শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা

-মাসুদুর রহমান*




ভূমিকা

প্রশংসা মাত্রই আল্লাহ তা‘আলার জন্য। দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ (ﷺ), তাঁর পরিবার ও সাথীগনের ওপর। সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বন্ধুগণ নারী জাতি আলাদা কোন সৃষ্টি নয়, বরং তারা পুরুষেরই একটি অংশ, হাদীছের মাধ্যমে জানা যায় যে, আদম (আলাইহিস সালাম)-এর বাম পাশের উচু বাঁকা হাড্ডি থেকেই হাওয়া (আলাইহিস সালাম) সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।[১]  আবার আমরা অনেক সময় নারীদেরকে বলে থাকি  অর্ধাঙ্গিনী। অর্থাৎ আমাদের জীবনের  অর্ধেক। আর সমাজের বিভিন্ন অঙ্গে নারীদের পদচারণা ছিল এখনও আছে। ইসলামী সমাজে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল সুন্নাহ। যা প্রতিষ্ঠায় পুরুষ ছাহাবী, তাবেঈ ও পরবর্তী ইমাম ফক্বীহগন যেমন ভুমিকা রেখে গেছেন তেমনিভাবে নারীরাও রেখে গেছেন। যা কুরআন-হাদীছ ও ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত। যার ধারাবাহিকতা আজ অবধি পর্যন্ত সমাজে অব্যাহত। নিম্নে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করা হল।

একজন নারী ঘর থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম কাজের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন-

১. মেহমানদারীর ক্ষেত্রে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

মেহমানদারীতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। উক্ত  সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় পুরুষদের চেয়ে নারীদের ভূমিকা এতটাই  বেশি যে, তা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বাড়িতে মেহমান আসলে তাদের আপ্যায়নের যে ব্যবস্থা, পুরুষ জাতি তা বাহির থেকে যোগান দেয়। কিন্তু এটা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখে নারী জাতি। সুতরাং মেহমানদারী করার মাধ্যমে পুরুষ জাতির মান মর্যাদা রক্ষার্থে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারী সমাজের ভূমিকাটাই বেশি। যা ইতিহাস ও কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন হাদীছে বর্ণিত উম্মে  সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মেহমানদারীতার ক্ষেত্রে চমৎকার একটি ঘটনা।

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَبَعَثَ إِلَى نِسَائِهِ فَقُلْنَ مَا مَعَنَا إِلَّا الْمَاءُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيْفُ هَذَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الأَنْصَارِ أَنَا فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ أَكْرِمِيْ ضَيْفَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ مَا عِنْدَنَا إِلَّا قُوْتُ صِبْيَانِيْ فَقَالَ هَيِّئِيْ طَعَامَكِ وَأَصْبِحِيْ سِرَاجَكِ وَنَوِّمِيْ صِبْيَانَكِ إِذَا أَرَادُوْا عَشَاءً فَهَيَّأَتْ طَعَامَهَا وَأَصْبَحَتْ سِرَاجَهَا وَنَوَّمَتْ صِبْيَانَهَا ثُمَّ قَامَتْ كَأَنَّهَا تُصْلِحُ سِرَاجَهَا فَأَطْفَأَتْهُ فَجَعَلَا يُرِيَانِهِ أَنَّهُمَا يَأْكُلَانِ فَبَاتَا طَاوِيَيْنِ فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ ضَحِكَ اللهُ اللَّيْلَةَ أَوْ عَجِبَ مِنْ فَعَالِكُمَا فَأَنْزَلَ اللهُ وَ یُؤۡثِرُوۡنَ  عَلٰۤی  اَنۡفُسِہِمۡ وَ لَوۡ کَانَ بِہِمۡ خَصَاصَۃٌ ؕ۟ وَ مَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِہٖ  فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ  الۡمُفۡلِحُوۡنَ 

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। এক লোক নবী (ﷺ)-এর খেদমতে এল। তিনি (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের নিকট পানি ছাড়া কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কে আছ যে এই ব্যক্তিকে মেহমান হিসাবে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পার? তখন এক আনসারী ছাহাবী (আবূ ত্বালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)) বললেন, আমি। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মেহমানকে সম্মান কর। স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আমাদের ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনছারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করল। বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে, তারাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই সারা রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলেন, তখন তিনি (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কান্ড দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশী হয়েছেন এবং এ আয়াত নাযিল করেছেন। ‘তারা অভাবগ্রস্ত সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রগণ্য করে থাকে। আর  যাদেরকে  অন্তরের কৃপণতা হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলতাপ্রাপ্ত’ (সূরা আল-হাশর : ৯)।

অত্র হাদীছের মাধ্যমে নারীজাতির সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার একটি নজিরবিহীন ঘটনা প্রমাণিত হয়। কেননা বাড়িতে যথেষ্ট খাবার নেই, তার ওপর আবার সন্তানদেরকে খেতে না দিয়ে মেহমানকে খাওয়ানো এটা কঠিন ব্যাপার। এহেন পরিস্থিতিতে উম্মে সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যদি স্বামীর সাথে একাত্মতা পোষন না করে বেঁকে বসে মেহমানদারীতা অস্বীকার করতেন। তাহলে আবূ তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সুন্দরভাবে মেহমানদারী করতে পারতেন না।

২. আল্লাহর উপর ভরসা রেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শেখানো দু‘আর প্রতি আমল করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

নারী জাতি একটু বেশিই অধৈর্য, আবেগি ও নরম প্রকৃতির  হয়ে থাকে। তার পরেও এমন কিছু নারী আছে যাদের মনোবল অনেক মজবুত, ধৈর্য অনেক বেশি। তাদেরই একজন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উম্মে সালমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। তাঁর স্বামী আবূ সালমা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন মারা যায়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেন এবং উত্তম প্রতিদানের জন্য দু‘আ করতে বলেন । হাদীছে এসেছে,
 

عَنْ أُمِّسَلَمَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا  قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ r مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيْبُهُ مُصِيْبَةٌ فَيَقُوْلُ مَا أَمَرَهُ اللهُبِهِ (اِنَّا لِلّٰہِ وَ اِنَّاۤ اِلَیۡہِرٰجِعُوۡنَ) اَللَّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِىْ مُصِيْبَتِيْ وَاخْلُفْلِيْ خَيْرًا مِّنْهَا إِلَّا أَخْلَفَ اللهُ لَهُ خَيْرًا مِّنْهَا فَلَمَّا مَاتَأَبُوْ سَلَمَةَ قَالَتْ أَيُّ الْمُسْلِمِيْنَ خَيْرٌ مِّنْ أَبِىْ سَلَمَةَ؟ أَوَّلُبَيْتٍ هَاجَرَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ثُمَّ إِنِّيْقُلْتُهَا فَأَخْلَفَ اللهُ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ .


উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন মুসলিমের প্রতি কোন বিপদ আসে আর সে তাই বলে, যা বলতে আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন ‘আমরা আল্লাহ্র জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন’। অতঃপর বলে, اَللَّهُمَّ أَجِرْنِيْ فِىْ مُصِيْبَتِيْ وَاخْلُفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا ‘হে আল্লাহ! আমাকে আমার এ বিপদে প্রতিফল দান করুন এবং তা অপেক্ষা উত্তম বিনিময় আমাকে দান করুন’, তাহলে আল্লাহ তাকে তা অপেক্ষা উত্তম বিনিময় দান করেন। অতঃপর  যখন আবূ সালমা মারা গেলেন, তখন আমি মনে মনে বললাম, কোন্ মুসলিম আছেন যিনি আবূ সালামা অপেক্ষা উত্তম হতে পারেন? কেননা আবূ সালামার পরিবারই তো প্রথম পরিবার, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হিজরত করে এসেছিলেন। উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তথাপি আমি তা বললাম, আর আল্লাহ আমাকে আবূ সালামার পরির্বতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দান করলেন।[২] অত্র হাদীছে কঠিন বিপদ ও দুঃখ দুর্দশার মধ্যেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ পালনের মাধ্যমে একজন নারীর সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা প্রমাণিত হয়।

৩. স্বামীর ভালো কাজে একাত্মতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

স্বামীর যেকোনো কল্যাণমূলক ভালো কাজে সহযোগিতা করার মাধ্যমে স্ত্রী সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারে। এমনই এক ঘটনা পাওয়া যায় আবূ দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রীর ব্যাপারে। আবূ দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ছয়শত খেজুর গাছ বিশিষ্ট বাগানসহ বিশাল প্রাসাদ জান্নাতে একটি খেজুর গাছের আশায় একজন ইয়াতিম বালকের জন্য বিক্রি করে দেন। দান করে উক্ত বাগান ও বাড়ির নিকটে গিয়ে স্ত্রীকে ডাকলেন, ‘হে উম্মে দাহদাহ! উম্মে দাহদাহ অত্যন্ত অবাক হলেন যে, আজকে আবূ দাহদাহ বাগানের বাইরে দরজায় কেন দাঁড়িয়ে আছেন? ভিতরে আসছেন না কেন? আবারও আওয়াজ আসল! উম্মে দাহদাহ! উত্তর আসল, আমি উপস্থিত হে আবূ দাহদাহ! বাচ্চাদেরকে নিয়ে এ বাগান থেকে বের হয়ে আস। ঊম্মে দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, আমি বাগান হতে বের হয়ে আসব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি এ বাগান বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, আপনি কার নিকট এটা বিক্রি করেছেন? কে কত দাম দিয়ে এটা ক্রয় করেছে? আবূ দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, জান্নাতে একটি খেজুর বাগানের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিয়েছি। উম্মে দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, আল্লাহু আকবার। হে আবূ দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)! আপনি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা করেছেন। জান্নাতের একটি বৃক্ষ, যার নিচে অশ্বারোহী একশত বছর পর্যন্ত চলার পরেও তার ছায়া শেষ হবে না। কী সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা জান্নাতে এমন একটি গাছ পাব।[৩]

অত্র হাদীছে আবূ দাহদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রীর দান-ছাদাক্বার ব্যাপারে উদারতা প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, সাধারণত পুরুষরাই উপার্জন করে, তবে তা ব্যয় করার ক্ষেত্রে অনেকটাই নির্ভর করে স্ত্রী বা নারীর জাতির ওপর। কেননা পুরুষজাতি উপার্জন করে স্ত্রী সন্তানও পরিবারের জন্য, বিধায় মুক্ত হস্তে দান-ছাদক্বাহ করার ক্ষেত্রে তাদেরকে অনেক চিন্তা করতে হয়। কখনো কখনো বাধাগ্রস্তও হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে নারীরা যদি পুরুষদেরকে সহযোগিতা  করে বা এগিয়ে আসে তাহলে পুরুষ জাতি আরো বেশি প্রফুল্ল মনে দান-ছাদাক্বাহ করতে পারে। আবার এমনও  হতে পারে যে, পুরুষজাতি বাড়িতে নেই এমত অবস্থায় নারী জাতি পুরুষ জাতির উপার্জিত সম্পদ হতে দান-ছাদাক্বাহ করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায়  অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

৪. ইলমে দ্বীন অর্জনের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার যেসকল মাধ্যম আছে তার মধ্যে অন্যতম হল ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা। যা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে পুরুষ ছাহাবীর পাশাপাশি নারী ছাহাবীরাও দ্বীন শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীছ ও ইতিহাস দারা প্রমাণিত। যাদের মধ্যে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন অন্যতম। তিনি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে অত্যাধিক মেধাবী ও আগ্রহী ছিলেন যা নিম্নের হাদীছ দারা প্রতীয়মান হয়।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيْسَ أَحَدٌ يُحَاسَبُ إِلَّا هَلَكَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ أَلَيْسَ يَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (فَاَمَّا مَنۡ  اُوۡتِیَ  کِتٰبَہٗ  بِیَمِیۡنِہٖ ۙ. فَسَوۡفَ یُحَاسَبُ حِسَابًا یَّسِیۡرًا) قَالَ ذَاكَ الْعَرْضُ يُعْرَضُوْنَ وَمَنْ نُوْقِشَ الْحِسَابَ هَلَكَ

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামতের দিন যে ব্যক্তিরই হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ্ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ কি বলেননি, ‘যার আমলনামা তার ডান হস্তে দেয়া হবে, তার হিসাব নিকাশ সহজেই নেয়া হবে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ আয়াতে আমলনামা কীভাবে দেয়া হবে সে ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুবা যার খুঁটিনাটি হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।[৪]

অত্র হাদীছের মাধ্যমে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সুন্নাহ এর জ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও অধিক ইচ্ছার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এমনকি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সুন্নার জ্ঞানের বিষয়ে অনেক পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন, কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আহকামের বিষয়ে বড় বড় ছাহাবীগণ থেকে শুরু করে অন্যান্য ছাহাবীরা পর্যন্ত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নিকট হতে সুন্নাহ এর জ্ঞান অর্জন করতেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সর্বাধিক হাদীছ বর্ণনাকারী ছাহাবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার বর্নিত হাদীছ সংখ্যা ২২১০।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন খুবই শিক্ষিত এবং সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন, ফলে ইসলামি আইন, দর্শন, এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রতি তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি হাদীছ শাস্ত্রের অনেক বিষয়ের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহকাম ও আচার-আচরণ; রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর দৈনন্দিন কার্যক্রম, পরিবারের ব্যাপারে তাঁর আচরণ এবং ধর্মীয় নিয়ম-নীতির বিষয়গুলো তিনি গভীরভাবে জানতেন এবং হাদীছ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

ইতিহাসে এমন অনেক নারী রয়েছে যারা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন। আজকের সমাজেও লক্ষ্য করলে দেখা যায় এমন অনেক নারী আছে, যারা দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

৫. দুনিয়াবি সম্পদ ত্যাগ করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

দুনিয়াবি স্বার্থ বলতে সাধারণত ধন সম্পদকেই বোঝানো হয়। একজন নারী সাধারণত তার অংশ বা ভাগের সম্পদ ছাড়তে  চাই না বা ব্যয় করতে চাই না। অথচ এমন অনেক নারী রয়েছে, যারা শুধুমাত্রই সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের পাওনা  অধিকার ছেড়ে দেয়।  যার অন্যতম সমাজের  আদর্শ হলেন উম্মে সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। যা নিম্নের হাদীছ দারা প্রমাণিত।
 

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ تَزَوَّجَ أَبُوْ طَلْحَةَ أُمَّ سُلَيْمٍ فَكَانَ صَدَاقُ مَا بَيْنَهُمَا الْإِسْلَامَ أَسْلَمَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ قَبْلَ أَبِي طَلْحَةَ فَخَطَبَهَا فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ أَسْلَمْتُ فَإِنْ أَسْلَمْتَ نَكَحْتُكَ فَأَسْلَمَ فَكَانَ صدَاق مَا بَينهمَا 


আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আবূ ত্বালহা উম্মু সুলায়ম (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিয়ে করেন, তাদের মোহর ছিল ইসলাম গ্রহণ। উম্মু সুলায়ম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আবূ ত্বালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বে ইসলাম কবুল করেন। অতঃপর আবূ ত্বালহা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। উম্মু সুলায়ম বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি; যদি তুমি ইসলাম কবুল কর তবে তোমার সাথে বিয়ে হতে পারে। অতঃপর আবূ ত্বালহা ইসলাম গ্রহণ করেন। এ ইসলাম গ্রহণ তাঁদের বিয়ের মোহর বলে গণ্য হয়।[৫]

উম্মে সুলাইম (রাযিয়াল্লাহু আনহা)  চাইলে  মহর হিসাবে অর্থ-সম্পদ  গ্রহণ করে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারতেন অথবা আবূ ত্বালহার নিকট থেকেই অর্থের দাবি করতে পারতেন। কিন্তু এই  দুনিয়াবি অর্থ-সম্পদ তিনি ত্যাগ করেছিলেন শুধুমাত্র সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যা ইসলামের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

এমনই ঘটনা পাওয়া যায় মা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনীতেও। কেননা তিনি ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বিয়ের পর তার সমস্ত সম্পদ দ্বীনের স্বার্থে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যয় করেছেন। ইতিহাস খুঁজলে এরকম হাজারো নারী পাওয়া যাবে, যারা জীবনের সব কিছু ব্যয় করেছেন শুধুমাত্র সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার জন্য। সুতরাং নারী হলেই যে সে কৃপণ, স্বার্থপর হবে; এমন ধারণা করা ভুল।

৬. স্বামীর প্রতি যত্নবান ও বিপদে সান্ত্বনা দেয়ার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

স্বামীর প্রতি যত্নবান ও তার বিপদে সান্ত্বনা দেয়ার মাধ্যমেও একজন নারী সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমনটি ভূমিকা রেখেছিলেন মা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। কেননা যখন প্রথম অহী নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুব ভয় পেয়েছিলেন ও ক্ষতির আশঙ্কা  করেছিলেন। এমন সময় তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে সান্তনা ও অভয় দান করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যা নিম্নে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।

অহী অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর। তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শংকা দূর হল। তখন তিনি খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, 

كَلاَّ وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ‏.‏

‘আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক্ব পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন’।

অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফালের নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।[৬]

৭. স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও সন্তানের দেখা শুনা করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

একজন নারী তার স্বামীর সংসারে থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন-

(ক) বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার মাধ্যমে : ইসলাম বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا فَلَيْسَ مِنَّا ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দেরকে সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।[৭]

একটি পরিবারে ছোট বড় সব ধরনের ব্যক্তিই থাকে। সুতরাং একজন নারী তার স্বামীর পরিবারের বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

(খ) স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের দেখা শুনা করার মাধ্যমে : একজন পুরুষ জীবিকা উপার্জনের  প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় তাকে বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হয়। আর এই সময় একজন নারী বা স্ত্রী তার স্বামীর বাড়িতে থাকা সম্পদ ও সন্তানদের দেখভাল করা ও যত্ন নেয়ার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কেননা স্বামীর অবর্তমানে তার সম্পদ ও সন্তানের দেখাশোনা করার ব্যাপারে ইসলাম নারীকে দায়িত্ব দিয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَهِيَ مَسْؤُولَةٌ ‘স্ত্রী তার স্বামীর সংসারের পৃষ্ঠপোষক, তাকেও জবাবদিহি করতে হবে’।[৮]

৮. ইসলামী পরিবার গঠনের মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা

কোন রাষ্ট্রে বা সমাজে কেউ যদি সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে সবার আগে যেটা দরকার সেটা হল পরিবারে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করা। আর একটি পরিবারে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করা ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেই পরিবারের নারী সচেতন, আগ্রহী ও ইসলামী ভাবধারায় শিক্ষিত না হবে। তাইতো কোন এক নেপোলিয়ান বলেছিলেন ‘তুমি আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’। সুতরাং পরিবারে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা সবচাইতে বেশি। কেননা একজন মা তার সন্তানকে সুসন্তান হিসাবে গড়ে তুলতে সবচাইতে বেশি ভূমিকা রাখে। এই জন্যই তো ইসলামে আদর্শ মায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং সন্তানদেরকে দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমেই একজন নারী একটি পরিবারে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিশেষে বলব, আসলেই সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা অনেক বেশি। কেননা নারী একটি দেহের অর্ধেকের ন্যায়, যাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করার কোন সুযোগ নেই। যার বাস্তবতা অতীতে অনেক রয়েছে যা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এমনকি বর্তমানেও যদি আমরা খেয়াল করি তাহলে দেখব পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ইসলাম পালন করা, পরিবার , সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্বজাতি তথা নারীদের  মধ্যে অনেক অভ্যন্তরীণ দাওয়াতি কাজ করার মাধ্যমে সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পদ্মার অন্তরালে হওয়ায় আজকে আমরা হয়তোবা অনেকেই সেগুলো খেয়াল করি না। অতএব নারীদের এই মহান কাজকে স্বীকৃতি দেয়া ও তাদেরকে আরো উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে তাদের এই কাজকে বেগবান করা আমাদের পুরুষ জাতির নৈতিক দায়িত্ব। আল্লাহ যেন আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার তাওফীক্ব দান করেন। পাশাপাশি আমাদের সকলের সৎ আমলগুলো কবুল করেন-আমীন!!



*শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :

[১]. ছহীহ বুখারি, হা/৩৩৩১।
[২]. ছহীহ মুসলিম, হা/৯১৮, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২।
[৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫০৪; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৯৬৪, সনদ ছহীহ।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৩৯।
[৫]. নাসাঈ, হা/৩৩৪০, সনদ ছহীহ।
[৬]. ছহীহ বুখারী, হা/৩।
[৭]. আবূ দাঊদ, হা/৪৯৪৩।
[৮]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৯৩।




ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (শেষ কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা - গুলশান আখতার
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৬ষ্ঠ কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৫ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৭ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
আল-কুরআনে নারী কেন্দ্রিক আলোচনা ও শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৩য় কিস্তি) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইসলামিক প্যারেন্টিং (২য় কিস্তি) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৩য় কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা - আল-ইখলাছ ডেস্ক

ফেসবুক পেজ