যায়, ‘সে পূর্বে তেলাওয়াতকৃত ক্বারীর কণ্ঠস্বর শুনেছে’। তাই আমরা যদি কোন এক মুয়াযিযনের আযান রেকর্ড করে রাখি এবং যখন ওয়াক্ত হয় তখন সেটাকে মাইক্রোফোনে চালু করে এটাকে আযান হিসাবে গ্রহণ করি— এটা কি জায়েয হবে? জায়েয হবে না। অনুরূপভাবে আমরা যদি একটি হৃদয়াগ্রহী খুতবা রেকর্ড করে রাখি। এরপর যখন জুমু‘আর দিন আসবে তখন আমরা মাইক্রোফোনের সামনে ক্যাসেট-প্লেয়ারে এ রেকর্ডটি চালু করি। ক্যাসেট প্লেয়ার বলল, ‘আস-সালামু আলাইকুম’। এরপর মুয়াযিযন আযান দিল। তারপর ক্যাসেট-প্লেয়ার খুতবা দিল। এটা কি জায়েয হবে? জায়েয হবে না। কেন? কেননা এটি পূর্ববর্তী একটি কণ্ঠস্বরের রেকর্ড। যেমনিভাবে আপনি যদি কোন একটি কাগজে লিখেন কিংবা ঘরে একটি মুসহাফ (কুরআনগ্রন্থ) রাখেন পড়ার বদলে সেটা কি যথেষ্ট হবে? না; যথেষ্ট হবে না’ (আসয়িলাতুল বাব আল-মাফতূহ, প্রশ্ন নং ৯৮৬)।

কিন্তু ঘরের লোকদের মধ্যে সূরা বাক্বারা পড়তে পারার মত কেউ যদি না থাকে এবং ঐ ঘরে এসে পড়ে দিবে এমন কেউ যদি না থাকে; সেক্ষেত্রে তারা যদি ক্যাসেট-প্লেয়ার ব্যবহার করে ইনশাআল্লাহ‌ অগ্রগণ্য মত হচ্ছে- এতে করে তারা এ ফযীলত তথা ‘ঘর থেকে শয়তানের পলায়ন করা’র ফযীলত হাছিল করবে। বিশেষতঃ ঘরবাসীর মধ্যে কেউ যদি ক্যাসেট-প্লেয়ারের এ পড়াটা শুনে। শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘রাসূল (ﷺ) এর বাণী— ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাক্বারা পড়া হয় সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে’— আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যদি কেউ একটা ক্যাসেট-প্লেয়ারে সূরা বাক্বারার রেকর্ডকৃত ক্যাসেট বাজায় এবং সম্পূর্ণ সূরাটি পড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্যাসেট চালু রাখে? না-কি অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে পড়তে হবে কিংবা তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে সূরাটি পড়তে হবে?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘যে অভিমতটি অগ্রগণ্য তাহল- গোটা সূরাটি রেডিওতে কিংবা ঘরের মালিকের নিজে পড়ার মাধ্যমে নবী (ﷺ) ‘শয়তান পালিয়ে যাওয়া’র যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেটা হাছিল হবে। কিন্তু শয়তান পালিয়ে গেলেও পড়া শেষ হলে আবার না-ফেরা অনিবার্য নয়। যেমনটি শয়তান আযান ও ইকামত শুনে পালিয়ে যায়; এরপর সে ফিরে এসে ব্যক্তি ও তার অন্তরের মাঝে আড়াল তৈরি করে এবং বলে: এটা এটা স্মরণ কর। যেমনটি এ মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তাই মুমিন ব্যক্তির জন্য শরী‘আতের বিধান হল তিনি সর্বদা আল্লাহ্‌র কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবেন, শয়তানের ষড়যন্ত্র, কুমন্ত্রণা ও যে পাপের দিকে শয়তান ডাকে— এসব ব্যাপারে সাবধান থাকবেন (মাজমূঊ ফাতাওয়া বিন বায, (২৪/৪১৩)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, পাবনা।





প্রশ্ন (২৭) : ইমামের পিছনে ১ রাক‘আত ছালাত না পেলে ইমামের যদি সাহু সিজদাহ থাকে, তাহলে ইমামের সাথে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে, না-কি উঠে যেতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি সুইডেনের প্রবাসী। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পেয়ে থাকি। বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেয়। অথচ সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : শরী‘আতে একাকী দু‘আ করার ক্ষেত্রে দু‘আর শুরুতে হামদ ও দরূদ পাঠের কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, হা/৩৪৭৬) কিন্তু শেষে হামদ ও দরূদ পাঠ করার কথা হাদীছে পাওয়া যায় না। প্রশ্ন হল- দু‘আ করার সময় হামদ ও দরূদ দিয়ে শেষ করা শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবকে ভালবাসবে। প্রথমত, আমি হলাম আরবী, দ্বিতীয়ত, কুরআন মাজীদের ভাষা হল আরবী এবং তৃতীয়ত, জান্নাতীদের ভাষাও হবে আরবী। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইয়া’জূজ-মা’জূজ মানুষ জাতি। তারা কি সবাই পথভ্রষ্ট? ইয়া’জূজ-মা’জূজ কি কোন নবীর অনুসরণ করতে পেরেছে? তাদেরকে কেন সুযোগ দেয়া হল না? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা নিম্নের হাদীছটি পেশ করেন, তোমরা বরকতপূর্ণ জয়তুন গাছের তেল ব্যবহার কর এবং ঔষধ হিসাবে ব্যবহার কর।‌ কারণ তা অর্শ রোগের আরোগ্য দানকারী (ত্বাবরাণী হা/১৪১৯৩)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : শরী‘আত কাকে বলে? হাদীছ কি শরী‘আতের দলীল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী রচিত ‘কাট হুজ্জতির জওবাব’ বইয়ের ২৫ পৃষ্ঠায় একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আহলেহাদীছগণ আমলনামাসহ উপস্থিত হবেন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা আহলেহাদীছ বেহেশতে প্রবেশ কর’ (ত্বাবারাণী, আল-ক্বাওলুল বাদী, পৃ. ১৮৯)। উক্ত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে ১ম রাক‘আত যদি ছুটে যায়, তাহলে ইমামের সাথে তিন রাক‘আত আদায় করার পর শেষ রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়লে হবে, না-কি ফাতিহার সাথে অন্য আরেকটি সূরা মিলাতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদ দেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : শাফা‘আত করা ও তা মঞ্জুরের জন্য কোন শর্ত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় মুনাফিক্বরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (সূরা আন-নিসা : ১৪৫)। প্রশ্ন হল, এরা কোন্ ধরনের মুনাফিক্ব? যেমন ছহীহ বুখারী হা/৩৩ ও ৩৪ নম্বরে বলা হয়েছে, মুনাফিক্বদের লক্ষণ তিনটি ও চারটি। এই মুনাফিক্ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ