শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন

প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা 

- শায়খ আব্দুল গাফফার মাদানী* 


(৩য় কিস্তি) 

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য আযান এবং ইক্বামত দেয়ার বিধান কি?

উত্তর : মহিলাদের জন্য আযান এবং ইক্বামত দেয়ার বিষয়ে কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে আযান এবং ইক্বামত দেয়া থেকে নিষেধ করার বিষয়েও কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়নি।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর আযান ও ইক্বামত দেয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছ ছহীহ নয়। অবশ্য বায়হাক্বীতে আছে, ‘আম্র বিন আবী সালামাহ বলেন, আমি ছাওবানকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ‘মেয়েরা কি ইক্বামত দিতে পারে?’ উত্তরে তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনার কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘মকহুল বলেছেন, যদি মহিলারা আযান-ইক্বামত দেয় তবে তা আফযাল। আর যদি শুধু ইক্বামত দেয়, তবে তাও যথেষ্ট’। ছাওবান বলেন, যুহরী উরওয়া হতে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আয়েশা) বলেছেন, ‘আমরা বিনা ইক্বামতেই সালাত পড়তাম’। (এর সনদটি হাসান।)

ইমাম বায়হাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথমোক্ত আছারের সাথে যদি এই আছার ছহীহ হয়, তাহলে উভয়ের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা নেই। কারণ, হতে পারে যে, জায়েয বর্ণনার উদ্দেশ্যে তিনি উভয় প্রকারের আমল (কখনো এরূপ, কখনো ঐরূপ) করেছেন। আর আল্লাহই অধিক জানেন।’

আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ ব্যাপারে সঠিক অভিমত হল নবাব ছিদ্দীক হাসান খানের; তিনি বলেছেন, ‘...আর প্রকাশ যে, মহিলারা আমলে পুরুষদের মতই। কারণ, মহিলারা পুরুষদের সহোদরা। পুরুষদেরকে যা করতে আদেশ হয়, সে আদেশ মহিলাদের উপরেও বর্তায়। পক্ষান্তরে তাদের পক্ষে আযান-ইক্বামত ওয়াজেব না হওয়ার ব্যাপারে কোন গ্রহণযোগ্য দলীল নেই। আযান না থাকার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছের সনদের কিছু বর্ণনাকারী পরিত্যক্ত; যাদের হাদীছ দলীলযোগ্য নয়। সুতরাং মহিলাদেরকে সাধারণ এ নির্দেশ থেকে খারিজ করার মত কোন নির্ভরযোগ্য দলীল থাকলে উত্তম; নচেৎ ওরাও পুরুষদের মতই’।[১]

হাফসা বিনতে সীরীন তিনি ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করতেন।[২] অতএব যদি কোন নারী ইক্বামত দিয়ে ছালাত আদায় করে অথবা ইক্বামত ছাড়াই আদায় করে উভয়ের ছালাত ছহীহ।

প্রশ্ন : মহিলারা কয়টি কাপড়ে ছালাত আদায় করবে?

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমন কোন দলীল বর্ণিত হয়নি যা প্রমাণ করবে যে, মহিলারা কয়টি কাপড় পরিধান করবে। অতএব এরই ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য শুধু এমন একটি কাপড় যা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে নিবে তাতে ছালাত আদায় করা জায়েয আছে। এইদিকে ইঙ্গিত করে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার গ্রন্থে অধ্যায় নিয়ে এসেছেন

بَاب فِي كَمْ تُصَلِّي الْمَرْأَةُ فِي الثِّيَابِ؟ وَقَالَ عِكْرِمَةُ لَوْ وَارَتْ جَسَدَهَا فِي ثَوْبٍ لَأَجَزْتُهُ

‘নারীগণ ছালাত আদায় করতে কয়টি কাপড় পরবে? ‘ইকরিমাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,  যদি একটি কাপড়ে মহিলার সমস্ত শরীর ঢেকে যায় তবে তাতেই ছালাত জায়িয হবে’।[৩]

أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللهِ  يُصَلِّي الْفَجْرَ فَيَشْهَدُ مَعَهُ نِسَاءٌ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ مُتَلَفِّعَاتٍ فِي مُرُوطِهِنَّ ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ مَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ

আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফজরের ছালাত আদায় করতেন আর তাঁর সঙ্গে অনেক মুমিন মহিলা চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হতো। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতো। আর তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না।[৪]

উল্লেখিত হাদীছে এটাই বোঝা যায় যে, নারীদের গায়ে চাদর ছাড়া অন্য কোন কাপড় ছিল বলে জানা যায় না।

প্রশ্ন : জিলবাব (جلباب) বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : উক্ত শব্দটি সূরা আল-আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের অংশবিশেষ আয়াতের جلابيب শব্দটি جلباب এর বহুবচন। ‘জিলবাব’ অর্থ বিশেষ ধরনের লম্বা চাদর।[৫] এই চাদরের আকার-আকৃতি সম্পর্কে  ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘এই চাদর ওড়নার উপরে পরিধান করা হয়’। ইমাম মুহাম্মদ ইবনু সীরীন বলেন, আমি আবীদা আস-সালমানীকে এই আয়াতের উদ্দেশ্য এবং জিলবাবের আকার-আকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মস্তকের উপর দিক থেকে চাদর মুখমণ্ডলের উপর লটকিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে ফেললেন এবং কেবল বামচক্ষু খোলা রেখে إدناء ও جلباب এর তাফসীর কার্যতঃ দেখিয়ে দিলেন। আর নিজের উপর চাদরকে নিকটবর্তী করার অর্থ চাদরকে মস্তকের উপরদিক থেকে লটকানো। সুতরাং চেহারা, মাথা ও বুক ঢেকে রাখা যায় এমন চাদর পরিধান করা উচিত।

ছাহাবা ও তাবেঈদের যুগের পর ইসলামের ইতিহাসে যত বড় বড় মুফাসসির অতিক্রান্ত হয়েছেন তারা সবাই একযোগে এ আয়াতের এ অর্থই বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে জারীর তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ভদ্র ঘরের মেয়েরা যেন নিজেদের পোশাক আশাকে বাদীদের মতো সেজে ঘর থেকে বের না হয়। তাদের চেহারা ও কেশদাম যেন খোলা না থাকে। বরং তাদের নিজেদের ওপর চাদরের একটি অংশ লটকে দেয়া উচিত। ফলে কোন ফাসেক্ব তাদেরকে উত্যক্ত করার দুঃসাহস করবে না’।[৬]

ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আরবদের পরিভাষায় “জিলবাব” হল যেটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন তা হলো এমন কাপড় যা পুরা শরীর ঢেকে নেয়’।[৭]

প্রশ্ন : ছালাতরত অবস্থায় মহিলাদের মুখমণ্ডল খোলা রাখার বিধান কী?

উত্তর : নারীদের জন্য ছালাতরত অবস্থায় মুখমণ্ডল খোলা রাখা কর্তব্য। তবে গায়ের মাহরাম পুরুষ উপস্থিত থাকলে বা পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা থাকলে মুখমন্ডল ঢেকে ছালাত আদায় করতে পারে।[৮] ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ)  বলেছেন, ‘স্বাধীন নারীর পুরো শরীর ছালাতে ঢেকে রাখা যরূরী, যদি তার কোনো অংশ খুলে যায় ছালাত শুদ্ধ হবে না, তবে কম হলে সমস্যা নয়। এ কথাই বলেছেন ইমাম মালিক, আওযা‘ঈ ও শাফে‘ঈ’।[৯]

প্রশ্ন : ছালাতরত অবস্থায় মহিলাদের চূল ও মাথা খোলা রাখার বিধান কী?

উত্তর : ছালাতরত অবস্থায় মহিলাদের জন্য ওয়াজিব হল মাথা এবং চুল ঢেকে রাখা। হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‏ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ‘মহিলারা হচ্ছে আবরণীয় বস্তু’।[১০]

ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) ইজমা বর্ণনা করেছেন যে, ‘স্বাধীন নারী যখন ছালাত আদায় করবে তখন তার জন্য ওয়াজিব হলো, সে তার সম্পূর্ণ মাথা ঢেকে ছালাত আদায় করবে। অন্যথায় সে মাথা খুলে ছালাত আদায় করলে পুনরায় তাকে ছালাত আদায় করতে হবে।[১১]

প্রশ্ন : যে সমস্ত নারীদের এখনো ঋতু (হায়েজ) শুরু হয়নি (অর্থাৎ অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের জন্য কি ছালাতে ওড়না পরিধান করা ওয়াজিব?

উত্তর : এ বিষয়ে আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ ‏ ‘প্রাপ্ত বয়সী মহিলারা ওড়না ছাড়া ছালাত আদায় করলে তা আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না’।[১২] উক্ত হাদীছে শুধু প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ওড়নার বিধান। পক্ষান্তরে যারা নাবালেগ তাদের জন্য ওয়াজিব নয়।

আব্দুর রাযযাক ইবনে জুরায়েজ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আমি ‘আতা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা কি ছালাত আদায় করবে? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, শুধু তাদের জন্য ওড়না ছাড়াই দেহের বস্ত্রই যথেষ্ট হবে।[১৩]

প্রশ্ন : যদি কোন নারীর শুধু একটি কাপড় থাকে তাহলে সে কিভাবে ছালাত আদায় করবে?

উত্তর : শায়খ ইবনু উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মহিলাদের জন্য তাদের লজ্জাস্থান ঢাকা যরূরী যদিও সেটি একটি কাপড়েও হয়, যাতে করে তার দুই হাত দুই পা এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গ বের না হয়’।[১৪]

প্রশ্ন : ছালাতের মধ্যে মহিলাদের পা বের হওয়ার বিধান কী?

উত্তর : এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে। হাদীছে এসেছে, আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‏ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ‘মহিলারা হচ্ছে আবরণীয় বস্তু’।[১৫]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَكَيْفَ يَصْنَعْنَ النِّسَاءُ بِذُيُولِهِنَّ قَالَ: ‏ ‏يُرْخِينَ شِبْرًا فَقَالَتْ إِذًا تَنْكَشِفَ أَقْدَامُهُنَّ، قَالَ: ‏ ‏فَيُرْخِينَهُ ذِرَاعًا لاَ يَزِدْنَ عَلَيْهِ‏

ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তাঁর কাপড় গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করে, আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না। উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তখন বললেন, মেয়েরা তাঁদের আচলকে কী করবে? তিনি বললেন, এক বিঘৎ নিচে নামিয়ে দিবে। উম্মু সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, তা হলে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে যেতে পারে? তিনি বললেন, তা হলে এক হাত নিচে ঝুলিয়ে দিবে। এর বেশী করবে না।[১৬]

উক্ত হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সর্বাবস্থায় পা ঢেকে রাখা ওয়াজিব। যেহেতু প্রথম হাদীছটি আম এটি কোন অবস্থার সাথে খাছ নয়। আর দ্বিতীয় হাদীছটি যদিও বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে, তদুপরি সেটা গায়ের মাহরাম সামনে ছালাত আদায় করলে তাকে অবশ্যই পা ঢেকে আদায় করতে হবে এটাই তার প্রমাণ বহন করে (আল্লাহ অধিক জ্ঞাত)।

প্রশ্ন : দাসীর জন্য কি ছালাতে চুল ঢাকা ওয়াজিব?

উত্তর : দাসীর জন্য ছালাতে মাথা ঢাকা যরূরী নয়, এ প্রসঙ্গে স্বাধীন এবং দাসীর বিধানের পার্থক্য রয়েছে।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَقَامَ النَّبِيُّ  بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةِ ثَلاَثًا يُبْنٰى عَلَيْهِ بِصَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلٰى وَلِيمَتِه فَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلاَ لَحْمٍ أَمَرَ بِالأَنْطَاعِ فَأُلْقِيَ فِيهَا مِنَ التَّمْرِ وَالأَقِطِ وَالسَّمْنِ فَكَانَتْ وَلِيمَتَه فَقَالَ الْمُسْلِمُونَ إِحْد‘ى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ أَوْ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُه فَقَالُوا إِنْ حَجَبَهَا فَهِيَ مِنْ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ وَإِنْ لَمْ يَحْجُبْهَا فَهِيَ مِمَّا مَلَكَتْ يَمِينُه فَلَمَّا ارْتَحَلَ وَطّٰى لَهَا خَلْفَه وَمَدَّ الْحِجَابَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তিনদিন মদীনা এবং খায়বরের মধ্যবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ছাফিয়্যাহ বিনতে হুইয়াই (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সঙ্গে মিলিত হন। এরপর আমি মুসলিমদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত করি, তাতে রুটি ও মাংস ছিল না। নবী (ﷺ) চামড়ার দস্তরখান বিছাবার জন্য আদেশ করলেন এবং তাতে খেজুর, পনির এবং মাখন রাখা হল। এটাই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ওয়ালীমা। মুসলিমেরা একে অপরকে বলতে লাগল, সাফিয়্যাহ কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হিসাবে গণ্য হবেন, না ক্রীতদাসী হিসাবে। সকলে বলল, নবী (ﷺ) যদি তাকে পর্দার ভিতরে রাখেন তাহলে তিনি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের মধ্যে গণ্য হবেন। আর যদি পর্দায় না রাখেন, তাহলে ক্রীতদাসী হিসাবে গণ্য হবে। এরপর যখন নবী (ﷺ) রওয়ানা হলেন, তাকে উটের পিঠে তাঁর পেছনে বসালেন এবং তার জন্য লোকদের থেকে পর্দার ব্যবস্থা করলেন।[১৭]

উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, স্বাধীন এবং দাসীর বিধানের পার্থক্য রয়েছে।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

[১]. আর-রওযাতুন নাদিয়্যাহ্‌ ১ম খণ্ড, পৃ. ৭৯; সিলসিলা যঈফাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৭১।
[২]. জামে‘ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯১।
[৩]. ছহীহ বুখারী, কিতাবুছ ছালাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৮৪।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৭২; ছহীহ মুসলিম. হা/৬৪৫।
[৫]. শামসুদ্দীন আল-কুরতুবী, আল-জামিঊ লি আহকামিল কুরআন, ১৪শ খণ্ড, পৃ. ২৪৩; মুহাম্মাদ আশ-শাওকানী, ফাতহুল ক্বাদীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৪৯।
[৬]. জামিঊল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন, ২২তম খণ্ড, পৃ. ৩৩।
[৭]. জামে‘ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯৩।
[৮]. বায়হাক্বী, হা/৮৮৩২; ইরওয়া, হা/১০২৩;  মিশকাত, হা/২৬৯০, ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৩০; ইবনু বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৭১।
[৯]. আল-মুগনী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩২৮।
[১০]. তিরমিযী, হা/১১৭৫।
[১১]. জামে‘ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯৫।
[১২]. তিরমিযী, হা/ ৩৭৭ আবূ দাঊদ, হা/৬৪১।
[১৩]. জামে‘ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯৬।
[১৪]. শারহুল মুমতে’, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭৪; মাজমূউ’ল ফাতাওয়া, ১২তম খণ্ড, পৃ. ৩০০।
[১৫]. তিরমিযী, হা/১১৭৫।
[১৬]. তিরমিযী, হা/১৭৩১; ইবনু মাজাহ, হা/৩৫৮০, ৩৫৮১, সনদ হাসান ছহীহ।
[১৭]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১৫৯।




প্রসঙ্গসমূহ »: নারীমঞ্চ
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৮ম কিস্তি) - তিনা খান
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (২য় কিস্তি) - তামান্না তাসনীম
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৭ম কিস্তি) - তিনা খান
সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা - আল-ইখলাছ ডেস্ক
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৫ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা (৩য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা (২য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
ইসলামিক প্যারেন্টিং (২য় কিস্তি) - তিনা খান
ইসলামিক প্যারেন্টিং (শেষ কিস্তি) - তিনা খান
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (শেষ কিস্তি) - তামান্না তাসনীম

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ