শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

ইসলামিক প্যারেন্টিং 

-তিনা খান* 


(৮ম কিস্তি)  

গল্পে গল্পে প্যারেন্টিং শিক্ষা: মহিয়সী মা

সুদানের এক মসজিদ। ইমাম সাহেব বসে আছেন। ছোট ছোট ছেলেদেরকে কুরআন শিক্ষা দিচ্ছেন। আরেক পাশে হাফিযরা কুরআনের বাড়তি পাঠ গ্রহণ করছে। এমন সময় একটা ছোট ছেলে আসল। সে কুরআন শিক্ষার হালকায় ভর্তি হতে চায়। ইমাম সাহেব ঘটনার বর্ণনা এভাব দিয়েছেন, আমি তাকে প্রশ্ন করলাম:

-তুমি কুরআনুল কারীমের কোন অংশ মুখস্থ করেছ?
-জি!
-তাহলে ত্রিশ পারা থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করে শোনাও।
-সে সুন্দর করে মুখস্থ তিলাওয়াত করল।
-তুমি সূরা মুলক মুখস্থ করেছ?
- জি!

আমি অবাক হলাম। এত ছোট বয়সে তার হিফযের পরিমাণ দেখে অবাক হলাম। এবার আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি সূরা নাহল মুখস্থ করেছ?

-ছেলেটা বলল: জি এবং কিছুটা পড়েও শোনাল।

আমার বিস্ময় আরো বেড়ে গেল। আমি তাকে আরো লম্বা সূরা জিজ্ঞেসা করলাম। তুমি সূরা আল-বাকারা মুখস্থ করেছ?

-জি!
- তুমি কি পুরো কুরআন কারীমই হিফয করেছ?
-জি!
-আরে আগে বলবে তো!

আমি যারপরনাই বিস্মিত হলাম। তাকে বললাম, তুমি আগামী কাল আস। সাথে তোমার অভিভাবককেও নিয়ে আসবে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, ছেলে এমন হলে, কেমন হতে পারে তার পিতা? আমার জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছিল। পরদিন ছেলেটা তার পিতাকে নিয়ে আসল। তাকে দেখে আমি আকাশ থেকে পড়লাম। পিতার শরীরে ধর্মের কোন আলামতই নেই। দাঁড়ি নেই, পোশাক-পরিচ্ছদও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের।

ছেলেটার পিতা আমার বিমূঢ় অবস্থা দেখে বললেন: আমি বুঝতে পারছি, আপনি আমাকে খোকার পিতা হিসাবে মেলাতে পারছেন না। প্রকৃত ঘটনা খুলে বললেই আপনার মনের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। এই ছেলের পেছনে আছে, আমার মত নাফরমান হাজার পুরুষের চেয়েও উত্তম এক মহিয়সী নারী। আমাদের ঘরে আরো তিন ছেলে আছে। প্রত্যেকেই হাফিযে কুরআন। আমার চার বছর বয়সী ছোট মেয়েটাও ত্রিশতম পারাটা মুখস্থ করে ফেলেছে।

ইমাম ছাহেব বললেন: আমি চরম বিস্ময়ে প্রশ্ন করলাম, এটা কিভাবে সম্ভব হল?

ছেলেটার বাবা উত্তর দিল : বাচ্চারা যখনই কথা বলা শিখতে শুরু করে, তখন থেকেই তাদের মা কুরআন কারীম হিফয করাতে শুরু করে। সব সময় হিফযুল কুরআনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। ভাইবোনদের মধ্যে যে প্রথমে সবক শোনাতে পারে তাকেই সবার আগে রাতের খাবার দেয়। যে আগে আমুখতা (পেছনের পড়া) শোনাতে পারে, সেই নির্বাচন করে এই সপ্তাতে কোথায় বেড়াতে যাবে। আর যে প্রথমে খতম করতে পারে, সেই ঠিক করে এবার বার্ষিক ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যাবে।

এভাবে তাদের মাঝে সামনের সবক আর পেছনের পড়া মুখস্থ করার প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়ে যায়।

বিশ্লেষণ : এমন মা যার হয় তার কি আর কিছুর দরকার আছে? এমন স্ত্রী যার আছে তার কি আর কোন ভাবনা থাকে? এমন বোন যার আছে তার চেয়ে কি আর কোন সুখী ভাই আছে? এমন কন্যা যাদের সন্তান হয় তাঁদের চেয়ে কি আর কোন গর্বিত বাবা-মা থাকতে পারে?

জ্ঞানী শিশু

১- এক মা তার ঘরের বিভিন্ন দরজার উপরে নেমপ্লেটের মত করে যিকির লিখে টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। কোনও কামরার দরজায় লেখা ‘সুবহানাল্লাহ কক্ষ’। কোনও কামরার দরজায় লেখা ‘আলহামদুলিল্লাহ কক্ষ’। আরেক কামরার দরজায় লেখা ‘আল্লাহু আকবার কক্ষ’। রান্নাঘরের দরজায় লেখা ‘ইস্তিগফার কক্ষ’। বৈঠকখানার দরজায় লেখা ‘তাহলীল কক্ষ’।

২- মেহমান এলে অবাক হয়। এটা কেন? মায়ের সহাস্য উত্তর:

-আমি আমার সন্তানদেরকে ‘জ্ঞানী’ বানাতে চাই।
-জ্ঞানী বানানোর সাথে, দরজার উপরে এসব লেখার কী সম্পর্ক?
-কুরআন কারীমে প্রকৃত জ্ঞানীকে উলুল আলবাব (أُو۟لُوا۟   ٱلۡأَلۡبَـٰبِ) বা জ্ঞানের অধিকারী বলা হয়েছে। এই জ্ঞানীরা কারা? আল্লাহ তা‘আলাই বলে দিচ্ছেন, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে, সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে’ (সূরা আলে ইমরান: ১৯১)। আমি চাই আমার সন্তানরাও সর্বাবস্থায় যিকিরে অভ্যস্ত হোক। তারা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হোক।

৩- এই মা যখন যে কামরায় প্রবেশ করতেন, সন্তানদের শুনিয়ে শুনিয়ে সেই যিকির করতে থাকতেন। সন্তান আর সন্তানদের পিতাও তার দেখাদেখি এই আমলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাহলীলের কামরায় প্রবেশ করেই শিশুরা সমস্বরে বলে উঠছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ইস্তিগফারের কামরায় প্রবেশ করেই আস্তাগফিরুল্লাহ বলে উঠছে। আস্তে আস্তে এমন হয়েছে, বাড়িতে মেহমান এলে, মেহমান শিশুরাও এ-কামরা ও-কামরায় হুটোপুটি করতে করতে যিকির যিকির খেলা শুরু করে।

৪- সন্তানদেরকে আল্লাহর যিকিরে অভ্যস্ত করে তোলার জন্য এই মায়ের প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। মা-ই হলেন সন্তানের প্রথম মাদরাসা।

ডিভাইস নয় সন্তানের হাতে বই তুলে দিন

দু’জন মা ও তাদের সন্তান। এক মায়ের হাতে ডিভাইস। আরেকজন মায়ের হাতে বই। ডিভাইস হাতে মা বই হাতে মাকে বলছেন:
-‘কিভাবে তোমার বাচ্চাকে ডিভাইসে গেইমস খেলা বাদ দিয়ে বই পড়াতে রাজি করালে?’
-বই হাতে মায়ের উত্তর ছিল: ‘বাচ্চারা কথা শুনে না, বাচ্চারা অনুকরণ করে’।

ছবিটা অনেক শিক্ষণীয়, আপনি বাচ্চাকে ডিভাইস মুক্ত করতে চাইলে সবার আগে আপনার নিজেকে ডিভাইস মুক্ত করতে হবে। আপনি হয়ত বুঝে শুনে ডিভাইস ইউজ করবেন যাতে আপনার ক্ষতি না হয়। কিন্তু বাচ্চারা এই বুঝ নিয়ে ডিভাইস ইউজ করবে না। তারা যাই সামনে আসবে তাই দেখবে তাই শিখবে আর তার আচরণে তাই ফুটে উঠবে। বাচ্চার ডিভাইসের প্রতি আসক্তির কারণ মা বাবা, অনেক সময় মা দিতে না চাইলেও বাবা বলেন আরে দাও না একটু, কান্না করছে তো। আবার এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। বাচ্চা মানুষ করা, তাকে ভিতর থেকে বিন্দু বিন্দু করে গড়ে তুলা শুধু মায়ের দায়িত্ব না, বাবারও দায়িত্ব। হতে পারে মায়ের টা বেশি। তবে বাবার টা কোন অংশে কম নয় !

একজন সফল স্কলারের গল্প

তুরস্কের বিশাল বড় একজন স্কলার বদিউজ্জামান নূর সাঈদ নুরসী তিনি তার নিজের ‘আত্মজিবনী’-তে লিখেছেন, আমার মা ছোট বেলায় যখন আমাকে দুধ পান করাতেন তখন তিনি ওযূ করে নিতেন। আমার মা পরবর্তীতে আমাকে গল্প করেছেন যে, বাবা! আমি কেন ওযূ করে নিতাম তুমি জান? আমি স্বপ্ন দেখতাম যে, তুমি বিশাল বড় একজন স্কলারে পরিণত হও। এই রকম একজন স্কলারকে, আমি তখন স্বপ্ন দেখতাম যে, আমার ছেলে এতো বড় স্কলার ওকে  আমি দুধ পান করাচ্ছি অপবিত্র অবস্থায়? না! এজন্য আমি ওযূ করে পবিত্র হয়ে তোমাকে দুধ পান করাতাম। কারণ আমার স্বপ্ন দেখার উদ্দেশ্য হল- তুমি একদিন অনেক বড় স্কলার হবে।  

বদিউযযামান নূর সাঈদ নুরসী বলেন, ‘আমি আমার মায়ের সেই যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের ফসল !!সুতরাং প্রত্যেক মাকে এরকম হতে হবে। এরকম স্বপ্ন দেখতে হবে। তো সেই স্বপ্ন দেখতে হলে তো তাকে শিক্ষিতা হতে হবে। তাকে প্রশিক্ষিত হতে হবে। তাকে সেভাবে গঠন করতে হবে।

শিশুদের শাসন-পদ্ধতি

শাসনে কোনটি ভুল কোনটি সঠিক? সন্তান কিছু করে বসেছে, অমনি বাবা ধেয়ে এলেন লাঠি নিয়ে। পিচ্চিটা ভয়ে দেয় ভোঁ দৌড়। এক ঘা, দুই ঘা খেয়ে খাটের এককোনে জড়োসড়ো হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। বাবার মারের আতঙ্ক তার ভেতরে খলমল করেই চলেছে। হঠাৎ ঘুমের ভেতর ধড়ফড়িয়ে উঠে চিৎকার করে যেই না কাঁদতে শুরু করে, বিরক্ত হয়ে অমনি মা দেন আরেক ঘা। পাশ থেকে বাবা বলে ওঠে, ‘বেশি আহ্লাদ দিয়ে ফেলেছ ওকে। বেশি আহ্লাদ দিয়ে দিয়ে তুমিই ওকে নষ্ট করেছ’। এবার আর যায় কোথায় তেড়েমেড়ে মা-ও শুনিয়ে দেন উচিত জবাব। নষ্ট তো তুমি করেছ! আহ্লাদ আহ্লাদে বড় করে এখন বেশি শাসন দেখাচ্ছ! ছেলেপেলে নষ্ট হবে না তো কী!’ এইবার বাবা হতাশ হয়ে নিজেকে শুধাল যে, ‘আমি কি আর বাবা হতে পারলাম! ছেলেপেলে মানুষ করা কি আর শিখে এসেছি! কেমনে ওগুলোরে মানুষ করব’। ওদিকে মা-ও পিটপিট করে আওড়ে চলেছে, ‘এ আপদ তো আমিই টেনে আনলাম! এতগুলো ছেলেপেলের কোন দরকার ছিল? একটা হলেই তো হতো!

সুধী পাঠক! সমাজের ঘরে ঘরে এসব চিত্র এখন নিত্যকার ঘটনা। ছেলেপুলে আর যাবে কোথায়? পাটাপুতা ঘষাঘষি মরিচের দফা শেষ। বাবা-মায়ের এই অবস্থা দেখে ওদেরও বিরক্তি চলে আসে। ভাবে, আমার জন্মই মনে হয় এরকম। বিষিয়ে ওঠা স্বভাব দিন দিন আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এসব ক্ষেত্রে প্রথম ভুলটি হলো নিজেদের মাঝে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের উপযুক্ততার ব্যাপারে সংশয়। অথচ সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও বুঝ-বুদ্ধির চেয়ে বেশি প্রয়োজন পরস্পর বোঝাপড়া ও মাতৃত্বের অনুভূতি। আর দ্বিতীয় ভুল হল- আদর কিংবা শাসন করতে গিয়ে পিতামাতা পরস্পরের প্রতি অভিযোগের ছোড়াছুড়ি করা।

শিশুদের ভুল সংশোধনের পদ্ধতি

ইমাম গাযযালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ভুলটা যদি প্রথমবার হয়, তাহলে উচিত হবে যথাসম্ভব তা এড়িয়ে যাওয়া। এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা বা লোক সম্মুখে প্রকাশ না করা চাই। একে তার দুঃসাহস হিসাবে চিত্রিত করার সুযোগ দেয়া যাবে না। বিশেষ করে শিশু যদি তা লুকোনোর ব্যাপারে খুব বেশি হতদন্ত হয়ে ওঠে, তা হলে তা এড়িয়ে চলাই সমীচীন। কারণ, অল্পতেই কিছু প্রকাশ করতে থাকলে শিশুদের দুঃসাহস বেড়ে যায়। পরবর্তীকালে সাজা হিসাবে লোকজনের সামনে প্রকাশ করলেও এটি তার কাছে পান্তাভাত মনে হতে থাকে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলো। এখন আর ছাড় দেয়া যাবে না। কিছু নিম্ন-তিরস্কার তো অবশ্যই করতে হবে। তবে তা যেন হয় একান্তে; লোকজন কেউ না দেখে ফেলে। তার পর তার অপরাধের গুরুতর দিকটা মননে ঢুকিয়ে দিতে হবে। বলতে হবে, ‘সাবধান! এই কাজ যদি আবার করেছো! এসব কাজে তোমাকে যেন আর না দেখি। তাহলে কিন্তু লোকজন ডেকে তোমার বিচার করব’।[১]

তাই বলে শাসন একটু করতে গিয়ে পচা কথা বলতেই থাকলেন- এটি আবার অনুচিত। কেননা, বেশি বললে এসব কথা কানে সওয়া হয়ে যায়। অপরাধ তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। অন্তরে কথার প্রভাব ফিকে হয়ে যায়। অপরাধ তার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। অন্তরে কথার প্রভাব ফিকে হয়ে যায়। বাবা কথায় হবে সংযমী ও গুরুগম্ভীর। সারাক্ষণ বকবক না করে বরং মাঝে মাঝে একটি দু’টি গর্জন দেবেন, তাতেই কাজ হয়ে যাবে। মায়ের কাজ হলে- শিশুকে বাবার শাসনের কথা মনে করিয়ে দেবে। অন্যায় কাজ করলে মৃদু রাগডাক করবে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে যা বলার বলে দিতে হবে। জিইয়ে রাখা যাবে না। তবে দেখতে হবে সীমালঙ্ঘন যেন না হয়ে যায়। তার কাছে যেন যুল্ম মনে না হতে থাকে। তার সম্মানবোধে যেন ক্ষত তৈরি না হয়ে যায়। সীমাতিরিক্ত কঠোরতার মন্দ পরিণতির কথা তুলে ধরতে গিয়ে ইবনে খালদুন (রাহিমাহুল্লাহ)  বলেন, ‘ছাত্র, গোলাম বা খাদেম যেই হোক, তার শাসন যদি কঠোরতার আর ঝাড়িঝুড়ির ওপর দিয়েই হয়, তাহলে একপর্যায়ে সে কঠোরতার নিচে চাপা পড়ে যায়। মন ছোট হয়ে যায়। হারিয়ে যায় কাজের তেজ-উদ্যম। পরিণত হয় অলসতার গ্রাসে। কখন জানি হঠাৎ করে ক্রেধের খড়্গ নামে এই ভয়ে ধীরে ধীরে মিথ্যা আর অসৎ পন্থা অবলম্বনে বাধ্য হয়। উন্মুক্ত হয়ে যায় তার সামনে ধোঁকা আর প্রবঞ্চনার পথ’।[২]

শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে নবী (ﷺ)-এর শিক্ষা হল- তাদের মাঝে পারিবারিক শাসন ও ভুলের বিকল্প শাস্তি ও অনুভূতি সঞ্চারিত রাখা। তিনি বলেন, ‘তোমরা ঘরওয়ালাদের দৃষ্টিসীমায় চাবুক ঝুলিয়ে রাখো। কারণ, এটিই তার শাসন’।[৩] অনেক ক্ষেত্রে চাবুক ঝুলালেই ওটা ব্যবহারের কাজ হয়ে যায়। মারধর করার চেয়ে বরং একটু শক্ত করে বকা দেয়া গেলেই তা শিশুদের সংশোধনে বেশি কার্যকরী। শাসন-শাস্তি যত বেশি হতে থাকে, শিশুদের ওপরে তার প্রভাব ততটা কমে যায়। কখনো তো এটা শিশুদের অবাধ্যতা ও অপরাধ বৃদ্ধির পথ খুলে দেয়। শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে বয়সের উপযুক্ততাও খুব খেয়াল রাখতে হবে।

সুতরাং দু’বছরের শিশুকে মারধর বা ধমক দেয়া কখনোই ইনসাফ হতে পারে না। তার সামনে বরং ভ্রু কুঁচকে তাকানোটাই যথেষ্ট। এ বয়সের শিশুরা শাসন-শাস্তির অর্থ কী, তাই তো জানে না। তাহলে তাকে মারধর করে লাভটা কী? বয়স তিন বছরে পড়লে তখন কিছুটা শাসন শুরু করা যেতে পারে। অযাচিত কোন কাজ করে বসলে, দু’য়েকটা খেলনাপাতি কেড়ে নিলেই হবে। ব্যস! এটাই ওর শাস্তি।[৪] তবে চেহারায় আঘাত করার কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘কারোর যদি প্রহার করতেই হয়, তাহলে সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে’।[৫] একইভাবে ‘এই মিথ্যুক! ওই বদমাইশ!’ এসব বলে অপমান করা বা লোকের সামনে বলে বেড়ানো খুবই গর্হিত কাজ। এ ধরনের আচরণ অবশ্যই পরিহার করতে হবে। কোন অপরাধ যদি প্রথমবার হয়ে থাকে, তাহলে হালকা শাসনেই ক্ষান্ত থাকতে হবে। বাবা-মায়ের কোন একজন শাসন করলে, অন্যের উচিত সেটাতে ভিন্নমত পোষণ না করা। অন্যথা এই শাসনে কোন কাজ উদ্ধার হবে না। সঙ্গে সঙ্গে শাসনের পদ্ধতিটাও এমন হতে হবে যে, আপনার শিশু যাতে বুঝতে পারে, এই শাসন তার কল্যাণেই হয়েছে। তার সংশোধন বা শাস্তি দেয়ার কোন উদ্দেশ্য এখানে নেই।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* মাদারটেক, ঢাকা।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-মুহাযযাব মিন ইহয়াউ ঊলূমিদ্দীন, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫২।
[২]. মুকাদ্দিমা ইবনু খালদুন, পৃ. ১০৪৩।
[৩]. হাকিম, আল-মুসতাদরাক আলাছ ছহীহাইন, হা/৬৮৩০।
[৪]. মুহাম্মাদ নাবিহ আল-গাবরা, আল-মুশকিলাতুস সুলুকিয়া ‘ইনদাল আতফাল।
[৫]. আবূ দাঊদ, হা/২১৪২, সনদ হাসান ছহীহ।




প্রসঙ্গসমূহ »: পরিবার নারীমঞ্চ
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (শেষ কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৫ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় কিস্তি) - তামান্না তাসনীম
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৩য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৮ম কিস্তি) - তিনা খান
ইসলামিক প্যারেন্টিং (শেষ কিস্তি) - তিনা খান
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৭ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (২য় কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ