বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা

 -শায়খ আব্দুল গাফফার মাদানী* 


(৫ম কিস্তি)  

প্রশ্ন : মহিলারা কি মুসলিমদের সাথে ঈদের ছালাতের জন্য ঈদের মাঠে যাওয়া বৈধ কি?

উত্তর : হ্যাঁ, অবশ্যই। উলামায়ে কিরাম এটাকে যরূরী বলেছেন। তারা যাবে। পাঁচওয়াক্ত ছালাত ও জুমু‘আর জামা‘আতে শরীক হওয়ার জন্য মেয়েদেরকে নবী (ﷺ) অনুমতি দিয়েছেন। আর ঈদের ছালাতের যাওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীছে আছে যে,

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ نُخْرِجَ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى الْعَوَائِقَ وَالْحَيْضَ وَذَوَاتِ الْخُدُرِ فَأَمَّا الْحَيْض فَيَعْتَزِلن الصَّلَاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةِ الْمُسْلِمِيْنَ قَالَتْ يَارَسُوْلَ اللهِ إِحْدَانَا لَا يَكُوْنُ لَهَا حِلْبَابَ قَالَ لتلبسَهَا أُخْتِهَا

উম্মে আতীয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহিনীসহ সকল মহিলাকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার ছালাতে শরীক হওয়ার জন্য ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাই। এমনকি মাসিক হায়েয চলাকালীন মেয়েরাও (ঈদগাহে হাজির হবে। তবে তারা) ছালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু ঈদের কল্যাণকর অবস্থা তারা প্রত্যক্ষ করবে এবং মুসলিমদের সাথে দু‘আয় ঋতুবতী মহিলারাও শরীক হবে। উম্মে আতীয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের মধ্যে কারো কারো উড়না নেই (বড় চাদর নেই, যা পরিধান করে ঈদগাহে যেতে পারে)। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার ওড়না নেই সে তার অন্য বোন থেকে (ধার করে) ওড়না নিয়ে তা পরিধান করে ঈদগাহে যাবে।[১]

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্ণিত এ হাদীছে যে, ঋতুবতী মহিলার উপর ছালাত আদায় ফরয নয় তাকেও রাসূল (ﷺ) ঈদগাহে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার উড়না নেই তাকেও একটা উড়না ধার করে নিয়ে ঈদের ছালাতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হাদীছ দ্বারা অনেক বিজ্ঞ উলামায়ে কিরাম মেয়েদের ঈদের ছালাতে যাওয়া ওয়াজিব বলেছেন। যেসব লোক একথা বলেন যে, বর্তমান যুগ ফিতনার যুগ, মেয়েদের নিরাপত্তা নেইÑ এসব কথা বলে মেয়েদেরকে ঈদের ছালাত থেকে বঞ্চিত রাখছেন। তাদের এ অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তারা যেন প্রকারান্তরে এ হাদীছের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। শেষ যামানার ফিতনা বাড়বে একথা নবী (ﷺ) আমাদের চেয়ে বেশি অবগত থাকার পরও মহিলাদেরকে ঈদের ছালাতে যেতে হুকুম দিয়েছেন। আর এ হুকুম সুন্নাত নয়, বরং ওয়াজিব। মেয়েরা ঈদের ছালাতে গেলে পথিমধ্যে তাকবীর বলা, ছালাতে শরীক হওয়া, বয়ান ও ওয়ায-নসীহত শোনার সৌভাগ্য তাদের হয়ে থাকে। কাজেই ক্ষতির যে আশঙ্কা করা হয় এর চেয়ে তাদের উপকারের দিকই বেশি। তাই সম্মানিত ঈদগাহ কর্তৃপক্ষের উচিতÑ তারা যেন মেয়েদের জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরি করে দেন আর মেয়েরাও যেন সম্পূর্ণ শরঈ পর্দা করে অত্যন্ত শালীনভাবে পথ চলেন, ঈদগাহে যাতায়াত করেন। কাউকে ডিস্টার্ব না করেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে ছহীহ হাদীছ আমল করার ও হক পথে থাকার তাওফীক দান করুন- আমীন!

প্রশ্ন : ঈদের দিনে মহিলাদের তাকবীর পাঠ করতে পারবে কি?

উত্তর : হ্যাঁ, মহিলারা ঈদের তাকবীর পাঠ করতে পারবে।

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيْدِ، حَتَّى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا، حَتَّى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ، فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيْرِهِمْ، وَيَدْعُوْنَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُوْنَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهُ‏.‏

উম্মে আতিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেয়া হত। এমনকি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত এবং তাদের দু‘আর সাথে দু‘আ করতÑ তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা।[২]

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ بِالْخُرُوْجِ فِي الْعِيْدَيْنِ وَالْمُخَبَّأَةُ وَالْبِكْرُ قَالَتِ الْحُيَّضُ يَخْرُجْنَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ يُكَبِّرْنَ مَعَ النَّاسِ

উম্মে আতিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমাদেরকে উভয় ঈদে যাওয়ার জন্য আদেশ করা হত। পর্দানশীল ও কুমারী মহিলাদেরকেও। রাবী বলেন, ঋতুমতী মহিলারাও বের হবে কিন্তু দাঁড়াবে পুরুষের পেছনে এবং সকলের সাথে তাকবীর বলবে।[৩] উক্ত হাদীছগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নারীরাও পুরুষের মতই এই তাকবীর পাঠ করতে পারবেন।

প্রশ্ন : ঈদের দিন ইমাম সাহেব মহিলাদের (আলাদা ভাবে) নসিহত করতে পারবেন?

উত্তর : এ বিষয়ে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তার স্বীয় গ্রন্থ ‘ছহীহুল বুখারী’-তে অধ্যায় রচনা করেছেন : بَاب مَوْعِظَةِ الإِمَامِ النِّسَاءَ يَوْمَ الْعِيْدِ ‘ঈদের দিন নারীদের প্রতি ইমামের নাসীহাত করা’। অতঃপর নিম্নোক্ত হাদীছ উল্লেখ করেছেন।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ الْفِطْرِ، فَصَلَّى فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ ثُمَّ خَطَبَ، فَلَمَّا فَرَغَ نَزَلَ فَأَتَى النِّسَاءَ، فَذَكَّرَهُنَّ وَهْوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى يَدِ بِلَالٍ وَبِلَالٌ بَاسِطٌ ثَوْبَهُ، يُلْقِي فِيْهِ النِّسَاءُ الصَّدَقَةَ‏.‏ قُلْتُ لِعَطَاءٍ زَكَاةَ يَوْمِ الْفِطْرِ قَالَ لَا وَلَكِنْ صَدَقَةً يَتَصَدَّقْنَ حِيْنَئِذٍ، تُلْقِي فَتَخَهَا وَيُلْقِيْنَ‏.‏ قُلْتُ أَتُرَى حَقًّا عَلَى الْإِمَامِ ذَلِكَ وَيُذَكِّرُهُنَّ قَالَ إِنَّهُ لَحَقٌّ عَلَيْهِمْ، وَمَا لَهُمْ لَا يَفْعَلُوْنَهُ

জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করলেন, পরে খুত্ববাহ দিলেন। খুত্ববাহ শেষে নেমে নারীদের নিকট আসলেন এবং তাঁদের নাসীহাত করলেন। তখন তিনি বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতের উপর ভর দিয়ে ছিলেন এবং বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর কাপড় প্রসারিত করে ধরলেন। এতে নারীগণ দান সামগ্রী ফেলতে লাগলেন আমি (ইবনু জুরায়জ) ‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ কি ‘ঈদুল ফিতরের ছাদাক্বাহ? তিনি বললেন না, বরং এ সাধারণ ছাদাক্বাহ, যা তাঁরা ঐ সময় দিচ্ছিলেন। কোন মহিলা তাঁর আংটি দান করলে অন্যান্য নারীরাও তাঁদের আংটি দান করতে লাগলেন। আমি ‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে (আবার), জিজ্ঞেস করলাম, মহিলাগণকে উপদেশ দেয়া কি ইমামের জন্য যরূরী? তিনি বললেন, অবশ্যই, তাদের উপর তা যরূরী। তাঁদের (অর্থাৎ ইমামগণের) কী হয়েছে যে, তাঁরা তা করবেন না?[৪]

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَابِسٍ، ‏‏‏‏‏‏قال:‏‏‏‏ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ لَهُ رَجُلٌ:‏‏‏‏ شَهِدْتَ الْخُرُوْجَ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ ؟ قَالَ:‏‏‏‏ نَعَمْ، ‏‏‏‏‏‏وَلَوْلَا مَكَانِيْ مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ، ‏‏‏‏‏‏يَعْنِيْ مِنْ صِغَرِهِ أَتَى الْعَلَمَ الَّذِيْ عِنْدَ دَارِ كَثِيْرِ بْنِ الصَّلْتِ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ أَنْ يَتَصَدَّقْنَ،‏‏‏‏ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُهْوِي بِيَدِهَا إِلَى حَلَقِهَا تُلْقِي فِيْ ثَوْبِ بِلَالٍ 

আব্দুর রহমান ইবনু আবিস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে শুনেছি যে, তাকে এক ব্যক্তি বলল, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হওয়ার সময় তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; যদি তাঁর কাছে আমার কোন সম্মান না থাকত, আমি তার নিকট উপস্থিত থাকতে পারতাম না। অর্থাৎ তার অল্পবয়স্ক হওয়ার দরুন। তিনি (ﷺ) কাছীর ইবনু ছালত-এর বাড়ির নিকটস্থ চিহ্নিত স্থানে আসলেন এবং ছালাত আদায় করলেন ও খুত্ববাহ দিলেন। অতঃপর মহিলাদের নিকট এসে তাদের ওয়ায-নসীহত করলেন এবং ছাদাক্বার আদেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের হস্তসমূহ স্বীয় অলংকারাদির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে তারা তা বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাপড়ে ছুঁড়ে মারতে লাগল।[৫]

প্রশ্ন : ঈদের দিন ছোট্ট বাচ্চারা কি সঙ্গীত সুরেলা আওয়াজ আয়োজন করতে পারবে?

উত্তর : হ্যাঁ, ইসলামী সংগীত যা অর্থ বহু এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধ না হয় তা পরিবেশন করা যাবে। হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثَ، فَاضْطَجَعَ عَلَى الْفِرَاشِ وَحَوَّلَ وَجْهَهُ، وَدَخَلَ أَبُوْ بَكْرٍ فَانْتَهَرَنِيْ وَقَالَ مِزْمَارَةُ الشَّيْطَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ ‏’‏دَعْهُمَا‘‏ فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا‏، وَكَانَ يَوْمَ عِيْدٍ يَلْعَبُ السُّودَانُ بِالدَّرَقِ وَالْحِرَابِ، فَإِمَّا سَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَإِمَّا قَالَ ‏"‏تَشْتَهِينَ تَنْظُرِينَّ"‏‏ فَقُلْتُ نَعَمْ، فَأَقَامَنِيْ وَرَاءَهُ خَدِّيْ عَلَى خَدِّهِ، وَهُوَ يَقُوْلُ ‏"‏دُوْنَكُمْ يَا بَنِيْ أَرْفِدَةَ"‏‏ حَتَّى إِذَا مَلِلْتُ قَالَ ‏"‏حَسْبُكِ"‏‏ قُلْتُ نَعَمْ‏ قَالَ ‏"‏فَاذْهَبِي"‏‏.‏

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ) আমার কাছে এলেন তখন আমার নিকট দু’টি মেয়ে বু‘আস যুদ্ধ সংক্রান্ত কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখলেন। এ সময় আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এলেন, তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, শয়তানী বাদ্যযন্ত্র (দফ্) বাজানো হচ্ছে নবী (ﷺ) এর কাছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের ছেড়ে দাও। তারপর তিনি যখন অন্য দিকে ফিরলেন তখন আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম এবং তারা বের হয়ে গেল।  আর ঈদের দিন সুদানীরা বর্শা ও ঢালের দ্বারা খেলা করত। আমি নিজে (একবার) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কছে আরয করেছিলাম অথবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তুমি কি তাদের খেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর তিনি আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গাল ছিল তার গালের সাথে লাগান। তিনি তাদের বললেন, তোমরা যা করতে ছিলে তা করতে থাক, হে বনু আরফিদা। পরিশেষে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তথন তিনি আমাকে বললেন, তোমার কি দেখা শেষ হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তা হলে চলে যাও’।[৬]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا جَارِيَتَانِ فِيْ أَيَّامِ مِنًىْ تُدَفِّفَانِ وَتَضْرِبَانِ وَفِيْ رِوَايَةٍ: تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتِ الْأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثَ وَالنَّبِيُّ ﷺ مُتَغَشٍّ بِثَوْبِهِ فَانْتَهَرَهُمَا أَبُوْ بَكْرٍ فَكَشَفَ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ: دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيْدٍ وَفِيْ رِوَايَةٍ: يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيْدًا وَهَذَا عِيْدَنَا

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, (বিদায় হাজ্জে) মিনায় অবস্থানকালে আবূ বকর তাঁর নিকট গেলেন। সে সময় আনছারদের দু’জন বালিকা সেখানে গান গাচ্ছিল ও দফ্ বাজাচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা বু‘আস যুদ্ধে আনছার গোত্রের লোকেরা যে সব গান গেয়ে গর্ব করেছিল সে সব গান আবৃত্তি করছিল। এ সময় নবী (ﷺ) চাদর মুড়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছিলেন। এ অবস্থা দেখে আবূ বকর বালিকা দু’টিকে ধমক দিলেন। এ সময় নবী (ﷺ) কাপড় হতে মুখ খুলে বললেন, হে আবূ বকর ওদেরকে ছেড়ে দাও। এটা ঈদের দিন। অন্য বর্ণনায় আছে, হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির একটা ঈদের দিন আছে। আর এটা হলো আমাদের ঈদের দিন।[৭]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ أَبُوْ بَكْرٍ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الْأَنْصَارِ تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتْ بِهِ الْأَنْصَارُ فِيْ يَوْمِ بُعَاثٍ قَالَتْ وَلَيْسَتَا بِمُغَنِّيَتَيْنِ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ أَبِمَزْمُوْرِ الشَّيْطَانِ فِيْ بَيْتِ النَّبِيِّ وَذَلِكَ فِيْ يَوْمِ عِيْدِ الْفِطْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ يَا أَبَا بَكْرٍ «إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا».

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আবূ বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট আসেন। তখন আমার নিকট দু’টি আনছার বালিকা উপস্থিত ছিল। তারা বু‘আস যুদ্ধে আনছারদের মুখে উচ্চারিত কবিতাগুলো গানের সুরে আবৃত্তি করছিল। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, শয়তানের বাঁশী (বাদ্যযন্ত্র) নবী (ﷺ) ঘরে? এ ঘটনাটি ছিল ঈদুল ফিতরের দিনের। নবী (ﷺ) বলেন, হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতিরই ঈদ (আনন্দ উৎসব) রয়েছে। আর এটাই হচ্ছে আমাদের ঈদ।[৮] উক্ত হাদীছগুলো থেকে শিক্ষণীয় বিষয়-

  • পরিবারের ওপর উদারতা প্রকাশ করবেন, যাতে পরিবারে সদস্যরা চিত্তবিনোদন ও আনন্দোৎসব করতে পারে। আর সে বিনোদন হবে ইসলামী ও সুস্থ বিনোদন।
  • ঈদের দিনগুলো আনন্দ প্রকাশ করা দ্বীনেরই প্রতীক।
  • লোকদের জন্য বৈধ তার মেয়ের কাছে যাওয়া স্বামীর নিকট থাকা অবস্থায় এবং স্বামীর উপস্থিতিতে মেয়েকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে পারবে। স্বামী এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পিতার ওপরই বর্তাবে।
  • স্বামীরা স্ত্রীর ওপর দয়ার্দ্র হবে।
  • কল্যাণকামীরা অনর্থক কথাবার্তা কাজ কর্ম হতে বাধা দিবে আর যদি পাপের কাজ না হয়, তাহলে অনুমোদন দিবে।
  • বালিকাদের গানের আওয়াজ শ্রবণ বৈধ যদিও তারা দাসী না হয়। কেননা রসূল (ﷺ) আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শ্রবণকে অস্বীকার করেননি।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

* শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/৯২০।
[৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৯২৮।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৭৮।
[৫]. নাসাঈ, হা/১৫৮৬।
[৬]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৪৯-৯৫০।
[৭]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৮৭, ৩৫২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯২; নাসাঈ, হা/১৫৯৩; ইবনু হিব্বান, হা/৫৮৭৬।
[৮]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৫০, ৯৫২, ৯৮৮, ২৯০৮, ৩৫৩০, ৩৯৩১, ৫১৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯২।





প্রসঙ্গসমূহ »: নারীমঞ্চ
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (শেষ কিস্তি) - তামান্না তাসনীম
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৯ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৩য় কিস্তি) - তিনা খান
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা (৩য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা - আল-ইখলাছ ডেস্ক
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (২য় কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামে নারী নেতৃত্ব: একটি পর্যালোচনা - আব্দুল গাফফার মাদানী
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৩য় কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য - তামান্না তাসনীম

ফেসবুক পেজ