রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
উত্তর : কাউকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে স্যালুট করা, এটি একটি অনৈসলামিক সভ্যতা ও সংষ্কৃতি। এটি মূলত পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণের ফল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

‏لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لَا تَشَبَّهُوْا بِالْيَهُوْدِ وَلَا بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُوْدِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيْمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ‏ ‏.‏

‘বিজাতির অনুকরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করো না। কেননা ইয়াহুদীরা আঙ্গুলের ইশারায় এবং খ্রিষ্টানরা হাতের ইশারায় সালাম দেয়’ (তিরমিযী, হা/২৬৯৫; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২১৯৪)। তিনি আরো বলেন,

لَا تُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمَ الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى، فَإِنَّ تَسْلِيْمَهُمْ بِالْأَكُفِّ وَالرُّؤوْسِ وَالْإِشَارَةِ

‘তোমরা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণে সালাম দিয়ো না। কেননা তারা হস্ত, মস্তিষ্ক ও ইশারার মাধ্যমে সালাম প্রদান করে থাকে’ (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/১০১৭২; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৭৮৩, ৪/৩৮৮ পৃ.)। ‘আত্বা ইবনু আবী রাবাহ বলেন, كَانُوا يَكْرَهُوْنَ التَّسْلِيْمَ بِالْيَدِ، أَوْ قَالَ: كَانَ يَكْرَهُ التَّسْلِيْمَ بِالْيَدِ ‘ছাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালাম দেয়া অপসন্দ করতেন। অথবা তিনি বলেন, তিনি হাতের ইশারায় সালাম দেয়া অপসন্দ করতেন’ (ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৭৬৮, সনদ ছহীহ)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘বিজাতীয় পদ্ধতিতে নেতা-নেত্রী অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্যালুট করা কোনও মুসলিমের জন্য জায়েয নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য আনয়ন করতে নিষেধ করেছেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্টজন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে তাঁদের সামাজিক পদমর্যাদা অনুয়ায়ী সম্মান করা জায়েয়। কিন্তু সম্মান প্রদর্শনের নামে সীমালঙ্ঘন করা কোন অবস্থাতেই বৈধ নয় (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/২৩৫-২৩৬ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘কোন দেশের জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো বা স্যালুট প্রদান করা জায়েজ নয়, বরং এটি জঘন্য বিদ‘আত; যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশিদীনদের যুগে ছিল না (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ,  ১/২৩৫ পৃ.; ফৎওয়া নং-২১২৩)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ছাহাবীদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাইতে অধিক প্রিয় ও প্রেমাস্পদ ব্যক্তি আর কেউ ছিলেন না। অথচ তাঁরাও তাঁকে দেখে দাঁড়াতেন না। কেননা তাঁরা জানতেন যে, তিনি এটা পসন্দ করেন না (তিরমিযী, হা/২৭৫৪; আহমাদ, হা/১২৩৪৫, ১২৩৭০)।


প্রশ্নকারী : আমীনুর রহমান, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৬) : কেউ কোন নারীকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার জন্য করণীয় কী? সে কি অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : কুরবানীর গোশত কয় ভাগ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : যদি কেউ তার স্ত্রীকে একসাথে তিন ত্বালাক্ব দেয়, তখন তার জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ‘দ্বীন নিয়ে হাসি-ঠাট্টা’ করলে ঈমান ভঙ্গ হয়ে যায়। এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক ব্যক্তি রাগ সংবরণ করতে না পেরে তার স্ত্রীকে মাঝে মাঝেই এক ত্বালাক্ব দুই ত্বালাক্ব, তিন ত্বালাক বলে উল্লেখ করত। পরক্ষণে আবার স্বাভাবিক হত এবং পূর্বের অবস্থায় সংসার চলত। প্রশ্ন হল, তাদের মাঝে কি তালাক সংঘটিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অধিকাংশ মানুষ ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট গুটিয়ে নিয়ে ছালাত আদায় করে থাকে। প্রশ্ন হল- শুধু ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : সাত দিনের পূর্বে সন্তান মারা গেলে আক্বীক্বা দেয়া লাগবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : একই আমল একাধিক নিয়তে করা যাবে কি? যেমন আইয়ামে বীযের ছিয়ামের তারিখে মাঝেমধ্যে সোম বা বৃহস্পতিবার পড়ে, এছাড়াও অন্যান্য অনেক আমল রয়েছে, যা আমল দেখতে একই কিন্তু তার ফযীলাত ভিন্ন ভিন্ন। তাহলে  সেই আমল একাধিক ফযীলত লাভের নিয়তে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : বর্তমানে নাপিতেরা চুল কাটার সময় মাথার ডানে-বামে এবং পেছনে চুল ছোট করে কাটে, সামনে তারচেয়ে বেশি লম্বা রাখে। এভাবে চুল কাটলে কি গুনাহগার হব? শরী‘আতে চুলকাটার পদ্ধতি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কোন দেশের রাষ্টপ্রধানের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ইসলামে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : কুরবানীর পরে আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন কারা ছিয়াম রাখতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : আমার এলাকার বাসিন্দারা মাযহাবের অনুসারী এবং তারা খুবই কট্টরপন্থী। বাপ-দাদার আমলকেই তারা ইসলাম মনে করে। কুরআন-হাদীছ অনুযায়ী আমল করার কথা বললে তারা ফিতনা মনে করে। তারা বুঝে না বুঝতেও চায় না; বরং হাসি-ঠাট্টা, গালাগালি করে এবং নানা যুক্তি দেখিয়ে ছহীহ হাদীছ অস্বীকার করে। এক্ষণে গ্রামবাসীকে কিভাবে বুঝানো যাবে? এভাবে শরী‘আতকে অস্বীকার করলে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ