বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : আধুনিক পদ্ধতিতে খামারে বন্য অথবা গৃহপালিত পশুপাখি লালন-পালন করা দোষণীয় নয়। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বাধিক সদাচারী ও চরিত্রবান ছিলেন। আমার এক ভাই ছিল, তাকে ‘আবূ উমাইর’ বলে সম্বোধন করা হত। আমার ধারণা যে, সে তখন মায়ের দুধ খেত না। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই (আমাদের ঘরে) তার নিকট আসতেন, তিনি তাকে বলতেন, ‘হে আবূ উমাইর! কী করছে তোমার নুগাইর’? সে নুগাইর নামক ছোট্ট পাখিটা নিয়ে খেলা করত (ছহীহ বুখারী, হা/৬১২৯, ৬২০৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২১৫০; আবূ দাঊদ, হা/৪৯৬৯; তিরমিযী, হা/৩৩৩, ১৯৮৯; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭২০, ৩৭৪০)। উল্লেখ্য, চড়ুই বা বুলবুলের মত এক ধরনের বিশেষ পাখিকে নুগাইর বলা হত।

উক্ত হাদীছের আলোকে হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, পাখিকে আবদ্ধ করে লালন-পালন করা জায়েয। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবূ উমাইর’ বা তার পরিবারের সামনে এর বিপক্ষে কোন মন্তব্য করেননি। এই হাদীছের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষনীয় বিষয় আছে। যেমন (ক) বাচ্চাদের জন্য পাখি নিয়ে খেলাধূলা করা বৈধ। (খ) বাবা-মা তাদের বাচ্চাকে বৈধ খেলাধূলার জন্য ছেড়ে দিতে পারেন। (গ) বাচ্চাদের বৈধ খেলাধূলার পিছনে অর্থ ব্যয় করা জায়েয। (ঘ) পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা জায়েয’ (ফাৎহুল বারী শারহু ছহীহিল বুখারী, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৫৪৮)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘পাখির পানাহার ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করে লালন-পালন করা দোষনীয় নয়। কেননা এ জাতীয় বিষয়ের ভিত্তি বা মূল সামগ্রিকভাবে বৈধ। আর আমাদের জানা মতে এর বিপক্ষে কোন দলীল নেয়’ (ফাতাওয়া উলামাউল বালাদিল হারাম, পৃ. ১৭৯৩)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘বিশেষ করে লাভবান ও উপকৃত হওয়ার জন্য অথবা সৌন্দর্য, বিনোদন ও অন্তরঙ্গতার জন্য খরগোশ বা অন্যান্য পশুপাখি খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ করে লালন-পালন করা শরী‘আতসম্মত’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৭৩৪২)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘তোতা, বুলবুল ও বিভিন্ন রংবেরঙের মনোজ্ঞ, মনোমুগ্ধকর, সৌখিন ও  চিত্তাকর্ষক পাখির দর্শন ও শ্রুতিমধুর কণ্ঠস্বর শ্রবণ করার উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ। এ সমস্ত পাখির দর্শনে উৎফুল্ল ও তাদের কণ্ঠস্বর শুনে আনন্দিত হওয়া শরী‘আতসম্মত। পাখির ক্রয়-বিক্রয় ও অধিকার হস্তান্তর হারাম হওয়ার পক্ষে কোন দলীল নেয়। বরং পানাহার ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করার শর্তে পাখিকে আবদ্ধ করে অথবা মুক্ত করে উভয় পদ্ধতিতেই লালন-পালন করা অনুমোদিত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ৩৮-৪০ এবং ২৬তম খণ্ড, পৃ. ১৫০)।


প্রশ্নকারী : তাওহীদুযযামান, নওদাপাড়া, রাজশাহী।




প্রশ্ন (১৮) : দোকান বা বাড়ি ভাড়া দেয়ার সময় ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে এককালীন মোটা অংকের সিকিউরিটি নেয়ার প্রচলন আছে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জামা‘আতের ছালাতে ইমাম সাহেব জোরে তাকবীর বলা এবং মুক্তাদির নিঃশব্দে তাকবীর বলার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়াদের অধিকার, মীরাছ, ইবাদতের পদ্ধতি, পোশাক, মু‘আমালাত, চালচলন, কর্মজীবন ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ তাওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। সে যদি অতীতে কাউকে পাপ কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে এখনো কি সেই পাপের সমান ভাগীদার হবে? যাকে পাপ কাজে সহযোগিতা করেছে, সে তাকেও ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু সে ফিরে আসতে চাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : হজ্জ ও ওমরাতে যাওয়া উপলক্ষে সমস্ত আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের মানুষকে দাওয়াত দিয়ে ব্যাপক আকারে খাবার অনুষ্ঠান করা ও তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৭) : ইমামের সাথে শত্রুতার কারণে কেউ যদি তার পিছনে ছালাত না পড়ে জামা‘আতের আগে কিংবা পরে পড়ে, তাহলে তার ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : গর্ভবতী হওয়ার ৩ মাস পর বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। এই বাচ্চার জন্য কোন আমল করা যাবে কি? এই বাচ্চা পরকালে মায়ের জন্য কোন সুপারিশ করবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আযান চলাকালীন ভুলবশত হারাম কাজে লিপ্ত থাকলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কিছু বাড়ি আছে যেখানে কল এবং গৃহস্থালির বাসনপত্র সোনার তরল দিয়ে প্রলেপ দেয়া আছে, সেগুলো নেয়া এবং ব্যবহার করা কি হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কিছু কিছু গ্রন্থে বিশেষতঃ ‘আলি‌ফ লাইলা’ (একহাজার এক আরব্য রজনী) গ্রন্থে হারুনুর রশীদ সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, তিনি খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই চিনতেন না, মদ খেতেন, বাঁদি নাচাতেন, বাঁদিদেরকে তার কাছে কাছে রাখতেন ইত্যাদি। এগুলো কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সরকারি চাকরিজীবীরা কল্যাণ পদ্ধতিতে (কল্যাণ ফান্ড/কল্যাণ তহবিল) প্রতি মাসে বেতন থেকে টাকা রাখেন, এবং চাকরি শেষে সেই টাকায় সরকার অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে ফেরত দেয়- এটা কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ