উত্তর : তাহাজ্জুদের সময় ওযূ ও ছালাত আদায় না করেও গভীর রাতে ঘুম থেকে জেগে বা এমনিতেই দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা যাবে। আর রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়। এ সময়ে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ডাক শোনার জন্য অপেক্ষা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করতে থাকেন, কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’ (বুখারী, হা/১১৪৫; মুসলিম, হা/৭৫৮)। এই বরকতময় সময়ে দু‘আ করার জন্য নির্ধারিতভাবে তাহাজ্জুদের ছালাত পড়া বা ওযূ থাকা বাধ্যতামূলক শর্ত নয়।
গভীর রাতে বা যেকোন সময় আল্লাহর নিকটে দু‘আ করার সময় দুই হাত তুলে দু‘আ করা সুন্নাত এবং দু‘আ কবুলের অন্যতম মাধ্যম। সালমান ফারসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দাতা। যখন কোন বান্দা তাঁর দিকে হাত দু’টি প্রসারিত করে, তখন তিনি তা খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান’ (আবূ দাঊদ, হা/১৪৮৮; তিরমিযী, হা/৩৫৫৬, সনদ ছহীহ)। উল্লেখ্য, অবশ্যই তাহাজ্জুদ ছালাতের পূর্ণ ছওয়াব পাওয়ার জন্য ওযূ করা এবং ছালাত আদায় করা যরূরী। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি ওযূ না করে থাকেন কিংবা শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোন কারণে ছালাত আদায় করতে না পারেন, তবুও তিনি গভীর রাতে বিছানায় শুয়ে, বসে বা ওযূবিহীন অবস্থায় দু‘আ করতে পারবেন। তবে ওযূ করে ক্বিবলামুখী হয়ে দুই হাত তুলে দু‘আ করা অধিক আদবসম্মত ও দ্রুত কবুলের সহায়ক (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২২/৫১২ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ২৪/৪০৮ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আসাদুজ্জামান, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।