উত্তর : কোন বিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি রজম বা মৃত্যুদণ্ড (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭০-৫২৭১)। কোন অবিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন (সূরা আন-নূর: ২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯০; আবূ দাঊদ, হা/৪৪১৫)। উপরিউক্ত গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী মুসলিম শাসকের নির্দেশে হত্যা করতে হবে। কিন্তু ইসলামী শাসকের অনুমতি ব্যতীত কোন পাপের শাস্তি স্বরূপ কাউকে হত্যা করা নিষিদ্ধ (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৬/৭-২২; কিতাবুল উম্ম, ৬/১৫৪; তাফসীরে কুরতুবী, ২/২৫৬; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২/৩৬৫ পৃ.)। যেহেতু আমাদের দেশে ইসলামী শাসক নেই শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেলেও পরকালের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না।
তাই পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ ও ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত মারাত্মক ও ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন। তাই উক্ত ব্যক্তি স্বচ্ছ ও পবিত্র অন্তরে তাওবাহ করলে ক্ষমা করতে পারেন (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৮-৭০)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার: ৫৩)।
প্রশ্নকারী : তাসনীম, চট্টগ্রাম।