বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মাসিক অথবা বার্ষিক সূদপ্রাপ্তির শর্তে সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর যদি সূদ ছাড়াই রাখে, তবে সেক্ষেত্রেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া না রাখাই উচিত। যেমন এলাকায় যদি সূদমুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, ঘরে চুরি হওয়ার আশঙ্কা ইত্যাদি (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১৯তম খণ্ড, পৃ. ৪১৩-৪১৪,  ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩০, ৩১১)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলে ‘ইমরান  : ১৩০)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন যে, ‘বিশেষ প্রয়োজনে সূদী ব্যাংকে খাতা খোলা জায়েয। যেমন ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত সুবিধা, দেশ-বিদেশে অর্থ আদান-প্রদানের সুবিধা, অর্থের নিরাপত্তা ইত্যাদি। কিন্তু হারাম সূদের মাধ্যমে অর্থ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাতা খোলা হারাম। কেননা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; তিরমিযী, হা/১২০৬; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩ তম খণ্ড, পৃ. ৩৭৫)। সূদ গ্রহণ না করলেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সূদী ব্যাংকে টাকা রাখা জায়েয নয়। কেননা এটি এক প্রকারের নিষিদ্ধ কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَ التَّقۡوٰی ۪ وَ لَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ ۪ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ  شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ

‘নেককাজ ও তাক্বওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৯৫৩৭)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রয়োজনে ব্যাংকে খাতা খোলা দোষণীয় নয়। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া খাতা খোলা যাবে না’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২২তম খণ্ড, পৃ. ১৮০)।

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু জিবরীন (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ব্যাংকের সূদ ব্যাংকে ছেড়ে দিলে তা অবৈধ পথে অথবা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও তাদের নিধনের কাজে ব্যয় হতে পারে। সুতরাং তা তুলে নিয়ে স্বীয় দায়িত্বে সহায়হীন, দূরবস্থাপন্ন, নিঃসম্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে ছওয়াবের নিয়ত না রেখে বিতরণ করে দেয়াই উত্তম হবে’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৬-৪০৭)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, আগারগাঁও, ঢাকা।





প্রশ্ন (৭) : প্রচলিত ইফতারের সময়সূচীগুলোতে সূর্যাস্তের সময়ের সাথে আরো ৩/৪/৫ মিনিট যোগ করা থাকে। প্রশ্ন হল- ছিয়াম পালনকারী কোন্ সময় ইফতার করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : যে দেশে একাধিক ইসলামী সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতা আছেন, কিন্তু তাদের প্রশাসনিক কোন কর্তৃত্ব নেই, তারা কি উক্ত সংগঠনের কর্মীদের থেকে বাই‘আত নিতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : বাসা-বাড়িতে জিন সাপ চেনার উপায় কী? দেখার পর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মাতৃভাষায় জুমু‘আর খুতবা দেয়ার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জমিদাতা মসজিদের নামে জমি ওয়াক্ফ করে দিয়েছেন। মুছল্লীরা ওয়াকফ করা জমিতেই মসজিদ নির্মাণ করেছেন। সেখানে দীর্ঘ ১০/১৫ বছর যাবৎ ছালাত আদায় করা হছে। এতদিন পর দলীল বের করে দেখা যায় যে, দলীলে দাগ নাম্বার ভুল। এমতাবস্থায় উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : তারাবীহর ছালাতে এক ব্যক্তি দু’বার দুই জায়গায় ইমামতি করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : বিভিন্ন এলাকায় ফিতরা ও কুরবানীর অর্থ থেকে ইমাম-মুওয়াযযিনের বেতন দেয়া হয়। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আমাদের ভবন ১৫ তলা এবং ৯০ টি ফ্লাট। যেখানে মোট ৪৫০ জন লোকের বসবাস। ভবনের ছাদে ১টি মসজিদ আছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত জামা‘আতের সাথে হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলছে, একে মসজিদ বলা যাবে না, জামা‘আত খানা বলতে হবে। প্রশ্ন হল, একে মসজিদ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : সুদী ব্যাংকে চাকুরী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘ফরয ইবাদতের পর হালাল রিযিক অন্বেষণ করা আরেকটি ফরয’ (বায়হাকী)। হাদীছটি কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ইসলামের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ছালাত আদায় করার সময় কারো জামায় যদি প্রাণীর ছবি থাকে তাহলে কি তার ছালাত আদায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ