বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
উত্তর : মাসিক অথবা বার্ষিক সূদপ্রাপ্তির শর্তে সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর যদি সূদ ছাড়াই রাখে, তবে সেক্ষেত্রেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া না রাখাই উচিত। যেমন এলাকায় যদি সূদমুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, ঘরে চুরি হওয়ার আশঙ্কা ইত্যাদি (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১৯তম খণ্ড, পৃ. ৪১৩-৪১৪,  ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩০, ৩১১)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলে ‘ইমরান  : ১৩০)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন যে, ‘বিশেষ প্রয়োজনে সূদী ব্যাংকে খাতা খোলা জায়েয। যেমন ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত সুবিধা, দেশ-বিদেশে অর্থ আদান-প্রদানের সুবিধা, অর্থের নিরাপত্তা ইত্যাদি। কিন্তু হারাম সূদের মাধ্যমে অর্থ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাতা খোলা হারাম। কেননা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; তিরমিযী, হা/১২০৬; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩ তম খণ্ড, পৃ. ৩৭৫)। সূদ গ্রহণ না করলেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা জায়েয নয়। কেননা এটি এক প্রকারের নিষিদ্ধ কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَ التَّقۡوٰی ۪ وَ لَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ

‘নেককাজ ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৯৫৩৭)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রয়োজনে ব্যাংকে খাতা খোলা দোষণীয় নয়। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া খাতা খোলা যাবে না’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২২তম খণ্ড, পৃ. ১৮০)।

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু জিবরীন (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ব্যাংকের সূদ ব্যাংকে ছেড়ে দিলে তা অবৈধ পথে অথবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাদের নিধনের কাজে ব্যয় হতে পারে। সুতরাং তা তুলে নিয়ে স্বীয় দায়িত্বে সহায়হীন, দূরবস্থাপন্ন, নিঃসম্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে ছওয়াবের নিয়ত না রেখে বিতরণ করে দেয়াই উত্তম হবে’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৬-৪০৭)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, আগারগাঁও, ঢাকা।





প্রশ্ন (২) :  হাদীছে এসেছে, নিশ্চয় আল্লাহ মূল্য নির্ধারণকারী। তিনি তা কমান ও বৃদ্ধি করেন এবং তিনিই রিযিক্বদাতা (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৫১)। উক্ত হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারকে দায়ী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিমকে কাফের বলার জন্য কোন শর্ত আছে কী? তাকফীরের মূলনীতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মিশনারী স্কুলে পড়ালেখা করা কি জায়েয? খ্রিস্টানদের চিহ্ন সম্বলিত ইউনিফর্ম পরিধান করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিয়ের সময় পাত্র পক্ষের কাছে থেকে মসজিদ ও সমাজ খরচ হিসাবে পাত্রী পক্ষের মোড়লেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায় করে থাকেন। পাত্রী পক্ষের দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে হেনস্তা বা অপমান করা হয়। এভাবে টাকা নেয়া শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর মত নফল ছালাতে কুরআন দেখে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আমার পিতার কাছ থেকে আমি ১ বিঘা জমি পেয়েছি, যা আমার নামে এখনো দলীল হয়নি। আর আমি এর ফসলও পাই না। এতে কি আমার ছেলে-মেয়েদের হক নষ্ট করছি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : তাসবীহ কি দু’হাতের আঙ্গুলেই গণনা করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : সূরা আল-বাক্বারার শেষ দুই আয়াত রাতে শোয়ার সময় পাঠ করলে তাহাজ্জুদের স্থালাভিষিক্ত হবে। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলা যাবে কি এবং ভেঙ্গে ফেলা ছিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কাবিননামায় ত্বালাকের অধিকার দেয়া না থাকলে স্বামী তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পালিত পুত্র-কন্যা কি পালক পিতা-মাতার জন্য এবং তাদের প্রকৃত সন্তানদের ক্ষেত্রে মাহরাম হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ