বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়ানো যাবে না। কারণ খ্রিস্টান মিশনারী স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে লক্ষ লক্ষ মুসলিম তরুণ-তরুণী ঈমানহারা ও নাস্তিকে পরিণত হচ্ছে। আমাদের দেশে নাস্তিক্যবাদের আধিক্যের মুখ্য ও বুনিয়াদি কারণ-ই হল খ্রিস্টান মিশনারী স্কুল-কলেজ। যার উদাহরণ আমাদের সামনে-ই বিদ্যমান। সেই জন্য পিতা-মাতাদের উচিত সন্তানদের ভালো ইসলামিক প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা। যেখানে ঈমান ও দ্বীনের ক্ষতি হবে এমন কোন বিধর্মী ও অইসলামিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না করা (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১০৬৮১)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যেখানে সন্তান ধর্মত্যাগী ও ঈমানহারা হতে পারে, সেখান থেকে সন্তান-সন্ততিদের বিরত রাখা প্রত্যেক পিতা-মাতার উপর অপরিহার্য কর্তব্য। কেননা ঈমান সবকিছুর-ই উপরে। সুশিক্ষার নামে ঈমান বিসর্জন কোন অবস্থাতেই জায়েয নয়’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৩৫২)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক শিশু ইসলামী ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী এবং খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৪৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৭১৪; তিরমিযী, হা/২১৩৮)। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ও পার্থিব জীবনের সফলতাকে তুচ্ছ করে আল্লাহভীতিতে সজাগ হতে হবে। পরকালে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে।

তাছাড়া ক্রুশযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম (আল-ইনসাফ, ১/৩৩৪ পৃ.; কাশ্শাফুল ক্বিনা‘, ১/২৮০ পৃ.)। ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পোশাক-প্রসাধনী, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ, সুশোভিতকরণ বা অন্যান্য কোন কিছুতেই ক্রুশ/ক্রসচিহ্ন অবশিষ্ট রাখা বৈধ নয়’ (আল-মুহাল্লা, ৭/৫১৬ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছবিযুক্ত পোশাক ও অলংকার পরিধান করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে ক্রুশযুক্ত পোশাকও পরিধান করা নাজায়েয। কেননা এরমধ্যে খ্রিষ্টানদের সাদৃশ্য রয়েছে’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব ইবনে বায, ৭/২৮৮ পৃ.)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাতের মধ্যে ও বাহিরে উভয়াবস্থাতেই ক্রুশযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম’ (শারহু রিয়াযিছ ছালিহীন, ৪/৩০০ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ لَا يَتْرُكُ فِيْ بَيْتِهِ شَيْئًا فِيْهِ تَصْلِيبٌ إِلَّا قَضَبَهُ ‘রাসূল (ﷺ) তাঁর ঘরে ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কোন জিনিসই অবশিষ্ট রাখতেন না, বরং তিনি সেগুলোকে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে ফেলতেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯৫২; আবূ দাঊদ, হা/৪১৫১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, لَمْ يَكُنْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَدَعُ فِيْ بَيْتِهِ ثَوْبًا فِيْهِ تَصْلِيْبٌ إِلَّا نَقَضَهُ ‘রাসূল (ﷺ) তাঁর ঘরে ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কোন কাপড়ই রাখতেন না, বরং তিনি সেগুলোকে ছিঁড়ে ফেলতেন’ (আহমাদ, হা/২৪২৬১, ২৫৯৯৬, ২৬১৪২, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।





প্রশ্ন (১০) : সাধারণ মানুষ কিভাবে আওয়াল ওয়াক্ত নির্ধারণ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ছহীহ হাদীছের দৃষ্টিতে ঈদের তাকবীর কয়টি? ৬ তাকবীরে ছালাত আদায়কারী ব্যক্তির পেছনে ১২ তাকবীরে ছালাত আদায়কারী ব্যক্তি ছালাত পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : মেয়ে শিশুর নাম ‘হাওয়া’ রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘ওয়াহদাতুল ওজূদ’ বা সবকিছুতে আল্লাহর উপস্থিতি বলতে কী বুঝায়? এর উপর কোন মুসলিম বিশ্বাস করতে পারে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সহবাসের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয় নিষিদ্ধ? বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’-এটি কি ছহীহ হাদীছ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে, গান-বাজনা, নাটক, সিনেমা প্রভৃতিতে লিপ্ত। এসব ত্যাগ না করে হজ্জে গেলে এমন ব্যক্তির হজ্জ কি কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মজলিসের শেষের দু‘আ একাকী পড়া যাবে কি? না-কি একজন বলে দিবে আর সবাই তার সাথে সাথে বলবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ‘যে বিয়েতে খরচ যত কম, সেই বিয়েতে বরকত তত বেশি' মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রিযিক বৃদ্ধির কোন আমল আছে কি? কী কী উপায়ে রিযিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : পূর্বে ঘুষ খেয়েছে। বুঝার পর ঐ ঘুষদাতা বা তার ওয়ারিছকে খুঁজে পাচ্ছে না। এখন কিভাবে উক্ত ঘুষের টাকা পরিশোধ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ