শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : হাকিম ইবনু হিযাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন ব্যক্তি আমার নিকট এসে এমন জিনিস ক্রয় করতে চায় যা আমার কাছে নেই। আমি কি বাজার থেকে তার জন্য ঐ জিনিস ক্রয় করে আনবো? তিনি বলেন, لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ ‘তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩; তিরমিযী, হা/১২৩২; সনদ ছহীহ)। এ হাদীছের মধ্যে নবী (ﷺ) ক্রয়-বিক্রয়ের একটি বিধান সুষ্পষ্ট করেছেন। অর্থাৎ এমন কোন জিনিস বিক্রয় করা যাবে না, যা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বিক্রেতার অধীনে নেই। এখানে নির্দিষ্ট করে ঐ জিনিস বিক্রয় করতে নিষেধ করা হয়েছে যা তার মালিকানাধীন নয়। আর নিষেধ করার কারণ হল- যদি সে এমন জিনিস বিক্রয় করে যা তার অধীনে নেই, তাহলে সে সেটি পাওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারবে না, কারণ একই বৈশিষ্ট্যের জিনিস নির্ধারিত সময়ে সে পেতেও পারে, আবার নাও পেতে পারে। এটিই তো প্রতারণা। আর যে ক্রয়-বিক্রয় কোন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত, মূলত সেটিই হল ধোঁকা, প্রবঞ্চনা, ঠগবাজি’ (আওনুল মা‘বূদ, ৯/২৯১ পৃ.)।

শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিশুদ্ধ ব্যবসা-বাণিজ্যের কিছু শরী‘আতসম্মত নিয়ম-নীতি রয়েছে। শারঈ ব্যবসার একটি নিয়ম হল, ‘মানুষ তার মালিকানাধীন ও অধিকারভুক্ত জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করবে’। কিন্তু আজ শেয়ার বাজারে বা অন্যান্য দোকানে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষ এমন জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করে, যা তার মালিকানাধীন ও অধিকারভুক্ত নয় এবং সেটি তার আয়ত্তেও নেই। শরী‘আতের আলোকে এরূপ ব্যবসা নিষিদ্ধ। সাধারণত শেয়ার ব্যবসায় পণ্য নিজ আয়ত্বে না নিয়েই ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। অথচ শরী‘আতের দৃষ্টিতে ক্রয়কৃত বস্তু হস্তগত হওয়ার পূর্বে বিক্রয় করা হারাম। ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আমরা রাসূল (ﷺ)-এর যুগে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতাম। তখন তিনি আমাদের নিকট এ মর্মে আদেশ দিয়ে লোক পাঠাতেন যে, ঐ ক্রয়কৃত মাল বিক্রয় করার পূর্বেই যেন ক্রয়ের স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বরং নিজেদের ঘরে তুলে নেয়ার আগেই বিক্রয় করলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৭, ২১৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে, সে তা নিজ আয়ত্বে নেয়ার পূর্বে বিক্রয় করতে পারবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৫)। রাবী তাঊস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটি কিভাবে হয়ে থাকে’? তিনি বললেন, ‘এটি এভাবে হয়ে থাকে যে, দিরহামের বিনিময়ে আদান-প্রদান হয়, অথচ পণ্যদ্রব্য অনুপস্থিত থাকে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩২, ২১৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৫)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেক পণ্যের ব্যাপারে অনুরূপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৫, ২১৩২; আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৫/২১৮-২১৯; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৪৩১১)।


প্রশ্নকারী : রিপন, বাহারাইন।





প্রশ্ন (৩৪) : বিবাহ করে আমল করলে দ্বিগুন ছওয়াব পাওয়া যায় এই কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : দাড়ি রাখা সুন্নাত না ওয়াজিব? এটি না রাখার পরিণতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যেনা করলে অন্যান্য ইবাদত কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪): ‘চুরি হওয়া মাল ছাদাক্বাহস্বরূপ’- কথাটি কি ইসলামসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কেউ সূদী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত কি তার কবরে শাস্তি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে অবহেলাকারীদের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম দ্রুত আদায় করতে হবে, না-কি বিলম্বে আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘সালামালাইকুম’ অর্থ কী? এভাবে সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : বর্তমানে মোহর কত হওয়াটা সুন্নাহ সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি বিবাহ করার পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল যে, ঐ ব্যক্তির স্ত্রী তার দুধ বোন। এখন তাদের দু’জনের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর ছেলের নাম ছিল শাম। প্রশ্ন হল- এই শামের অর্থ কী? এই নাম রাখা যাবে কী? এই নাম রাখা হলে সাথে অন্য কোন নাম বা নামের অংশ কি যুক্ত করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ঈদের সম্ভাষণ হিসাবে ‘ঈদ মোবারক’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ