রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
উত্তর : মাসিক অথবা বার্ষিক সূদপ্রাপ্তির শর্তে সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর যদি সূদ ছাড়াই রাখে, তবে সেক্ষেত্রেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া না রাখাই উচিত। যেমন এলাকায় যদি সূদমুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, ঘরে চুরি হওয়ার আশঙ্কা ইত্যাদি (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১৯তম খণ্ড, পৃ. ৪১৩-৪১৪,  ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩০, ৩১১)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলে ‘ইমরান  : ১৩০)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন যে, ‘বিশেষ প্রয়োজনে সূদী ব্যাংকে খাতা খোলা জায়েয। যেমন ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত সুবিধা, দেশ-বিদেশে অর্থ আদান-প্রদানের সুবিধা, অর্থের নিরাপত্তা ইত্যাদি। কিন্তু হারাম সূদের মাধ্যমে অর্থ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাতা খোলা হারাম। কেননা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; তিরমিযী, হা/১২০৬; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩ তম খণ্ড, পৃ. ৩৭৫)। সূদ গ্রহণ না করলেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা জায়েয নয়। কেননা এটি এক প্রকারের নিষিদ্ধ কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَ التَّقۡوٰی ۪ وَ لَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ

‘নেককাজ ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৯৫৩৭)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রয়োজনে ব্যাংকে খাতা খোলা দোষণীয় নয়। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া খাতা খোলা যাবে না’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২২তম খণ্ড, পৃ. ১৮০)।

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু জিবরীন (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ব্যাংকের সূদ ব্যাংকে ছেড়ে দিলে তা অবৈধ পথে অথবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাদের নিধনের কাজে ব্যয় হতে পারে। সুতরাং তা তুলে নিয়ে স্বীয় দায়িত্বে সহায়হীন, দূরবস্থাপন্ন, নিঃসম্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে ছওয়াবের নিয়ত না রেখে বিতরণ করে দেয়াই উত্তম হবে’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৬-৪০৭)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, আগারগাঁও, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪০) : ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবকে ভালবাসবে। প্রথমত, আমি হলাম আরবী, দ্বিতীয়ত, কুরআন মাজীদের ভাষা হল আরবী এবং তৃতীয়ত, জান্নাতীদের ভাষাও হবে আরবী। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সন্তানদেরকে দান করার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সরকারী-বেসরকারী কর্মচারীরা যদি বেতন বাড়ানোর জন্য বা অন্য কোন কারণে কাজ বর্জন করে এবং যেসব দিনগুলোতে কাজ বর্জন করেছে সেই দিনগুলোর বেতন ঠিকই নিচ্ছে। প্রশ্ন হল- তাদের এই আয় কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কোন্ দু‘আ পড়া উত্তম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দিনের এবং রাতের নফল ছালাত দু’ দু’ রাক‘আত করে আদায় করা কি আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : সূরা ইয়াসীন ও ত্বা-হা পাঠের ফযীলত বর্ণনায় বলা হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে (দারেমী, হা/৩৪১৪; মিশকাত, হা/২১৪৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৪৫, ৫/১৮ পৃ.)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : গোসলের ফরয কয়টি ও কী কী? অনেকে মনে করেন কুলি ও নাকে পানি না দিলে গোসল হবে না। এই বক্তব্য কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) শস্যের যাকাত কখন ফরয হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কারো মেয়ের নাম ‘আনাবিয়া’ ও ‘আব্দিয়া’ রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সঠিক সময় না জানার কারণে কেউ যদি সাহরির সময় শেষ হওয়ার পর পানাহার করে, তাহলে তার ছিয়াম সঠিক হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : দুধ বোনের ভাই-বোন মাহরাম হবে কি? তাদের সাথে দেখা করার শারঈ পদ্ধতি কি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : সন্তানের উপর হজ্জ ফরয হলে সেই টাকা দিয়ে পিতা-মাতাকে হজ্জে পাঠানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ