উত্তর : ইবাদতে শিরক (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন) বিভিন্নভাবে হতে পারে। সাধারণভাবে, এটি বিভিন্ন রূপে প্রকাশ হতে পারে, যেমন: আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারো কাছে চাওয়া, বা কারো সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করা। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে শিরক হল- আল্লাহ তা‘আলার জন্য নির্ধারিত কোন বিশেষ অধিকারকে তাঁর কোন সৃষ্টির জন্য সাব্যস্ত করা। অথচ কোন সৃষ্টিই আল্লাহর সাথে কোন বিষয়ে সমতুল্য নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করল বা তার উপর ভরসা করল, সে মুশরিক’ (আল-ইস্তিক্বামাহ, ১/৩৪৪ পৃ.)।
ঈমান বিধ্বংসী দশটি কারণের মধ্যে প্রথম কারণ হল- আল্লাহর ইবাদতে শরীক বা অংশীদার স্থাপন করা। ইবাদতগুলোর মধ্য হতে কোন একটি ইবাদত অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত করা শিরক। যেমন : ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত, দু‘আ, মানত, কুরবানী, ভালোবাসা, ভয়-ভীতি, ইত্যাদি অন্য কারো জন্য করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর মধ্যে কোন ধরনের বিকৃতি বা অস্বীকৃতির মাধ্যমে শিরক করা। ইবাদতের নামে সমাজে বহু শিরকী কাজ চালু রয়েছে, যেমন : মাযার ও ক্ববরপূজা, মাযারে তাবাররুক দেয়া, কবরবাসীর কাছে কিছু চাওয়া, সাজদাহ করা, কবরে চাদর চড়ানো, ফুল দেয়া, মানত করা, তাবীয লটকানো, গাইরুল্লার নামে যব্হ করা ও কসম করা ইত্যাদি। মৃত ব্যক্তির নিকট কিছু চাওয়া বা অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য দু‘আ করা শিরকে আকবার তথা বড় শিরক। কোন মুমিন যদি এ কাজ করে তবে তার ঈমান বিনষ্ট হয়ে যাবে।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শিরক হল- আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করা বা ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক করা। ইবাদতে শিরক বলতে বুঝায়, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ইবাদতের যোগ্য মনে করা। যেমন মূর্তি বা অন্য কিছুর কাছে দু‘আ করা, তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া, তাদের নামে মানত করা, তাদের জন্য ছালাত আদায় করা বা তাদের জন্য ছিয়াম পালন করা, তাদের নামে কুরবানী করা, ইত্যাদি। উদাহরণ স্বরূপ- বদউী বা আইদরুসের নামে কুরবানী করা, কারো জন্য ছালাত আদায় করা, রাসূল (ﷺ)-এর কাছে বা আব্দুল ক্বাদিরের কাছে বা ইয়ামানের আইদরুসের কাছে কিংবা অন্য কোন মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাওয়া-সবই শিরক।
অনুরূপভাবে, নক্ষত্র বা জিনদের ডাকা, তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া, তাদের কাছে শক্তি বা অন্য কোন কিছুর জন্য আবেদন করা ইত্যাদিও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। যদি কেউ জড় বস্তু, মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য এ ধরনের ইবাদত করে, তবে তা শিরক বলে গণ্য হবে (সূরা আল-আন‘আম : ৮৮; সূরা আয- যুমার : ৬৫)। এছাড়া এটাও শিরক যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের যোগ্য মনে করা। এটাকে শিরকও বলা হয় এবং কুফরীও বলা হয়। যে ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার ইবাদত অন্য কিছুর জন্য করে, যেমন গাছ, পাথর, মূর্তি, জিন অথবা কিছু মৃত ব্যক্তি যাদেরকে তারা ওয়ালী বলে ডাকে, তাদের ইবাদত করে অথবা তাদের জন্য ছালাত আদায় করে বা তাদের জন্য ছিয়াম পালন করে এবং আল্লাহকে সম্পূর্ণ ভুলে যায়, এটা সবচেয়ে বড় কুফরী এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শিরক। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই। আর এমন লোক যে আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, কোন ইলাহ নেই, জীবন শুধুই বস্তুগত, যেমন কমিউনিস্ট এবং নাস্তিকরা যারা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, তারাই সবচেয়ে বড় কাফির, সবচেয়ে গোমরাহ এবং সবচেয়ে বড় শিরক ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাই। মোদ্দাকথা হল- এই সমস্ত বিশ্বাস এবং এর মত অন্যান্য বিশ্বাসের লোকদেরকে শিরককারী বলা হয় এবং আল্লাহর প্রতি কুফরী কারীও বলা হয় (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুশ শাইখ ইবনে বায, ৪/৩২ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : গোলাম, মাদারীপুর।